ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এগিয়ে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে


আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এগিয়ে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে

আগামীকাল রাত ১টায় আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় সেমিফাইনাল যেখানে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড একে অপরের বিরুদ্ধে মুখোমুখি হবে। এটি হবে সর্বশেষ ২০০২ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে দুই দলের দেখা হওয়ার পর। দীর্ঘ ২৪ বছর পর তারা আবারও বিশ্ব মঞ্চে একে অপরের মুখোমুখি আসছে।

এবারের বিশ্বকাপে এটি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যে ষষ্ঠবারের মত দেখা হবে। এর আগে পাঁচবার মুখোমুখি হয়ে ইংল্যান্ড তিনবার এবং আর্জেন্টিনা দুবার জয়লাভ করেছে।

তবে, নক আউট পর্বে আর্জেন্টিনা এগিয়ে রয়েছে। তারা তিনবার মুখোমুখি লড়াইয়ের মধ্যে দুবার জয়ী হয়েছে।

আরও পড়ুন: শ্রমিকদের জন্য ৭ কোটি ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করেছে শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেল

১৯৬২ সালে চিলিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে প্রথমবার দেখা হয় আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের। সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ৩-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে ইংল্যান্ড জয় লাভ করে।

এর চার বছর পর, ১৯৬৬ সালে নিজেদের মাঠে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে আবারও ইংল্যান্ড আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে জয়লাভ করে। তবে, সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে পরাজিত করে ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে পৌঁছায়। সেখানে তারা পর্তুগালকে ২-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠতে সক্ষম হয়।

ফাইনালে উঠেই ইংল্যান্ড ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে। তারা পশ্চিম জার্মানিকে ৪-২ গোলে পরাজিত করে শিরোপা ঘরে তুলে।

১৯৮৬ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে এটি তাদের তৃতীয় দেখা। কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে দিয়াগো ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচটি আধুনিক ফুটবল ইতিহাসের একটি স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে পরিচিত, কারণ ম্যাচের ৫১ মিনিটে ম্যারাডোনা হেড করতে গিয়ে হাত দিয়ে বল জালে পাঠান। সেই গোলটি আজও ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোল হিসেবে পরিচিত।

আরও পড়ুন: অস্ত্রপচারের ধকল নিয়েই দলীয় কর্মসূচিতে জামায়াত আমির

ম্যারাডোনা পরবর্তীতে বলেছিলেন ‘গোলটি হয়েছে একটু মাথা দিয়ে, আরেকটু ঈশ্বরের হাত দিয়ে।’ এরপর থেকেই ফুটবল ইতিহাসে ম্যারাডোনার সেই গোলটি ‘হ্যান্ড অব গড’ হিসেবে পরিচিতি পায়।

একই গোলের চার মিনিট পরে আবারও ইংল্যান্ডের জালে বল পাঠান ম্যারাডোনা। ফলে ৫৫ মিনিটের মধ্যে আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে এগিয়ে যায়। ৮১ মিনিটে ইংল্যান্ডের লিনেকার গোল করে ব্যবধান কমান। তবে, শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে ম্যাচ জিতে যায় ম্যারাডোনার দল।

সেমিফাইনালে তারা বেলজিয়ামকে ২-০ গলে পরাজিত করে এবং ফাইনালে পশ্চিম জার্মানিকে ৩-২ গলে হারিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে আর্জেন্টিনা।

বারো বছর পর, ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপে আবারও সাক্ষাৎ ঘটে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের। ফ্রান্সের মাটিতে অনুষ্ঠিত হয়ে শেষ ষোলোতে টাইব্রেকারে ইংল্যান্ডকে ৪-৩ গলে পরাজিত করে আলবিসেলেস্তেরা। নির্ধারিত সময়ের ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র ছিল।

আরও পড়ুন: ‘সংখ্যালঘু নয়, আমরা সবাই বাংলাদেশি’: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

২০০২ সালে, পঞ্চবারের মতো বিশ্বকাপে মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচে ৪৪ মিনিটে ইংল্যান্ডের তারকা ফুটবলার ডেভিড বেকহ্যাম পেনাল্টি থেকে জয়সূচক গোলটি করেন।

ঐ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে আর্জেন্টিনা এবং কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছিল ইংল্যান্ড। শেষ আটে ব্রাজিলের কাছে তারা ২-১ গোলে পরাজিত হয়।

ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের মুখোমুখি পরিসংখ্যান :

১৯৬২ সাল : ইংল্যান্ড ৩-১ আর্জেন্টিনা (গ্রুপ পর্ব)

আরও পড়ুন: সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড দুঃখজনক, পর্যালোচনা চলবে : আইনমন্ত্রী

১৯৬৬ সাল : ইংল্যান্ড ১-০ আর্জেন্টিনা (কোয়ার্টার ফাইনাল)

১৯৮৬ সাল : আর্জেন্টিনা ২-১ ইংল্যান্ড (কোয়ার্টার ফাইনাল)

১৯৯৮ সাল : আর্জেন্টিনা ২-২ ইংল্যান্ড (শেষ ষোলো, টাইব্রেকারে ৪-৩ গলে জয়ী আর্জেন্টিনা)

২০০২ সাল : ইংল্যান্ড ১-০ আর্জেন্টিনা (গ্রুপ পর্ব)

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে উপচেপড়া ভিড়

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গণভোটের বাস্তবায়নে বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আসার আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৩৩ পি.এম


গণভোটের বাস্তবায়নে বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আসার আহ্বান

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করতে বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আসার জন্য আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি প্রকাশ করেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের প্রস্তাব তো আমিই করেছিলাম। সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়ার জন্য করা হয়েছিল। ওই সনদ আমরা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে চাই। এজন্য সংবিধান সংশোধন করা প্রয়োজন।’

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও গণহত্যার বিচার’ শীর্ষক সাধারণ আলোচনায় অংশগ্রহণ করে তিনি এই বক্তব্য প্রদান করেন। অধিবেশনে কার্যপ্রণালি বিধির ৬৮ অনুযায়ী জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশটি উত্থাপন করেন রংপুর-৪ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।

আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘জুলাই প্রশ্নে আমরা সবাই এক। আমরা যে ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তুলেছিলাম, তা ধরে রাখতে হবে। আমাদের জুলাই অভ্যুত্থানকে ধারণ করতে হবে। কৃতিত্ব যেন কেউ দাবি না করে। নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠী যেন এ আন্দোলনকে বিতর্কিত করতে না পারে, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।’ তিনি সবার আগে বাংলাদেশকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

আওয়ামী লীগের দলগত বিচার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এ দাবিতে বিএনপি শুরু থেকেই সোচ্চার ছিল। পরবর্তীতে আইন সংশোধনের মাধ্যমে দলগত বিচারের আইনি ভিত্তিও তৈরি হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় সরকার শেখ হাসিনাকে ফেরানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। দেশে ফিরলে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা, প্রসিকিউটর, তদন্তকারী কর্মকর্তা ও লজিস্টিক সহায়তা বাড়ানো হবে, যাতে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা যায়।’

উল্লেখযোগ্যভাবে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারী পদক্ষেপ তুলে ধরেন, যেখানে সরকার শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য এককালীন ৩০ লাখ টাকা, ‘ক’ শ্রেণির আহতদের ৫ লাখ টাকা, ‘খ’ শ্রেণির আহতদের ৩ লাখ টাকা এবং ‘গ’ শ্রেণির আহতদের এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রসঙ্গে জানান। এছাড়া গুরুতর আহতদের প্রয়োজনে বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হবে। জুলাই ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং আগামী ৫ আগস্ট জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম ও সবচেয়ে বড় অর্জন হলো জুলাই ঘোষণাপত্র। সেই ঘোষণাপত্রের ধারাবাহিকতায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণীত হয়েছে। কিন্তু সংসদে গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে আলোচনায় এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের কথা যথাযথভাবে উঠে আসেনি।’ তিনিসংবিধানে শহীদ পরিবার, আহত জুলাইযোদ্ধাদের সুরক্ষা, সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, সরকার তা বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জুলাই ছিল দীর্ঘ সাড়ে ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের চূড়ান্ত ফল। তাই শুধু জুলাই নয়, সেই দীর্ঘ সময়ের সব শহীদ, আহত, গুম ও নির্যাতিত ব্যক্তিদেরও রাষ্ট্রীয়ভাবে মূল্যায়ন করতে হবে।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘ব্যাংককের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জুলাইযোদ্ধাদের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। অনেককে আগের সরকারের সময় চিকিৎসার জন্য পাঠানো হলেও এখনও বহু আহত ব্যক্তি চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন মহলে ঘুরছেন। আহত ও পঙ্গু জুলাইযোদ্ধাদের যথাযথ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে সংসদ সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা কমিয়ে হলেও তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত।’

তিনি বলেন, ‘দ্রুত জুলাই জাদুঘর জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া উচিত। ভবনের কিছু কাজ বাকি থাকলেও জাদুঘর চালু করা যেতে পারে। জুলাই ফাউন্ডেশনকে কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। যদি সত্যিই কর্মকর্তারা কয়েক মাস ধরে বেতন না পেয়ে থাকেন, তবে সরকারকে দ্রুত বিষয়টি সমাধান করতে হবে।’ তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার বিলম্বিত হলে জাতি তা মেনে নেবে না। তবে বিচার যেন অবশ্যই ন্যায়বিচার হয় এবং কারো প্রতি অন্যায় না হয়, সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে। দীর্ঘ আন্দোলনের সময় বহু মানুষ কারাবন্দি হয়েছে, নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাদের আত্মত্যাগও জাতিকে স্মরণ রাখতে হবে। তাদের মূল্যায়ন করতে হবে।’

সীমান্ত ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তায় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সীমান্তে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে সরকারকে স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকার ও বিরোধী দলসহ সব রাজনৈতিক শক্তির ঐক্য প্রয়োজন। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের প্রশ্নে জাতীয় ঐকমত্য থাকা জরুরি। তিনি বলেন, গণভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছে, তার যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া উচিত। জনগণের ভোটের প্রতিফলন বাস্তবায়িত না হলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা দুর্বল হবে। তিনি জুলাইয়ের স্পর্শকাতর সময়কে সামনে রেখে সব রাজনৈতিক দলকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান।

আইনমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এখন বাংলাদেশের স্বীকৃত সত্য। যত দিন বাংলাদেশ থাকবে, জুলাই তত দিন জাতীয় চেতনা, অহংকার ও রাজনৈতিক অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে কৃষক, শ্রমিক, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে যে জনসম্পৃক্ত নেতৃত্বের পরিচয় দিচ্ছেন, সেটিই জুলাই চেতনার বাস্তব প্রতিফলন।

তিনি আরো জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করেছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর ১৬টি তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে ১২টির তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েছে এবং চারটি মামলায় অভিযোগ গঠন হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনটি মামলার রায়ও হয়েছে, যার মধ্যে আবু সাঈদ হত্যা মামলাও রয়েছে।

আইনমন্ত্রী জানান, জুলাই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনালে ৫৯০টি অভিযোগ জমা পড়েছিল। সেখান থেকে যাচাই-বাছাই শেষে ১০৯টি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৩টি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়েছে, ছয়টি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে এবং চারটি মামলার রায় অপেক্ষমাণ রয়েছে। এসব মামলায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৩৫ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে। একজন রাজসাক্ষী খালাস পেয়েছেন এবং আরও ২৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সংগঠন হিসেবে তদন্ত এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডে দেশের বিভিন্ন জেলায় সংঘটিত ঘটনাগুলোর তদন্তও শুরু হয়েছে বা পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, যারা বিদেশে বসে আত্মসমর্পণের হুমকি দিচ্ছেন, বাংলাদেশের আইনে তাদের আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। তারা দেশের সীমানায় প্রবেশ করলেই গ্রেপ্তার হবেন। জুলাই চেতনায় বিশ্বাসী মানুষ কখনোই ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন হতে দেবে না। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনা উত্থাপন করে আখতার হোসেন বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে অস্বীকার করার নানা চেষ্টা থাকলেও জাতিসংঘের প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আওয়ামী লীগ মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। ফলে অপপ্রচার চালিয়ে সেই সত্য আড়াল করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যাপক জনসম্পৃক্ত আন্দোলন ছিল জুলাই গণ-অভ্যুত্থান। দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ, এমনকি প্রবাসীরাও এতে অংশ নিয়েছিলেন। এত বড় আত্মত্যাগের পরও বিচারকাজ কাঙ্খিত গতিতে এগোচ্ছে না। তার ভাষায়, শেখ হাসিনাসহ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তরা এখনো বিচারের বাইরে রয়েছেন। তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করতে হবে।

এই আলোচনায় আরো অংশ নেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমান এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও জুলাই শহীদ জাবিরের মা রোকেয়া বেগম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারি রাস্তা নিয়ে বিরোধ, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত ১; আটক ১০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৩৪ পি.এম


সরকারি রাস্তা নিয়ে বিরোধ, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত ১; আটক ১০

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ফুলখা এলাকায় সরকারি একটি রাস্তা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে চলমান বিরোধের কারণে সংঘর্ষের পরিণতিতে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার জেরে ১০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরের সময় উপজেলার উমর মজিদ ইউনিয়নের ডাংঘাট গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি জান্নাত (৪৫), যিনি ডাংঘাট গ্রামের আব্দুর সাত্তারের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দুপুরে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হলে সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষের সময় জান্নাত দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন এবং পরে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু ঘটে।

উমর মজিদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহসানুল কবির আদিল এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সরকারি রাস্তা নিয়ে সংঘর্ষের ফলে একজন নিহত হয়েছেন।

রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ সংঘর্ষের ফলস্বরূপ একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন ১০ জনকে আটক করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পরিবেশ রক্ষায় অনন্য উদ্যোগ: বংপুর কেন্দ্রীয় গোরস্থানে বৃক্ষরোপণ করল আল ইয়াশা যুব সংঘ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ তুহিন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৩৬ পি.এম


পরিবেশ রক্ষায় অনন্য উদ্যোগ: বংপুর কেন্দ্রীয় গোরস্থানে বৃক্ষরোপণ করল আল ইয়াশা যুব সংঘ

পরিবেশ রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার প্রত্যয়ে আজ মঙ্গলবার ১৪ জুলাই চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বংপুর আল ইয়াশা মানবসেবা সংগঠনের শাখা "বংপুর আল ইয়াশা যুব সংঘ"-এর উদ্যোগে বংপুর কেন্দ্রীয় গোরস্থানে এক ব্যতিক্রমী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে গোরস্থানের পরিবেশকে আরও সবুজ, মনোরম ও পরিবেশবান্ধব করে তুলতে বিভিন্ন প্রজাতির আমগাছের চারা রোপণ করা হয়। পাশাপাশি রোপণ করা গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন উপস্থিত সদস্যরা।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ জহিদুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক অবাইদুল ইসলাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, উপদেষ্টা তাজামুল হক, ক্যাশিয়ার লিটন আলীসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।

এ সময় সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ জহিদুল্লাহ বলেন, “পরিবেশ রক্ষায় প্রত্যেক মানুষের অন্তত একটি করে গাছ লাগানো উচিত। আজ আমরা বংপুর কেন্দ্রীয় গোরস্থানে আমগাছ রোপণ করেছি, যা ভবিষ্যতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং মানুষের উপকারে আসবে। বংপুর আল ইয়াশা মানবসেবা সংগঠন ও এর শাখা বংপুর আল ইয়াশা যুব সংঘ মানবসেবা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে, ইনশাআল্লাহ।”

কর্মসূচি শেষে উপস্থিত সবাই পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত বৃক্ষরোপণ এবং লাগানো গাছগুলোর যথাযথ পরিচর্যার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্যক্তিগত আক্রোশ ও অপপ্রচারের শিকার বিএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার আব্দুল হান্নান, সচেতন মহলে তীব্র নিন্দা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৩৭ পি.এম


ব্যক্তিগত আক্রোশ ও অপপ্রচারের শিকার বিএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার আব্দুল হান্নান, সচেতন মহলে তীব্র নিন্দা

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে সদ্য যোগদানকারী ও নরসিংদী জেলার সাবেক সফল পুলিশ সুপার (এসপি) আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে একটি কুচক্রী মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এসব ভিত্তিহীন ও মনগড়া প্রোপাগান্ডার বিরুদ্ধে স্থানীয় সচেতন মহল এবং নেটিজেনরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন, যে কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়া ছড়ানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ পুলিশের একজন সৎ, যোগ্য, নির্ভীক, মেধাবী ও চৌকস কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত আব্দুল হান্নান বিএমপিতে যোগদানের পর থেকে কতিপয় ষড়যন্ত্রকারী তার বিরুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। মূলত ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে কিংবা অতীতে কোনো অবৈধ সুবিধা না পেয়ে এই আইকনিক পুলিশ অফিসারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ সদস্যদের অযাচিত হয়রানি ও মানহানির উদ্দেশ্যে চালানো এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ দ্রুত গ্রহণ করা হবে।

নরসিংদীতে চাকুরি জীবনের শুরু থেকেই সততা ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে জনগণের সেবা দিয়ে আসছেন আব্দুল হান্নান। নরসিংদী জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন, তিনি জেলাজুড়ে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পুলিশি সেবা পৌঁছে দিতে নিরলস কাজ করেছেন। তার এই জনবান্ধব ভূমিকার কারণে নরসিংদীর সর্বস্তরের মানুষের কাছে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ভালোবাসার পাত্রে পরিণত হন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট চক্রের ছড়ানো এই মিথ্যা বিভ্রান্তিতে কান না দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। সচেতন মহল বলছেন, এ ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের ফলে প্রশাসনের কর্মকর্তারা যেমন বিভ্রান্ত হন, তেমনি সাধারণ মানুষও সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েন।

ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুচক্রী মহলের দেওয়া পোস্টের নিচে নেটিজেনরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই অপপ্রচারকারীদের কাছে প্রমাণের দাবি তুললে তারা কোনো সদুত্তর দিতে ব্যর্থ হন। ফলে সাধারণ পাঠক ও সচেতন সমাজ এই প্রোপাগান্ডাকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকার সচেতন মহলের প্রত্যাশা, অতীতে যেভাবে তিনি নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন, ঠিক তেমনিভাবে বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকাতেও তিনি তার দক্ষতা, সততা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে জনগণকে সর্বোচ্চ পুলিশি সেবা নিশ্চিত করবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%