১০:৩২ পি.এম
আগামীকাল রাত ১টায় আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় সেমিফাইনাল যেখানে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড একে অপরের বিরুদ্ধে মুখোমুখি হবে। এটি হবে সর্বশেষ ২০০২ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে দুই দলের দেখা হওয়ার পর। দীর্ঘ ২৪ বছর পর তারা আবারও বিশ্ব মঞ্চে একে অপরের মুখোমুখি আসছে।
এবারের বিশ্বকাপে এটি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যে ষষ্ঠবারের মত দেখা হবে। এর আগে পাঁচবার মুখোমুখি হয়ে ইংল্যান্ড তিনবার এবং আর্জেন্টিনা দুবার জয়লাভ করেছে।
তবে, নক আউট পর্বে আর্জেন্টিনা এগিয়ে রয়েছে। তারা তিনবার মুখোমুখি লড়াইয়ের মধ্যে দুবার জয়ী হয়েছে।
আরও পড়ুন: শ্রমিকদের জন্য ৭ কোটি ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করেছে শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেল
১৯৬২ সালে চিলিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে প্রথমবার দেখা হয় আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের। সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ৩-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে ইংল্যান্ড জয় লাভ করে।
এর চার বছর পর, ১৯৬৬ সালে নিজেদের মাঠে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে আবারও ইংল্যান্ড আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে জয়লাভ করে। তবে, সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে পরাজিত করে ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে পৌঁছায়। সেখানে তারা পর্তুগালকে ২-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠতে সক্ষম হয়।
ফাইনালে উঠেই ইংল্যান্ড ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে। তারা পশ্চিম জার্মানিকে ৪-২ গোলে পরাজিত করে শিরোপা ঘরে তুলে।
১৯৮৬ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে এটি তাদের তৃতীয় দেখা। কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে দিয়াগো ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচটি আধুনিক ফুটবল ইতিহাসের একটি স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে পরিচিত, কারণ ম্যাচের ৫১ মিনিটে ম্যারাডোনা হেড করতে গিয়ে হাত দিয়ে বল জালে পাঠান। সেই গোলটি আজও ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোল হিসেবে পরিচিত।
আরও পড়ুন: অস্ত্রপচারের ধকল নিয়েই দলীয় কর্মসূচিতে জামায়াত আমির
ম্যারাডোনা পরবর্তীতে বলেছিলেন ‘গোলটি হয়েছে একটু মাথা দিয়ে, আরেকটু ঈশ্বরের হাত দিয়ে।’ এরপর থেকেই ফুটবল ইতিহাসে ম্যারাডোনার সেই গোলটি ‘হ্যান্ড অব গড’ হিসেবে পরিচিতি পায়।
একই গোলের চার মিনিট পরে আবারও ইংল্যান্ডের জালে বল পাঠান ম্যারাডোনা। ফলে ৫৫ মিনিটের মধ্যে আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে এগিয়ে যায়। ৮১ মিনিটে ইংল্যান্ডের লিনেকার গোল করে ব্যবধান কমান। তবে, শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে ম্যাচ জিতে যায় ম্যারাডোনার দল।
সেমিফাইনালে তারা বেলজিয়ামকে ২-০ গলে পরাজিত করে এবং ফাইনালে পশ্চিম জার্মানিকে ৩-২ গলে হারিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে আর্জেন্টিনা।
বারো বছর পর, ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপে আবারও সাক্ষাৎ ঘটে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের। ফ্রান্সের মাটিতে অনুষ্ঠিত হয়ে শেষ ষোলোতে টাইব্রেকারে ইংল্যান্ডকে ৪-৩ গলে পরাজিত করে আলবিসেলেস্তেরা। নির্ধারিত সময়ের ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র ছিল।
আরও পড়ুন: ‘সংখ্যালঘু নয়, আমরা সবাই বাংলাদেশি’: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী
২০০২ সালে, পঞ্চবারের মতো বিশ্বকাপে মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচে ৪৪ মিনিটে ইংল্যান্ডের তারকা ফুটবলার ডেভিড বেকহ্যাম পেনাল্টি থেকে জয়সূচক গোলটি করেন।
ঐ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে আর্জেন্টিনা এবং কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছিল ইংল্যান্ড। শেষ আটে ব্রাজিলের কাছে তারা ২-১ গোলে পরাজিত হয়।
ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের মুখোমুখি পরিসংখ্যান :
১৯৬২ সাল : ইংল্যান্ড ৩-১ আর্জেন্টিনা (গ্রুপ পর্ব)
আরও পড়ুন: সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড দুঃখজনক, পর্যালোচনা চলবে : আইনমন্ত্রী
১৯৬৬ সাল : ইংল্যান্ড ১-০ আর্জেন্টিনা (কোয়ার্টার ফাইনাল)
১৯৮৬ সাল : আর্জেন্টিনা ২-১ ইংল্যান্ড (কোয়ার্টার ফাইনাল)
১৯৯৮ সাল : আর্জেন্টিনা ২-২ ইংল্যান্ড (শেষ ষোলো, টাইব্রেকারে ৪-৩ গলে জয়ী আর্জেন্টিনা)
২০০২ সাল : ইংল্যান্ড ১-০ আর্জেন্টিনা (গ্রুপ পর্ব)
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে উপচেপড়া ভিড়
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন