বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৭:৪০ এম
আজ ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরের পুলিশের গুলিতে শহীদ হন শহীদ আবু সাঈদ, যিনি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। আজকের দিনেই চট্টগ্রাম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ও কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ন আহ্বায়ক ওয়াসিম আকরামও শহীদ হন।
এই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে একদিনে প্রথমবারের মতো ছয়জন প্রাণ হারান। সরকার পরে দিনটিকে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। এ উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক দিবস পালন করা হচ্ছে।
আজ দেশের সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারী ও বেসরকারি ভবনসহ বিদেশে বাংলাদেশ প্রতিনিধিত্ব অফিসে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। এ ছাড়া, জুলাই শহীদদের রুহের মাগফিরাতের উদ্দেশ্যে সকল মসজিদে বিশেষ দোয়া হবে। অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে তাদের আত্মার শান্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।
দিবসের কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত আছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, যা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান করবেন। প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন কক্সবাজারের পেকুয়ায় শহীদ ওয়াসিমের বাড়িতে গিয়ে সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন, এবং চট্টগ্রামের মুরাদপুরে শহীদ ওয়াসিমের শাহাদাতস্থলে একটি স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
শিক্ষার্থীদের সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ছাত্রদের ওপর নির্বিচার গুলি চালায়। ১৬ জুলাই পুলিশি হামলায় আবু সাঈদ বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন, যা দেখে পুরো বিশ্ব স্তম্ভিত হয়ে যায়। তার শাহাদাত আন্দোলনের গতিপথ পাল্টে দেয়। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং সমর্থকদের হামলায় দুইজন যুবক ঢাকায় শহীদ হন, নিউমার্কেট এলাকার হকার মো. শাহজাহান এবং নীলফামারীর যুবক সবুজ আলী। চট্টগ্রামে এমইএস কলেজের শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমদ শান্ত এবং ফার্নিচার দোকানের কর্মচারী মোহাম্মদ ফারুক শহীদ হন। অসংখ্য ছাত্র-জনতা আহত হয়।
সারা দেশে সংঘর্ষ, বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়ক অবরোধ করে। সরকারের বিরুদ্ধে জনতা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে, এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরে ৫ আগস্ট ভারতে পালিয়ে যান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পর ফ্রান্সের একাধিক শহরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর প্যারিস ও লিওঁসহ কয়েকটি এলাকায় সমর্থকদের একাংশের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে দুই শহর মিলিয়ে ১৬০ জনের বেশি ব্যক্তিকে আটক করেছে।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম 'বিএফএমটিভি' জানায়, শুধু রাজধানী প্যারিস থেকেই ১৪১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ প্রিফেকচারের তথ্যমতে, বেশির ভাগ গ্রেফতারের কারণ ছিল পুলিশ সদস্য ও জরুরি সেবাকর্মীদের লক্ষ্য করে আতশবাজির মর্টার ছোড়া।
অন্যদিকে, লিওঁর প্লাস বেলকুর চত্বরে বড় পর্দায় শত শত সমর্থক সেমিফাইনাল উপভোগ করেন। ম্যাচ শেষে সেখানে অবস্থানরত অনেকেই ছিলেন। পরে একটি ছোট দলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু, বিশেষ করে আতশবাজি নিক্ষেপ করার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ ইউনিট সিআরএস ৮৩-এর সহায়তা নেয়। পরবর্তীতে যৌথ অভিযানে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করা হয় এবং প্রায় ২০ জনকে আটক করা হয়। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের বেশির ভাগই ২০০২ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া তরুণ।
তবে পুরো ঘটনার মধ্যে কিছু স্বস্তির খবরও রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংঘর্ষের সময় কোনো গুরুতর আহতের ঘটনা ঘটেনি। পাশাপাশি সরকারি বা বেসরকারি সম্পদের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবরও পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের ভূখণ্ডে নতুন করে শত্রুপক্ষের আগ্রাসন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কথিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা’ লঙ্ঘন ঘটার পর, দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালি পুনরায় বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, ইরানি সামরিক ও রাজনৈতিক মহলে দেশটির প্রতিরোধ সক্ষমতা এবং সশস্ত্র বাহিনীগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম নিয়ে নতুন আলোচনা একটি নতুন মাত্রা নিয়েছে। খবরটি মেহের নিউজ এজেন্সির।
ইরানের সামরিক বিশ্লেষকদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনী এবং আইআরজিসি একীভূত কমান্ড কাঠামোর অধীনে সমন্বিতভাবে কাজ করায় প্রতিপক্ষের বাহিনীকে আলাদা আলাদা ভাবে মোকাবিলা করতে হয় না। বরং প্রতিপক্ষ একটি সমন্বিত সামরিক শক্তির মুখোমুখি হয়। দ্রুতগতির নৌযান, সাবমেরিন, ড্রোন ও উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা স্তর একত্রিত একটি সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যার ফলে যে কোনো আক্রমণের বিরুদ্ধে বহুমাত্রিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হয়।
সম্প্রতি সেনাবাহিনী এবং আইআরজিসির মুখপাত্রদের একটি যৌথ বৈঠকে উভয় বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়, সহযোগিতা এবং গণমাধ্যম কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়। বৈঠকে আইআরজিসিকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে আখ্যায়িত করার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে ইরানের সেনাবাহিনী পূর্ণ সমর্থন প্রদান করেছে। একই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর কার্যক্রম সম্পর্কে সমন্বিত তথ্য প্রচার এবং যৌথ যোগাযোগ কৌশল বাস্তবায়নের বিষয়ে সমঝোতা করা হয়েছে।
বৈঠকের অংশগ্রহণকারীরা বলেছেন, ইসলাম, বিপ্লব এবং দেশের স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে ইরানের সব সশস্ত্র বাহিনী ঐক্যবদ্ধ রয়েছে এবং শত্রুপক্ষের প্রচারযুদ্ধ মোকাবিলায় তারা একত্রে কাজ করবে।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি বন্ধের পরিকল্পনা নতুন নয় বলে জানিয়েছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মেজর জেনারেল রহিম সাফাভি। তিনি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, ২০১১-১২ সালেই তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশে হরমুজ প্রণালি বন্ধের জন্য একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছিল। ওই পরিকল্পনার প্রণয়নে আইআরজিসির নৌ ও মহাকাশ বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডারদেরও সম্পৃক্ত করা হয়েছিল বলে তিনি জানান।
ইরানি কর্মকর্তারা জানান, হরমুজ প্রণালি বন্ধের পদক্ষেপ দেশটির প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা প্রকাশ করছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, প্রতিরোধ তখনই কার্যকর হয় যখন প্রতিপক্ষ মনে করে আক্রমণের খরচ সম্ভাব্য লাভের চেয়ে অনেক বেশি। সশস্ত্র বাহিনীগুলোর সমন্বিত সক্ষমতা সেই প্রতিরোধ শক্তিকে আরও জোরদার করেছে।
বিশ্লেষণ আরো দাবি করে, যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে চাইলেও তা সম্ভব হয়নি। বরং দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্প নিজস্ব প্রযুক্তি এবং সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে এগিয়ে যাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে একটি প্রশ্নও উত্থাপিত হয়েছে—যদি যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে চায়, তাহলে তারা কেন কেবল দক্ষিণাঞ্চলে হামলা সীমিত রাখছে? ইরানের সামরিক প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং বাহিনীগুলোর সমন্বিত শক্তির কারণে সংঘাতের পরিধি বাড়ালে তারা আরও বড় ধরনের প্রতিরোধের মোকাবিলা করতে পারে। সে কারণে তারা বৃহত্তর সংঘাতে জড়াতে অনাগ্রহী।
তবে এসব বক্তব্য মূলত ইরানের রাষ্ট্রীয় ও সামরিক মহলের দৃষ্টিভঙ্গি এবং স্বাধীনভাবে এসব দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যমুনা পাড়ের অসহায় মানুষকে লাভের ফাঁদে ফেলে পল্লী বাঁধন উন্নয়ন সংস্থা নামক সমিতির নামে শতাধিক সদস্যকে প্রতারণায় অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নেবার অভিযোগ উঠেছে সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন সম্পাদক ইকতিয়ার রহমান ও ক্যাশিয়ার আক্তার হোসেনসহ আরো দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
সিরাজগঞ্জ সমাজসেবা ৮৯৮ নং নিবন্ধনকৃত পল্লী বাঁধন উন্নয়ন সংস্থার নামে অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে সমিতির ওই ৫ জন কর্মকর্তা গা ঢাকা দেবার অভিযোগ করেছেন সমিতির সদস্য ভুক্তভোগী অসহায় পরিবাররা।
বিষয়টি নিয়ে এলাকায় খেটে খাওয়া মানুষের কষ্টার্জিত টাকার শোক ও অপর দিকে জমানো টাকা না পেয়ে চিকিৎসার অভাবে নারী সদস্যা মৃত্যুর প্রহর গুনছে।
সমবায় অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই নিয়ম বহির্ভুতভাবে চলছে সঞ্চয় ও ঝণদানসহ ডিপিএস কর্মসুচী।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছোনগাছা ইউনিয়নের পারপাচিল গ্রামে ‘পল্লী বাঁধন উন্নয়ন সংস্থা’ নামক একটি কথিত সমিতির নামে শতাধিক সদস্যের প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে নিজেরা প্রতিষ্ঠিত হবার পথ সুগম করেছেন।
যমুনা পাড়ের দিনমজুর ও অসহায় মানুষের সঞ্চয় ও ডিপিএস এর টাকা নিয়ে সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন সাধারণ সম্পাদক ইকতিয়ার রহমান এবং স্থানীয় টিন ব্যবসায়ী আক্তার হোসেনসহ কয়েকজন শিক্ষক ও প্রভাবশালী ব্যক্তি টাকা না দিয়ে নানা তালবাহানা শুরু করেছেন বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার ছোনগাছা ইউনিয়নের পাঁচঠাকুরী, পারপাচিল মটিয়ারপুর ও শাহজাহান মোড়সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের সহজ-সরল ও অসহায় পরিবারগুলোকে লাভের আশ্বাস দিয়ে সমিতিতে সদস্য করা হয়। কাগজ-কলমে সমিতির নাম ব্যবহার করে ডিপিএস ঝণদান এবং মাসিক সঞ্চয় হিসাবের মাধ্যমে সদস্যদের কাছ থেকে ৩০ হাজার থেকে শুরু করে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত জমা নেওয়া হয় শতাধিক পরিবারের নিকট থেকে । যা সমবায় সমিতির নিয়মনীতির বহির্ভুত।
পল্লী বাঁধন উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তাদের তহবিলে পাস বহিতে জমাকৃত টাকা ফেরত না দিয়ে সমিতির কার্যালয় ৪ মাস যাবৎ তালা লাগিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে সমিতির কর্মকর্তারা।
সিরাজগঞ্জ জেলা সমবায় সমিতির নিয়মনীতি উপেক্ষা করে মাইক্রোক্রেডিট প্রোগ্রামের মাধ্যমে ডিপিএসসহ সঞ্চয় ও ঝণদান সমিতির পরিচালনার বিষয়টি এলাকাবাসির মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নদীভাঙন কবলিত নিঃস্ব পরিবারগুলো এখন তাদের জমানো টাকা ফেরত না পেয়ে চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
ওয়াবদা বাঁধের ঢালে বসবাসকারী অসহায় ও বিধবা কোহিনুর (৫৫) কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, “আমি অনেক কষ্ট করে সমিতিতে ৪৫ হাজার টাকা জমা দিয়েছিলাম। বড় আশা নিয়ে । এখন আমার পেটে পাথর হয়েছে, ডাক্তার বলেছেন চিকিৎসা করতে অনেক টাকা লাগবে। সমিতির ইকতিয়ার রহমানের কাছে আমার জমানো টাকা চাইতে গেলে সে আজ দেব, কাল দেব বলে ঘোরাচ্ছেন। আমার স্বামী নেই, চেয়ে-চিন্তে দিন চলে। টাকার অভাবে এখন আমি চিকিৎসা করতে পারছি না। আমি চলা ফেরা করতে পারি না। ছেলেকে টাকার জন্য পাঠিয়েছিলাম টাকা দেইনি । কোহিনুর অসুস্থ শরীর নিয়ে কাতর হয়ে পড়েছি। বুকে প্রচন্ড ব্যথা সহ্য করতে পারি না। ইকতিয়ার মোবাইলও বন্ধ করে রেখেছে। মোবাইল খোলা থাকলে আমার কল ধরে না। সাংবাদিকদের উদ্দ্যেশে তিনি বললেন-বাবা তোমরা আমায় বাঁচাও।
সমিতির সদস্য হবিবর রহমান (৫৭) বলেন-আমি ৫০ হাজার টাকা জমা দিয়েছি আমাকে টাকা না দিয়ে একাধিকবার সময় নিয়েও টাকা ফেরত দিচ্ছে না। একই এলাকা সানোয়ার হোসেন তার জমা রয়েছে ৪২ হাজার টাকা হেলালের স্ত্রী বুলবুলি বলেন-আমার ডিপিএস ও সঞ্চয় হিসেবে ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা জমা রয়েছে । টাকা না দিয়ে ৪ মাস হলো অফিস বন্ধ করে চলে গেছে। কাউনে খুজে পাচ্ছি না ।মো.আব্দুল কুদ্দুস এর ৫০ হাজার টাকা,আব্দুল হামিদ এর ৩০ হাজার টাকা, জরিনা বেওয়ার ৫০ হাজার টাকা জমা রেখেছেন মেয়ের বিয়ের জন্য। তার মেয়ে বড় হয়েছে টাকার অভাবে বিয়ে দিতে পারছি না।
ছামিদুল ইসলামের ৩২ হাজার টাকা,পপি খাতুনের ৩৮ হাজার টাকা,রোজিনা খাতুনের ৯০ হাজার টাকা,নাসিরের ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা,জসিমের ৫০ হাজার টাকা জামিলের ১ লাখ ২০ হাজার টাকাসহ শতাধিক সমিতির সদস্যদের নিকট থেকে প্রতারণা করে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নেবার অভিযোগ উঠেছে।
সমিতির নামে দু:স্থ অসহায় মানুষের নিকট হতে সমিতির নামে প্রতারণা করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেবার চক্রটি হলো পল্লী বাঁধন উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি হেলাল, উদ্দিন সাধারন সম্পাদক ইকতিয়ার রহমান, পারপাচিলের ক্যাশিয়ার আক্তার হোসেন, শমসের আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আশরাফ আলী ও মটিয়ারপুর মাদরাসার দপ্তরী জুলফিকার আলী। সমিতির নামে প্রতারণা করে শতাধিক পরিবারের নিকট অর্ধ কোটি টাকা আত্মসাতের বিষয়টি আইনী ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী পরিবার।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাধারণ সদস্যরা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং তাদের কষ্টার্জিত অর্থ দ্রুত ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সদস্যদের টাকার বিষয়ে সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন- আমি কোন টাকা নেইনি। সমিতির সাধারন সম্পাদক ইকতিয়ার এর নিকট সব হিসাব নিকাশের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
সমিতির সাধারন সম্পাদক ইকতিয়ার বলেন -ইতিপুর্ইে সমিতি পরিচালনা করেছেন হেলাল মামা। ৩ বছর হলো সমিতির দায়িত্ব আমাকে দেয়া হয়। আমি টাকা কলেকশন করি। লোন দেই আমার কাছে ক্যাশ টাকা থাকে না।
কাকে লোন দিবো কাকে টাকা ফেরত দিবো সব দায়িত্ব পালন করেন হেলাল মামা । কাউকে টাকা দিতে হলে হেলাল মামার অনুমতি ছাড়া আমি কিছুই করতে পারবো না। সমিতির কর্মকর্তাদের দশ বিশ হাজার টাকা ঈদ উপলক্ষ্যে দিতে হলে মামা অর্ডার দেন সে টাকা দিয়ে থাকি। তিনি আরো বলেন -প্রতি বছর সমিতির সদস্যদের জন্য সমবায় অফিস হতে বরাদ্দ আসে সে টাকা বিভিন্ন উন্নয়মুলক কাজ করি। কিন্তু সমিতি বা সদস্যদের মাঝে কোন সরকারি টাকা দিয়ে কোন প্রকার সেবামুলক কাজের নমুনা দেখা যায়নি। সমিতির টাকার বিষয়ে সমিতির ক্যাশিয়ার আক্তার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার বড় ছেলে বলেন বাবা তিনদিন আগে একটি বিয়েতে রাজশাহী গেছেন। আক্তার হোসেনের বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রীকে জিঞ্জাসা করলে তিনি বলেন- বাড়িয়ালা সকালে বাড়ি থেকে বের হয়েছে কোথায় গেছে তা বলতে পারবো না। সাংবাদিকের আভাস পেয়ে ক্যাশিয়ার আক্তা র হোসেন মুঠোফোন বন্ধ করে গা ঢাকা দেন।সমিতির নামে নদী পাড়ের দরিদ্র পরিবারের টাকা আত্মসাতকারীর বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিতে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি
কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
এ বিষয়ে জেলা সমাজসেবা উপপরিচালক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান জানান আমাদের নিবন্ধনকৃত সমিতি সেবামুলক কাজ করবেন। এর বাহিরে মাইক্রোক্রেডিট এর কোন প্রকার কর্মকান্ড করতে পারবেন না।
মাইক্রোক্রেডিটের কর্মসুচী পরিচালনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিতে হবে। মাইক্রোক্রেডিট পরিচালনার অভিযোগ আসলে তদন্ত পুর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো.সোহেল রানা বলেন- সমাজসেবা কর্তৃক নিবন্ধনকৃত সমবায় সমিতি নারী শিশু ও জন কল্যাণমুলক কাজ করা যাবে। কোন ঝণদান বা ডিপিএস করার নিয়ম নেই। কেউ যদি এককালীন টাকা গ্রহন ও ঝণদান কর্মসুচী পরিচালনা করেন তার তদন্তে সত্যতা পেলে নিবন্ধন বাতিল করতে জেলা কর্মকর্তা বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মালয়েশিয়ায় যদি কোনো ইসরাইলি নাগরিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে বলে ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম।
তিনি জানান, মালয়েশিয়া ইসরাইলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার নীতিতে অনড় রয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ায় ইসরাইলি নাগরিক প্রবেশ করেছে- এমন অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।
আনোয়ার বলেন, "আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। এটি কোনোভাবেই অনুমোদন করা হবে না। যদি ইসরাইলি নাগরিকের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেহেতু মালয়েশিয়া ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয় না, তাই তাদের অবিলম্বে বহিষ্কার করা হবে।"
তিনি আরও জানান, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেখছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ করা হবে। এ বিষয়ে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী দাতুক সেরি ড. জামব্রি আবদুল কাদির বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এর আগে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দাবি করা হয়েছে, দ্বিতীয় কোনো দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে কয়েকজন ইসরাইলি নাগরিক জোহর রাজ্যে প্রবেশ করেছেন। একই ধরনের অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে, সেখানে বলা হয়, ইসরাইলি পাসপোর্টের পাশাপাশি অন্য দেশের নাগরিকত্বের নথি ব্যবহার করে কয়েকজন বিদেশি মালয়েশিয়ায় প্রবেশের চেষ্টা করেছেন বা দেশটিতে অবস্থান করছেন।
ফরেস্ট সিটির ‘নেটওয়ার্ক স্কুল’ ঘিরে তদন্ত:
অভিযোগের পর জোহর রাজ্য সরকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে ফরেস্ট সিটিতে পরিচালিত প্রযুক্তিভিত্তিক আবাসিক কমিউনিটির ‘নেটওয়ার্ক স্কুল’-এর কার্যক্রম তদন্তের জন্য আহ্বান জানিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই প্রতিষ্ঠানের একটি কর্মসূচিতে ইসরাইলি নাগরিকদের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে।
জোহরের মুখ্যমন্ত্রী দাতুক ওন হাফিজ গাজি বলেছেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দ্বিতীয় কোনো দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন।
এ অভিযোগের পর মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম) ফরেস্ট সিটিতে পরিচালিত ‘নেটওয়ার্ক স্কুল’ ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে বর্তমান ৪০টি দেশের ২৬৬ জন বিদেশি নাগরিক বসবাস করছেন।
অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, "১৪ জুলাই পরিচালিত যৌথ অভিযানে ইস্কান্দার পুতেরি সিটি কাউন্সিল (এমবিআইপি), মালয়েশিয়ান কমিউনিকেশনস অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া কমিশন (এমসিএমসি), জোহর রাজ্য সরকারের সচিবের কার্যালয় এবং রয়্যাল মালয়েশিয়া পুলিশ অংশ নিয়েছে।"
তিনি বলেন, প্রাথমিক যাচাইয়ে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট ২৬৬ জন বিদেশির সবার কাছেই বৈধ অভিবাসন-সংক্রান্ত কাগজপত্র রয়েছে। তথাপি, তারা প্রবেশের শর্ত, ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান যথাযথভাবে মেনে চলেছেন কিনা, তা নিশ্চিত করতে আরও বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা:
জাকারিয়া শাবান আরও জানান, "মালয়েশিয়ায় বিদেশিদের প্রবেশ বিদ্যমান অভিবাসন আইনের আওতায় কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। দেশের প্রবেশপথে ভ্রমণ নথি, সংশ্লিষ্ট ডেটাবেস এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তথ্য যাচাইয়ের পরই বিদেশিদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।"
তিনি বলেন, পরিচয় গোপন, ভ্রমণ নথির জালিয়াতি, অভিবাসন-সুবিধার অপব্যবহার কিংবা প্রদত্ত পাশের শর্ত লঙ্ঘনের বিষয়ে কোনো সন্দেহ বা নতুন তথ্য পাওয়া গেলে জেআইএম পূর্ণাঙ্গ তদন্ত পরিচালনা করবে।
মহাপরিচালক সতর্ক করে বলেন, "অভিবাসন আইন লঙ্ঘন অথবা অভিবাসন-সুবিধার অপব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
তিনি উল্লেখ করেছেন, দেশের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (কেডিএন) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে অভিবাসন বিভাগ তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
উল্লেখ্য, ‘নেটওয়ার্ক স্কুল’ ২০২৪ সালে প্রযুক্তি বিনিয়োগকারী বালাজি শ্রীনিবাসন প্রতিষ্ঠা করেন। এটি মূলত প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও তথাকথিত ‘টেকনো-অপটিমিস্ট’দের জন্য আবাসন ও কো-ওয়ার্কিং স্পেস হিসেবে পরিচালিত হয়। এখানে মাসিক ১ হাজার ৫শ মার্কিন ডলার (প্রায় ৬,১১৮ রিঙ্গিত) ফি নেওয়া হয়। এ ফি-এর মধ্যে আবাসন, খাবার, জিম এবং অন্যান্য সুবিধা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ