ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ, দীর্ঘ যানজটে ভোগান্তিতে যাত্রীরা


ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ, দীর্ঘ যানজটে ভোগান্তিতে যাত্রীরা

ঢাকার ধামরাইয়ে আবাসিক গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহের দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অধিকাংশ সময় গ্যাসের অভাব জনিত কারণে তাঁদের দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে এবং এর ফলে প্রায় আড়াই ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।

সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ৯টার সময় উপজেলার কালামপুর এলাকায় প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ ঘটনা মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি করে এবং যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। অবরোধ শেষে উপজেলা প্রশাসনের অনুরোধে মহাসড়ক ছাড়েন আন্দোলনকারীরা। এ সময়ে ধামরাই থানা ও গোলড়া হাইওয়ে থানা পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে কাজ করেন।

অবরোধে অংশ নেওয়া বাসিন্দারা জানান, গোয়ালদী, বাটুলিয়া, মহিশাষী, কাওয়ালীপাড়া থেকে সাটুরিয়া পর্যন্ত তিতাস গ্যাসের আবাসিক গ্রাহকেরা প্রায় দুই বছর ধরে পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না, যদিও গ্যাস সংযোগ রয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ সময় চুলায় আগুন জ্বলে না, ফলে রান্নার জন্য এলপিজি সিলিন্ডার ও কাঠসহ বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। কিন্তু উপরন্তু তাদের অভিযোগ, গ্যাস ব্যবহার না করেও সঠিকভাবে গ্যাস বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন: মেয়ের যৌতুক মামলার বদলা! গোমস্তাপুরে জামিনে ফিরে শ্বশুরকে কুপিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা

স্থানীয় গ্রাহকরা তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের কাছে একটি লিখিত আবেদনে অভিযোগ করেছেন, কালামপুর বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিম পাশের ডিআরএস (ডিস্ট্রিক্ট রেগুলেটিং স্টেশন) থেকে তাদের এলাকায় গ্যাস সরবরাহ করা হয়। কিন্তু ওই লাইনে পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় আবাসিক গ্রাহকেরা গ্যাস পাচ্ছেন না।

আবেদনে আরো অভিযোগ করা হয়, ডিআরএসের পূর্ব পাশে থাকা একটি রি-রোলিং মিল এবং কালামপুর বিসিক শিল্পনগরীসংলগ্ন একটি সিরামিক কারখানা অবৈধভাবে বুস্টার ব্যবহার করে অতিরিক্ত গ্যাস টেনে নেওয়ায় আবাসিক এলাকায় গ্যাসের সংকট তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

গ্রাহকদের দাবি, আবাসিক লাইনে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের গ্যাস বিল মওকুফ করতে হবে। একই সঙ্গে গ্রাহকরা ব্যবহারভিত্তিক বিল আদায়ের জন্য আবাসিক সংযোগে গ্যাসের মিটার স্থাপনের দাবি জানান।

অবরোধে অংশ নেওয়া কালামপুর এলাকার গৃহবধূ সুলতানা বেগম বলেন, সকাল বেলা আমরা ঠিকমতো রান্না করতে পারিনি, খেতেও পারিনি। আমাদের একটাই দাবি, বাসায় পর্যাপ্ত গ্যাস দিতে হবে। আর যতো দিন গ্যাস পাইনি, ততো দিনের বিল মওকুফ করতে হবে।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রির সময় পুলিশ কনস্টেবলসহ আটক ৫

শাহানা আক্তার নামে আরেক গ্রাহক বলেন, আমার ছেলে সিক্সে পড়ে, স্বামী চাকরি করে। সকালে আমরা ঠিকমতো রান্না করতে পারিনি, খেতেও পারিনি। আমাদের একটাই দাবি, আমাদের গ্যাস সংযোগ দিতে হবে। আর যতদিন আমরা গ্যাস পাইনি, ততদিনের গ্যাস বিল মওকুফ করতে হবে। এটাই আমাদের দাবি।

মহাসড়ক অবরোধের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় অনেক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অবরোধের কারণে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উভয় দিকে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের সারি তৈরি হয়। পরে প্রশাসনের আশ্বাসের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া শুরু করে।

মানিকগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া শাহীনুর ইসলাম নামে এক যাত্রী বলেন, দুই-তিন ঘণ্টা ধরে কয়েকজন মানুষ সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন। এতে সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।

অন্যদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন ধামরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আল মামুন। তিনি অবরোধকারীদের উদ্দেশ্যে জানান, এই বিষয়টি গ্যাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে বেলা ১২টার দিকে তারা অবরোধ ছেড়ে দেন। এখন যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে পানসি নৌকা বাইচ উৎসবের উদ্বোধন করলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড.এম এ মুহিত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীর গুলশানের বাসভবন কেপিআই ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:২৬ পি.এম


প্রধানমন্ত্রীর গুলশানের বাসভবন কেপিআই ঘোষণা

রাজধানী গুলশানের বর্তমান বাসভবনে থাকছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই কারণে সরকারের পক্ষ থেকে গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসভবনটিকে ‘বিশেষ শ্রেণির’ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে এই বাসভবনসহ এর চারপাশের এলাকা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় এসেছে।

সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুন আয়োজিত কেপিআই-সংক্রান্ত কমিটির (কেপিআইডিসি) মাসিক সভায় গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসভবনকে বিশেষ শ্রেণির কেপিআই হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে সরকারের অনুমোদনের ভিত্তিতে ১৫ জুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। জানানো হয়েছে, গত শুক্রবার (৩ জুলাই) এই বিষয়ে গেজেট প্রকাশিত হয়েছে।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসভবন থেকেই সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, যদিও রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা সরকারি কাজে প্রস্তুত থাকলেও তিনি সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন না।

বাসভবনের মালিকানা সম্পর্কে জানা যায়, গত বছরের ৫ জুন অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার হাতে বাড়িটির নামজারির কাগজ হস্তান্তর করে। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের নিহত হওয়ার পর গুলশানে প্রায় দেড় বিঘা জমির ওপর নির্মিত বাড়িটি খালেদা জিয়ার নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। পরে নামজারি সম্পন্ন করার পর বাড়িটি সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হয়।

গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর তারেক রহমান ওই বাসভবনে অবস্থান শুরু করেন। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরও তিনি সেখান থেকেই রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করছেন।

নিরাপত্তা তদারকির জন্য স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সমন্বয়ে একটি পৃথক নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা হবে। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবেন প্রেসিডেন্ট গার্ডস রেজিমেন্টের (পিজিআর) সদস্যরা এবং তাদের সঙ্গে কাজ করবেন বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরাও।

নিরাপত্তা নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, কেপিআই ঘোষিত স্থাপনার সীমানা প্রাচীরের উচ্চতা কমপক্ষে ১২ ফুট হতে হবে। তার ওপরে আরও তিন ফুট উচ্চতার ‘ওয়াই’ আকারের কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন করতে হবে।

এছাড়া নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়ন করে আশপাশের উঁচু ভবন থেকে নজরদারি, ছবি তোলা অথবা সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেপিআই স্থাপনার ১৫০ থেকে ৩০০ মিটারের মধ্যে নতুন কোনো উঁচু ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, কেপিআই স্থাপনার ২৫ মিটারের মধ্যে নতুন কোনো ভবন নির্মাণ করা যাবে না। পাশাপাশি স্থাপনার চারপাশে পাঁচ ফুট এলাকার মধ্যে বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এমন গাছপালা অপসারণের ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নথি, তথ্য এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের সুরক্ষার স্বার্থেই গুলশানের এই বাসভবনটিকে বিশেষ শ্রেণির কেপিআই হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারি ক্রয় কমিটি পুনর্গঠন, সভাপতির দায়িত্ব পেলেন আইনমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:২৮ পি.এম


সরকারি ক্রয় কমিটি পুনর্গঠন, সভাপতির দায়িত্ব পেলেন আইনমন্ত্রী

সরকার নতুন করে কমিটি পুনর্গঠন করেছে যাতে সরকারি ক্রয় কার্যক্রম আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ হতে পারে। এই পুনর্গঠিত কমিটির সভাপতির পদে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানকে রাখা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ রোববার (৫ জুলাই) এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কমিটি অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করবে।

এছাড়া, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫-এর আওতাধীন বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে সরকারি ক্রয়ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করাটা নিয়ে সুপারিশ দেবে বলেও প্রজ্ঞাপনটিতে বলা হয়েছে।

অথবা অন্যান্য দায়িত্ব যা অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ও সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির দ্বারা অর্পিত হয়েছে, সেটিও পালন করবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ রয়েছে।

কমিটির সদস্য হিসেবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, নৌপরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. মঈন উদ্দীন আহমেদ রয়েছেন বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে। সূত্র: বাসস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঝড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস, ১১ অঞ্চলের নৌবন্দরে ২ নম্বর সতর্কতা সংকেত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৩০ পি.এম


ঝড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস, ১১ অঞ্চলের নৌবন্দরে ২ নম্বর সতর্কতা সংকেত

আবহাওয়া অফিস ১১টি অঞ্চলের নৌবন্দর, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেটকে ২ (দুই) নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শন করতে বলেছে।

আজ সোমবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর সমূহের জন্য বিশেষ আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে আরও বলা হয় যে, ‘ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের উপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘন্টায় ৬০-৮০ কি.মি. বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া চলে আসতে পারে। এসব অঞ্চলের নদীবন্দর সমূহকে ২ (দুই) নম্বর নৌ হুঁশিয়ারী সংকেত (পুনঃ) ২ (দুই) নম্বর নৌ হুঁশিয়ারী সংকেত দেখাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

আরও বলা হয়েছে, দেশের অন্যত্র পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘন্টায় ৪৫-৬০ কি.মি. বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব অঞ্চলের নদীবন্দর সমূহকে ১ (এক) নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজারে পাহাড় ধসে রোহিঙ্গা নারী-শিশুসহ ৯ জন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৩১ পি.এম


কক্সবাজারে পাহাড় ধসে রোহিঙ্গা নারী-শিশুসহ ৯ জন নিহত

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পেসহ পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ মোট ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এক রাতের মধ্যেই উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ের ধসের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনা ছাড়া কক্সবাজার শহরে আরো একটি পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৮ রোহিঙ্গাসহ ৯ জন নিহত হন। আহত হয়েছেন আরো কয়েকজন。

সোমবার দিবাগত রাত ১টা থেকে ৩টার মধ্যে উখিয়ার ৭, ১১ ও ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনা শোনার পর ফায়ার সার্ভিস, এপিবিএন, ক্যাম্প প্রশাসন এবং রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা রাতভর উদ্ধার অভিযানে ছিলেন।

রোহিঙ্গা শরণার্থী মোহাম্মদ মোস্তাফা বাসস’কে জানান, সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে। রাত দেড়টার দিকে আশ্রিত রোহিঙ্গা মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের বসতঘরের ওপর ধসে পড়ে পাহাড়ের বিশাল অংশ। মুহূর্তেই মাটির নিচে চাপা পড়ে যায় পুরো ঘর।

উদ্ধারকর্মীরা ঘরের ভেতর থেকে কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং ৪ বছরের ছেলে মোহাম্মদ আনাসের মরদেহ উদ্ধার করেন। দুর্ঘটনার সময় ঘরটিতে পরিবারের ১০ সদস্য অবস্থান করছিলেন। আহত এক কিশোরীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা প্রাণে বেঁচে গেলেও তাঁদের অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছেন।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা বাসস’কে বলেছেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। ঘটনার স্থল থেকে তিনজনের মরদেহ এবং দু’জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

এর কিছুক্ষণ পর রাত ২টার দিকে রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে আরেকটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে একরাম (৭) নামে শিশুর মৃত্যু ঘটে। সে ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ রশিদের ছেলে ছিল।

ক্যাম্পের মাঝি এনায়েত উল্লাহ জানিয়েছেন, পাহাড় ধসের পর রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।

রাত সাড়ে ৩টার দিকে বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আসে আরেকটি দুঃসংবাদ। ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে পাহাড় ধসে একই পরিবারের ৪ জন প্রাণ হারান। আহত হন আরও একজন।

নিহতরা হলেন- ওই ক্যাম্পের আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে উম্মে হাবিবা (২৭), তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রশিদের ছেলে মোহাম্মদ রিহান (৫) এবং হারুনুর রশিদ (৩)। তিনটি পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় মোট ৮ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা।

'বিভিন্ন ঘটনা একই সময়ে ঘটেছে। রাতভর উদ্ধার অভিযান চলেছে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।'

এদিকে রাত ৩টার দিকে কক্সবাজার শহরের ১২ নং ওয়ার্ডের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে আলী আকবর নামে একজনের মৃত্যু ঘটে। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী বাসস’কে জানান, পাহাড় ধসে চাপা পড়ে একই পরিবারের ৩ জনকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা। চাপা পড়া আলী আকবরকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃতদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

ক্যাম্পে বসবাসকারী রোহিঙ্গা জাফর আলম বলেন, বর্ষা এলেই তাদের সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হয়ে ওঠে পাহাড় ধস। পাহাড় কেটে তৈরি করা ঢালে বাঁশ, ত্রিপল ও মাটির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো ঘর ভারী বৃষ্টিতে অত্যন্ত ঝুঁকি পূর্ণ হয়ে পড়ে। সামান্য ধসও মুহূর্তেই কেড়ে নিতে পারে বহু প্রাণ।

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে মাইকিংসহ বিভিন্নভাবে সতর্ক করা হচ্ছে জানিয়ে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার বাসস’কে বলেন, 'ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসের ঝুঁকি অনেক বেড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে এবং সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হচ্ছে। জীবন রক্ষায় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলা অত্যন্ত আবশ্যক।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%