প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের জ্বালানি সংকট ক্রমাগত বেড়ে চলায় তা মোকাবিলার জন্য তাৎক্ষণিক, মধ্যমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হুঁশিয়ারি প্রদান করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। তারা বলছে, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি প্রক্রিয়ায় দক্ষতা বৃদ্ধি, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ত্বরান্বিত করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো ছাড়া টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীতে ‘বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা: তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার ও টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের পথরেখা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ সুপারিশগুলো করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তব্য উপস্থাপন করেন সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী ফকরুদ্দিন আল কবির। অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে সিপিডি আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য ওঠানামার ঝুঁকি কমাতে এলএনজি সংগ্রহ প্রক্রিয়ার উন্নয়ন করতে, জ্বালানি সম্পদের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে মূল্য পদ্ধতি চালু ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সংস্কার, ঝুঁকিপূর্ণ জনগণের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং জ্বালানি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ-সংক্রান্ত বিদ্যমান নীতিমালা পুনর্মূল্যায়নের সুপারিশ করেছে।
মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সিপিডি এলএনজি টার্মিনাল ও সংরক্ষণ সুবিধা সম্প্রসারণ, লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগের মাধ্যমে সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণে সময়সীমা-ভিত্তিক নীতির গ্রহণ এবং কার্যকর নীতিগত কাঠামোর মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণের পরামর্শ দিয়েছ।
দীর্ঘমেয়াদে সিপিডি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদার, ভবিষ্যতের সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় কৌশলগত জ্বালানি মজুত গড়ে তোলার এবং দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানকে জাতীয় জরুরি কর্মসূচি হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে।
আলোচনা সভায় উপস্থাপিত প্রবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশে জ্বালানি সংকট এটি কেবল তাৎক্ষণিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি কাঠামোগত সংকটও। দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ, সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং আমদানি-নির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর বিকল্প নেই।
প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মোট গ্যাস ব্যবহারের ২৮ দশমিক ৮২ শতাংশের জোগান এসেছে আমদানি করা এলএনজি থেকে। অন্যদিকে, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমে যাচ্ছে।
বর্তমানে দেশে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের কাঠামোগত ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। সিপিডি বলছে, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ৮৪ শতাংশের বেশি এখনো প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা এবং ফার্নেস অয়েলে নির্ভর করছে। বিপরীতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জলবিদ্যুতের অবদান এখনো খুবই কম।
উপস্থাপিত প্রবন্ধে সতর্ক করে বলা হচ্ছে, বর্তমান হারে গ্যাস ব্যবহার অব্যাহত থাকলে ২০৩১ সালের মধ্যে দেশের অবশিষ্ট গ্যাসের মজুত প্রায় শেষ হয়ে যাবে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয় এবং নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
বর্তমান গ্যাস সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে বলা হয়েছে অনুসন্ধানে ব্যর্থতা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, চাহিদা ও সরবরাহের ক্রমবর্ধমান ভারসাম্যহীনতা এবং আমদানি করা এলএনজির ওপর বাড়তে থাকা নির্ভরতা।
সিপিডির মতে, গ্যাসের ঘাটতির প্রভাব ইতোমধ্যে শিল্প উৎপাদন, গৃহস্থালি পর্যায়ে জ্বালানি ব্যয় এবং পরিবহন খাতে পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক ও সার কারখানাসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে বা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখছে।
আলোচনা সভায় অংশ নেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী নেতা, শিক্ষাবিদ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন