ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিজেপির শেষ না দেখে মরতে চাই না: মমতা


বিজেপির শেষ না দেখে মরতে চাই না: মমতা

নিজেকে যেন চলচ্চিত্রের চরিত্র ইন্ডিয়ানা জোনসের সঙ্গে তুলনা করে সমালোচকদের জবাব দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, তিনি এখনো লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত এবং ‘বিজেপির শাসনের অবসান’ না দেখা পর্যন্ত বেঁচে থাকতে চান।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে টিএমসির ভরাডুবির পর অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক যখন মমতার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তখন তিনি পালটা দাবি করেছেন—দলত্যাগে দুর্বল হয়ে পড়া দলকে তিনি আবারও নতুন করে গড়ে তুলতে সক্ষম।

৭১ বছর বয়সি মমতা ফেসবুক বার্তায় বলেন, আমার বয়স নিয়ে আপনাদের চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। মানুষের বয়স নির্ধারণ করে তার মন, শরীর ও মানসিক শক্তি। আমি কি কোনো দিন প্রধানমন্ত্রীর বয়স নিয়ে প্রশ্ন তুলেছি? বয়স নিয়ে কাউকে অপমান করার সাহস দেখাবেন না। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন বিজেপির লোকজন চেয়েছিল আমি যেন হার্ট অ্যাটাকে মারা যাই। কিন্তু আমি বেঁচে থাকব, যত দিন না তোমাদের পতন দেখি।

আরও পড়ুন: স্থানীয় নির্বাচনে জোটবদ্ধ হতে পারে কওমিপন্থি ৭ দল, আলোচনায় এনসিপি-এবি পার্টিও

বয়সকে প্রত্যাবর্তনের পথে বাধা মনে করেন না জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতের মতো এবারও তিনি দলকে নতুনভাবে গড়ে তুলবেন।

মমতা বলেন, যারা যেতে চায়, তারা চলে যাক। যা থাকবে, সেটাই আমার সোনার খনি। ২০০৪ ও ১৯৯৭ সালে যেমন একা নতুন করে শুরু করেছিলাম, ২০২৬ সালেও তেমনই পারব। আমার সেই সাহস এখনো আছে। আমি এক-দুই নয়, তিন প্রজন্মের নেতা তৈরি করেছি এবং যারা আমার সঙ্গে আছে, তাদের জন্য আমি ছাতার মতো আশ্রয় হয়ে থাকব।

এরপরই তিনি ঘোষণা দেন, করব, লড়ব, বাঁচব। এর মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করে দেন, রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা তার নেই।

সাম্প্রতিক সময়ে টিএমসিতে নজিরবিহীন বিদ্রোহের মুখে পড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, রাজ্য বিধানসভা ও জাতীয় সংসদে নির্বাচিত তার দলের অধিকাংশ জনপ্রতিনিধি বিদ্রোহ করেছেন। বিধায়কদের বড় অংশ বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং লোকসভার ২০ জন সাংসদ একটি ছোট রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়ে এনডিএ জোটকে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী: সুবিধাবাদী গোষ্ঠী রাজনৈতিক স্বার্থে বিভক্তির চেষ্টা করছে

২১ জুলাই টিএমসির শহীদ দিবসের সমাবেশের কয়েক দিন আগে মমতার এই আবেগঘন বার্তা এসেছে। দলটির রাজনৈতিক ক্যালেন্ডারে দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবার একই দিনে দলটির দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ মাত্র এক কিলোমিটার দূরত্বে পৃথকভাবে শহীদ দিবস পালন করবে।

এদিকে বুধবার কলকাতা হাইকোর্ট মমতা-নেতৃত্বাধীন টিএমসি গোষ্ঠীকে কলকাতার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনের ঐতিহ্যবাহী স্থানের পরিবর্তে বিড়লা প্ল্যানেটারিয়ামের কাছে তাদের বার্ষিক ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ আয়োজনের অনুমতি দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে যুব কংগ্রেসের সভাপতি থাকাকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক বিক্ষোভে ১৩ জন কংগ্রেস কর্মী নিহত হন। সেই ঘটনাকে স্মরণ করেই পরবর্তীতে টিএমসি প্রতি বছর ২১ জুলাই ‘শহীদ দিবস’ পালন করে আসছে।

সূত্র: এনডিটিভি

আরও পড়ুন: ফ্রান্সের কয়েকটি শহরে সহিংসতা ঠেকাতে কারফিউ জারি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তুরস্কে কয়েক ঘণ্টার একটি অভ্যুত্থানচেষ্টা যেভাবে পালটে দিয়েছে গোটা দেশকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:০৩ এম


তুরস্কে কয়েক ঘণ্টার একটি অভ্যুত্থানচেষ্টা যেভাবে পালটে দিয়েছে গোটা দেশকে

রাস্তায় গোলাগুলি, চলমান ট্যাংক, সরকারি ভবনের ওপর নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া যুদ্ধবিমান, সংসদ ভবনে হামলা – এসব কিছুই টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছিল। তিনটি সামরিক অভ্যুত্থান এবং আরও দুটি সামরিক হস্তক্ষেপের অভিজ্ঞতা থাকা একটি দেশের জন্যও ২০১৬ সালের ১৫ জুলাইয়ের রাতটি ছিল নজিরবিহীন।

এর আগে কখনও তুরস্কের সংসদ ভবন হামলার শিকার হয়নি এবং ইস্তানবুলের বসফরাস সেতু, যা এখন আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫ জুলাই শহীদ সেতু নামে পরিচিত, কখনও এমন রক্তপাতের সাক্ষী হয়নি। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের আহ্বানে সাধারণ মানুষ অভ্যুত্থানকারীদের প্রতিরোধে রাস্তায় নেমে এসেছিল।

অজ্ঞাত একটি স্থান থেকে মোবাইল ফোন অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে সরাসরি একজন টেলিভিশন উপস্থাপকের সঙ্গে কথা বলে এরদোগান সেদিন রাতে তার সমর্থকদের রাস্তায় নামার আহ্বান জানান। সারা দেশের মসজিদগুলোও তাদের লাউডস্পিকারের মাধ্যমে তার বার্তা প্রচার করে।

সকালের মধ্যেই অভ্যুত্থানচেষ্টা ব্যর্থ হয়। মোট ২৫৩ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ১৮৪ জন ছিলেন বেসামরিক নাগরিক। আর কথিত ৩৪ জন ষড়যন্ত্রকারীও নিহত হন। অভ্যুত্থানচেষ্টাটি মাত্র কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয়েছিল, কিন্তু এর পরিণতি গত এক দশকে তুর্কি রাজনীতিকে পুনর্গঠন করেছে। এতে দেশের অভ্যন্তরে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে গেছে এবং বিদেশের সঙ্গে সম্পর্ক নতুনভাবে নির্ধারিত হয়েছে।

ব্যাপক শুদ্ধি অভিযান সরকার তখন দাবি করেছিল, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইসলামপন্থি ধর্মগুরু ফেতুল্লাহ গুলেনের নেটওয়ার্ক এই অভ্যুত্থানচেষ্টার পরিকল্পনা করেছিল। ২০২৪ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত গুলেন এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অভ্যুত্থানচেষ্টার কয়েকদিন পর জরুরি অবস্থা জারি করা হয়, যা ২০১৮ সাল পর্যন্ত বলবৎ ছিল এবং সাতবার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। সেই সময়ে কর্তৃপক্ষ তুরস্কের আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শুদ্ধি অভিযানের একটি পরিচালনা করে।

সরকার বলেছিল, গুলেন নেটওয়ার্ককে ভেঙে দিতে এসব ব্যবস্থা প্রয়োজন ছিল। একসময় প্রেসিডেন্ট এরদোগানের ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন গুলেন। তার ধর্মীয় আন্দোলনের সদস্যরা কয়েক দশক ধরে তুর্কি রাষ্ট্র ও আমলাতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন।

অভ্যুত্থানচেষ্টার পর হাজার হাজার সেনাসদস্য, যার মধ্যে পদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ও জেনারেলও ছিলেন, বিচারক, প্রসিকিউটর বা আইনজীবী, পুলিশ কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ ও সরকারি কর্মচারীদের গ্রেফতার, বরখাস্ত বা সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

গুলেন নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ থাকা শত শত বেসরকারি স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়, পাশাপাশি কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ও বন্ধ হয়। সমালোচকদের দাবি, এই দমন অভিযান শুধু কথিত অভ্যুত্থানকারী ও গুলেনপন্থিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং আরও বিস্তৃতভাবে ভিন্নমত দমনেও ব্যবহৃত হয়।

বিরোধী রাজনীতিকদের অভিযোগ, শুদ্ধি অভিযানের পর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অন্য কিছু ধর্মীয় সম্প্রদায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে প্রভাবশালী হয়ে ওঠে। তবে সরকারি কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।

এরদোগানের ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ বহু লোকের মতে, অভ্যুত্থানচেষ্টার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাব ছিল প্রেসিডেন্ট এরদোগানের হাতে ক্ষমতা আরও কেন্দ্রীভূত হওয়া। ২০১৭ সালে ভোটাররা অল্প ব্যবধানে এমন সাংবিধানিক পরিবর্তনের পক্ষে মত দেন, যার মাধ্যমে সংসদীয় ব্যবস্থা বাদ দিয়ে শক্তিশালী নির্বাহী রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থা চালু করা হয়। পরের বছর এসব পরিবর্তন কার্যকর হয়। প্রধানমন্ত্রীর পদ বিলুপ্ত করা হয় এবং প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বাড়ানো হয়।

সমর্থকদের মতে, নতুন ব্যবস্থা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আরও কার্যকর শাসন নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, এতে প্রেসিডেন্টের হাতে, বিশেষ করে একজন ব্যক্তির চারপাশে, অতিরিক্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ফ্রিডম হাউজ বলছে, রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থার অধীনে নীতিনির্ধারণে আইনপ্রণেতাদের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে।

তুরস্ক নিয়ে তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, (এরদোগান) প্রায়ই মন্ত্রণালয় এবং স্বাধীন সরকারি সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপ করেন, যখন তারা তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে যায়।

ইস্তানবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক দোগান চেতিনকায়াও এ মূল্যায়নের সঙ্গে একমত। তার মতে, প্রেসিডেন্সিয়াল ব্যবস্থা ‘খামখেয়ালিপনা এবং অস্পষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো’ দ্বারা চিহ্নিত।

কর্তৃত্ববাদ নিয়ে উদ্বেগ তুরস্ক সরকার বহু বছর ধরেই মানবাধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতা নিয়ে সমালোচনার মুখে ছিল। তবে অভ্যুত্থানচেষ্টা এবং পরবর্তী শুদ্ধি অভিযানের পর সেই উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।

গুলেন আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগে হাজার হাজার বিচারক ও প্রসিকিউটরকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর মানবাধিকার সংগঠন ও ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।

অধ্যাপক চেতিনকায়া বলেন, ১৫ই জুলাইয়ের পর তুরস্কের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে ফেলা হয় এবং তারা তাদের স্বায়ত্তশাসন হারায়। বিচার বিভাগ এবং আইনসভা আর অর্থবহ ক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করেনি।

এর পর থেকে জনসমাবেশ আয়োজন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে। কর্তৃপক্ষ প্রায়ই সমাবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করছে এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা মোতায়েন করছে। গণমাধ্যমের মালিকানার ওপর সরকারের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং বিশিষ্ট সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলার কারণে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাও দুর্বল হয়েছে।

২০২৬ সালের রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের বিশ্ব সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে ১৮০ দেশের মধ্যে তুরস্কের অবস্থান ১৬৩তম।

দেশটিতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও বিতর্কের বিষয় হয়ে রয়েছে।

সম্প্রতি একজন জনপ্রিয় স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান প্রেসিডেন্টকে অপমানের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি সাংবাদিক, রাজনীতিক ও জনপরিচিত ব্যক্তিদের সেই দীর্ঘ তালিকায় যুক্ত হয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

ফ্রিডম হাউজ বলছে, গত এক দশকে তুরস্ক সাংবিধানিক পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী, স্বাধীন সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের সদস্যদের কারাবন্দি করার মাধ্যমে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করে আরও কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠেছে।

ইস্তানবুলের মেয়র একরেম ইমামোগলু, যাকে ভবিষ্যতের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এরদোয়ানের সবচেয়ে শক্তিশালী সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করেন অনেকেই, ২০২৫ সালের মার্চে দুর্নীতিসংক্রান্ত অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার সঙ্গে আরও কয়েক ডজন পৌর কর্মকর্তা গ্রেফতার হন। যদিও তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার বিচারপ্রক্রিয়া এখনো চলছে।

২০২৬ সালের মে মাসে একটি আদালতের আদেশ কার্যত তার দল, প্রধান বিরোধী দল সিএইচপি-এর নেতৃত্বে হস্তক্ষেপ করে এবং বর্তমান নেতার পরিবর্তে একজন সাবেক নেতাকে দায়িত্ব দেয়। বিরোধীরা এ ঘটনাকে ‘বিচারিক অভ্যুত্থান’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

তবে সরকার গণতান্ত্রের যাত্রা পিছিয়ে দেওয়া সংক্রান্ত অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে।

সরকারের বক্তব্য হলো, অভ্যুত্থানচেষ্টা এবং পরবর্তী শুদ্ধি অভিযানের পর গৃহীত পরিবর্তনগুলো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, জাতীয় নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করেছে। কারণ এগুলোর মাধ্যমে রাষ্ট্রের জন্য হুমকি বলে বিবেচিত সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অপসারণ করা হয়েছে।

ইয়িলদিরিম বেয়াজিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক নুরি সালিক বলেন, বর্তমান ব্যবস্থাকে আমি অভ্যুত্থানচেষ্টার মাধ্যমে উন্মোচিত অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলায় রাষ্ট্রের গড়ে তোলা একটি প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখি। এটিকে শুধু কর্তৃত্ববাদের দিকে অগ্রসর হওয়ার পদক্ষেপ হিসেবে দেখি না; বরং রাষ্ট্রের আত্মরক্ষার প্রবৃত্তিরই একটি সম্প্রসারণ হিসেবে দেখি।

সামরিক বাহিনীর ভূমিকার অবসান দশকের পর দশক ধরে তুর্কি সামরিক বাহিনী নিজেদের মুস্তাফা কামাল আতাতুর্ক প্রতিষ্ঠিত ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্রের অভিভাবক হিসেবে দেখেছে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে বারবার রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করেছে। ২০১৬ সালের অভ্যুত্থানচেষ্টার পর ধারাবাহিক কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীকে দৃঢ়ভাবে বেসামরিক নিয়ন্ত্রণের অধীনে আনা হয়। নিয়োগ ও নেতৃত্বে নতুন কাঠামো চালু করা হয়। সামরিক একাডেমি ও হাসপাতালগুলো পুনর্গঠিত বা বন্ধ করা হয় এবং সামরিক ইউনিটগুলোকে শহরকেন্দ্রের বাইরে সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়।

অনেক বিশ্লেষকের বিশ্বাস, এসব পরিবর্তন কার্যত তুর্কি রাজনীতিতে সামরিক হস্তক্ষেপের যুগের অবসান ঘটিয়েছে। অধ্যাপক সালিক বলেন, সেনাবাহিনী সবসময় রাজনীতির ওপর অভিভাবকত্বের একটি ব্যবস্থা হিসেবে বিদ্যমান ছিল। আধুনিক তুর্কি ইতিহাসে (১৫ই জুলাই) প্রথমবারের মতো মানুষ সক্রিয়ভাবে একটি সামরিক হস্তক্ষেপ প্রতিরোধ করেছে। সে অর্থে এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়বদল।

তার বিশ্বাস, তুর্কি রাজনীতি গভীরভাবে প্রভাবিত করার সক্ষমতা সামরিক বাহিনী এখন ‘সম্পূর্ণভাবে হারিয়েছে’। তিনি বলেন, এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।

নিরাপত্তাকেন্দ্রিক নীতি অভ্যুত্থানচেষ্টার পর তুরস্কের পররাষ্ট্রনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে। পরবর্তী মাস ও বছরগুলোতে আঙ্কারা উত্তর সিরিয়ায় তিনটি বড় সীমান্তপার সামরিক অভিযান চালায়, যার লক্ষ্য ছিল ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠী এবং পিপলস প্রোটেকশন ইউনিট (ওয়াইপিজি)।

তুরস্ক ওয়াইপিজি-কে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে)-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে মনে করে। পিকেকে-কে তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পিকেকে-এর সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ দেখা গেছে, যদিও অগ্রগতি এখনো অনিশ্চিত।

অধ্যাপক সালিকের মতে, ব্যর্থ অভ্যুত্থানচেষ্টা তুর্কি রাষ্ট্রের ভেতরে নিরাপত্তাকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও শক্তিশালী করেছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সুরক্ষা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছিল।

একই সময়ে, নেটোর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হওয়ার সত্ত্বেও তুরস্ক রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে আরও বৈচিত্র্যময় পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করেছে। রাশিয়ান এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার ফলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বড় ধরনের বিরোধ তৈরি হয়। এর জেরে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং তুরস্ককে এফ-থার্টিফাইফ যুদ্ধবিমান কর্মসূচি থেকে বাদ দেয়।

তবে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি এসব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবেন এবং এফ-থার্টিফাইফ বিক্রির বিষয়টি পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। যদিও এমন কোনো পদক্ষেপ কংগ্রেসে উল্লেখযোগ্য বিরোধিতার মুখে পড়তে পারে।

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার জন্য তুরস্কের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় খুব কম অগ্রগতি হয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে অন্তর্ভুক্তি-সংক্রান্ত আলোচনা কার্যত স্থগিত রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অত্যাধুনিক মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:০৭ এম


অত্যাধুনিক মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করল ইরান

ইরানের খুজেস্তান প্রদেশের আন্দিমেস্কের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ ড্রোনকে প্রতিহত করা হয়েছে এবং ধ্বংস করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আন্দিমেস্কের আকাশে এই যুক্তরাষ্ট্রের ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

জানা গেছে যে, তাদের অ্যারোস্পেস ফোর্সের একটি আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়।

আইআরজিসির জনসংযোগ শাখা জানিয়েছে, এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাত্র কয়েক মিনিট আগে ড্রোনটিকে প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। তবে ড্রোনটির অভিযানের উদ্দেশ্য বা এই ধ্বংসের জন্য কোন নির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে, সেই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

উল্লেখ্য, আন্দিমেস্ক শহরটি খুজেস্তান প্রদেশে অবস্থিত। এটি ইরাক সীমান্তের কাছাকাছি এবং সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত হামলাগুলোর লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কিত ভূমির খুব কাছেই অবস্থান করছে।

সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানে ষষ্ঠ রাতের মার্কিন হামলায় বিমানবন্দর, সেতু ও রেলস্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:২৩ এম


ইরানে ষষ্ঠ রাতের মার্কিন হামলায় বিমানবন্দর, সেতু ও রেলস্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, প্রাণঘাতী মার্কিন হামলায় বন্দর আব্বাস শহরের একটি বিমানবন্দর, একটি রেল স্টেশন এবং হরমুজ প্রণালীর কাছে দক্ষিণ ইরানের দুটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুক্রবার ভোরে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি টেলিগ্রামে জানায়, বিমানবন্দরের আশেপাশে তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত ইরানশাহর বিমানবন্দরে অন্তত একটি মার্কিন শত্রু ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।

মেহর টেলিগ্রামে এ বিষয়ে বলা হয়, কিছুক্ষণ আগে মার্কিন শত্রু বন্দর আব্বাস রেলওয়ে জংশন স্টেশনকে লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছে। এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় দুজন ইরানি আহত হয়েছেন।

তবে, একটি সরকারি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে হরমুজগান প্রদেশের দুটি সেতুতে মার্কিন হামলা হয় এবং আইআরএনএ-কে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে যে, এতে দুজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৩৬ বছরের মসজিদে নামাজ বন্ধের প্রতিবাদে ভারতে মুসলিমদের বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:২৬ এম


১৩৬ বছরের মসজিদে নামাজ বন্ধের প্রতিবাদে ভারতে মুসলিমদের বিক্ষোভ

কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশদ্বারের মধ্যে অবস্থিত ১৩৬ বছরের পুরনো মসজিদ নিয়ে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল হয়ে উঠেছে। সুরক্ষা রক্ষার স্বার্থে বিমানবন্দরের ভেতরের রানওয়ে সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী বাঁখড়া মসজিদটি সরানোর দাবি জানিয়েছেন উত্তর দমদমের বিজেপি বিধায়ক সৌরভ শিকদার। এ কারণে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ গত পাঁচদিন ধরে সেখানে নামাজ পড়া বন্ধ রেখেছে। এ ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গের এক কোটি মুসলিমের কাছে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানানোর জন্য ডাক দিয়েছেন রাজ্যর সাবেক মন্ত্রী ও উলেমা-ই-হিন্দ নেতা সাদ্দিকুল্লা চৌধুরী।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) তিনি নিজে বাঁখড়া মসজিদে নামাজ পড়তে যাবেন। মসজিদে নামাজ পড়া বন্ধ করায় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষেরা হাতে কালো ব্যাজ পরে প্রতিবাদে অংশগ্রহণ করবেন। প্রতিবাদের উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরের ৭ নম্বর গেটে জমায়েতের আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা বিমানবন্দরের ভেতরে থাকা ওই মসজিদে নামাজ আদায় করবেন বলে জানিয়েছেন সাদ্দিকুল্লা চৌধুরী।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সাবেক মন্ত্রী সাদ্দিকুল্লা চৌধুরী বলেছেন, পাঁচদিন হয়ে গেছে, তবে সেখানে কোনো আন্দোলন হয়নি। তিনি আরও বলেন, জোর করে মানুষদের নিয়ে আসা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই জুম্মাবারে মুসলিম সম্প্রদায়ের এক কোটি মানুষের কাছে অনুরোধ করেছি, কালো ব্যাজ পরে নামাজ পড়তে যাবেন। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবেন এবং সেখানে চলে আসবেন।

সাদ্দিকুল্লা চৌধুরী বলেন, এতে কোনো বিক্ষোভ প্রদর্শনের দরকার নেই। সেখানে কোনো মাইকিং বা ক্যানভাসিং থাকবে না। আমরা জুমার নামাজের সময় বেলা ১১টার দিকে গেটের সামনে যাব। ভারত সরকারের দেওয়া অথোরিটি আমাদের কাছে আছে এবং আমাদের রমজান মাসের ইফতারের ও নামাজের জন্য পারমিশন দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা আইনের পথ অবলম্বন করব, বেআইনি কোনো কাজ করব না।

তার এই বক্তব্যের পর উত্তর দমদমের বিজেপি বিধায়ক সৌরভ শিকদার বলেছেন, এই রাজ্যে কোনো জামায়াতি বা শরিয়াতি আইন চলবে না। এখানকার শান্তিপূর্ণ মুসলিম ভাইদের কাছে অনুরোধ, কারও উসকানিতে আইন ভাঙার কাজ করবেন না। তিনি বলেন, এখানে দেশ সবার আগে এবং নিরাপত্তা সবার আগে।

বিজেপি বিধায়ক আরও বলেন, নামাজ পড়ার জায়গার কোন আশাহত সমস্যা নেই। এত বড় মাদরাসা রয়েছে এবং অন্য কোনো মসজিদে নামাজ পড়তে পারেন। তাই আপনারা কোনো উসকানিতে পা দেবেন না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%