০২:৪৪ পি.এম
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মধ্যে মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছে।তবে, সম্মেলনের পর দুই বাহিনীর যৌথ সংবাদ সম্মেলন করার পরিকল্পনা থাকলেও তা অনুষ্ঠিত হয়নি।
দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের ইতিহাসে এটি প্রথমবারের মতো এমন একটি ঘটনা ঘটল।
চার দিনব্যাপী আয়োজিত এই সীমান্ত সম্মেলনে বিজিবি ও বিএসএফ প্রধানেরা তাদের বক্তব্যে পুশইন (অনুপ্ৰবেশ) সম্পর্কে নিজ নিজ দেশের অবস্থান তুলে ধরেন। আরও, বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা এবং ভারত থেকে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য, অস্ত্র ও অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্যের চোরাচালান রোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনায় স্থান পায়।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা: সরকার গঠনের তিন সম্ভাব্য পথ
গত সোমবার, বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’ (বিজিবি)’র প্রধান মেজর জেনারেল মহম্মদ আশরাফুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল নয়াদিল্লিতে পৌঁছে বিএসএফের ডিজি প্রবীণ কুমার-সহ অন্যান্য কর্তাদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করেন।
মঙ্গলবার, দিল্লির লোদী রোডে বিএসএফের সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত-বাংলাদেশ ৫৭তম সীমান্ত শীর্ষবৈঠক শুরু হয়।
কিন্তু বৃহস্পতিবার (১১ জুন) শীর্ষবৈঠক শেষে যৌথ আলোচনার নথিতে স্বাক্ষরের পর নজিরবিহীনভাবে দুই বাহিনীর ডিজি প্রথা মেনে যৌথ সাংবাদিক বৈঠক সারেননি। তারা বলেন, আলোচনা কী কী বিষয় নিয়ে হয়েছে সে সম্পর্কে একটি প্রেস বিবৃতি দেওয়া হবে বলে পিটিআই জানিয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকারের ক্ষমতা গ্রহণ এবং পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার নির্বাচিত হওয়ার পর বিজিবি-বিএসএফ শীর্ষ পর্যায়ের এটি প্রথম বৈঠক ছিল। বৈঠকের আগে গত রোববার ঢাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেছিলেন যে বিএসএফের তথাকথিত ‘পুশ ইন’ এবং সীমান্তে গুলি চালানোর ঘটনা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বৈঠকে উত্থাপন করা হবে।
আরও পড়ুন: নির্বাচনে হারের মুখে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ লিকুদ পার্টির
প্রসঙ্গত, দুই দেশের মধ্যে ডিজি-স্তরের সীমান্ত বৈঠক ১৯৭৫ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হত। কিন্তু ১৯৯৩ সালে এটি বছরে দু’বার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যেখানে উভয় পক্ষ পর্যায়ক্রমে নয়াদিল্লি ও ঢাকায় বৈঠকে অংশগ্রহণ করে। বিএসএফ-বিজিবি সর্বশেষ বৈঠকটি ২০২৫ সালের আগস্টে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তখন বাংলাদেশে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কার্যরত ছিল।
ভারত-বাংলাদেশের মোট ৪,০৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্তের অর্ধেকেরও বেশি (২,২১৬ কিলোমিটার) পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত। সীমান্তের প্রায় ৮৬০ কিলোমিটার অংশ এখনও বেড়াবিহীন রয়েছে, যার মধ্যে ১৭৪.৫১ কিলোমিটার এমন এলাকা আছে যেখানে বেড়া নির্মাণ সম্ভব নয়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছে যে তারা অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে এবং অনুপ্রবেশকারী ব্যক্তিদের ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট বা শনাক্ত, তালিকা থেকে বাদ এবং বহিষ্কার’ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
