১০:৩১ পি.এম
গত কয়েক সপ্তাহে নওগাঁ জেলার রানীনগর, আত্রাই বদলগাছি, মহাদেবপুরে কয়েকটি ডাকাতের ঘটনা ঘটে। সবগুলি ডাকাতের ঘটনা পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পর্যালোচনা করে কয়েকটি চৌকস দল গঠন করা হয়। গোয়েন্দা তথ্য, ডাটা প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে প্রথমত একজন কুখ্যাত গরুর ডাকাতকে সনাক্ত করা হয়। অফিসার ইন চার্জের নির্দেশে ১৪ই জুলাই সন্ধ্যায় জেলা গোয়েন্দা শাখা এবং রানীনগর থানা পুলিশ অভিযান শুরু করে। রানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব জাকারিয়া নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল নাটোর এর নলডাঙ্গা থানা এলাকা থেকে থেকে কুখ্যাত গরু চোর নওগাঁ জেলার আসলামকে রেপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের সহযোগিতায় গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত গরুর ডাকাত আসলামকে নলডাঙ্গা থানায় নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় তার চার /পাঁচ জনের একটি গ্রুপ আছে। এই গ্রুপের চারজনের বাড়ি ময়মনসিংহ, জয়পুরহাট, নওগাঁ এবং বগুড়া। আরো কয়েকজন আছে যারা তাদের কাছ থেকে গরু কিনে থাকে । জিজ্ঞাসাবাদে আসলাম আরও জানায় আজ (১৫ জুলাই) ভোররাতে নাটোরের সিংড়া থেকে থেকে তারা গরু চোর কয়জন একসাথে একটি পিকআপ যোগে আবার গরুর ডাকাতি করতে বের হবে।
আরও পড়ুন: মসজিদ কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ, মাদারীপুরে ৭ বাড়িতে আগুন, ৪০ ঘরে ভাঙচুর-লুটপাট
প্রাপ্ত তথ্য মোতাবেক ওসি রানীনগর থানা নেতৃত্বে পুলিশের বিশেষ দল সিংড়া এলাকায় গরুর ডাকাতদের গ্রেফতার করতে স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালায়। রাত আনুমানিক তিন ঘটিকা থেকে রানীনগর থানা পুলিশ সিংড়া থানা এলাকার বড় চৌগ্রাম বাজারে ওত পেতে থাকে। ভোর আনুমানিক সাড়ে পাঁচটা থেকে ছয় ঘটিকার মধ্যে গরুর ডাকাত দল একটি পিকাপ সহ ওই এলাকায় আসলে রানীনগর থানার পুলিশ পিকআপটি কে ধাওয়া করতে থাকে। চোর/ ডাকাত বহনকারী পিকাপ টি বেপরো গতিতে চালাতে থাকে এবং কয়েকবার পুলিশের পিকআপকে মহাসড়কে ধাক্কা মারার চেষ্টা করে।
অতঃপর রাণীনগর থানা পুলিশ ছোট চৌগ্রাম এলাকায় আঞ্চলিক সড়কে বেরিকেট দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু গরুচোর চক্র তাদের পিকাপ টি বেপরোয়া গতিতে পুলিশের উপর উঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে সেই সাথে রাস্তার পাশে জনগণের বেশ কয়েকটি দোকান ভেঙে চলে যায়। এ সময় পুলিশের সাথে স্থানীয় জনগণ গরু চোর এর পিকাপ কে ধাওয়া করে। ওই পিক আপ এ আনুমানিক চারজন ছিল বলে জানা যায়। এক পর্যায়ে পিকআপ থেকে নেমে দুইজন গরুর ডাকাত ছোট চৌগ্রাম এলাকায় একটি বড় কচুরিপানা ভর্তি জলাশয়ে পালিয়ে যাওয়ার জন্য ঝাঁপ দেয়। অপর দুই ডাকাত পিকাপ নিয়ে পালিয়ে যায়।
অতঃপর রানীনগর থানা পুলিশ, স্থানীয় সিংড়া থানা পুলিশ এবং বিপুল সংখ্যক স্থানীয় জনসাধারণ ওই পুকুরটি ঘিরে রাখে। সকাল সাতটা থেকে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং স্থানীয় জনসাধারণ জলাশয়ে ডাকাতদের খুঁজতে থাকে। ১৫ ই জুলাই আনুমানিক দুপুর দেড়টা থেকে ২ ঘটিকায় মধ্যে দুইজন ডাকাত ১। হাবিবুর রহমান (৪২), পিতা- কুদরত আলী, সাং-আতারামপুর, থানা- নান্দাইল, জেলা-ময়মনসিংহ, ২। ফেরদৌস (২৬), পিতা-মোস্তাক, সাং-মইপুর গোপালপুর, থানা- পাঁচবিবি, জেলা- জয়পুরহাট, দের কিছুটা অসুস্থ এবং জীবিত অবস্থায় পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত ডাকাত দুইজনকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে যাওয়া হয় সেখান থেকে চিকিৎসার পর তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনায় রানীনগর থানার অন্তত তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হয়। যারা সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা নিয়েছে। এ সংক্রান্তের সিংড়া থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। সেই সাথে রানীনগর থানায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।
আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত, সম্মাননা পেলেন চার চালক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন