০৯:৫৭ পি.এম
রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বৃহত্তম শহর সেন্ট পিটার্সবার্গে দেশের অন্যতম প্রধান তেল টার্মিনালে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা ঘটেছে। এটি একটি বড় ধরনের হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শনিবার (৪ জুলাই) ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পিটার্সবার্গে এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই তেল টার্মিনালটিকে রাশিয়ার যুদ্ধ তহবিলের জোগান দেওয়ার জন্য একটি প্রধান রাজস্ব অবকাঠামো হিসেবে অভিহিত করা হয়। এছাড়াও, তেল টার্মিনালের পাশাপাশি ওই অঞ্চলের একটি প্রধান রুশ নৌঘাঁটিতেও হামলা চালানোর দাবি করেছে ইউক্রেন।
সেন্ট পিটার্সবার্গের গভর্নর আলেকসান্দ্র বেগলোভ জানান, শহরটি ব্যাপক ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। তিনি তেল টার্মিনালে হামলার তথ্যও স্বীকার করেছেন। তবে, তিনি উল্লেখ করেন যে এই হামলায় কেউ হতাহত হয়নি।
আরও পড়ুন: টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি: অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে গ্রেফতার ৪
সম্প্রতি, ইউক্রেন দেশটিতে রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর লক্ষ্য স্থির করে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। এসব হামলার ফলে দেশে ব্যাপক জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে। কিয়েভের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর হামলার ফলে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোর সক্ষমতার প্রায় ৪৩ শতাংশ অচল হয়ে পড়েছে।
তবে, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইউক্রেনের এই দাবির সত্যতা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ইউক্রেন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাশিয়ার তেল ও গ্যাস স্থাপনাসমূহ তাদের বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু। কারণ মস্কো যুদ্ধ তৎপরতা চালিয়ে যাওয়ার জন্য খনিজ জ্বালানি রপ্তানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
গত সপ্তাহে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনীয় হামলায় জ্বালানি ঘাটতি দেখা দেওয়ার বিষয়ে একটি বিরল স্বীকারোক্তি দেন। এরপর, শনিবার সকালে তিনি অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি বিলে স্বাক্ষর করে সেটিকে আইনে পরিণত করেছেন।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হয়। শনিবার সকালের দিকে জেলেনস্কি বলেন, সেন্ট পিটার্সবার্গ এবং এর আশপাশের অঞ্চলের লক্ষ্যবস্তু পর্যন্ত অত্র শহরের ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
আরও পড়ুন: দেশের স্বার্থে কোনো ছাড় নয়: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী টুকু
হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। তবে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ড্রোন লক্ষ্যবস্তুর দিকে উড়ে যাচ্ছে এবং আঘাত হানার সময় কালের জ্বালায় সেখানে বিশাল কুণ্ডলির মতো কালো ধোঁয়া ভাসছে।
ইউক্রেনিয় সামরিক বাহিনী উক্ত টার্মিনালটিকে রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ স্থাপনা হিসেবে দাবি করেছে। ঐ রুশ টার্মিনালের বার্ষিক ১ কোটি ২৫ লাখ টন পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি।
আরও পড়ুন: ট্রাম্প: ইউক্রেনকে বিপুল সহায়তা দিয়েও কিছু পায়নি যুক্তরাষ্ট্র
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন