প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলামকে ফরিদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরিকল্পনার মাত্র ৩ দিনের মাথায় খুলনা রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বদলির কারণ হিসেবে শুধুমাত্র ‘প্রশাসনিক কারণ’ উল্লেখ করা হলেও ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের ভেতরে-বাইরে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে, ডিবি হেফাজতে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চলমান থাকায় এই বদলিকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উত্থিত হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের প্রশাসন শাখা থেকে ২৯ জুন জারি করা প্রজ্ঞাপনে ফরিদপুর জেলা পুলিশে কর্মরত বিভাগীয় পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলামকে প্রশাসনিক কারণে খুলনা রেঞ্জে বদলির আদেশ দেয়া হয়। একই প্রজ্ঞাপনে আগামী ৮ জুলাইয়ের মধ্যে তাকে বদলীকৃত কর্মস্থলে যোগদানের জন্য ছাড়পত্র গ্রহণ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অন্যথায় ৯ জুলাই থেকে তাকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) হিসেবে গণ্য করা হবে।
জানা গেছে, রাকিবুল ইসলাম ১৫ জুন ট্যুরিস্ট পুলিশ রাঙামাটি থেকে ফরিদপুর জেলা পুলিশে যোগদান করেন। এরপর ২৫ জুন ডিবির তৎকালীন ওসি আলমগীর হোসেনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। পরবর্তী দিন ২৬ জুন তাকে ডিবির ওসি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া যায়। তবে, দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৩ দিনের মাথায় তাকে বদলির আদেশ দেয়া হয়েছে।
এই আকস্মিক বদলির পেছনে আদৌ প্রশাসনিক কারণ রয়েছে, নাকি চলমান তদন্তের প্রভাব রয়েছে, এই বিষয়ে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা চলছে। প্রসঙ্গত, ২৩ জুন ফরিদপুরের মধুখালী থানার একটি ঘটনায় ইসতিয়াক আহমদ প্রান্ত নামের এক ছাত্রলীগ কর্মীকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়। পরবর্তী দিন ২৪ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর পর ২৫ জুন, তৎকালীন ডিবি ওসি আলমগীর হোসেনকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়, পরে রাকিবুল ইসলামকে ডিবির ওসি করা হয়।
বর্তমানে তদন্তটি পরিচালনা করছে পুলিশ সদর দপ্তরের একটি বিশেষ তদন্ত দল। পুলিশের একাধিক সূত্রের দাবি, যখন তদন্তকারী দল ফরিদপুরে আসে, তখন রাকিবুল ইসলাম সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং এই বিষয়টি সম্ভবত যথাযথভাবে বিবেচনায় আসেনি। ফলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মূল্যায়নে কোন ভুল-বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে কোনো প্রশাসনের ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
বদলির বিষয়ে রাকিবুল ইসলাম বলেছেন, ফরিদপুরে যোগদানের পর থেকে বদলির আগ পর্যন্ত তিনি মাত্র কয়েকটি কর্মদিবস দায়িত্ব পালন করেছেন। এই সময়ে তিনি কোনো অভিযান পরিচালনা করেননি এবং কোনো অবৈধ বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথেও জড়িত ছিল না। তাই প্রশাসনিক কারণে তার বদলি হওয়া নিয়ে বিষয়টি তিনি নিজেই বুঝতে পারছেন না। তিনি আরও জানান, গত দুই বছরে তাকে ৫ বার বদলি করা হয়েছে। ঢাকা রেঞ্জ থেকে বরিশাল রেঞ্জ, পরে আবার ঢাকা রেঞ্জ, এরপর ট্যুরিস্ট পুলিশ, পুনরায় ঢাকা রেঞ্জ এবং সর্বশেষ খুলনা রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে। বারবার বদলির ফলে তিনি ও তার পরিবার চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন।
এ বিষয়ে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ফাতেমা ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি পুলিশ সদর দপ্তরের। বদলির কারণ সম্পর্কে তারা ভালো বলতে পারবেন।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন