০৫:১৩ পি.এম
দ্বীপজেলা ভোলা। ছবি: সংগৃহীত
খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও প্রাকৃতিক গ্যাসসমৃদ্ধ দ্বীপ জেলা ভোলা সকল দিক থেকে পূর্ণতা পেলেও সড়কপথে অপূর্ণতা রয়েছে। জেলার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা নদীপথের উপর নির্ভরশীল হয়ে আছে।
অতএব, উন্নত চিকিৎসা, উচ্চ শিক্ষা, এবং অন্যান্য সুবিধা থেকে এখানকার সাধারণ বাসিন্দাদের বঞ্চিত থাকতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন: রাবিতে ডেঙ্গু সচেতনতায় হাল্ট প্রাইজের নতুন কর্মসূচি
জেলায় রাতের অন্ধকার নেমে এলেই, দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। গ্যাস, কৃষিসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র সড়কপথের অভাবে এখানকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা আসছে না। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়ে আসছে এখানকার বাসিন্দারা, কিন্তু সড়কপথে সংযুক্ত হতে তারা পরিধি ভেদ করতে পারেনি।
গত শনিবার (২২ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভোলাকে মহাসড়কে সংযুক্ত করার ঘোষণা দেওয়ার পর দ্বীপবাসী নতুন করে সেই স্বপ্নের বাস্তবায়নের সম্ভাবনা দেখতে শুরু করেছে। তারা উচ্ছ্বাস প্রকাশের পাশাপাশি দ্রুত এই ঘোষণা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, মেঘনা, তেঁতুলিয়া এবং বঙ্গোপসাগর দ্বারা পরিবৃত একমাত্র দ্বীপ জেলা ভোলা। কৃষিপণ্য ও রূপালী ইলিশ উৎপাদনের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে এই জেলা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।
সূত্র জানাচ্ছে, স্বাধীনতার পর থেকেই ভোলা-বরিশাল সড়ক যোগাযোগের জন্য আন্দোলন করে আসছে দ্বীপের জনগণ। তাদের দাবির ভিত্তিতে ভোলা-বরিশাল রুটে সেতু নির্মাণের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ পূর্ববর্তী সরকার নিয়েছিল। তবে আশ্বাস এবং সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মধ্যেই সেতুর কার্যক্রম থেমে আছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী ‘বরিশালের রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-ভোলা’ রুটে মহাসড়ক নির্মাণের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন দ্বীপকে জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কের অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন। এই ঘোষণায় স্বপ্ন বাস্তবায়নের নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন: বাকেরগঞ্জে সাজসজ্জায় দেবালয়ের পরেই কৈলাশ পূজামণ্ডপ
ভোলা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ‘রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের জন্য নতুনভাবে সাড়ে ২১ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করতে হবে। জেলার রহমতপুর থেকে মেহেন্দীগঞ্জ পর্যন্ত ১৮ ফুট চওড়া ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক রয়েছে, যা ৩৪ ফুট প্রশস্ত করা হবে। নদী পারাপারের জন্য এই সড়কের ভোলার ইলিশা চ্যানেলে এক হাজার ৪০০ মিটার এবং হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জের মাঝকাজি এলাকায় এক হাজার ৩০০ মিটার তিনটি সেতু নির্মাণ করতে হবে।
এভাবে যুক্ত হতে পারলে ভোলা থেকে শরীয়তপুর ও ঘোষের হাট হয়ে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দূরত্ব প্রায় ৯০ কিলোমিটার কমবে। বর্তমানে ভোলা থেকে লাহারহাট হয়ে বরিশালের দূরত্ব ৫৫ কিলোমিটার। আর প্রস্তাবিত ‘রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-ভোলা’ মহাসড়কের দূরত্ব হবে ৭৫ কিলোমিটার, যার বাস্তবায়ন সময় লাগবে চার থেকে পাঁচ বছর।
ভোলা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা চেম্বার অব কমার্সের চেয়ারম্যান আলহাজ গোলাম নবী আলমগীর জানিয়েছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভোলা ও বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জকে মহাসড়কের আওতায় আনতে চাচ্ছেন, এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের খবর। বহু বছর ধরে আমরা ভোলা-বরিশাল সড়ক যোগাযোগ থেকে বঞ্চিত।’
গোলাম নবী আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে অর্থনৈতিক উন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং আমরা অর্থনৈতিকভাবে আরও এগিয়ে যাব। কিন্তু আমরা ভোলার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভোলা-বরিশাল সেতুর জন্য আন্দোলন করছি। সরকারও ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে। আমার মতে, ভোলা-বরিশাল সেতুর কাজটি আগে হওয়া উচিত, তারপর অন্য সড়ক নিয়ে চিন্তা করা যাবে।’
আরও পড়ুন: পানির মধ্যেই ঢালাই, বের হয়ে গেছে রড: কাঠালিয়ায় বিএডিসির স্লুইসগেট নির্মাণে অনিয়ম
ভোলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইদুল ইসলাম জানান, ভোলা দ্বীপ জেলা হওয়ার কারণে এটি জাতীয় মহাসড়ক নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন। ভোলা জেলাকে মেহেন্দীগঞ্জের সাথে যুক্ত করতে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে চলেছে। হিজলা উপজেলার সঙ্গে বরিশালের রহমতপুরের সড়ক যোগাযোগ বর্তমানে বিদ্যমান।
নির্বাহী প্রকৌশলী আরও বলেন, এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা শনিবার প্রধানমন্ত্রীকে পেশ করা হয়েছে। আমরা এ কাজ করতে যাচ্ছি। খুব দ্রুত বিস্তারিত জরিপ এবং অন্যান্য কাজ শুরু করবো। আশা করছি এটি ভোলার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ হিসেবে গণ্য হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন