০৪:৩০ এম
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি চৌধুরী মাজহার আলী (শিবা শানু) মন্তব্য করেছেন যে, যখন একজন শিল্পী জুলাইকে কটাক্ষ করেন—তখন তিনি শিল্পী হিসেবে লজ্জা অনুভব করেন। তিনি বলেন, তাদের কী ধরনের ব্যাখ্যা দেয় বা কী বলে, তা দেখে অবাক হন। তিনি প্রশ্ন করেন, একজন শিল্পী হওয়া কি এত সহজ? যার ভেতরে আবেগ নেই, যার চেতনার বোধ নেই এবং যার বিবেক কাজ করে না—সে কি আদৌ শিল্পী হতে পারে?
বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের জাতীয় ফিল্ম আর্কাইভে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা গুলি বলেছিলেন।
চৌধুরী মাজহার জুলাই যোদ্ধাদের ও শহীদ পরিবারের প্রতি আশ্বস্ত করে বলেন, অন্য কেউ থাকুক বা না থাকুক, আমরা আছি। আমি আছি এবং আমার ভাইরা আছেন। আমাদের মতো অনেক শিল্পী আছেন যারা দেশের পক্ষে, জনগণের পক্ষে এবং জুলাই যোদ্ধাদের ও শহীদ পরিবারের জন্য কাজ করবেন। তিনি বলেন, আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন যাতে আমরা সব সময় আপনাদের পাশে থাকতে পারি।
আরও পড়ুন: জয়ের বাবার সঙ্গে স্পিকারের পুরোনো ছবি, ভক্তদের মন্তব্য ‘এবার জমি নিশ্চিত’
তিনি আরো বলেন, আমরা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে ছিলাম। কখনো জেলখানায়, আবার কখনো সরাসরি রাজপথে আন্দোলন করেছি। অনেকের হয়ত পালানোর জায়গা ছিল, কিন্তু আমরা যারা শিল্পী—আমার সাথে আমার একজন সহযোগী হেলাল ভাইও আছেন—আমাদের পালানোর কোনো জায়গা ছিল না। কারণ, সবাই আমাদের চিনতো; কোথায় পালাবো আমরা? তারপরও মানুষের অধিকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে, স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা রাজপথে অটল ছিলাম।
তিনি বলেন, একটি কথা বলি—সব চলে যাওয়া মানেই কিন্তু শেষ হয়ে যাওয়া নয়। অনেকে চলে গেলেও তারা পেছনে অনেক কিছু রেখে যান। যেমনটি রেখে গেছেন আমাদের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের বীর শহীদরা। তারা হয়ত আজ শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাদের সেই দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগ রয়ে গেছে। যে লক্ষ্য নিয়ে তারা বুকের রক্ত দিয়ে এ দেশের মানুষকে মুক্ত করেছে, তাদের সেই চেতনা যদি আমরা হৃদয়ে ধারণ করে পথ চলতে পারি, তবেই তাদের আত্মা শান্তি পাবে।
একটি দুর্নীতিমুক্ত ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়াই প্রতিজ্ঞা হতে হবে বলে মাজহার মনে করেন। তিনি বলেন, প্রথমে নিজের মনের ভেতর থেকে স্বৈরাচারী মনোভাব ও দুর্নীর্তিকে দূর করতে হবে। তিনি বলেন, আমি যদি বিশ্বাস করি যে আমি নিজে দুর্নীতি করব না এবং আমার মতো সবাই যদি একই বিশ্বাস ধারণ করে, তবে দেশ এমনিতেই দুর্নীতিমুক্ত হয়ে যাবে।
জুলাই বিপ্লবের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, আমি আপনাদের সাথে রাজপথে ছিলাম। যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের কাতারে আমি নেই বলেই আজ এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারছি। তবে তিনি জানান, তার বাকি জীবনটা আপনাদের সেবায়, আপনাদের সঙ্গে কাটানোর জন্য তিনি আজ অঙ্গীকার করেছেন। আপনাদের যেকোনো সমস্যায় বা প্রয়োজনে সহযোদ্ধা হিসেবে তাকে স্মরণ করবেন; তিনিpromise করেন তার সবটুকু দিয়ে আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করবেন।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
এছাড়া তিনি একটি ঘটনা তুলে ধরে বলেন, একটু আগে একটি ছোট মেয়ে তার কাছে এসে বললো ‘আংকেল আমি আর আমার জুলাই শহীদ আব্বা একসাথে আপনার ছবি দেখতাম। আজ আমার আব্বা নেই’। এই ধরনের স্মৃতিচারণ, এই দৃশ্যগুলো তাকে অনেক ব্যথিত করে। তিনি জানান, আন্দোলনের সময়কার অনেক আঘাত তার শরীরের ভেতরে রয়ে গেছে। মাঝেমধ্যে তার শোল্ডার এবং হাত ব্লক হয়ে যায়। তারপরও তিনি পথ চলার চেষ্টা করছেন। তিনি ভবিষ্যতেও আপনাদের সাথে, জুলাই যোদ্ধাদের সাথে কাজ করে যেতে পারেন এজন্য দোয়া চাইলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন