১০:২২ পি.এম
বিদেশি গুপ্তচরদের জন্য জাপান বরাবরই নিরাপদ স্থানে পরিণত হয়েছে। দেশটির বেশি ক্ষেত্রে গুপ্তচরবৃত্তিকে এখনও অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয় না। এভাবে জাপান বর্তমানে গুপ্তচরদের জন্য একপ্রকার স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে দেশটি এখন নিজেদের ইন্টেলিজেন্স ও কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সক্ষমতা গঠন করতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর নতুন নতুন সামরিক প্রযুক্তি সংগ্রহ করতে রুশ গুপ্তচরদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে জাপান। সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এই পরিস্থিতিকে সামনে নিয়ে এসেছে এবং দেশটির সরকার নড়েচড়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই জাপানকে একটি 'সহজ লক্ষ্য' হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পশ্চিমা দেশগুলো থেকে রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বহিষ্কার করা হলে, অনেকেই জাপানে সক্রিয় হতে শুরু করেন। জাপানি সংবাদমাধ্যম নিক্কেই বিজনেস ২০২২ সালের আগস্টে জানায়, জাপানে প্রায় ১২০ জন রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তা সক্রিয় ছিলেন। এর আগে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সতর্ক করে জাপানি পুলিশ জানিয়েছিল, রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। নিক্কেই ও জিজি প্রেসের সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, টোকিওতে রাশিয়ার বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের একটি জ্যেষ্ঠ পদে সব সময় রুশ গোয়েন্দা সংস্থা এসভিআরের একজন কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকেন। এসভিআর সোভিয়েত ইউনিয়নের গোয়েন্দা সংস্থার ফরেন ডিপার্টমেন্টের উত্তরসূরি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে টোকিও মেট্রোপলিটন পুলিশের পাবলিক সিকিউরিটি ব্যুরো জানায়, একটি জাপানি মেশিন-টুল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের কর্মী একটি সন্দেহভাজন এসভিআর অপারেটিভের কাছে বাণিজ্যিক গোপন তথ্য সরবরাহ করছিলেন। ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তিটি ইতোমধ্যে জাপান ছেড়ে চলে গেছেন। এরপর ১২ জুলাই মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জাপানকে 'গুপ্তচরদের আখড়া' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রাশিয়ার রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানাধীন বিমানসংস্থা অ্যারোফ্লটের টোকিও অফিসকে কেন্দ্র করে ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য প্রযুক্তি সংগ্রহের একটি রুশ নেটওয়ার্ক পরিচালিত হচ্ছিল। গত সোমবার জাপানের প্রধান সরকারি মুখপাত্র মিনোরু কিহারা এই বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তিনি স্বীকার করেন, 'গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরিসহ আমাদের জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলা বিদেশি গোয়েন্দা কার্যক্রম মোকাবেলার প্রয়োজনীয়তা ক্রমেই বাড়ছে।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন