মুবাশশির আলম রাহুল, জামালপুর প্রতিনিধি
০৭:২৫ পি.এম
জামালপুর সদর উপজেলার দিগপাইত উপ-শহরে কামরুল তালুকদার (৫৫) নামে এক ঢেউটিন ব্যবসায়ীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে তার ভাড়া বাসা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করেছে নারায়নপুর পুলিশ ফাঁড়ি। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
নিহত কামরুল তালুকদার টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী উপজেলার চালাষ মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত ছাওয়ার তালুকদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে দিগপাইত উপ-শহরে বসবাস করে ঢেউটিনের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের দিকে মো. সিরাজুল ইসলাম বিএসসি মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত তার ভাড়া বাসার দরজা দীর্ঘ সময় বন্ধ দেখে সন্দেহ হয়। পরে প্রতিবেশী ও ব্যবসায়ীরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে কামরুল তালুকদারকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
ঘটনার বিষয়ে তার দোকানের কর্মচারী গোপাল জানান, সকাল ১০টার দিকে কামরুল তালুকদারের সঙ্গে তার ফোনে কথা হয়েছিল। পরে দুপুর ১টার দিকে দেখা করতে এসে রুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পান। বারবার ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে আশপাশের লোকজনকে খবর দেন। পরে সবাই মিলে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তার মরদেহ দেখতে পান।
পারিবারিক সূত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের কারণে প্রায় পাঁচ বছর আগে স্ত্রীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ ঘটে। তার এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। বিচ্ছেদের পর থেকে তিনি একাই দিগপাইতে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জামালপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় দিগপাইত উপ-শহরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর সেনবাগে মাদক ব্যবসায়ীদের হামলার ফলে এক স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে নিহত দশম শ্রেণির ছাত্র আরাফাত হোসেন ফাহিমের (১৬) মা পারভীন আক্তার বাদী হয়ে সেনবাগ থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় সাতজনকে নামীয় এবং আরও চার থেকে পাঁচজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এর আগের ঘটনায় মো. হারুন (৩৫) নামে একজনকে পুলিশ আটক করেছে।
নিহত ফাহিম বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার হাজীপুর এলাকার মো. শাহজাহানের ছেলে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, বুধবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের দেবিসিংহপুর এলাকার হাজেরা দিঘী সংলগ্ন এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাদক ব্যবসা চলছিল। এ বিষয় নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে বিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী দেলোয়ার হোসেন নোবেল জানিয়েছেন, হামলার দিন সন্ধ্যার পর ফাহিম নানার বাড়ি থেকে খালার বাড়ি যাওয়ার পথে একা অবস্থায় হামলার শিকার হয়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
নিহতের বাবা মো. শাহজাহান বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্ত পরবর্তী প্রথমে তার নানার বাড়িতে নেওয়া হবে। সেখানে গোসল করিয়ে এলাকাবাসীকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ দেওয়া হবে। পরে নিজ বাড়িতে নিয়ে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, 'আমার আর কিছু বলার নেই। আমি আমার ছেলেকে আল্লাহর কাছে আমানত করে দিলাম।'
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সেনবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনির মিয়া। তবে তদন্তের স্বার্থে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম সরকারের মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
১২তম ফিফা বিশ্বকাপ ঘরের মাঠে খেলার সুযোগ পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনটি স্বাগতিক দেশের মধ্যে একটি হওয়ায় তাদের বিশ্বকাপ মাতানোর স্বপ্ন ভাসছে।
১৯৩০ সালের বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে খেলার মাধ্যমে তাদের এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ সাফল্য রয়েছে। এ ছাড়া, ঘরের মাঠে ১৯৯৪ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে তারা উঠেছিল।
তাদের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাউরিসিও পচেত্তিনো। অধিনায়কত্ব করছেন টিম রিম।
বিশ্বকাপের ইতিহাস নিয়ে বলা যায়, সেরা সাফল্য হিসেবে তারা সেমিফাইনালে অংশগ্রহণ করেছে (১৯৩০)। সর্বশেষ তারা দ্বিতীয় রাউন্ডে (২০২২) খেলেছিল। তাদের প্রথম অংশগ্রহণ হয়েছিল ১৯৩০ সালে এবং তারা মোট ১২ বার বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেছে। বর্তমান ফিফা র্যাংকিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ১৬।
বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘ডি’ তে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে প্যারাগুয়ে, অস্ট্রেলিয়া এবং তুরস্ক রয়েছে।
গ্রুপ ডি’র খেলাগুলোর সময়সূচি যা এইভাবে:
১২ জুন : যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ে, সোফাই স্টেডিয়াম (ইনগ্লিউড, ক্যালিফোর্নিয়া), সকাল ৭টা।
২০ জুন : যুক্তরাষ্ট্র বনাম অস্ট্রেলিয়া, লুমেন ফিল্ড (সিয়াটল, ওয়াশিংটন), রাত ১টা।
২৬ জুন : তুরস্ক বনাম যুক্তরাষ্ট্র, সোফাই স্টেডিয়াম (ইনগ্লিউড, ক্যালিফোর্নিয়া), সকাল ৮টা।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ স্কোয়াডকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়—
গোলরক্ষকরা: ক্রিস ব্র্যাডি, ম্যাট ফ্রিজ এবং ম্যাট টার্নার।
ডিফেন্ডাররা: ম্যাক্স আর্ফস্টেন, সার্জিনো ডেস্ট, অ্যালেক্স ফ্রিম্যান, মার্ক ম্যাকেঞ্জি, টিম রিম, ক্রিস রিচার্ডস, অ্যান্টনি রবিনসন, মাইলস রবিনসন, জো স্ক্যালি ও অস্টন ট্রাস্টি।
মিডফিল্ডাররা: টাইলর অ্যাডামস, সেবাস্টিয়ান বারহল্টার, উইস্টন ম্যাককিনে, ক্রিস্টিয়ান রোল্ডান, ব্রেন্ডন অ্যারনসন, জিওভান্নি রেইনা, মালিক তিলম্যান ও টিম উইয়াহ।
ফরোয়ার্ডরা: ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচ, আলেজান্দ্রো জেন্দেজাস, ফ্লোরিয়ান বালোগুন, রিকার্ডো পেপি ও হাজি রাইট।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এক দিকে যখন আধুনিক বিশ্বের উত্তর আমেরিকার স্টেডিয়ামগুলোতে ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মহারণ শুরু হতে যাচ্ছে, ঠিক তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি বাস্তবতায় দিন কাটাচ্ছেন ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার ক্রীড়াবিদরা। ইসরায়েলি আগ্রাসনে বিধ্বস্ত গাজা সিটির ফিলিস্তিন স্টেডিয়ামের অবশিষ্ট অংশে আর আগের সেই উজ্জ্বলতা নেই। তবে সেখানে, আলি তাফেশ এবং তার সতীর্থরা ক্রাচে ভর দিয়ে ফুটবল পায়ে নিয়ে ছুটছেন। তারা ‘গাজা আল-ইরাদা’ নামে একটি ফুটবল ক্লাবের সদস্য, যেখানে প্রতিটি সদস্যই যুদ্ধে অঙ্গ হারানো একেকজন অদম্য মানুষ। এই দলের ফুটবলারদের কাছে খেলাধুলা আর শুধু বিনোদন বা ক্যারিয়ার নয়, বরং সব কিছু হারিয়ে বেঁচে থাকার এবং নিজেদের অস্তিত্ব ধরে রাখার শেষ অবলম্বন।
মাত্র চার বছর আগে, ২০২২ সালে কাতারে যখন বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তখন গাজার এক ক্যাফেতে ২৪ বছর বয়সী আলি তাফেশ তার বন্ধুদের নিয়ে উৎসবের পরিবেশে খেলা উপভোগ করেছিলেন। সে সময় তিনি ছিলেন একজন দ্রুতগতির দৌড়বিদ, যার দখলে ছিল একাধিক মেডেল। কিন্তু ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাদের জেইতুন এলাকার বাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় তার মা এবং ভাই প্রাণ হারান, আর ডাক্তাররা বাধ্য হন আলির একটি পা কেটে ফেলতে। আইন নিয়ে পড়াশোনা করা তরুণটি জীবনের সকল আশা হারিয়ে ফেলেছিলেন, কিন্তু পরে বন্ধুদের মাধ্যমে এই ফুটবল ক্লাবের খোঁজ পান এবং ছয় মাস আগে আবার মাঠে নামেন। কিন্তু এখন পরিস্থিতি এতটা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, অনুশীলনে আসার জন্য আলিকে ভাঙা রাস্তা পেরিয়ে ক্রাচে ভর দিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা হাঁটতে হয়, কারণ সেখানে কোনো যানবাহন নেই। এমনকি সাধারণ বুট জুতো বা নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সরঞ্জামটুকুও তাদের কাছে নেই।
দলের আরেক অভিজ্ঞ সদস্য সাদি আল-মাসরি, যিনি ৪০ বছর বয়সী, দুই বছর বয়সে এক গাড়ি দুর্ঘটনায় পা হারিয়েছিলেন। প্রতিবন্ধকতা পার করে তিনি সাঁতার এবং ভলিবলে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হন এবং প্রতিবন্ধী ফুটবল দলের হয়ে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ফিলিস্তিনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভ ও দুঃখে জানান যে, এবারের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের বাছাইপর্বে তাদের অংশগ্রহণের কথা ছিল, কিন্তু যুদ্ধ সেই স্বপ্নকে কেড়ে নিয়েছে। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা গাজায় নতুন স্টেডিয়াম এবং একাডেমি তৈরির যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা এখনো কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ। চার বছর আগে বিশ্বকাপের সময় শক্তি ছিল, বিদ্যুৎ ছিল, সবাই একসঙ্গে বড় পর্দায় খেলা দেখতে পারতেন, কিন্তু আজ পুরো গাজা অন্ধকার, ইন্টারনেট কিংবা মোবাইল স্ক্রিনে শুধু স্কোর দেখা ছাড়া তাদের কোনো উপায় নেই।
দলের কোচ হাতেম আল-মুগরেবি বলেন, বিশ্বজুড়ে যখন ফুটবলের আনন্দ উৎসব চলছে, তখন গাজার খেলোয়াড়দের মনে একাকীত্ব এবং হতাশার চিত্র স্পষ্ট। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত গাজার প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার মানুষ তাদের হাত বা পা হারিয়েছেন। ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় গাজার ক্রীড়াঙ্গনের এক হাজারেরও বেশি খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তারা প্রাণ হারিয়েছেন এবং ধ্বংস হয়ে গেছে ২৬৫টিরও বেশি ক্রীড়া অবকাঠামো। এমন নির্মম বাস্তবতার মাঝেও আল-ইরাদা দলের ফুটবলাররা আশা ছাড়েনি। বিশ্ববাসীর কাছে তাদের একটাই আকুল আবেদন, যেন স্টেডিয়ামের গ্যালারি এবং মাঠের সবুজ ঘাসে ফিলিস্তিনের এই কষ্টের কথা ভুলে না যাওয়া হয় এবং বিশ্ব সমাজ যেন তাদের বেঁচে থাকার এবং খেলার অধিকার ফিরিয়ে দিতে এগিয়ে আসে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মোবাইলে একটি অ্যাপসের মাধ্যমে চীনের নাগরিক এম এ হাইশানের (৩৯) সঙ্গে কুষ্টিয়ার রিয়া আক্তার নামের একজন মেয়ের পরিচয় হয়েছিল প্রায় আট মাস আগে। তাদের মধ্যে কথাবার্তার এক পর্যায়ে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে, যার পরিণতি হয় প্রেমের সম্পর্ক। সেই প্রেমের টানেই হাইশান সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশে এসে হাজির হয়েছেন। যদিও তিনি প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে পেরেছেন, কিন্তু বিয়ের আগেই খালি হাতে নিজ দেশে ফেরত যাওয়ার পরিস্থিতিতে পড়েছেন।
বুধবার (১০ জুন) কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের উত্তর পার সাঁওতা এলাকায় এটি ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে যে, প্রায় আট মাস আগে সামাজিক একটি অ্যাপসের মাধ্যমে কুমারখালীর রিয়ার সঙ্গে হাইশানের পরিচয় হয়। তাদের মধ্যে প্রাথমিক পরিচয়ের পর বেরিয়ে আসে কথাবার্তা এবং বন্ধুত্ব। এখানে বন্ধুত্বের পরিণতি হিসেবে তারা প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। সেই প্রেমের টানেই বুধবার (১০ জুন) সকালে তিনি একটি ফ্লাইটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। সেখানে রিয়া এবং তার দাদি হাইশানকে রিসিভ করে সরাসরি কুমারখালী নিয়ে যান। বৃহস্পতিবার তিনি ফিরে যাওয়ার জন্য কুমারখালী ত্যাগ করেন।
রিয়া আক্তার বলেন, "প্রায় আট মাস আগে অ্যাপসের মাধ্যমে আমাদের পরিচয় হয় এবং বন্ধুত্ব থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। বুধবার বিকেলে তিনি আমাদের বাসায় এসেছিলেন এবং আমি ও আমার দাদি তাকে ঢাকা এয়ারপোর্টে আনতে গিয়েছিলাম। আমি বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষার্থী, আমার বয়স কম হওয়ায় পরিবারসহ অনেকেই বিয়েতে অসম্মতি জানিয়েছেন; এজন্য আমরা বিয়ের পরিকল্পনা করছি না। হাইশান আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে ঢাকা উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন আমাদের বাসা থেকে।"
রিয়া আরও বলেন, "আমি অপেক্ষা করবো যতদিন না আমার বিয়ের বয়স হয়। আর তখন যদি সে না আসে তাহলে আমি আমার জন্য নতুন করে চিন্তা করবো।"
এ বিষয়ে, মেয়ে জানায় যে, তার মা এই ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি নন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেয়ের মা বলেন, "ওই লোকের সঙ্গে আমার মেয়ের পরিচয় হওয়ার পর সে আমাকে বিষয়টি জানিয়েছে। গতকাল সে বাংলাদেশে এসেছে। মেয়ের বয়স কম হওয়ায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বিয়ে দেব না।"
চীনা নাগরিক এম এ হাইশান বলেন, "মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে আমাদের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। আমি এসেছিলাম বিয়ে করতে এবং দেশে ফিরে যাব। কিন্তু, কিছু সমস্যা কারণে বিয়ে হচ্ছে না। তবে আমি দেড় বছর অপেক্ষা করবো আমার প্রিয়তমার জন্য।"
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত, "আমাদের এই গ্রামে এর আগে এমন ঘটনা ঘটেনি। চীন থেকে ওই লোক এসে আমাদের গ্রামের মেয়েকে বিয়ে করতে এসেছে অথচ তার সম্পর্কে আমরা ভালোভাবে কিছু জানি না। তাছাড়া তার ভাষাও আমরা বুঝি না। আশপাশের লোকজন তাকে দেখার জন্য আসছেন।"
এদিকে চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এনামুল হক মনজু জানান, "প্রেমের সম্পর্কের জেরে চীনা লোক এসে আমাদের গ্রামে এসেছে। আমরা রাতে প্রশাসনসহ পাহারা দিয়েছি। আশা করি, মেয়ের পরিবার বিষয়টি বুঝতে পেরেছে এবং তারা মেয়েকে বিয়ে দিতে আগ্রহী নন। মেয়েটি কেবল এসএসসি পরীক্ষার্থী, তার বয়সও কম। এজন্য দুপুরে প্রশাসনের সহায়তায় চীনা ব্যক্তিকে তার দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।"
কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার বলেন, "ঘটনাটি আমার জানা আছে। ওই চীনা ব্যক্তি বর্তমানে তার দেশে ফেরত গেছেন। আমরা সব সময় বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছিলাম। আসলে পরিবারের সদস্যরা বুঝতে পেরেছিলেন যে, তাদের মেয়ের বয়স কম। এই কারণে পরিবার থেকে বিয়ের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ