১০:৩৮ পি.এম
দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বর বিভিন্ন জেলায় আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও পাহাড়ধস পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের তৎপরতা চলমান রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এখন জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং উদ্ধার-পরবর্তী কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চলছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের জেলা ও উপজেলা তথ্য অফিস এবং তথ্য অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয়ে থেকে পাওয়া সর্বশেষ প্রতিবেদনে সোমবার এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বর্ণনা করা হয়, চট্টগ্রাম মহানগরসহ জেলার ১৫টি উপজেলা এখনও বন্যাকবলিত অবস্থায় রয়েছে। জরুরি বার্তা প্রচার, অনিরাপদ বসতবাড়ি এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা, সাপে কাটা প্রতিরোধ, নারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের নিরাপদে রাখা, ত্রাণ গ্রহণে আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকা, এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট দুর্ঘটনা এড়াতে সতর্কতামূলক মাইকিং ও প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন: ফরিদপুর-দৌলতদিয়া ৪০ কিলোমিটারজুড়ে যেন মৃত্যুফাঁদ
হবিগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে কোনো পানিবন্দি পরিবার নেই, করোনো হতাহতের ঘটনারও খবর পাওয়া যায়নি। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ১ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সচেতনতা বৃদ্ধির প্রচার কার্যক্রমও সেখানে চলমান রয়েছে।
খাগড়াছড়িতে অধিকাংশ এলাকা থেকে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরও পরিস্থিতি কেবল কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। নতুন করে কোথাও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেনি এবং নদ-নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। জেলা জুড়ে ১৫০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা রয়েছে এবং বন্যা ও পাহাড়ধস বিষয়ে জনসচেতনতার প্রচার অব্যাহত রয়েছে।
কক্সবাজারে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। রামুর বাঁকখালী ও চকরিয়ার মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে কোনো পাহাড়ধস কিংবা ভূমিধসের ঘটনা ঘটেনি।
মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির কিছু উন্নতি হয়েছে, তবে ক্ষতির পরিমাণও দেখা দিয়েছে। আকস্মিক বন্যায় ৫৭ হেক্টর কৃষিজমির ফসল, প্রায় ৪০৫টি পুকুর এবং এলজিইডি নির্মিত ৫৪টি গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে বন্যা-পরবর্তী সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম চলছে।
আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জে শিশু মুহিন হত্যার দায়ে ২ জনের মৃত্যুদণ্ড
রাঙামাটিতে পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ভারী বর্ষণের সময় পাহাড়ধসের ঝুঁকি সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে জেলা তথ্য অফিসের প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
বান্দরবানেও দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে এবং আশ্রয়কেন্দ্র থেকে মানুষ ধীরে ধীরে নিজেদের বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন।
লামা তথ্য অফিস জানিয়েছে, এলাকার বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে, কিন্তু কোনো বন্যা, পাহাড়ধস অথবা ভূমিধসের ঘটনা ঘটেনি। মাতামুহুরী নদীর পানির স্তর স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে।
রামগড়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ফেনী নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং নতুন করে কোনো পাহাড়ধসের ঘটনাও ঘটেনি। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন: শরীয়তপুরে পূর্বনির্ধারিত স্থানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিএনপির বিক্ষোভ
কাপ্তাই তথ্য অফিসের তথ্যমতে, কাপ্তাই, রাজস্থলী ও বিলাইছড়ি উপজেলার আবহাওয়া স্বাভাবিক রয়েছে। তবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী এসব এলাকায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে এবং সোমবার সকাল থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন