ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কক্সবাজারে পাহাড় ধসে রোহিঙ্গা নারী-শিশুসহ ৯ জন নিহত


কক্সবাজারে পাহাড় ধসে রোহিঙ্গা নারী-শিশুসহ ৯ জন নিহত

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পেসহ পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ মোট ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এক রাতের মধ্যেই উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ের ধসের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনা ছাড়া কক্সবাজার শহরে আরো একটি পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৮ রোহিঙ্গাসহ ৯ জন নিহত হন। আহত হয়েছেন আরো কয়েকজন。

সোমবার দিবাগত রাত ১টা থেকে ৩টার মধ্যে উখিয়ার ৭, ১১ ও ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনা শোনার পর ফায়ার সার্ভিস, এপিবিএন, ক্যাম্প প্রশাসন এবং রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা রাতভর উদ্ধার অভিযানে ছিলেন।

রোহিঙ্গা শরণার্থী মোহাম্মদ মোস্তাফা বাসস’কে জানান, সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে। রাত দেড়টার দিকে আশ্রিত রোহিঙ্গা মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের বসতঘরের ওপর ধসে পড়ে পাহাড়ের বিশাল অংশ। মুহূর্তেই মাটির নিচে চাপা পড়ে যায় পুরো ঘর।

আরও পড়ুন: মুন্সীগঞ্জে পিস্তল-গুলি ও চাইনিজ কুড়ালসহ সাদ্দাম মাঝি গ্রেপ্তার

উদ্ধারকর্মীরা ঘরের ভেতর থেকে কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং ৪ বছরের ছেলে মোহাম্মদ আনাসের মরদেহ উদ্ধার করেন। দুর্ঘটনার সময় ঘরটিতে পরিবারের ১০ সদস্য অবস্থান করছিলেন। আহত এক কিশোরীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা প্রাণে বেঁচে গেলেও তাঁদের অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছেন।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা বাসস’কে বলেছেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। ঘটনার স্থল থেকে তিনজনের মরদেহ এবং দু’জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

এর কিছুক্ষণ পর রাত ২টার দিকে রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে আরেকটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে একরাম (৭) নামে শিশুর মৃত্যু ঘটে। সে ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ রশিদের ছেলে ছিল।

ক্যাম্পের মাঝি এনায়েত উল্লাহ জানিয়েছেন, পাহাড় ধসের পর রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।

আরও পড়ুন: ময়মনসিংহে নির্মাণসামগ্রী লুটের ঘটনায় ৮ ডাকাত গ্রেফতার, উদ্ধার ট্রাক

রাত সাড়ে ৩টার দিকে বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আসে আরেকটি দুঃসংবাদ। ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে পাহাড় ধসে একই পরিবারের ৪ জন প্রাণ হারান। আহত হন আরও একজন।

নিহতরা হলেন- ওই ক্যাম্পের আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে উম্মে হাবিবা (২৭), তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রশিদের ছেলে মোহাম্মদ রিহান (৫) এবং হারুনুর রশিদ (৩)। তিনটি পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় মোট ৮ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা।

'বিভিন্ন ঘটনা একই সময়ে ঘটেছে। রাতভর উদ্ধার অভিযান চলেছে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।'

এদিকে রাত ৩টার দিকে কক্সবাজার শহরের ১২ নং ওয়ার্ডের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে আলী আকবর নামে একজনের মৃত্যু ঘটে। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী বাসস’কে জানান, পাহাড় ধসে চাপা পড়ে একই পরিবারের ৩ জনকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা। চাপা পড়া আলী আকবরকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃতদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: সদরপুর উপজেলা ছাত্রদলের নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন

ক্যাম্পে বসবাসকারী রোহিঙ্গা জাফর আলম বলেন, বর্ষা এলেই তাদের সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হয়ে ওঠে পাহাড় ধস। পাহাড় কেটে তৈরি করা ঢালে বাঁশ, ত্রিপল ও মাটির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো ঘর ভারী বৃষ্টিতে অত্যন্ত ঝুঁকি পূর্ণ হয়ে পড়ে। সামান্য ধসও মুহূর্তেই কেড়ে নিতে পারে বহু প্রাণ।

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে মাইকিংসহ বিভিন্নভাবে সতর্ক করা হচ্ছে জানিয়ে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার বাসস’কে বলেন, 'ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসের ঝুঁকি অনেক বেড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে এবং সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হচ্ছে। জীবন রক্ষায় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলা অত্যন্ত আবশ্যক।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি ইসির; প্রথম ধাপে ইউপি ও পৌরসভা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৩৩ পি.এম


অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি ইসির; প্রথম ধাপে ইউপি ও পৌরসভা

আগামী অক্টোবর থেকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) এবং পৌরসভা নির্বাচনের আয়োজন করা হতে পারে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, সরকারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

রাজধানীর নির্বাচন ভবনে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, পর্যায়ক্রমে সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে।

রহমানেল মাছউদ বলেন, বর্তমানে স্থানীয় সরকারের প্রায় সব স্তরের নির্বাচন বাকি রয়েছে। সংবিধান ও আইনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এসব নির্বাচন পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করতে হবে। কমিশন ইতোমধ্যে অক্টোবরকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, কোন স্তরের নির্বাচন আগে হবে, সে বিষয়ে কমিশনের আনুষ্ঠানিক কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বাস্তবতা ও প্রশাসনিক প্রয়োজন বিবেচনায় প্রথমে ইউপি এবং পৌরসভা নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। উপজেলা পরিষদ গঠনের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনের গুরুত্ব রয়েছে। তাই এ দুটি নির্বাচন আগে সম্পন্ন করে পরবর্তী সময়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান।

নির্বাচন কমিশনার মাছউদ বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারণে নানা বিষয় বিবেচনা করা হয়। এর মাঝে পাবলিক পরীক্ষা, ধর্মীয় উৎসব ও আচার-অনুষ্ঠান, বর্ষা মৌসুম এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগোলিক ও যোগাযোগ পরিস্থিতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব বিষয় পর্যালোচনা করেই কমিশন চূড়ান্ত তফসিল ঘোষণা করবে।

সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'এখনও এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি এবং সরকারের পক্ষ থেকেও কমিশনের কাছে কোনো চিঠিও আসেনি। তবে কমিশন নিজস্ব উদ্যোগে সব ধরনের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে। সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হলেও এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।'

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করতে কত সময় লাগবে- এমন প্রশ্নের জবাবে উল্লেখ করেন, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ এবং সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে।

এছাড়া, স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষ্যে আইন, বিধিমালা ও আচরণবিধি সংশোধনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আচরণবিধির খসড়া কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মতামত আহ্বান করা হয়েছে। প্রাপ্ত মতামত যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সংযোজন ও বিয়োজন করা হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, সংশোধিত বিধিমালায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বাড়ানো হবে। অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ থাকছে না। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে না। পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থাও থাকছে না। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনের মতো পোস্টার ব্যবহারও থাকবে না।

বর্তমানে কতটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, প্রায় সাড়ে ৪ হাজারের বেশি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং আনসার সদস্যদের দায়িত্বে নির্বাচন পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন অঞ্চলভিত্তিক পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি ধাপের অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করে পরবর্তী ধাপের নিরাপত্তা পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রহমানেল মাছউদ বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং গণমাধ্যম নির্বাচনটিকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে মূল্যায়ন করেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সেই মান বজায় রাখতে কমিশন সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে এবং এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যম ও ভোটারদের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে।

তিনি আরও বলেন, অতীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনগুলোতে তুলনামূলক বেশি সংঘাত ও সহিংসতা দেখা গেছে। কারণ এসব নির্বাচন প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয়। কমিশন এবার সহিংসতা কমিয়ে এনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি সংসদে বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কমিশন প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলেও তিনি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কর্ণফুলীর আগুনে নিভে গেল সন্দ্বীপের তরুণ প্রকৌশলী তামিমের জীবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সন্দ্বীপ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৩৪ পি.এম


কর্ণফুলীর আগুনে নিভে গেল সন্দ্বীপের তরুণ প্রকৌশলী তামিমের জীবন

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে মাছ ধরার নৌযান ‘এফভি দেশ’-এ ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন সন্দ্বীপের তরুণ প্রকৌশলী আশিকুজ্জামান তামিম। কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার দিবাগত রাতে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তামিম চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রোববার বাদ আসর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় আত্মীয়-স্বজন, এলাকাবাসী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

জানা যায়, গত মঙ্গলবার দুপুরে কর্ণফুলী নদীতে নোঙর করা অবস্থায় থাকা মাছ ধরার নৌযান ‘এফভি দেশ’-এ হঠাৎ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে নৌযানটিতে। অগ্নিকাণ্ডে নৌযানের ক্যাডেট প্রকৌশলী আশিকুজ্জামান তামিমসহ কয়েকজন গুরুতর দগ্ধ হন। একই ঘটনায় পাশের আরেকটি নৌযানের কয়েকজন নাবিকও আহত হন।

দগ্ধদের প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তামিমসহ কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আগেই দুইজনের মৃত্যু হয়। পরে তামিমের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ওই দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা তিনজনে পৌঁছায়।

স্থানীয়রা জানান, তামিম ছিলেন মেধাবী, ভদ্র ও সম্ভাবনাময় একজন তরুণ প্রকৌশলী। কর্মজীবনের শুরুতেই তাঁর এমন মৃত্যু এলাকাবাসীর জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

এ ঘটনায় অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৩৯ পি.এম


জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ টসে জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই ম্যাচটি হারারেতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ টস জিতে প্রতিপক্ষ দলের বাকি সদস্যদের আগে ব্যাটিংয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন।

বাংলাদেশ তাদের একাদশ সাজাতে তিন পেসারকে নিয়ে পরিকল্পনা করেছে। অভিজ্ঞ মুস্তাফিজুর রহমান এবং তাসকিন আহমেদের সঙ্গে তরুণ পেসার নাহিদ রানাও থাকছেন একাদশে।

স্পিন আক্রমণ হিসেবে বাংলাদেশে রয়েছে লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন এবং অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রয়োজনে মোসাদ্দেক হোসেন পার্ট-টাইম বোলিং করতে পারেন।

উইকেটকিপিং দায়িত্বের অন্যতম দায়িত্ব পালন করছেন নুরুল হাসান সোহান। লিটন দাসের অনুপস্থিতিতে তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের একাদশের সদস্যরা হলেন: মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, তানজিদ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, মোসাদ্দেক হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, রিশাদ হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, এবং নাহিদ রানা।

অপরদিকে, জিম্বাবুয়ের একাদশের সদস্যরা হচ্ছেন: রিচার্ড এনগারাভা (অধিনায়ক), ব্রায়ান বেনেট, বেন কারান, ক্রেইগ আরভিন, ব্র্যাড ইভান্স, ইনোসেন্ট কাইয়া, ক্লাইভ মাডান্ডে, ওয়েসলি মাধেভেরে, ব্লেসিং মুজারাবানি, নিউম্যান ন্যামহুরি, এবং সিকান্দার রাজা।

এর আগে, বাংলাদেশ একমাত্র টেস্টে ইনিংস ও ৮৫ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজয়ের পর ওয়ানডে সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়েই মাঠে প্রবেশ করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিছানায় মিলল হাত-পা ও মুখ বাঁধা মরদেহ, বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার লুট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪৪ পি.এম


বিছানায় মিলল হাত-পা ও মুখ বাঁধা মরদেহ, বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার লুট

বগুড়ার শিবগঞ্জে দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত হয়েছেন মোহাম্মদ আলী (৭০), যিনি একজন রাইস মিল মালিক। অভিযোগ উঠেছে যে, হত্যাকাণ্ডের পরে দুর্বৃত্তরা তিনটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার লুট করে নিয়ে যায়।

এই ঘটনাটি রবিবার (৫ জুলাই) রাতের সময় ঘটে, যখন উপজেলার ফেনিগ্রাম ফুলতলা এলাকায় মোহাম্মদ আলী ঘুমিয়ে ছিলেন। জানা গেছে, রাতের কোনো এক সময়ে দুর্বৃত্তরা মিলের পেছন দিক দিয়ে প্রবেশ করে, তারপর তার হাত-পা ও মুখ বেঁধে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে। এ সময় তারা মিলে থাকা তিনটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার লুট করে নেয়।

এদিকে, সোমবার (৬ জুলাই) সকালে মোহাম্মদ আলী বাড়ি না ফেরায়, তার পরিবার রাইস মিলে গিয়ে বিছানায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ দেখে। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হলে, ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

শিবগঞ্জ থানার ওসি শাহীনুজ্জামান জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের গ্রেফতারে পুলিশ মাঠে কাজ করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%