০৩:২০ পি.এম
ভারতে পাকিস্তানি শিল্পীদের কাজের ওপর নিষেধাজ্ঞার পর প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেছে। এই দীর্ঘ সময়ে ভারতীয় সংগীতাঙ্গনে আর কাজ করেননি পাকিস্তানের জনপ্রিয় গায়ক আতিফ আসলাম।
যদিও পেশাগত দূরত্ব তৈরি হলেও ভারতীয় শ্রোতাদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক একটুও ফিকে হয়নি, সেই কথা জানিয়েছেন গায়ক নিজেই। বরং নানা উপায়ে এখনও ভারতীয় ভক্তরা তাঁর গান শুনে চলেছেন।
ক্রিস ফেডের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ভারতে কাজ করতে না পারা, অনুরাগীদের ভালোবাসা এবং নিষেধাজ্ঞার প্রভাব নিয়ে কথা বলেছেন আতিফ। তাঁর মতে, ভারতে কাজের সুযোগ হারানোর ফলে ক্যারিয়ারের গতিপথ বদলে গেলেও এই পরিস্থিতি তাকে সংগীত নিয়ে নতুনভাবে ভাবার সুযোগ দিয়েছে।
আরও পড়ুন: মঙ্গলবার থেকে ৫ দিনের ছুটি, জরুরি পরিষেবা থাকবে সচল
ভারতে তাঁর দীর্ঘ অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে আতিফ বলেন, ‘ভারতে আমাকে নিষিদ্ধ করার প্রায় ১০ বছর হয়ে গেল। এটি ভারত সরকারের সিদ্ধান্ত। পাকিস্তানি শিল্পীদের নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এখন পাকিস্তানেও ভারতীয় শিল্পীদের নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’
২০১৬ সালের ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে পাকিস্তানি শিল্পীদের ভারতে কাজের ওপর বিধিনিষেধ আরো জোরালো হয়ে ওঠে। ওই বছর গুরগাঁওতে আতিফের একটি কনসার্টও বাতিল করা হয়েছিল। পরে ইন্ডিয়ান মোশন পিকচার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন পাকিস্তানি শিল্পী, অভিনেতা ও প্রযুক্তিবিদদের নিয়োগ না করার সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১৯ সালে পুলওয়ামা হামলার পর ভারতীয় চলচ্চিত্রাঙ্গনে পাকিস্তানি শিল্পীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোরভাবে কার্যকর হয়।
দীর্ঘদিন ভারতে কোনো গান প্রকাশ না করলেও তার সংগীত যে এখনও ভারতীয় শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে, তা জানিয়েছেন আতিফ। তিনি বলেন, ‘গত ১০ বছর ধরে আমি সেখানে কোনও গান করিনি। আমার ভক্তরা ভিপিএন ব্যবহার করে গান শুনছেন। কেউ কেউ সিডি বানিয়ে অন্যদের দিচ্ছেন। আমি পাইরেসিকে সমর্থন করি না, কিন্তু সঙ্গীত যেখানে পৌঁছানোর, সেখানে ঠিকই পৌঁছে যাবে।’
নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিনের কথাও স্মরণ করেন এই গায়ক। তাঁর প্রথম দিকের গান রেডিও, সিডি, ক্যাসেট এবং মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার সঙ্গে বর্তমান সময়ের পরিস্থিতিরও যেন মিল খুঁজে পান তিনি।
আরও পড়ুন: ঢাকায় ১ নভেম্বর থেকে ৬ রুটে চালু হচ্ছে ‘এক রুট এক কম্পানি’ বাস পরিষেবা
ভারতীয় অনুরাগীদের জন্য বিশেষ বার্তাও দিয়েছেন আতিফ। তিনি বলেন, ‘মন খারাপ করবেন না। আমি সবসময় বলতে চেয়েছি, আমি তোমাদের মিস করি। ভারতীয় কাজকে মিস করি না, কিন্তু তোমাদের মিস করি।’
এরপর ভারতীয় শ্রোতাদের উদ্দেশে তিনি আরো বলেন, ‘তোমরা যদি আমার গান ভালোবাসো, তাহলে জানো কোথায় আমাকে খুঁজে পাবে। আমার গান অবশ্যই তোমাদের কাছে পৌঁছাবে।’
তবে ভারতে কাজের সুযোগ হারানোকে কেবল নেতিবাচক অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন না আতিফ। বরং তাঁর মতে, এই পরিস্থিতি তাকে সংগীত তৈরিতে আরও মনোযোগী করেছে।
গায়কের ভাষ্য, প্লেব্যাক সিঙ্গিং থেকে তিনি অনেক কিছু শিখেছেন। তবে ভারতে কাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা না এলে হয়তো নিজের মতো করে সংগীত তৈরির দিকে এতটা মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হতো না। এমনকি যাঁরা তাঁকে ভারতে কাজ করতে বাধা দিয়েছেন, তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। কারণ এই পরিস্থিতিই তাঁকে একজন শিল্পী হিসেবে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের সুযোগ দিয়েছে।
আরও পড়ুন: নাইক্ষ্যংছড়িতে পুলিশের ওপর হামলা, দেশি অস্ত্রসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার
ভারতীয় শ্রোতাদের সঙ্গে আতিফের সম্পর্ক কিন্তু তাঁর বলিউড ক্যারিয়ারেরও আগে থেকেই রয়েছে। পাকিস্তানি ব্যান্ড ‘জাল’-এর সদস্য থাকাকালীন ‘আদাত’ গানটি তাঁকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। ২০০৪ সালে তাঁর প্রথম একক অ্যালবাম ‘জল পরী’-তে গানটির একটি সংস্করণও প্রকাশিত হয়।
২০০৫ সালে ‘জেহের’ সিনেমার ‘ওহ লামহে’ গান দিয়ে বলিউডে প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন আতিফ। এরপর ‘তেরে হোনে লাগা হুঁ’, ‘পেহলি নাজার মে’, ‘তু জানে না’, ‘জিনা জিনা’ এবং ‘দিল দিয়া গাল্লাঁ’-এর মতো একাধিক জনপ্রিয় গান উপহার দেন তিনি।
বলিউডের পাশাপাশি পাকিস্তানের সংগীতাঙ্গনেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন আতিফ। ‘দুরি’ এবং ‘মেরি কাহানি’র মতো অ্যালবামের পাশাপাশি অভিনয়ও করেছেন। ২০১১ সালে পাকিস্তানি সিনেমা ‘বোল’-এর মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক হয় তাঁর। ২০০৮ সালে পাকিস্তানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক সম্মান ‘তমঘা-ই-ইমতিয়াজ’ও পান তিনি।
আরও পড়ুন: প্রধান বিচারপতিকে এসআরএফের চিঠি, আপিল বিভাগে সংবাদ সংগ্রহের দ্বার উন্মুক্ত করতে আহ্বান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন