০৩:০৬ এম
প্রতিদিন মাত্র ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস আপনার শরীরে জাদুকরী পরিবর্তন আনতে সক্ষম। হাঁটা যেমন আপনার হার্ট ও ফুসফুসকে সুস্থ রাখে, ঠিক তেমনি এটি মানসিক চাপ কমাতে এবং গভীর ঘুমে সাহায্য করতে পারে।
নিয়মিত হাঁটার ফলে রক্ত চলাচল বাড়ে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং খারাপ কোলেস্টেরল কমে যায়। এর ফলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকাংশেই কমে যায়।
আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনসহ একাধিক সংস্থার গবেষণায় দেখা গিয়েছে, সুস্থ থাকতে সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট হাঁটার প্রয়োজন। বিশ্বজুড়ে ডায়াবেটিস এবং ওবেসিটি আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস থেকে শুরু করে নানা ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে এই ছোট্ট চেষ্টা অন্তত অনেক উপকারে আসবে।
আরও পড়ুন: মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক আদালত এগিয়ে যাচ্ছে: ডেপুটি প্রসিকিউটর
হাঁটাহাঁটি রক্তচাপ, রক্তে শর্করার মাত্রা এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ওষুধের মতো কাজ করে। বর্তমানে কম বয়সিরাও হার্টের সমস্যায় ভুগছে। কৈশোরে শরীরে ফ্যাটি লিভারের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। এসব রোগের পেছনে দায়ী হচ্ছে লাইফস্টাইল।
চিকিৎসকদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত ও অলস জীবনযাপন এ ধরনের ক্রনিক লাইফস্টাইল ডিজিজের জন্য প্রায়ই দায়ী। তবে এই সব সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে হাঁটা। কার্ডিওথোরাসিক সার্জন ডা. জেরেমি লন্ডন সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে হাঁটার উপকারিতা নিয়ে কিছু তথ্য শেয়ার করেছেন।
তিনি লিখেছেন, আপনি যত বেশি হাঁটবেন, তত বেশি সুফল পাবেন। তবে কম হাঁটলেও ক্ষতি নেই। একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন মাত্র ১০ মিনিট হাঁটলে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি ১৫ শতাংশ কমতে পারে। এছাড়াও পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম আহার এবং কায়িক পরিশ্রমও একইভাবে গুরুত্বপূর্ন।
হাঁটার ফলে গোটা দেহে রক্ত সঞ্চালন সচল থাকে এবং শরীরের প্রতিটি অঙ্গে অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছায়। এই অভ্যাস রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখতে সহায়ক, একইসাথে রক্তে শর্করার মাত্রার স্বাভাবিক রাখতেও এটি সাহায্য করে। এছাড়াও, হাঁটার অভ্যাস ওজন কমাতে সহায়তা করে, ফলে বিপাকীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায়। প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস হার্টের সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: ঢাকা সৌদির কাছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জবাব চেয়েছে
মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে হাঁটার অভ্যাস অপরিহার্য। হাঁটলে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় এবং শরীরে নিউরোট্রান্সমিটারগুলো ঠিকমতো নিঃসৃত হয়। এর ফলে মস্তিষ্ক সঠিকভাবে কাজ করতে পারে। এক কথায়, হাঁটা মস্তিষ্কের জন্য শরীরচর্চার ভূমিকা পালন করে। এটি স্মৃতিশক্তি ও কর্মক্ষমতা বাড়ায় এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে, ফলে বিষণ্নতা ও অবসাদ এড়ানো সম্ভব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন