ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর: বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতায় নতুন সম্ভাবনা


প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর: বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতায় নতুন সম্ভাবনা

চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতা বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে আরও সম্প্রসারণের প্রত্যাশা নিয়ে। এই সফরটি সরকারের পাশাপাশি ব্যবসায়ী মহলে নতুন আশাবাদের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে বাণিজ্য, অবকাঠামো, শিল্পায়ন, জ্বালানি, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং প্রযুক্তি খাতে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা এ সফরের মাধ্যমে তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন।

বাংলাদেশ এবং চীনের সম্পর্ক ইতোমধ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন ও উৎপাদন খাতে গভীরভাবে সম্পৃক্ত হয়ে গেছে। পদ্মা সেতু রেল সংযোগ, বিদ্যুৎকেন্দ্র, অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নসহ নানা বড় প্রকল্পে চীনা অংশগ্রহণ বাংলাদেশের উন্নয়ন কাঠামোতে গতি এনেছে। বর্তমানে চীন বাংলাদেশে একটি অন্যতম বড় উন্নয়ন অংশীদার এবং প্রধান আমদানিকারক দেশ হিসেবেও পরিচিত। যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিকস, শিল্প কাঁচামাল এবং টেক্সটাইল ইনপুটের বড় অংশই চীন থেকে আসে।

প্রধানমন্ত্রী গতকাল (রোববার) মালয়েশিয়ায় দু'দিনের সফরে গেছেন। এটি তাঁর প্রথম দ্বিপক্ষীয় বিদেশ সফর। মালয়েশিয়া সফর শেষ করে আজ (সোমবার) রাতে কুয়ালালামপুর থেকে চীনের বন্দনগরী দালিয়ানের উদ্দেশে যাত্রা করবেন।

আরও পড়ুন: দুই বাংলাদেশির বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য দেয়নি সৌদি সরকার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী শামা ওবায়েদ

পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম গত শনিবার গণমাধ্যমে জানান, সফরের সময় চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে প্রধানমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন। সেই বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, অবকাঠামো, জ্বালানি নিরাপত্তা, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং আঞ্চলিক সংযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

তিনি আরও বলেছেন, চীনা বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, চলমান প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর বিষয়গুলো আলোচনায় অগ্রাধিকার পাবার বিষয়।

আসাদ আলম জানান, সফরের সময়ে বাংলাদেশ এবং চীনের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), চুক্তি, কর্মপরিকল্পনা এবং প্রটোকল স্বাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সফরের শুরুতে দালিয়ানে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সামার দাভোস সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবেন। সেখানে তিনি 'ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ' শীর্ষক অধিবেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য প্রদান করবেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ডব্লিউইএফ প্রেসিডেন্টসহ বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর বেইজিংয়ে গিয়ে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি, এক্সিম ব্যাংকসহ বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের সংস্থার সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেবেন।

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর ইরানের সরকার উৎখাতের অঙ্গীকার, সফলতা নিয়ে প্রশ্ন

আগামী ২৫ জুন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত 'বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম'-এ প্রধান অতিথি হিসেবে দেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরবেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্য বর্তমানে প্রায় ২২ থেকে ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছে। তবে এই বাণিজ্যের কাঠামো মূলত আমদানিনির্ভর হওয়ার কারণে বাংলাদেশের রপ্তানি অংশ তুলনামূলকভাবে কম।

তৈরি পোশাক, চামড়া, কৃষিপণ্য, হালকা প্রকৌশল এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর সুযোগ রয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন।

বাংলাদেশ চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। চীন বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ (জিডিআই) কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। যদিও জিডিআই এখনো একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিভিত্তিক কাঠামো নয়, এটা মূলত একটি বহুপাক্ষিক সহযোগিতা প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ঢাকার পূর্ব নাখালপাড়ায় ঘরের মেঝেতে পড়ে ছিল রোজিনার নিথর দেহ

ব্যবসায়ীদের মতে, প্রযুক্তি স্থানান্তর, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নতুন বিনিয়োগ বাড়ানোর ফলে বাংলাদেশের শিল্প উৎপাদন এবং রপ্তানি সক্ষমতায় যথেষ্ট পরিবর্তন আসতে পারে।

তারা দেখছেন, চীনের বিনিয়োগ যদি অবকাঠামোতে সীমাবদ্ধ না থেকে উৎপাদন শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, লজিস্টিকস, হালকা প্রকৌশল এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পেও সম্প্রসারিত হয়, তাহলে কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয় উভয়ই বৃদ্ধি পাবে।

বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) সভাপতি মোহা. খোরশেদ আলম বাসসকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন একটি মাত্রা প্রদান করতে পারে।

তাঁর মতে, চীনা বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের শিল্প, জ্বালানি, প্রযুক্তি এবং কৃষিখাতে আগ্রহ দেখালেও সেই কাক্সিক্ষত মাত্রার বিনিয়োগ এখনো আসেনি।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে রাসিক প্রশাসকের পাশে বিএনপি নেতা রেন্টুর পরিবার

মোহা. খোরশেদ আলম আরও বলেন, বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চীনের দীর্ঘমেয়াদি পুঁজিবাজার এবং বিনিয়োগ সক্ষমতা বাংলাদেশে কাজে লাগানো গেলে পুঁজিবাজার আরও গভীর এবং স্থিতিশীল হতে পারে। একই সাথে প্রযুক্তি স্থানান্তর ও শিল্প সহযোগিতা বাড়ালে উৎপাদন সক্ষমতা বহু গুণ বেড়ে যাবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ টানার জন্য নিশ্চিত নীতি, দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং জ্বালানি ও অবকাঠামো সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। যদি চীনের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ কৌশল বিবেচনায় নিয়ে ধারাবাহিকতা বজায় না রাখা হয়, তবে বিনিয়োগ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তিনি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বাংলাদেশি টাকা ও চীনা ইউয়ানের ব্যবহার বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, এতে মার্কিন ডলার নির্ভরতা কমবে এবং লেনদেন ব্যয় হ্রাস ঘটবে।

চীনের অবকাঠামো উন্নয়ন কোম্পানি সিসিইসিসির দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের নির্বাহী পরিচালক ইউসেফ শু বাসসকে জানান, চীনা ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী। তিনি মনে করেন, এই উচ্চপর্যায়ের সফর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

আরও পড়ুন: সৌদির বিমানবন্দরে হামলায় নিহত বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে

তিনি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত 'বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম'-এ চীনা ব্যবসায়ীরা অংশগ্রহণ করবেন এবং বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেবেন।

ব্যবসায়ীদের মতামত, আগামী দিনে বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক সম্পর্কের অগ্রগতি তিনটি মূল বিষয়ের উপর নির্ভর করবেÑবিনিয়োগ বাস্তবায়ন, রপ্তানি বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি স্থানান্তর। এই তিন ক্ষেত্রে কার্যকর অগ্রগতি হলে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদক চোরাচালান রোধে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:১৮ এম


মাদক চোরাচালান রোধে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে টেকনাফ অঞ্চলে বিশেষ জোন স্থাপন করার পাশাপাশি সীমান্তপথে মাদকের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে মাদক পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাসহ মিয়ানমার ও ভারত সীমান্তসংলগ্ন অঞ্চলে গোয়েন্দা তৎপরতা এবং নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্ট গার্ড, পুলিশ, র‌্যাব এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে সমন্বিতভাবে তথ্য আদান-প্রদান ও যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ এ বিষয়ে বাসসকে বলেন, মাদক একটি বহুমাত্রিক সামাজিক ও জাতীয় নিরাপত্তাজনিত সমস্যা। এ সমস্যা মোকাবিলায় শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে কাজ প্রয়োজন, এই জন্য পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, গণমাধ্যম এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অত্যন্ত প্রয়োজন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও সুস্থ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকারের নীতিগত নির্দেশনা অনুযায়ী নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে।

ডিএনসি জানিয়েছে যে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মাদক অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। মাদকের ধরন ও পরিমাণভেদে কারাদণ্ড, অর্থদণ্ডসহ বিভিন্ন শাস্তির বিধান রয়েছে। মাদক কারবারি, চোরাকারবারি এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের এবং বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।

ডিএনসি জানায় যে, মাদকের বিরুদ্ধে সারাবছরই নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। তাছাড়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ ও লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান চলমান। মাদক উৎপাদন, পরিবহন, মজুদ, বিপণন ও সেবনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে অধিদপ্তর বিশেষভাবে বদ্ধপরিকর। অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।

মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনÑএই তিনটি ক্ষেত্রকে সমান গুরুত্বপূর্ণ মনে করে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা রয়েছে। সরকারের নীতিগত অঙ্গীকার বাস্তবায়নে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সঙ্গে মিলিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ কে সংশোধনপূর্বক যুগোপোযোগী করার প্রক্রিয়াও ইতোমধ্যে চলমান রয়েছে।

বর্তমান সরকার মাদক, সন্ত্রাস, ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করেছে। তদুপরি, পথশিশুসহ যেসব ব্যক্তি মাদকাসক্ত হয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে তাদেরকে সরকারি ও বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্রের মাধ্যমে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।

আগামী ২৬ জুন আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬ পালিত হবে, যা মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী দিবস। প্রতি বছর জাতিসংঘ এই দিনে বিশ্বব্যাপী মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব ও অবৈধ পাচারের বিরুদ্ধে সচেতনাতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই দিবসটি পালন করে থাকে। মাদক প্রতিরোধ ও মাদকাসক্তিমুক্ত দেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে জাতিসংঘ ঘোষিত এ দিবসটি পালন করবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

ডিএনসি সূত্র আরও জানায় যে, বর্তমানে দেশে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য ৪টি সরকারি এবং ৩৮৬টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এসব কেন্দ্রে ডিটক্সিফিকেশন, চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাসেবা, মনোসামাজিক কাউন্সেলিং, গ্রুপ ও ফ্যামিলি থেরাপি, পুনর্বাসন এবং পুনরায় সমাজে সম্পৃক্তকরণসহ সমন্বিত চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের সুস্থ, স্বাভাবিক ও কর্মক্ষম জীবনে ফিরিয়ে আনাই এসব কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য।

মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা (মানস) এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী বাসসকে বলেন, তরুণদের মাদকের করাল গ্রাস থেকে বাঁচাতে হলে মাদক নিয়ন্ত্রণের কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই বিষয়টি সম্পর্কে সরকারের জিরো টলারেন্সের কথা উল্লেখ করেছেন। বিষয়টি তাদের নির্বাচনি তফসিলেও পর্যালোচিত হয়েছে।

তিনি বলেন, মাদক পাচারের আগ্রাসন রুখতে সীমান্তে কড়া নজরদারী সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তার বক্তৃতায় আলোচনা করেছেন।

ড.অরূপরতন আরও বলেন, মাদক প্রতিরোধে বর্তমান সরকারের যথেষ্ট দৃষ্টি রয়েছে এবং তা সঠিকভাবে পালন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষ কোনো বাহিনীকে এই দায়িত্ব দিতে পারলে ভালো হত। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন বাস্তবায়ন হলে মাদকের ছোবল থেকে যুব সমাজ রক্ষা পাবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালমা আক্তার বাসসকে বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে ব্যবসায়ীদের শান্তির আওতায় আনতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের এ ব্যাপারে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, মাদকের ছোবল থেকে সমাজকে রক্ষা করতে সর্বাত্মক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। মাদকবিরোধী প্রচারনা চালানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এ ছাড়া পারিবারিক সচেতনতা ও ধর্মীয় অনুশাসনের মাধ্যমে সন্তানদের মাদক থেকে বিরত রাখার জন্য সচেষ্ট থাকতে হবে।

অধ্যাপক সালমা আরও বলেন, সন্তানদের বিনোদনের জন্য খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার প্রসার ঘটাতে হবে। প্রতিটি পরিবারের উচিত তাদের সন্তানদের সঠিক পথে পরিচালনা করা।

তিনি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে মাফিয়াদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ তারা মাদক ব্যবসার জন্য দেশের যুবসমাজকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে।

বিশিষ্টজনদের মতে, মাদকের ভয়াবহতায় যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। মাদকের ছোবলে দেশ ও জাতির অনেক বড় ক্ষতি হচ্ছে। মাদকাসক্তরা নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। সূত্রমতে, মাদকের আগ্রাসনে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদি বধের রাতে ধূলিসাৎ মেসির ১৮ বছরের অহংকার, ইয়ামালের পাশে এখন শুধুই পেলে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:২০ এম


সৌদি বধের রাতে ধূলিসাৎ মেসির ১৮ বছরের অহংকার, ইয়ামালের পাশে এখন শুধুই পেলে

লিওনেল মেসির ১৮ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক রেকর্ড ভেঙে ফুটবল ইতিহাসের পাতায় নতুন কীর্তি গড়লেন স্পেনের বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামাল। মাত্র ১৮ বছর ৩৪৩ দিন বয়সে ফিফা বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল করার গৌরব অর্জন করেছেন বার্সেলোনার এই তরুণ ফরোয়ার্ড। এর মাধ্যমে তিনি আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি মেসির চেয়ে ঠিক ১৪ দিন কম বয়সে বিশ্বকাপে প্রথম গোলের দেখা পেয়ে ইতিহাস গড়েছেন। এর আগে ২০০৬ বিশ্বকাপে মেসি যখন প্রথম গোল করেছিলেন, তখন তাঁর বয়স ছিল ১৮ বছর ৩৫৭ দিন। একই সাথে ব্রাজিলের মহানায়ক পেলের পর ইতিহাসের দ্বিতীয় কনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে দেশের হয়ে প্রথম গোল করার অনন্য রেকর্ডও ছুঁয়েছেন ইয়ামাল।

আটলান্টা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রবিবারের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে ইয়ামালের রেকর্ড গড়া গোলের ওপর ভর করে সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে স্পেন। প্রথম ম্যাচে নবাগত কেপ ভার্ডের সাথে গোলশূন্য ড্র করার ধাক্কা সামলে এই জয়ে টুর্নামেন্টে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াল ইয়ামালরা। ম্যাচের ১১তম মিনিটেই স্পেনের হয়ে গোল উৎসবের সূচনা করেন ইয়ামাল।

অপটার (Opta) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই গোলের পর লামিন ইয়ামাল বিশ্বের একমাত্র ফুটবলার যিনি ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সে ফিফা বিশ্বকাপ এবং উয়েফা ইউরো—উভয় বড় টুর্নামেন্টেই গোল করার অনন্য নজির স্থাপন করলেন। শুধু তাই নয়, ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে ওয়েলসের বিরুদ্ধে মাত্র ১৭ বছর বয়সে ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলে দেশের হয়ে প্রথম ওপেনিং গোল করার কীর্তি গড়েছিলেন। পেলের দীর্ঘ ৬৮ বছর পর ইয়ামালই প্রথম অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবলার যিনি বিশ্বকাপের ম্যাচে দেশের হয়ে প্রথম গোলটি করলেন।

স্পেন জাতীয় দলে এই কিশোর তারকার প্রভাব কতটা, তা ফুটে ওঠে আরেকটি পরিসংখ্যানে। ইয়ামাল শুরুর একাদশে থাকা ২১টি ম্যাচের একটিতেও হারেনি স্পেন; যার মধ্যে ১৫টিতেই জয় এবং ৬টি ড্র। এই ২১ ম্যাচে স্পেনের করা ৬০টি গোলের মধ্যে ১৬টি গোলেই সরাসরি অবদান রেখেছেন ইয়ামাল, যার মধ্যে রয়েছে ৫টি গোল ও ১১টি অ্যাসিস্ট।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদক ও অপরাধ দমনে বিএমপির বিশেষ অভিযান, ২৪ ঘণ্টায় আটক ১৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:২১ এম


মাদক ও অপরাধ দমনে বিএমপির বিশেষ অভিযান, ২৪ ঘণ্টায় আটক ১৮

বরিশাল মহানগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন এবং মাদক নির্মূলে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি)। গত ২৪ ঘণ্টায় মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত পৃথক অভিযানে মাদক ব্যবসায়ীসহ মোট ১৮ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বিএমপি মিডিয়া সেল সূত্রে জানা যায়, মহানগর পুলিশের চারটি থানা এবং গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ আভিযানিক দল নগরীর বিভিন্ন স্থানে এ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে ৩২০ পিস কথিত ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া দীর্ঘদিন পলাতক থাকা এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্যমতে, পূর্বের ও চলমান বিভিন্ন নিয়মিত মামলায় আরও ১৪ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি বরিশাল মহানগর অধ্যাদেশের আওতায় একজনকে আটক করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিএমপি সূত্র আরও জানায়, মহানগরীর শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে এ ধরনের বিশেষ অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে নিশ্চিন্তে জিতবে আর্জেন্টিনা, বলছে অপ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:২২ এম


অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে নিশ্চিন্তে জিতবে আর্জেন্টিনা, বলছে অপ্টা

বিশ্বকাপের ‘জে’-এর অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচে আজ রাতে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপের উদীয়মান শক্তি অস্ট্রিয়া। ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই লড়াইয়ের আগে, ফুটবল পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অপ্টা ম্যাচের সম্ভাব্য ফল নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী প্রকাশ করেছে।

অপ্টার সুপারকম্পিউটার ২৫ হাজার সিমুলেশন চালিয়ে বলছে, এই ম্যাচটিতে পরিষ্কার ফেবারিট হিসেবে উঠে এসেছে আর্জেন্টিনা। তাদের জয়ের সম্ভাবনা ৬১.১ শতাংশ এবং অন্যদিকে ড্র হওয়ার সম্ভাবনা ২১.৯ শতাংশ। অস্ট্রিয়ার জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ১৭ শতাংশ।

প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ফরমে ফিরে এসেছে লিওনেল স্কালোনির দল। সেই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপে বর্তমানে তার গোলসংখ্যা ১৬, যা জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ডের সমান। যদি অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে তিনি আর একটি গোল করতে পারেন, তবে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করবেন, যিনি আটবার ব্যালন ডি’অর জয়ী এই তারকা।

শুধু গোলের রেকর্ড স্থাপনই নয়, মেসির সামনে টানা ছয় বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার সুযোগ রয়েছে। এর আগে এই রেকর্ড গড়েছেন ফ্রান্সের জাস্ট ফঁতেইন এবং ব্রাজিলের জর্জিনহো।

তবে অস্ট্রিয়াকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। রাল্ফ রাংনিকের নেতৃত্বে অস্ট্রিয়া তাদের প্রথম ম্যাচে জর্ডানকে ৩-১ গোলে পরাজিত করেছে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তারা টানা চার ম্যাচ জয়ের ধারায় রয়েছে এবং গত ১২ ম্যাচে অস্ট্রিয়ার জয় এসেছে ১০টিতে।

দুই দলই তাদের প্রথম ম্যাচ জিতেছে, তাই এখন এই ম্যাচের জয়ী দল নকআউট পর্বের পথে উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাবে। তবে পরিসংখ্যান এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের নিরিখে অপ্টার সুপারকম্পিউটার আর্জেন্টিনাকেই এগিয়ে রাখছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%