প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আজ ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরের পুলিশের গুলিতে শহীদ হন শহীদ আবু সাঈদ, যিনি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। আজকের দিনেই চট্টগ্রাম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ও কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ন আহ্বায়ক ওয়াসিম আকরামও শহীদ হন।
এই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে একদিনে প্রথমবারের মতো ছয়জন প্রাণ হারান। সরকার পরে দিনটিকে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। এ উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক দিবস পালন করা হচ্ছে।
আজ দেশের সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারী ও বেসরকারি ভবনসহ বিদেশে বাংলাদেশ প্রতিনিধিত্ব অফিসে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। এ ছাড়া, জুলাই শহীদদের রুহের মাগফিরাতের উদ্দেশ্যে সকল মসজিদে বিশেষ দোয়া হবে। অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে তাদের আত্মার শান্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।
দিবসের কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত আছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, যা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান করবেন। প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন কক্সবাজারের পেকুয়ায় শহীদ ওয়াসিমের বাড়িতে গিয়ে সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন, এবং চট্টগ্রামের মুরাদপুরে শহীদ ওয়াসিমের শাহাদাতস্থলে একটি স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
শিক্ষার্থীদের সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ছাত্রদের ওপর নির্বিচার গুলি চালায়। ১৬ জুলাই পুলিশি হামলায় আবু সাঈদ বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন, যা দেখে পুরো বিশ্ব স্তম্ভিত হয়ে যায়। তার শাহাদাত আন্দোলনের গতিপথ পাল্টে দেয়। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং সমর্থকদের হামলায় দুইজন যুবক ঢাকায় শহীদ হন, নিউমার্কেট এলাকার হকার মো. শাহজাহান এবং নীলফামারীর যুবক সবুজ আলী। চট্টগ্রামে এমইএস কলেজের শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমদ শান্ত এবং ফার্নিচার দোকানের কর্মচারী মোহাম্মদ ফারুক শহীদ হন। অসংখ্য ছাত্র-জনতা আহত হয়।
সারা দেশে সংঘর্ষ, বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়ক অবরোধ করে। সরকারের বিরুদ্ধে জনতা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে, এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরে ৫ আগস্ট ভারতে পালিয়ে যান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন