০৯:১৫ এম
শান্তিনগরের কাওসার ভোর হলেই একের পর এক বাড়ির ময়লা ড্রাম ঘুরিয়ে ভ্যানে তোলেন। মাসে মাত্র সাত হাজার টাকায় বারো হাজার টাকার চাকরি করেন তিনি। কিন্তু যে ময়লা তিনি প্রতিদিন গন্তব্যে পৌঁছে দেন, সেই ময়লাই যে পথে পথে হাতবদল হয়ে কোটি টাকার বাণিজ্য গড়ে তোলে, সে সম্পর্কে কি তার জানা আছে?
ঢাকা দক্ষিণ সিটির ২২টি থানার ৭৫টি ওয়ার্ডে বর্জ্য সংগ্রহের দায়িত্ব এখন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে রয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দরপত্রে প্রতিষ্ঠান বাছাই করা হয়। সেই কাজ পেতে সিটি করপোরেশনে অফেরতযোগ্য জামানত হিসেবে ১৫ থেকে ১৭ লাখ টাকা গুনতে হয়।
কিন্তু শর্ত একটাই—একটি ফ্ল্যাট থেকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকার বেশি নেওয়া যাবে না। অভিযোগ, যদিও কাগজে সেই নিয়ম উল্লেখ আছে, মাঠে আসলে চলছে উল্টো হিসাব। কোথাও ফ্ল্যাটপ্রতি ১২০ থেকে ২০০ টাকা, ছোট দোকান থেকে ৪০০-৫০০, আর রেস্টুরেন্ট থেকে দুই হাজার টাকারও বেশি আদায় করা হচ্ছে। এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষককে মারধর, শিশুর বাবার বিচার দাবি
শুধু ঢাকা দক্ষিণ সিটি নয়, উত্তর সিটির দৃশ্যপটও আরও উদ্বেগজনক। অভিযোগ, বৈধতা ছাড়াই প্রভাবশালী একটি চক্র নিজেদের মধ্যে এলাকা ভাগ করে বর্জ্য সংগ্রহের কাজ পরিচালনা করছে। রসিদ দিয়ে টাকা উঠালেও মিলছে না নিয়মিত সেবা। কোথাও দিনের পর দিন ময়লা পড়ে থাকে, আবার কোথাও বাড়তি টাকা না দিলে ভ্যান আসে না।
এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, নির্ধারিত ফি-এর বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। প্রয়োজনে পুরো ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হবে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, উত্তর সিটির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বললেন, বর্তমানে এ ধরনের কোনো টেন্ডার কার্যক্রম নেই।
প্রতিদিন হাজার হাজার টন বর্জ্য সরিয়ে শহরটিকে পরিচ্ছন্ন রাখা হচ্ছে। কিন্তু এই বর্জ্যকে ঘিরে অশুভ চক্রের অদৃশ্য বাণিজ্য চলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিচ্ছন্নতার আড়ালে সেবার নামে এমন বাণিজ্যে রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ২৫ অক্টোবর আপিল বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন