০২:৫৩ পি.এম
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনভিত্তিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ঢাকার কারওয়ান বাজারে অনুষ্ঠিত ‘নিরাপদ অভিবাসন ও বিদেশফেরতদের পুনঃএকত্রীকরণ: বাস্তবতা ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বৈধতা, বিদেশে কর্মীর চাহিদাসহ অন্যান্য তথ্য ব্যবস্থাপনায় আরও স্বচ্ছতা আনা হবে। তিনি বলেন, অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়া ঠেকাতে সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, সমাজের প্রতিটি স্তরকে যুক্ত করতে হবে।
আরও পড়ুন: শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে চট্টগ্রামে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, অবৈধ পথে বিদেশ লোক পাঠানোর সঙ্গে জড়িত চক্রগুলি মানুষের জীবন নিয়ে চিন্তা না করে শুধু নিজ স্বার্থে কাজ করছে। এই চক্রের রুট চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ চলছে। সুনামগঞ্জ-হবিগঞ্জ থেকে শুরু করে মাদারীপুরসহ কয়েকটি জেলায় আগামী এক মাস ব্যাপক প্রচার চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানিয়েছেন, অনেকেই জমিজমাসহ সম্পদ বিক্রি করে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে বিদেশে গিয়ে বিপদে পড়লে তাদের পরিবার-পরিজন নিঃস্ব হয়ে পড়ে এবং মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। তাই গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মসজিদ, মন্দির ও গির্জাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ বিষয়ে প্রচার চালানো উচিত।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বিদেশি নিয়োগকর্তারা যে ধরনের কর্মীর চাহিদা দেন, অনেক ক্ষেত্রেই সেই দক্ষতার কর্মী পাঠানো হয় না। যেমন প্লাম্বার বা ইলেকট্রিশিয়ানের চাহিদা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কাজ না জানা ব্যক্তিকে পাঠানোর ঘটনা ঘটে। এতে কর্মী ও নিয়োগকর্তা উভয়ই সমস্যায় পড়েন।
তিনি আরও জানান, কোনো দেশ নির্দিষ্ট দক্ষতার কর্মী চাইলে সেই দেশের নিয়োগকর্তার প্রতিনিধি বা প্রশিক্ষক বাংলাদেশে এসে প্রশিক্ষণ যাচাই করবেন। তারা প্রশিক্ষণে সন্তুষ্ট হওয়ার পর কর্মী নিয়োগ করবেন। বাংলাদেশ থেকে ছয় হাজার চালক সংযুক্ত আরব আমিরাতে নেওয়ার ক্ষেত্রে এমন পদ্ধতি চালু হয়েছে, যা মধ্যস্বত্বভোগীদের সুযোগ কমাবে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়
আরিফুল হক চৌধুরী উল্লেখ করেছেন, প্রবাসীদের বিভিন্ন সরকারি সেবা পেতে দূরদূরান্ত থেকে দূতাবাস বা কনস্যুলেটে যেতে হয়, এতে সময় ও অর্থ দুইটিই ব্যয় হয়। এ কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, সরকারি সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কিছু সেবা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। পাসপোর্টসহ বিভিন্ন নথি ডাক বা কুরিয়ার সেবার মাধ্যমে প্রবাসীদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে।
তিনি ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর সরকারি পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন। সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ কার্ড চালুর বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে ভূমি, সাবরেজিস্ট্রি অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি সেবায় প্রবাসীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হতে পারে। ফলে স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও বিশেষ সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথাও জানিয়েছেন মন্ত্রী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন