০৫:১৪ পি.এম
যুদ্ধের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে একটি সম্ভাব্য সমঝোতার গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, একটি সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
এই বিষয়ে একটি কূটনৈতিক সূত্র সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রস্তাবিত অন্তর্বর্তী চুক্তির আওতায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আরও আলোচনার পথ তৈরি করা হবে।
সূত্রটি জানায়, উভয় পক্ষ সমঝোতা স্মারকের খসড়ার ভাষার বিষয়ে একমত হয়েছে। তবে এটি এখনও চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
আরও পড়ুন: পুলিশের ১১ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে
কূটনৈতিক সূত্রের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্ভাব্য চুক্তির প্রধান বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হবে—চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। হরমুজ প্রণালি তাৎক্ষণিকভাবে পুনরায় খুলে দেয়া হবে এবং এ পথে চলাচলের জন্য জাহাজ থেকে ইরান কোনো ফি আদায় করতে পারবে না। চুক্তি স্বাক্ষরের ৩০ দিনের মধ্যে এই জলপথের চলাচল যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ে ফিরে যাবে।
ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ তুলে নেয়া হবে এবং চুক্তির অগ্রগতি ও সদিচ্ছাপূর্ণ সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে। তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমার উল্লেখ করা হয়নি।
সম্ভাব্য এ চুক্তির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সব শর্ত পূরণের কথা রয়েছে, বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন না করার অঙ্গীকার এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতসংক্রান্ত বিষয়। চুক্তিটির নাম হবে ‘ইসলামাবাদ চুক্তি’।
তবে ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি—বিদেশে আটকে থাকা কয়েক বিলিয়ন ডলারের তহবিল মুক্ত করার বিষয়টি চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি ওই কূটনীতিক।
আরও পড়ুন: দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ হিমশিম খাচ্ছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার
তিনি বলেন, আলোচনার শেষ পর্যায়ে হরমুজ প্রণালির অবস্থা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ছিল প্রধান আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের অবসান হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ইউরোপে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হতে পারে। সেখানে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অংশ নিতে পারেন।
সিএনএনকে আরেক কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের স্থান হতে পারে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা। আগামী সপ্তাহে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিতব্য জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প ও মার্কিন প্রতিনিধিদল অংশ নিলেও চুক্তি স্বাক্ষরের অনুষ্ঠান সেখানে হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, যুদ্ধের বৈধ সমাধানের লক্ষ্যে সম্ভাব্য একটি সমঝোতার গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
আরও পড়ুন: ‘গণঅভ্যুত্থানের পরতে পরতে হাসনাত ও সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে’
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যায় এক সাক্ষাৎকারে বাঘাই সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে গণমাধ্যমের জল্পনা-কল্পনা প্রত্যাখ্যান করেন এবং ইরানের দৃঢ় ও নীতিগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানিয়েছেন, ‘পাঠ্যগত দিক থেকে নথির প্রধান অংশগুলো প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেছে। সমস্যা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের পরস্পরবিরোধী অবস্থান সব সময় এই প্রক্রিয়ায় অস্থিরতা ও বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে।’
ইসমাইল বাঘাই আরও বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সদিচ্ছা ও পূর্ণ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছে। কিন্তু মার্কিন কর্মকর্তারা বারবার নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করেছেন, নতুন ও অবাস্তব দাবি তুলেছেন এবং আলোচনার মধ্যেই সামরিক হামলা চালিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন