ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মাত্র দুই বছরে পাঁচ দফা বদলি পুলিশ কর্মকর্তা রাকিবুলের


মাত্র দুই বছরে পাঁচ দফা বদলি পুলিশ কর্মকর্তা রাকিবুলের

পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলামকে ফরিদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরিকল্পনার মাত্র ৩ দিনের মাথায় খুলনা রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বদলির কারণ হিসেবে শুধুমাত্র ‘প্রশাসনিক কারণ’ উল্লেখ করা হলেও ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের ভেতরে-বাইরে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে, ডিবি হেফাজতে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চলমান থাকায় এই বদলিকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উত্থিত হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের প্রশাসন শাখা থেকে ২৯ জুন জারি করা প্রজ্ঞাপনে ফরিদপুর জেলা পুলিশে কর্মরত বিভাগীয় পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলামকে প্রশাসনিক কারণে খুলনা রেঞ্জে বদলির আদেশ দেয়া হয়। একই প্রজ্ঞাপনে আগামী ৮ জুলাইয়ের মধ্যে তাকে বদলীকৃত কর্মস্থলে যোগদানের জন্য ছাড়পত্র গ্রহণ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অন্যথায় ৯ জুলাই থেকে তাকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) হিসেবে গণ্য করা হবে।

জানা গেছে, রাকিবুল ইসলাম ১৫ জুন ট্যুরিস্ট পুলিশ রাঙামাটি থেকে ফরিদপুর জেলা পুলিশে যোগদান করেন। এরপর ২৫ জুন ডিবির তৎকালীন ওসি আলমগীর হোসেনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। পরবর্তী দিন ২৬ জুন তাকে ডিবির ওসি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া যায়। তবে, দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৩ দিনের মাথায় তাকে বদলির আদেশ দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: নওগাঁয়ে ঘরে মাটির নিচে ২৪৫ কেজির কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ উদ্ধার, আটক ১

এই আকস্মিক বদলির পেছনে আদৌ প্রশাসনিক কারণ রয়েছে, নাকি চলমান তদন্তের প্রভাব রয়েছে, এই বিষয়ে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা চলছে। প্রসঙ্গত, ২৩ জুন ফরিদপুরের মধুখালী থানার একটি ঘটনায় ইসতিয়াক আহমদ প্রান্ত নামের এক ছাত্রলীগ কর্মীকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়। পরবর্তী দিন ২৪ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর পর ২৫ জুন, তৎকালীন ডিবি ওসি আলমগীর হোসেনকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়, পরে রাকিবুল ইসলামকে ডিবির ওসি করা হয়।

বর্তমানে তদন্তটি পরিচালনা করছে পুলিশ সদর দপ্তরের একটি বিশেষ তদন্ত দল। পুলিশের একাধিক সূত্রের দাবি, যখন তদন্তকারী দল ফরিদপুরে আসে, তখন রাকিবুল ইসলাম সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং এই বিষয়টি সম্ভবত যথাযথভাবে বিবেচনায় আসেনি। ফলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মূল্যায়নে কোন ভুল-বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে কোনো প্রশাসনের ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

বদলির বিষয়ে রাকিবুল ইসলাম বলেছেন, ফরিদপুরে যোগদানের পর থেকে বদলির আগ পর্যন্ত তিনি মাত্র কয়েকটি কর্মদিবস দায়িত্ব পালন করেছেন। এই সময়ে তিনি কোনো অভিযান পরিচালনা করেননি এবং কোনো অবৈধ বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথেও জড়িত ছিল না। তাই প্রশাসনিক কারণে তার বদলি হওয়া নিয়ে বিষয়টি তিনি নিজেই বুঝতে পারছেন না। তিনি আরও জানান, গত দুই বছরে তাকে ৫ বার বদলি করা হয়েছে। ঢাকা রেঞ্জ থেকে বরিশাল রেঞ্জ, পরে আবার ঢাকা রেঞ্জ, এরপর ট্যুরিস্ট পুলিশ, পুনরায় ঢাকা রেঞ্জ এবং সর্বশেষ খুলনা রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে। বারবার বদলির ফলে তিনি ও তার পরিবার চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন।

এ বিষয়ে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ফাতেমা ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি পুলিশ সদর দপ্তরের। বদলির কারণ সম্পর্কে তারা ভালো বলতে পারবেন।’

আরও পড়ুন: দিনাজপুর বোর্ডের ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার দুর্নীতির তদন্তের নির্দেশ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘গুরু’কে না মানলে শিক্ষা দেবে ইরান: ইসরায়েলকে আরাগচির হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৪৯ পি.এম


‘গুরু’কে না মানলে শিক্ষা দেবে ইরান: ইসরায়েলকে আরাগচির হুঁশিয়ারি

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তেহরান তীব্র প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে লক্ষ্য করে মন্তব্য করেছেন বলে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দেশের জনগণ এবং নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনও ধরণের হুমকির সঠিক জবাব তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালীভাবে দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার আরাগচি এক বিবৃতিতে বলেন, “আমাদের জনগণ এবং দেশের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনও ধরনের হুমকি তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়বে।”

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ পূর্বে মন্তব্য করেছিলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে ‘হত্যার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে’। তিনি এও অভিযোগ করেছেন যে ইরান বিভিন্ন ধরনের ছাড় আদায়ের চেষ্টা করছে আলোচনা মাধ্যমে এবং দেশটিকে কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না।

কাটজের বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেছেন, ইরানিরা ‘দক্ষ ব্যবসায়ীর মতো’ আলোচনা করে সুবিধা অর্জনের চেষ্টা করছে। তবুও, তিনি বলছেন, ইসরায়েল কখনওই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেবে না।

আরাগচি কাটজের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, “ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের শর্তগুলো সমস্ত পক্ষের জন্য স্পষ্ট এবং উন্মুক্ত। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তেল আবিবে তাদের মিত্রদের নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যদি তারা তাদের অভিভাবক তথা গুরুর কথা না শোনে, তাহলে ইরান তাদের শিক্ষা দেবে।”

আরাগচির এই মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের অবস্থা তুলে ধরেন এবং বলেন, ইসরায়েলকে সংযত রাখার দায়িত্ব ওয়াশিংটনের।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে নিয়ে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এমন মন্তব্য দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সামরিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে বাকযুদ্ধ ও কূটনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের এমন কঠোর ভাষার বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

উল্লেখ্য, ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে, ইসরায়েল তেহরানকে অভিযোগ করে আসছে যে তারা গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করার চেষ্টা করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশে পারকিনসন রোগ অবহেলিত বললেন বিএমইউর উপাচার্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫০ পি.এম


দেশে পারকিনসন রোগ অবহেলিত বললেন বিএমইউর উপাচার্য

পারকিনসন রোগ দেশে এখনও ব্যাপকভাবে অবহেলিত, এই মন্তব্যটি করেছেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক এ এফ এম সিদ্দিকী।

তিনি বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে অনুষ্ঠিত ‘পারকিনসন রোগের ব্যবস্থাপনায় চ্যালেঞ্জ ও সাম্প্রতিক অগ্রগতি’ শীর্ষক সেমিনারে উক্ত মন্তব্য করেন।

বিএমইউর উপাচার্য জানান, ‘পারকিনসন রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেশের প্রতিটি হাসপাতালে নিশ্চিত করা প্রয়োজন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে অধিক দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’

সেমিনারে বক্তৃতা প্রদানকারী চিকিৎসকরা বলেন, দেশে পারকিনসন রোগে আক্রান্ত বেশিরভাগ রোগী এখনও সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়ে আছেন।

বক্তারা পাশাপাশি এই রোগের বিষয় নিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং আধুনিক চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে মুভমেন্ট ডিসঅর্ডার সোসাইটি বাংলাদেশের কার্যনির্বাহী কমিটিও ঘোষণা করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণ কমানোর জন্য বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫০ পি.এম


বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণ কমানোর জন্য বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে

বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলাদেশে ব্যাংক খাতে যে বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ রয়েছে, সেটি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বড় ধরনের ছাড় ঘোষণা করেছে। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, গ্রাহকদের মধ্যে যারা ঋণ খেলাপি রয়েছেন, মূল অর্থ একসাথে পরিশোধ করে তারা দায়মুক্তি পেতে পারেন।

অর্থাৎ, ঋণের বিপরীতে আগে যেমন তাদেরকে নির্দিষ্ট হারে সুদ গুনতে হতো, সেটি আর পরিশোধ করতে হবে না।

তবে এই সুবিধা পেতে হলে গ্রহীতাদেরকে তাদের খেলাপি ঋণের অর্থ আগামী ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে ইতোমধ্যেই দেশটির সব তফসিলি ব্যাংকে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কর্মকর্তারা মনে করছেন, বিশেষ এই সুবিধা দেওয়ার ফলে সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংক তাদের খেলাপি ঋণের একটি বড় অংশ আদায় করতে সক্ষম হবে।

পরে সেই অর্থ পুনরায় ঋণ আকারে নতুন গ্রাহকদের দেওয়া হবে, যার ফলে দেশের অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করছেন তারা।

যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমন সিদ্ধান্তের ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন কিছু ব্যবসায়ী।

ঢাকার ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা যারা ঠিক টাইমে ঋণের টাকা পরিশোধ করছি, তাদের কাছে ঠিকই সুদের পুরো টাকাটা নেওয়া হচ্ছে। অথচ যারা পরিশোধ করছে না, জরিমানার বদলে তাদের উল্টো সুদ মাফ করা হচ্ছে। এটা হতাশাজনক।’

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, খেলাপি ঋণ আদায়ের যে কৌশল সরকার নিয়েছে, সেটির সফলতা নির্ভর করছে সিদ্ধান্তটির যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিস) গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর বলেন, ‘প্রথমত, এটার অপব্যবহার করে বা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কেউ যেন অন্যায়ভাবে তার সুদ মওকুফ করতে না পারে, বাংলাদেশ ব্যাংককে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। সেইসঙ্গে, এই বার্তাও দিতে হবে যে, এই সুযোগ পরে আর দেওয়া হবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ না করলে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।’

নির্দেশনায় কী আছে

সুদ মওকুফের সুবিধা ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে নির্দেশনাটি সোমবারে জারি করা হয়েছে।

১৯৯১ সালের ব্যাংক কোম্পানি আইনের ক্ষমতাবলে জারি করা ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে উৎপাদনশীল খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।

কিন্তু বর্তমানে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাংকগুলোর সম্পদের গুণগত মান, তারল্য ব্যবস্থাপনা ও নতুন ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।

ফলে, খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনা দরকার বলে মনে করছে সরকার। ঋণের অনাদায়ী অর্থ যেন ব্যাংকে ফেরত আনা যায়, সেই চেষ্টার অংশ হিসেবেই বিশেষ এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এতে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ কমবে এবং নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা বাড়বে বলে নির্দেশনাপত্রে উল্লেখ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সার্বিকভাবে এই সিদ্ধান্ত দেশের উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করে প্রতিষ্ঠানটি।

নির্দেশনাটি সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে জানানো হয়েছে।

কারা পাবে

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে ব্যাংকের 'মন্দ ও ক্ষতিজনক' শ্রেণিতে যেসব ঋণ খেলাপির নাম রয়েছে, তারা সুবিধার আওতায় আসবে।

সাধারণত ৯০ দিন বা তার বেশি সময় ধরে ঋণ পরিশোধ করা না হলে ব্যাংক সেটিকে খেলাপি ঋণ হিসেবে চিহ্নিত করে।

এর মধ্যে কোনো ঋণের কিস্তি বা মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার সময় এক বছর বা তার বেশি অতিক্রান্ত হলে সেটা 'মন্দ বা ক্ষতিজনক' শ্রেণিভুক্ত করা হয়। এসব ঋণ আদায়ের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ থাকে।

৩০ জুনের আগে যারা এই তালিকায় জায়গা পেয়েছেন, তারা কেবল সুদ মওকুফের সুবিধা নিতে পারবেন।

এক্ষেত্রে যে ব্যাংকে তার ঋণ রয়েছে, সেটার পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। তারা ব্যাংকের সঙ্গে ঋণ গ্রহীতার সম্পর্কের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিবেন যে, তার সুদ মওকুফ করা হবে কি-না।

যেসব ঋণগ্রহীতা বিভিন্ন কারণে আর্থিক সংকটে পড়লেও ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতা রাখেন কি-না এবং ঋণ পরিশোধের আন্তরিকতা রয়েছে কি-না, সেটা যাচাই করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘এসব যাচাই-বাছাইয়ের পর যদি দেখা যায়, গ্রহীতা ঋণ পরিশোধের ব্যাপারে আন্তরিক, কিন্তু সত্যিকার অর্থেই আর্থিক সমস্যায় পড়ায় পুরো অর্থ পরিশোধ করতে পারছেন না এবং লেনদেনের ক্ষেত্রে তার অতীত রেকর্ড ভাল, তখন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন সাপেক্ষে তিনি সুদ মওকুফের সুবিধা পাবেন।’

তবে সুবিধা পাওয়ার প্রধান শর্ত হলো ঋণগ্রহীতাকে তার অতীতের সকল ঋণ বা আর্থিক দায় একসঙ্গে পরিশোধ করতে হবে।

আর সেটি নিশ্চিত করতে পারলে ঋণগ্রহীতার ওপর থেকে সব ধরনের আরোপিত ও অনারোপিত সুদ মওকুফ করা যাবে।

ফলে তাকে ব্যাংকের কস্ট অব ফান্ড বা তহবিল ব্যয়ও দিতে হবে না।

তহবিল ব্যয় হচ্ছে একটি ব্যাংকের সেই ব্যয়, যা ঋণ দেওয়ার জন্য সংগৃহীত অর্থের বিপরীতে খরচ হয়।

২০২২ সালে প্রকাশিত একটি নির্দেশনায় সুদ মওকুফ করতে গেলে ব্যাংকের তহবিল ব্যয় আদায় নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছিল।

সেইসঙ্গে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর আয়ের খাত বিকলন করে সুদ মওকুফ না করার শর্তও রাখা হয়েছিল।

২৯ জুন জারি করা নতুন নির্দেশনায় শর্ত দু'টি শিথিল করা হয়েছে। ফলে সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংকই এখন তাদের ঋণ খেলাপিদের সুদ মওকুফের সুবিধা দিতে পারবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, ‘এক্ষেত্রে কৃষক থেকে শুরু করে শিল্পপতি পর্যন্ত সবার জন্যই সমান সুযোগ থাকবে। ঋণ ৫০ হাজার নাকি ৫০ কোটি টাকার, সেটার ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বরং কৃষি, ক্ষুদ্র ও কুঠিরশিল্পের স্বল্পমেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারভিত্তিতে এই সুবিধা দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

সফলতা কি আসবে

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসেবে, দেশটিতে বর্তমানে নন-পারফর্মিং লোন বা খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে প্রায় পাঁচ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে।

বিপুল পরিমাণ এই অর্থের প্রায় পুরোটাই নানান অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের দেড় দশকের শাসনামলে।

মূলত তৎকালীন সরকারঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ও গোষ্ঠীরাই ব্যাংকখাতের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিল বলে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রকাশ করা অর্থনৈতিক শ্বেতপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এস আলমসহ সুবিধাভোগী ওইসব গোষ্ঠী ও ব্যক্তিরা দেশ চলে গেছে। ফলে তাদের ঋণের অর্থ ফেরত পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।’

এ অবস্থায় নগদ অর্থ সংকটে অনেক ব্যাংক নতুন করে ঋণ তো দিতেই পারছে না, এমনকি সাধারণ গ্রাহকের আমানত ফেরত দিতে গিয়েও কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেগ পেতে হচ্ছে।

ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ফলে ব্যাংকগুলো বাঁচাতে বাংলাদেশ ব্যাংক সুদ মওকুফের যে বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করেছে, সেটা একটা ভালো উদ্যোগ। এর ফলে খেলাপি ঋণের অর্ধেকও যদি ব্যাংকে ফেরত আনা যায়, সেটাও একটা বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে।’

তবে ব্যাংকগুলোর সবাই নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন না করলে বা এর অপব্যবহার হলে সরকারি উদ্যোগ ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।

তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরদারি বাড়াতে হবে। এছাড়া সুদ মওকুফের এমন সুযোগ পরবর্তীতে আর না দেওয়ার বিষয়েও জোর দিচ্ছেন কেউ কেউ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যানজট কমাতে বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের উদ্যোগ, স্থান পরিদর্শন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫১ পি.এম


যানজট কমাতে বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের উদ্যোগ, স্থান পরিদর্শন

ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসন, সড়ক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং গণপরিবহন ব্যবস্থাকে অধিকতর শৃঙ্খলাবদ্ধ করার লক্ষ্যে

বাস টার্মিনাল/ডিপো স্থানান্তরের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহ পরিদর্শন করা হয়েছে।

আজ বুধবার বিকাল ৩টায় স্থানগুলো পরিদর্শন করা হয়।

পরিদর্শনকৃত স্থানসমূহ হলো: পূর্বাচল ০৩ নম্বর ও ১৯ নম্বর সেক্টর, দিয়াবাড়ি, গাবতলী বাস টার্মিনাল, চুনকুটিয়া (জেলখানা বিপরীতে বাঘাইর), তেঘরিয়া আন্ডারপাস, হাসনাবাদ (ইকুরিয়া), কাঁচপুর ও ফুলবাড়িয়া এলাকা।

এ কার্যক্রমের নেতৃত্বে ছিলেন সংসদ সদস্য (পাবনা-৫) অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।,

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ কমিশনার, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, বিপিএম-সেবা, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আনিসুর রহমান,

সড়ক ও জনপথ বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এ. কে. এম. আজাদ রহমান, বিআরটিএ-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম,

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান,

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম,

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি এম. এ. বাতেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন খান,

বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হানিফ এবং বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক তালুকদার সোহেলসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পরিবহন খাতের নেতৃবৃন্দ।

পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট স্থানসমূহের বিদ্যমান অবকাঠামো, যানবাহন চলাচলের সক্ষমতা, সংযোগ সড়ক, ভূমির প্রাপ্যতা এবং ভবিষ্যৎ বাস টার্মিনাল/ডিপো স্থাপনের বিষয়ে সার্বিক পর্যালোচনা করা হয়।

পাশাপাশি ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং গণপরিবহন ব্যবস্থাকে অধিক কার্যকর ও সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%