০৯:৫৯ পি.এম
সৌদি আরব সরকার বিদেশি নাগরিকদের সম্পত্তির মালিকানার ক্ষেত্রে নতুন আইন জারি করেছে। নতুন আইনটিতে ডিসক্লোজার নীতি কঠোর করার পাশাপাশি ডিজিটাল প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই আইনের আওতায় বিধি লঙ্ঘনের কারণে সর্বোচ্চ ১ কোটি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা আরোপের বিধান রাখা হয়েছে।
গালফ নিউজের একটি প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, সম্প্রতি প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নতুন আবাসন মালিকানা আইনে বিদেশি নাগরিক, কোম্পানি, এবং অলাভজনক সংস্থাগুলো কিভাবে দেশটির সম্পত্তি বা রিয়েল এস্টেটের বিনিয়োগ করতে পারবে, তার সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে।
সৌদির রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটি জানিয়েছে, ‘সৌদি ভিশন ২০৩০’-এর অধীনে বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং রিয়েল এস্টেটের বাজারে শৃঙ্খলা আনার জন্য এই নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ার দাবানলে বিষাক্ত ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া
নতুন এই কাঠামোর মূল কেন্দ্রবিন্দুতে একটি সমন্বিত ইলেকট্রনিক পোর্টাল রয়েছে। এটি রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটি দ্বারা পরিচালিত এবং জাতীয় রিয়েল এস্টেট রেজিস্ট্রির সাথে সরাসরি সংযুক্ত। বিদেশি নাগরিক, কোম্পানি, এবং বিদেশি অংশীদারিত্ব থাকা সৌদি কোম্পানির সম্পত্তি মালিকানার আবেদন জমা, রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ এবং সমস্ত লেনদেন সম্পন্ন করার মূল মাধ্যম হবে এই প্ল্যাটফর্মটি।
বিধিমালার আওতায়, অনাবাসী বিদেশি নাগরিকদের সম্পত্তি কেনা অথবা কোনও আবাসনের অধিকার পাওয়ার আগে অবশ্যই সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদিত একটি ডিজিটাল আইডি নিতে হবে। সেইসঙ্গে তাদের নিজেদের নামে একটি সৌদি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে এবং সেই ডিজিটাল আইডির সঙ্গে যুক্ত একটি সৌদি মোবাইল নম্বর নিবন্ধন করতে হবে।
বিদেশি কোম্পানিগুলোর জন্য কিছু আলাদা বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। তাদের অবশ্যই বিনিয়োগ মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধিত হতে হবে এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সব সুবিধাভোগী মালিকদের তথ্য প্রকাশ করতে হবে। এছাড়াও, অনুমোদিত সৌদি পরিচয়পত্রধারী একজন আইনি প্রতিনিধি নিয়োগ করতে হবে এবং দেশটিতে কোম্পানির নামে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে।
যদি এই শর্তগুলো পূরণ হয়, তবে সৌদি বিনিয়োগ মন্ত্রণালয় একটি নিবন্ধন নম্বর ইস্যু করবে। যদি কোম্পানির ৫ শতাংশ বা তার বেশি মালিকানা একক বা একাধিক লেনদেনের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়, তবে কোম্পানিকে ১৫ দিনের মধ্যে এটি মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে।
আরও পড়ুন: সংবিধান অনুযায়ী সব নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা রয়েছে
বিদেশি অলাভজনক সংস্থাগুলোও এই নতুন কাঠামোর আওতায় এসেছে। তাদেরকে ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর নন-প্রফিট সেক্টর ডেভেলপমেন্ট’-এ নিবন্ধিত হতে হবে। পাশাপাশি তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যক্তিদের তথ্য প্রকাশ করতে হবে। অনুমোদিত সৌদি পরিচয়ধারী প্রতিনিধি এবং সৌদি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চালু রাখতে হবে। কোন বড় কাঠামোগত পরিবর্তন বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন এলে ১৫ দিনের মধ্যে তা প্রতিবেদনের মাধ্যমে জমা দিতে হবে।
বিদেশি পরিবারের সম্পত্তি মালিকানার জন্যও নতুন নিয়ম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সৌদি আরবে কোনও সম্পত্তি কেনার সময় বিদেশি স্ত্রী এবং সন্তানদের নির্ভরশীল হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তবে বিবাহবিচ্ছেদের ফলে কিংবা ছেলে বা মেয়ের বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হলে এই নিয়মের ব্যতিক্রম হতে পারে।
নতুন আইনটিতে দুই পবিত্র নগরের ধর্মীয় সংবেদনশীলতাও রক্ষা করা হয়েছে। মক্কা ও মদিনায় সম্পত্তির মালিকানা মুসলিম নাগরিকদের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে।
বিদেশিদের দ্বারা অর্জিত রিয়েল এস্টেটে লেনদেনের ওপর ২ শতাংশ ফি ধার্য করা হয়েছে রিয়াদ, জেদ্দা, মক্কা ও মদিনায়। তবে, কিছু বিশেষ লেনদেন এই ফির আওতামুক্ত থাকবে।
আরও পড়ুন: স্পেনে প্রবল বৃষ্টিতে বন্যায় ৪ জনের মৃত্যু
রিয়েল এস্টেট রেজিস্ট্রির মাধ্যমে দলিল স্থানান্তরের আগে সম্পত্তি কেনা বা বিক্রির সাথে জড়িত সমস্ত আর্থিক লেনদেন সৌদি সেন্ট্রাল ব্যাংকের বিধিমালা অনুযায়ী অনুমোদিত ইলেকট্রনিক পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে।
নতুন বিধিমালার অধীনে রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটি দ্বারা নিযুক্ত পরিদর্শকরা নিয়ম লঙ্ঘন তদন্ত ও নথিবদ্ধ করার ক্ষমতা পাবেন। তবে, শাস্তির আগে লঙ্ঘনের ধরনের ওপর ভিত্তি করে ১০ থেকে ১৮০ দিনের মধ্যে ভুল সংশোধনের সময় দেওয়া হবে।
নতুন আইন অনুযায়ী, যেসব বিদেশি ক্রেতা সম্পত্তির মালিকানা অধিকার পাওয়ার জন্য মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য জমা দেবেন, তাদেরকে সম্পত্তির মূল্যের সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। এই জরিমানার পরিমাণ ১ কোটি রিয়াল পর্যন্ত হতে পারে।
আরও পড়ুন: মহেশপুরে শ্বশুরের বিরুদ্ধে জামাই আব্দুর রহমান হত্যার অভিযোগ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন