০১:৩১ পি.এম
কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পেসহ পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ মোট ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এক রাতের মধ্যেই উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ের ধসের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনা ছাড়া কক্সবাজার শহরে আরো একটি পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৮ রোহিঙ্গাসহ ৯ জন নিহত হন। আহত হয়েছেন আরো কয়েকজন。
সোমবার দিবাগত রাত ১টা থেকে ৩টার মধ্যে উখিয়ার ৭, ১১ ও ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনা শোনার পর ফায়ার সার্ভিস, এপিবিএন, ক্যাম্প প্রশাসন এবং রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা রাতভর উদ্ধার অভিযানে ছিলেন।
রোহিঙ্গা শরণার্থী মোহাম্মদ মোস্তাফা বাসস’কে জানান, সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে। রাত দেড়টার দিকে আশ্রিত রোহিঙ্গা মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের বসতঘরের ওপর ধসে পড়ে পাহাড়ের বিশাল অংশ। মুহূর্তেই মাটির নিচে চাপা পড়ে যায় পুরো ঘর।
আরও পড়ুন: মুন্সীগঞ্জে পিস্তল-গুলি ও চাইনিজ কুড়ালসহ সাদ্দাম মাঝি গ্রেপ্তার
উদ্ধারকর্মীরা ঘরের ভেতর থেকে কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং ৪ বছরের ছেলে মোহাম্মদ আনাসের মরদেহ উদ্ধার করেন। দুর্ঘটনার সময় ঘরটিতে পরিবারের ১০ সদস্য অবস্থান করছিলেন। আহত এক কিশোরীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা প্রাণে বেঁচে গেলেও তাঁদের অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছেন।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা বাসস’কে বলেছেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। ঘটনার স্থল থেকে তিনজনের মরদেহ এবং দু’জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
এর কিছুক্ষণ পর রাত ২টার দিকে রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে আরেকটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে একরাম (৭) নামে শিশুর মৃত্যু ঘটে। সে ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ রশিদের ছেলে ছিল।
ক্যাম্পের মাঝি এনায়েত উল্লাহ জানিয়েছেন, পাহাড় ধসের পর রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।
আরও পড়ুন: ময়মনসিংহে নির্মাণসামগ্রী লুটের ঘটনায় ৮ ডাকাত গ্রেফতার, উদ্ধার ট্রাক
রাত সাড়ে ৩টার দিকে বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আসে আরেকটি দুঃসংবাদ। ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে পাহাড় ধসে একই পরিবারের ৪ জন প্রাণ হারান। আহত হন আরও একজন।
নিহতরা হলেন- ওই ক্যাম্পের আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে উম্মে হাবিবা (২৭), তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রশিদের ছেলে মোহাম্মদ রিহান (৫) এবং হারুনুর রশিদ (৩)। তিনটি পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় মোট ৮ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা।
'বিভিন্ন ঘটনা একই সময়ে ঘটেছে। রাতভর উদ্ধার অভিযান চলেছে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।'
এদিকে রাত ৩টার দিকে কক্সবাজার শহরের ১২ নং ওয়ার্ডের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে আলী আকবর নামে একজনের মৃত্যু ঘটে। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী বাসস’কে জানান, পাহাড় ধসে চাপা পড়ে একই পরিবারের ৩ জনকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা। চাপা পড়া আলী আকবরকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃতদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সদরপুর উপজেলা ছাত্রদলের নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন
ক্যাম্পে বসবাসকারী রোহিঙ্গা জাফর আলম বলেন, বর্ষা এলেই তাদের সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হয়ে ওঠে পাহাড় ধস। পাহাড় কেটে তৈরি করা ঢালে বাঁশ, ত্রিপল ও মাটির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো ঘর ভারী বৃষ্টিতে অত্যন্ত ঝুঁকি পূর্ণ হয়ে পড়ে। সামান্য ধসও মুহূর্তেই কেড়ে নিতে পারে বহু প্রাণ।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে মাইকিংসহ বিভিন্নভাবে সতর্ক করা হচ্ছে জানিয়ে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার বাসস’কে বলেন, 'ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসের ঝুঁকি অনেক বেড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে এবং সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হচ্ছে। জীবন রক্ষায় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলা অত্যন্ত আবশ্যক।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন