প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যমুনা পাড়ের অসহায় মানুষকে লাভের ফাঁদে ফেলে পল্লী বাঁধন উন্নয়ন সংস্থা নামক সমিতির নামে শতাধিক সদস্যকে প্রতারণায় অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নেবার অভিযোগ উঠেছে সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন সম্পাদক ইকতিয়ার রহমান ও ক্যাশিয়ার আক্তার হোসেনসহ আরো দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
সিরাজগঞ্জ সমাজসেবা ৮৯৮ নং নিবন্ধনকৃত পল্লী বাঁধন উন্নয়ন সংস্থার নামে অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে সমিতির ওই ৫ জন কর্মকর্তা গা ঢাকা দেবার অভিযোগ করেছেন সমিতির সদস্য ভুক্তভোগী অসহায় পরিবাররা।
বিষয়টি নিয়ে এলাকায় খেটে খাওয়া মানুষের কষ্টার্জিত টাকার শোক ও অপর দিকে জমানো টাকা না পেয়ে চিকিৎসার অভাবে নারী সদস্যা মৃত্যুর প্রহর গুনছে।
সমবায় অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই নিয়ম বহির্ভুতভাবে চলছে সঞ্চয় ও ঝণদানসহ ডিপিএস কর্মসুচী।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছোনগাছা ইউনিয়নের পারপাচিল গ্রামে ‘পল্লী বাঁধন উন্নয়ন সংস্থা’ নামক একটি কথিত সমিতির নামে শতাধিক সদস্যের প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে নিজেরা প্রতিষ্ঠিত হবার পথ সুগম করেছেন।
যমুনা পাড়ের দিনমজুর ও অসহায় মানুষের সঞ্চয় ও ডিপিএস এর টাকা নিয়ে সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন সাধারণ সম্পাদক ইকতিয়ার রহমান এবং স্থানীয় টিন ব্যবসায়ী আক্তার হোসেনসহ কয়েকজন শিক্ষক ও প্রভাবশালী ব্যক্তি টাকা না দিয়ে নানা তালবাহানা শুরু করেছেন বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার ছোনগাছা ইউনিয়নের পাঁচঠাকুরী, পারপাচিল মটিয়ারপুর ও শাহজাহান মোড়সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের সহজ-সরল ও অসহায় পরিবারগুলোকে লাভের আশ্বাস দিয়ে সমিতিতে সদস্য করা হয়। কাগজ-কলমে সমিতির নাম ব্যবহার করে ডিপিএস ঝণদান এবং মাসিক সঞ্চয় হিসাবের মাধ্যমে সদস্যদের কাছ থেকে ৩০ হাজার থেকে শুরু করে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত জমা নেওয়া হয় শতাধিক পরিবারের নিকট থেকে । যা সমবায় সমিতির নিয়মনীতির বহির্ভুত।
পল্লী বাঁধন উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তাদের তহবিলে পাস বহিতে জমাকৃত টাকা ফেরত না দিয়ে সমিতির কার্যালয় ৪ মাস যাবৎ তালা লাগিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে সমিতির কর্মকর্তারা।
সিরাজগঞ্জ জেলা সমবায় সমিতির নিয়মনীতি উপেক্ষা করে মাইক্রোক্রেডিট প্রোগ্রামের মাধ্যমে ডিপিএসসহ সঞ্চয় ও ঝণদান সমিতির পরিচালনার বিষয়টি এলাকাবাসির মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নদীভাঙন কবলিত নিঃস্ব পরিবারগুলো এখন তাদের জমানো টাকা ফেরত না পেয়ে চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
ওয়াবদা বাঁধের ঢালে বসবাসকারী অসহায় ও বিধবা কোহিনুর (৫৫) কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, “আমি অনেক কষ্ট করে সমিতিতে ৪৫ হাজার টাকা জমা দিয়েছিলাম। বড় আশা নিয়ে । এখন আমার পেটে পাথর হয়েছে, ডাক্তার বলেছেন চিকিৎসা করতে অনেক টাকা লাগবে। সমিতির ইকতিয়ার রহমানের কাছে আমার জমানো টাকা চাইতে গেলে সে আজ দেব, কাল দেব বলে ঘোরাচ্ছেন। আমার স্বামী নেই, চেয়ে-চিন্তে দিন চলে। টাকার অভাবে এখন আমি চিকিৎসা করতে পারছি না। আমি চলা ফেরা করতে পারি না। ছেলেকে টাকার জন্য পাঠিয়েছিলাম টাকা দেইনি । কোহিনুর অসুস্থ শরীর নিয়ে কাতর হয়ে পড়েছি। বুকে প্রচন্ড ব্যথা সহ্য করতে পারি না। ইকতিয়ার মোবাইলও বন্ধ করে রেখেছে। মোবাইল খোলা থাকলে আমার কল ধরে না। সাংবাদিকদের উদ্দ্যেশে তিনি বললেন-বাবা তোমরা আমায় বাঁচাও।
সমিতির সদস্য হবিবর রহমান (৫৭) বলেন-আমি ৫০ হাজার টাকা জমা দিয়েছি আমাকে টাকা না দিয়ে একাধিকবার সময় নিয়েও টাকা ফেরত দিচ্ছে না। একই এলাকা সানোয়ার হোসেন তার জমা রয়েছে ৪২ হাজার টাকা হেলালের স্ত্রী বুলবুলি বলেন-আমার ডিপিএস ও সঞ্চয় হিসেবে ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা জমা রয়েছে । টাকা না দিয়ে ৪ মাস হলো অফিস বন্ধ করে চলে গেছে। কাউনে খুজে পাচ্ছি না ।মো.আব্দুল কুদ্দুস এর ৫০ হাজার টাকা,আব্দুল হামিদ এর ৩০ হাজার টাকা, জরিনা বেওয়ার ৫০ হাজার টাকা জমা রেখেছেন মেয়ের বিয়ের জন্য। তার মেয়ে বড় হয়েছে টাকার অভাবে বিয়ে দিতে পারছি না।
ছামিদুল ইসলামের ৩২ হাজার টাকা,পপি খাতুনের ৩৮ হাজার টাকা,রোজিনা খাতুনের ৯০ হাজার টাকা,নাসিরের ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা,জসিমের ৫০ হাজার টাকা জামিলের ১ লাখ ২০ হাজার টাকাসহ শতাধিক সমিতির সদস্যদের নিকট থেকে প্রতারণা করে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নেবার অভিযোগ উঠেছে।
সমিতির নামে দু:স্থ অসহায় মানুষের নিকট হতে সমিতির নামে প্রতারণা করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেবার চক্রটি হলো পল্লী বাঁধন উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি হেলাল, উদ্দিন সাধারন সম্পাদক ইকতিয়ার রহমান, পারপাচিলের ক্যাশিয়ার আক্তার হোসেন, শমসের আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আশরাফ আলী ও মটিয়ারপুর মাদরাসার দপ্তরী জুলফিকার আলী। সমিতির নামে প্রতারণা করে শতাধিক পরিবারের নিকট অর্ধ কোটি টাকা আত্মসাতের বিষয়টি আইনী ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী পরিবার।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাধারণ সদস্যরা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং তাদের কষ্টার্জিত অর্থ দ্রুত ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সদস্যদের টাকার বিষয়ে সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন- আমি কোন টাকা নেইনি। সমিতির সাধারন সম্পাদক ইকতিয়ার এর নিকট সব হিসাব নিকাশের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
সমিতির সাধারন সম্পাদক ইকতিয়ার বলেন -ইতিপুর্ইে সমিতি পরিচালনা করেছেন হেলাল মামা। ৩ বছর হলো সমিতির দায়িত্ব আমাকে দেয়া হয়। আমি টাকা কলেকশন করি। লোন দেই আমার কাছে ক্যাশ টাকা থাকে না।
কাকে লোন দিবো কাকে টাকা ফেরত দিবো সব দায়িত্ব পালন করেন হেলাল মামা । কাউকে টাকা দিতে হলে হেলাল মামার অনুমতি ছাড়া আমি কিছুই করতে পারবো না। সমিতির কর্মকর্তাদের দশ বিশ হাজার টাকা ঈদ উপলক্ষ্যে দিতে হলে মামা অর্ডার দেন সে টাকা দিয়ে থাকি। তিনি আরো বলেন -প্রতি বছর সমিতির সদস্যদের জন্য সমবায় অফিস হতে বরাদ্দ আসে সে টাকা বিভিন্ন উন্নয়মুলক কাজ করি। কিন্তু সমিতি বা সদস্যদের মাঝে কোন সরকারি টাকা দিয়ে কোন প্রকার সেবামুলক কাজের নমুনা দেখা যায়নি। সমিতির টাকার বিষয়ে সমিতির ক্যাশিয়ার আক্তার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার বড় ছেলে বলেন বাবা তিনদিন আগে একটি বিয়েতে রাজশাহী গেছেন। আক্তার হোসেনের বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রীকে জিঞ্জাসা করলে তিনি বলেন- বাড়িয়ালা সকালে বাড়ি থেকে বের হয়েছে কোথায় গেছে তা বলতে পারবো না। সাংবাদিকের আভাস পেয়ে ক্যাশিয়ার আক্তা র হোসেন মুঠোফোন বন্ধ করে গা ঢাকা দেন।সমিতির নামে নদী পাড়ের দরিদ্র পরিবারের টাকা আত্মসাতকারীর বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিতে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি
কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
এ বিষয়ে জেলা সমাজসেবা উপপরিচালক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান জানান আমাদের নিবন্ধনকৃত সমিতি সেবামুলক কাজ করবেন। এর বাহিরে মাইক্রোক্রেডিট এর কোন প্রকার কর্মকান্ড করতে পারবেন না।
মাইক্রোক্রেডিটের কর্মসুচী পরিচালনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিতে হবে। মাইক্রোক্রেডিট পরিচালনার অভিযোগ আসলে তদন্ত পুর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো.সোহেল রানা বলেন- সমাজসেবা কর্তৃক নিবন্ধনকৃত সমবায় সমিতি নারী শিশু ও জন কল্যাণমুলক কাজ করা যাবে। কোন ঝণদান বা ডিপিএস করার নিয়ম নেই। কেউ যদি এককালীন টাকা গ্রহন ও ঝণদান কর্মসুচী পরিচালনা করেন তার তদন্তে সত্যতা পেলে নিবন্ধন বাতিল করতে জেলা কর্মকর্তা বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন