বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৩:৩৪ পি.এম
কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়া খুটাখালীতে যাত্রীবাহী জিটুগাড়ী (লেগুনা) এবং লাল সবুজ চেয়ার কোচের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় বাসের চাপায় ৪ জন নিহত এবং ৫ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬ টায় কক্সবাজারের চকরিয়া থানাধীন খুটাখালি নয়াপাড়া বায়তুল মামুর জামে মসজিদের সামনে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।
মালুমঘাট হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ সামশুজ্জামান দুর্ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন, চকরিয়ার খুটাখালী সেগুনবাগিচা গ্রামের মৃত মতিউর রহমানের ছেলে মো. জসিম উদ্দিন (২৫), ফুলছড়ি শিয়াপাড়ার মৃত মনজুর আলমের ছেলে মো. শাহেদ (২৭), ইদগাঁও উপজেলার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মোহাম্মদ রফিক (২৮) এবং আমিনুল হকের ছেলে মো. জিয়াবুল হক (২৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে নোয়াখালী সদর থেকে ছেড়ে আসা লাল সবুজ পরিবহনের একটি বাস কক্সবাজারের দিকে যাচ্ছিলো। অপরদিকে, ইদগাঁও থেকে যাত্রী নিয়ে একটি লেগুনা চকরিয়ার দিকে রওনা দেয়। পথে খুটাখালী নয়াপাড়ায় পৌঁছানোর পর বাসটি লেগুনাটিকে সজোরে চাপা দেয়। এ ঘটনার ফলে লেগুনাটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ভেতরে থাকা যাত্রীরা গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতাল ও মালুমঘাট খ্রিস্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসারত অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে শাহেদ, রফিক ও জিয়াবুলের মৃত্যু ঘটে।
অন্যদিকে, মালুমঘাট খ্রিস্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জসিম উদ্দিন।
মালুমঘাট হাইওয়ে থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওসমান গনি জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও লেগুনা জব্দ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পঞ্চগড়ে এক গৃহবধূর শয়নকক্ষে প্রবেশ করে বর্বরোচিত হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এ হামলার অভিযোগ উঠেছে ওই নারীর দাঁত ভেঙে ফেলা, মাথার চুল কেটে নেয়া এবং যৌনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের বিষয়ে।
এই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত ঘটনা ঘটেছে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায়। সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। পরে, এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী কূলে দায়ের করা মামলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে একই এলাকার রাকিব ইসলাম (২৬), সোহেল রানা (২০), সাহেল খাতুন (৪০), সমসের আলী (২৮), আবুল হক (৫০) এবং সুজন ইসলাম (১৯)। এ ছাড়া আরও ৬ থেকে ৭ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা ভুক্তভোগী কনিকা রায় গত ১২ জুন হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেন। এরপর তিনি কুলসুম বেগম নাম ধারণ করেন। ধর্মান্তরিত হওয়ার পর দারগালী নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করে একই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ধর্ম পরিবর্তন এবং বিয়ে মেনে নিতে না পেরে আসামিরা সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে লাঠি ও লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে। তারা প্রথমে কুলসুমের কাছ থেকে তার ধর্মান্তরিত হওয়া ও বিয়ের হলফনামা (অ্যাফিডেভিট) কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলে এবং তার ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেয়।
পরে রাকিব ইসলাম লোহার রড দিয়ে কুলসুমের মুখে আঘাত করে তার একটি দাঁত ভেঙে দেয়। নির্যাতন চলাকালে সোহেল রানা ব্লেড দিয়ে ওই নারীর মাথার অর্ধেক চুল কেটে দেয়। এরপর কুলসুমের হাত-পা চেপে ধরে রাকিব ইসলাম যৌনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয়। যন্ত্রণায় ওই নারী চিৎকার করতে থাকলে তার স্বামী বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়।
হামলাকারীরা ঘরে থাকা দেড় লাখ টাকা মূল্যের মালামাল ভাঙচুর করে। তারা নগদ ৮৫ হাজার টাকা এবং ৬৬ হাজার টাকা মূল্যের ১১ মণ বাদাম লুট করে নিয়ে যায়। তার সাথে তিনটি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক কুলসুমের স্বাক্ষর নেয়া হয়।
পরে ভুক্তভোগী এবং তার স্বামীর চিৎকার শুনে স্থানীয় প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় কুলসুম বেগমকে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনায় বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে দেবীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী নারীর স্বামী দারগালী সময় সংবাদকে জানান, 'হঠাৎ করেই তারা আমাদের ঘরে প্রবেশ করে হামলা ও মারধরসহ এ ঘটনাটি ঘটায়। আমরা এ ঘটনায় আসামিদের কঠোর বিচার দাবি করছি।'
দেবীগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার প্রভাস চন্দ্র রায় মামলার বিষয়টি সময় সংবাদকে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, 'বুধবার রাতে মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ২, ৩ ও ৪ নম্বর আসামিকে বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পলাতক অপর আসামিদের গ্রেফতারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছোট ভাই, দেশবরেণ্য ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ায় গতকাল বুধবার একটি দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল বুধবার বাদ আছর, মরহুমের পরিবার কর্তৃক আয়োজিত বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদে বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
এ দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা বিএনপি’র সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা এমপি, বিএনপি’র চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য অ্যাড. একে এম মাহবুবুর রহমান, সাবেক এমপি মো. হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ভিপি সাইফুল ইসলাম, আলী আজগর তালুকদার হেনা, জয়নাল আবেদীন চান, বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল, ড্যাবের কেন্দ্রীয় নেতা শাহ মো. শাজাহান আলী, জেলা বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক অ্যাড. সাইফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এম আর ইসলাম স্বাধীন, মহানগর বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী হিরু, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, জেলা বিএনপি’র সম্পাদক শহিদ উন নবী সালাম, কে এম খায়রুল বাশার, বিএনপি মিডিয়া সেলের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের কো-অর্ডিনেটর কালাম আজাদ, মরহুমের পরিবারের প্রতিনিধিত্বকারী সৈয়দ আমিনুল হক দেওয়ান সজল, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শেখ তাহাউদ্দিন নাহিন, ওয়াহিদ মুরাদ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান সরকার, সাধারণ সম্পাদক এম আর হাসান পলাশ, সাইদুজ্জামান শাকিল, সৈয়দ আব্দুল গফুর দারা, আল আমিন সরকার, উজ্জল হোসেন প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘রূপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’- এই শ্লোগানকে সামনে রেখে আগামী ১৬ থেকে ৩০ আগস্ট সারা দেশে পালিত হতে যাচ্ছে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬। দুই সপ্তাহব্যাপী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
একই অনুষ্ঠানেই মৎস্য উৎপাদন, গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন, সম্প্রসারণ, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য ১৩টি ক্যাটাগরির আওতায় ১৪ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় মৎস্য পদক (স্বর্ণপদক) প্রদান করা হবে।
আজ রাজধানীতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
মন্ত্রী জানান, আগামী ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের জর্জ ইনস্টিটিউট মিনি স্টেডিয়াম মাঠে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর কেন্দ্রীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাতীয় মৎস্য পক্ষের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করবেন এবং নির্বাচিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে জাতীয় মৎস্য পদক তুলে দেবেন।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় মৎস্য পদক দেশের মৎস্যখাতে অসামান্য অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এ বছর গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন, মৎস্য উৎপাদন, সম্প্রসারণ, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নসহ মোট ১৩টি ক্যাটাগরিতে ১৪ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এ পদকে ভূষিত হবেন। এর ফলে মৎস্যখাতে উদ্ভাবন, বিনিয়োগ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে সংশ্লিষ্টদের আরও উৎসাহিত করার প্রত্যাশা প্রকাশ করেন তিনি।
মন্ত্রী আরো জানালেন, জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের সব জেলা ও উপজেলায় নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, সেমিনার, মৎস্য মেলা, সফল মৎস্যচাষিদের সম্মাননা, পোনা মাছ অবমুক্তকরণ, প্রযুক্তি প্রদর্শনী, গণসচেতনতামূলক প্রচার এবং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণবিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রম। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে নিরাপদ মাছ উৎপাদন, টেকসই মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ এবং মাছের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি, কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে মৎস্যখাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে ও রেখে চলেছে। সরকার এই খাতকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও রপ্তানিমুখী করতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মন্ত্রণালয়ের সচিব দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের জ্বালানি সংকট ক্রমাগত বেড়ে চলায় তা মোকাবিলার জন্য তাৎক্ষণিক, মধ্যমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হুঁশিয়ারি প্রদান করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। তারা বলছে, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি প্রক্রিয়ায় দক্ষতা বৃদ্ধি, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ত্বরান্বিত করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো ছাড়া টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীতে ‘বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা: তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার ও টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের পথরেখা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ সুপারিশগুলো করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তব্য উপস্থাপন করেন সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী ফকরুদ্দিন আল কবির। অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে সিপিডি আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য ওঠানামার ঝুঁকি কমাতে এলএনজি সংগ্রহ প্রক্রিয়ার উন্নয়ন করতে, জ্বালানি সম্পদের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে মূল্য পদ্ধতি চালু ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সংস্কার, ঝুঁকিপূর্ণ জনগণের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং জ্বালানি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ-সংক্রান্ত বিদ্যমান নীতিমালা পুনর্মূল্যায়নের সুপারিশ করেছে।
মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সিপিডি এলএনজি টার্মিনাল ও সংরক্ষণ সুবিধা সম্প্রসারণ, লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগের মাধ্যমে সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণে সময়সীমা-ভিত্তিক নীতির গ্রহণ এবং কার্যকর নীতিগত কাঠামোর মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণের পরামর্শ দিয়েছ।
দীর্ঘমেয়াদে সিপিডি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদার, ভবিষ্যতের সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় কৌশলগত জ্বালানি মজুত গড়ে তোলার এবং দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানকে জাতীয় জরুরি কর্মসূচি হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে।
আলোচনা সভায় উপস্থাপিত প্রবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশে জ্বালানি সংকট এটি কেবল তাৎক্ষণিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি কাঠামোগত সংকটও। দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ, সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং আমদানি-নির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর বিকল্প নেই।
প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মোট গ্যাস ব্যবহারের ২৮ দশমিক ৮২ শতাংশের জোগান এসেছে আমদানি করা এলএনজি থেকে। অন্যদিকে, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমে যাচ্ছে।
বর্তমানে দেশে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের কাঠামোগত ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। সিপিডি বলছে, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ৮৪ শতাংশের বেশি এখনো প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা এবং ফার্নেস অয়েলে নির্ভর করছে। বিপরীতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জলবিদ্যুতের অবদান এখনো খুবই কম।
উপস্থাপিত প্রবন্ধে সতর্ক করে বলা হচ্ছে, বর্তমান হারে গ্যাস ব্যবহার অব্যাহত থাকলে ২০৩১ সালের মধ্যে দেশের অবশিষ্ট গ্যাসের মজুত প্রায় শেষ হয়ে যাবে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয় এবং নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
বর্তমান গ্যাস সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে বলা হয়েছে অনুসন্ধানে ব্যর্থতা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, চাহিদা ও সরবরাহের ক্রমবর্ধমান ভারসাম্যহীনতা এবং আমদানি করা এলএনজির ওপর বাড়তে থাকা নির্ভরতা।
সিপিডির মতে, গ্যাসের ঘাটতির প্রভাব ইতোমধ্যে শিল্প উৎপাদন, গৃহস্থালি পর্যায়ে জ্বালানি ব্যয় এবং পরিবহন খাতে পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক ও সার কারখানাসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে বা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখছে।
আলোচনা সভায় অংশ নেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী নেতা, শিক্ষাবিদ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ