প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তেহরান তীব্র প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে লক্ষ্য করে মন্তব্য করেছেন বলে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দেশের জনগণ এবং নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনও ধরণের হুমকির সঠিক জবাব তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালীভাবে দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার আরাগচি এক বিবৃতিতে বলেন, “আমাদের জনগণ এবং দেশের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনও ধরনের হুমকি তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়বে।”
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ পূর্বে মন্তব্য করেছিলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে ‘হত্যার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে’। তিনি এও অভিযোগ করেছেন যে ইরান বিভিন্ন ধরনের ছাড় আদায়ের চেষ্টা করছে আলোচনা মাধ্যমে এবং দেশটিকে কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না।
কাটজের বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেছেন, ইরানিরা ‘দক্ষ ব্যবসায়ীর মতো’ আলোচনা করে সুবিধা অর্জনের চেষ্টা করছে। তবুও, তিনি বলছেন, ইসরায়েল কখনওই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেবে না।
আরাগচি কাটজের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, “ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের শর্তগুলো সমস্ত পক্ষের জন্য স্পষ্ট এবং উন্মুক্ত। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তেল আবিবে তাদের মিত্রদের নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যদি তারা তাদের অভিভাবক তথা গুরুর কথা না শোনে, তাহলে ইরান তাদের শিক্ষা দেবে।”
আরাগচির এই মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের অবস্থা তুলে ধরেন এবং বলেন, ইসরায়েলকে সংযত রাখার দায়িত্ব ওয়াশিংটনের।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে নিয়ে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এমন মন্তব্য দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সামরিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে বাকযুদ্ধ ও কূটনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের এমন কঠোর ভাষার বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
উল্লেখ্য, ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে, ইসরায়েল তেহরানকে অভিযোগ করে আসছে যে তারা গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করার চেষ্টা করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন