প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকার ধামরাইয়ে আবাসিক গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহের দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অধিকাংশ সময় গ্যাসের অভাব জনিত কারণে তাঁদের দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে এবং এর ফলে প্রায় আড়াই ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।
সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ৯টার সময় উপজেলার কালামপুর এলাকায় প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ ঘটনা মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি করে এবং যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। অবরোধ শেষে উপজেলা প্রশাসনের অনুরোধে মহাসড়ক ছাড়েন আন্দোলনকারীরা। এ সময়ে ধামরাই থানা ও গোলড়া হাইওয়ে থানা পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে কাজ করেন।
অবরোধে অংশ নেওয়া বাসিন্দারা জানান, গোয়ালদী, বাটুলিয়া, মহিশাষী, কাওয়ালীপাড়া থেকে সাটুরিয়া পর্যন্ত তিতাস গ্যাসের আবাসিক গ্রাহকেরা প্রায় দুই বছর ধরে পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না, যদিও গ্যাস সংযোগ রয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ সময় চুলায় আগুন জ্বলে না, ফলে রান্নার জন্য এলপিজি সিলিন্ডার ও কাঠসহ বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। কিন্তু উপরন্তু তাদের অভিযোগ, গ্যাস ব্যবহার না করেও সঠিকভাবে গ্যাস বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে।
স্থানীয় গ্রাহকরা তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের কাছে একটি লিখিত আবেদনে অভিযোগ করেছেন, কালামপুর বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিম পাশের ডিআরএস (ডিস্ট্রিক্ট রেগুলেটিং স্টেশন) থেকে তাদের এলাকায় গ্যাস সরবরাহ করা হয়। কিন্তু ওই লাইনে পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় আবাসিক গ্রাহকেরা গ্যাস পাচ্ছেন না।
আবেদনে আরো অভিযোগ করা হয়, ডিআরএসের পূর্ব পাশে থাকা একটি রি-রোলিং মিল এবং কালামপুর বিসিক শিল্পনগরীসংলগ্ন একটি সিরামিক কারখানা অবৈধভাবে বুস্টার ব্যবহার করে অতিরিক্ত গ্যাস টেনে নেওয়ায় আবাসিক এলাকায় গ্যাসের সংকট তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
গ্রাহকদের দাবি, আবাসিক লাইনে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের গ্যাস বিল মওকুফ করতে হবে। একই সঙ্গে গ্রাহকরা ব্যবহারভিত্তিক বিল আদায়ের জন্য আবাসিক সংযোগে গ্যাসের মিটার স্থাপনের দাবি জানান।
অবরোধে অংশ নেওয়া কালামপুর এলাকার গৃহবধূ সুলতানা বেগম বলেন, সকাল বেলা আমরা ঠিকমতো রান্না করতে পারিনি, খেতেও পারিনি। আমাদের একটাই দাবি, বাসায় পর্যাপ্ত গ্যাস দিতে হবে। আর যতো দিন গ্যাস পাইনি, ততো দিনের বিল মওকুফ করতে হবে।
শাহানা আক্তার নামে আরেক গ্রাহক বলেন, আমার ছেলে সিক্সে পড়ে, স্বামী চাকরি করে। সকালে আমরা ঠিকমতো রান্না করতে পারিনি, খেতেও পারিনি। আমাদের একটাই দাবি, আমাদের গ্যাস সংযোগ দিতে হবে। আর যতদিন আমরা গ্যাস পাইনি, ততদিনের গ্যাস বিল মওকুফ করতে হবে। এটাই আমাদের দাবি।
মহাসড়ক অবরোধের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় অনেক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অবরোধের কারণে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উভয় দিকে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের সারি তৈরি হয়। পরে প্রশাসনের আশ্বাসের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া শুরু করে।
মানিকগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া শাহীনুর ইসলাম নামে এক যাত্রী বলেন, দুই-তিন ঘণ্টা ধরে কয়েকজন মানুষ সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন। এতে সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।
অন্যদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন ধামরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আল মামুন। তিনি অবরোধকারীদের উদ্দেশ্যে জানান, এই বিষয়টি গ্যাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে বেলা ১২টার দিকে তারা অবরোধ ছেড়ে দেন। এখন যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন