প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে টেকনাফ অঞ্চলে বিশেষ জোন স্থাপন করার পাশাপাশি সীমান্তপথে মাদকের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে মাদক পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাসহ মিয়ানমার ও ভারত সীমান্তসংলগ্ন অঞ্চলে গোয়েন্দা তৎপরতা এবং নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্ট গার্ড, পুলিশ, র্যাব এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে সমন্বিতভাবে তথ্য আদান-প্রদান ও যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ এ বিষয়ে বাসসকে বলেন, মাদক একটি বহুমাত্রিক সামাজিক ও জাতীয় নিরাপত্তাজনিত সমস্যা। এ সমস্যা মোকাবিলায় শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে কাজ প্রয়োজন, এই জন্য পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, গণমাধ্যম এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অত্যন্ত প্রয়োজন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও সুস্থ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকারের নীতিগত নির্দেশনা অনুযায়ী নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে।
ডিএনসি জানিয়েছে যে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মাদক অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। মাদকের ধরন ও পরিমাণভেদে কারাদণ্ড, অর্থদণ্ডসহ বিভিন্ন শাস্তির বিধান রয়েছে। মাদক কারবারি, চোরাকারবারি এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের এবং বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।
ডিএনসি জানায় যে, মাদকের বিরুদ্ধে সারাবছরই নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। তাছাড়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ ও লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান চলমান। মাদক উৎপাদন, পরিবহন, মজুদ, বিপণন ও সেবনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে অধিদপ্তর বিশেষভাবে বদ্ধপরিকর। অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনÑএই তিনটি ক্ষেত্রকে সমান গুরুত্বপূর্ণ মনে করে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা রয়েছে। সরকারের নীতিগত অঙ্গীকার বাস্তবায়নে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সঙ্গে মিলিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ কে সংশোধনপূর্বক যুগোপোযোগী করার প্রক্রিয়াও ইতোমধ্যে চলমান রয়েছে।
বর্তমান সরকার মাদক, সন্ত্রাস, ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করেছে। তদুপরি, পথশিশুসহ যেসব ব্যক্তি মাদকাসক্ত হয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে তাদেরকে সরকারি ও বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্রের মাধ্যমে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।
আগামী ২৬ জুন আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬ পালিত হবে, যা মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী দিবস। প্রতি বছর জাতিসংঘ এই দিনে বিশ্বব্যাপী মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব ও অবৈধ পাচারের বিরুদ্ধে সচেতনাতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই দিবসটি পালন করে থাকে। মাদক প্রতিরোধ ও মাদকাসক্তিমুক্ত দেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে জাতিসংঘ ঘোষিত এ দিবসটি পালন করবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
ডিএনসি সূত্র আরও জানায় যে, বর্তমানে দেশে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য ৪টি সরকারি এবং ৩৮৬টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এসব কেন্দ্রে ডিটক্সিফিকেশন, চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাসেবা, মনোসামাজিক কাউন্সেলিং, গ্রুপ ও ফ্যামিলি থেরাপি, পুনর্বাসন এবং পুনরায় সমাজে সম্পৃক্তকরণসহ সমন্বিত চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের সুস্থ, স্বাভাবিক ও কর্মক্ষম জীবনে ফিরিয়ে আনাই এসব কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য।
মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা (মানস) এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী বাসসকে বলেন, তরুণদের মাদকের করাল গ্রাস থেকে বাঁচাতে হলে মাদক নিয়ন্ত্রণের কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই বিষয়টি সম্পর্কে সরকারের জিরো টলারেন্সের কথা উল্লেখ করেছেন। বিষয়টি তাদের নির্বাচনি তফসিলেও পর্যালোচিত হয়েছে।
তিনি বলেন, মাদক পাচারের আগ্রাসন রুখতে সীমান্তে কড়া নজরদারী সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তার বক্তৃতায় আলোচনা করেছেন।
ড.অরূপরতন আরও বলেন, মাদক প্রতিরোধে বর্তমান সরকারের যথেষ্ট দৃষ্টি রয়েছে এবং তা সঠিকভাবে পালন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষ কোনো বাহিনীকে এই দায়িত্ব দিতে পারলে ভালো হত। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন বাস্তবায়ন হলে মাদকের ছোবল থেকে যুব সমাজ রক্ষা পাবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালমা আক্তার বাসসকে বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে ব্যবসায়ীদের শান্তির আওতায় আনতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের এ ব্যাপারে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, মাদকের ছোবল থেকে সমাজকে রক্ষা করতে সর্বাত্মক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। মাদকবিরোধী প্রচারনা চালানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এ ছাড়া পারিবারিক সচেতনতা ও ধর্মীয় অনুশাসনের মাধ্যমে সন্তানদের মাদক থেকে বিরত রাখার জন্য সচেষ্ট থাকতে হবে।
অধ্যাপক সালমা আরও বলেন, সন্তানদের বিনোদনের জন্য খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার প্রসার ঘটাতে হবে। প্রতিটি পরিবারের উচিত তাদের সন্তানদের সঠিক পথে পরিচালনা করা।
তিনি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে মাফিয়াদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ তারা মাদক ব্যবসার জন্য দেশের যুবসমাজকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে।
বিশিষ্টজনদের মতে, মাদকের ভয়াবহতায় যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। মাদকের ছোবলে দেশ ও জাতির অনেক বড় ক্ষতি হচ্ছে। মাদকাসক্তরা নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। সূত্রমতে, মাদকের আগ্রাসনে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন