১২:৪০ এম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা নিজ কক্ষে নৃশংসভাবে হত্যার শিকার হন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফজলু-সহ এক কর্মকর্তা ও দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহতের স্বামী। মামলার আসামী দুই শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বরখাস্ত হওয়ায় বিভাগে বর্তমান কোন শিক্ষক নাই। এতে বিভাগের নতুন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা পাচ্ছেন না বিভাগের নিজস্ব শিক্ষক। এই শিক্ষকসংকটের কারণে বিভাগের মূল (কোর) কোর্স পরিচালনায় ব্যাঘাত ঘটছে বলে জানা গেছে।
বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শিক্ষকশূন্যতার চলমান সংকট দূরীকরণে বিগত প্রশাসন বিশেষ বিবেচনায় খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগের কথা চিন্তা করে প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। নিহত শিক্ষিকা রুনা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সমাজকর্ম বিভাগের হওয়ায় বিভাগের অভাবনীয় ক্ষতি ও শিক্ষার্থীর কথা চিন্তা করে একাডেমিক কার্যক্রমে দায়িত্ব নিতে রাজি হয় রাবি'র সমাজকর্ম বিভাগের চার শিক্ষক। পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন প্রক্রিয়া আরম্ভ সহ তারা বিভাগ পরিদর্শন এবং শিক্ষার্থীদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
আরও পড়ুন: অষ্টম শ্রেণিতে পিথাগোরাসের গণিতবিদ্যা ও জ্যামিতিক সমস্যা
এদিকে, শিক্ষকসংকটের পরিস্থিতি উত্তরণের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি হলেও প্রার্থীতার শর্তসমূহ পূর্ণ না হওয়ায় নিয়োগ বোর্ড বাতিল হয়েছে। তবে, ফোকলোর এন্ড সোস্যাল স্টাডিজ বিভাগে একজন শিক্ষক সমাজকল্যাণ বিভাগের মূল কোর্সগুলো নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। অন্যান্য বিভাগের শিক্ষকবৃন্দের মাধ্যমে বিভাগের একাডেমি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমান সমাজকল্যাণ বিভাগে ছয়টি শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম চলমান আছে এবং ১৫ জুলাই থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষে কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। মামলার আসামি ছাড়াও অবশিষ্ট এক শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক মমতা মোস্তারী বর্তমান শিক্ষা ছুটিতে রয়েছেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এর পূর্বে এ বিভাগে দুইটি সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয় প্রশাসন তবে নিয়োগ বোর্ড শর্তপূরণ না হওয়ায় বোর্ডটি স্থগিত হয়। এতে বিভাগ আরও শিক্ষক সংকটে পড়ে। বর্তমানে এ বিভাগ শিক্ষকহীন অবস্থায় রয়েছে।
বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থীরা জানান, ভর্তি হওয়ার পর থেকেই বিভাগে শিক্ষক সংকট ছিল। সম্প্রতি সাদিয়া ম্যাম হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেন এবং বাকি শিক্ষকবৃন্দ মামলার আসামি। বিভাগ শিক্ষক শূন্য। আমাদের বিভাগ চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকের মাধ্যমে। আমাদের বিভাগে শিক্ষক প্রয়োজন।
বর্তমান সমাজ কল্যাণ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. রোকসানা বেগম মিলি বরাতে জানা যায়, সংকটময় মুহূর্ত থেকে উত্তরণের জন্য খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল বিগত প্রশাসন। এ প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি হয়েছে এবং এর কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক আছেন যিনি সমাজকর্মের ব্যাকগ্রাউন্ডের। তার মাধ্যমে আমরা আপাতত এই মূল কোর্সগুলো নেওয়াচ্ছি। তিনি বিভাগের সংকট ও শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে কোর্সসমূহ নিচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, আমি সকল ব্যাচের কোর্স ডিস্ট্রিবিউশন সহ ক্লাস পরীক্ষা; এক কথায় একাডেমিক কার্যক্রমকে গতিশীল রাখার জন্য সকল ধরণের কার্যক্রম পরিচালনা করছি। উপাচার্যের সাথে আমার কথা হয়েছে। উনি আশ্বস্ত করেছেন অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষক নিয়োগ হবে।
খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে যুক্ত হওয়ার কথা রাবি সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. হুমায়ন কিবরিয়ারের। জানতে চাইলে তিনি বলেন, কুরবানি ইদের আগে বিগত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে কোন কোর্স নিবো এবং ক্লাস নেওয়া সহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কথা হয়েছিল।আনুষ্ঠানিকভাবে প্রক্রিয়া চলমান ছিল এবং পরবর্তীতে আমরা কোন চিঠি পাইনি। এজন্য আর এ বিষয় কোন অগ্রগতি হয়নি।
আরও পড়ুন: পিরোজপুরে লাশ দাফনে বাধা, নাহিদ ইসলামের নিন্দা ও ইনসাফের আহ্বান
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, এটা তো খুবই সত্য কথা। এবং সে ব্যাপারে আমি খুব স্বল্প সময় হলেও একটা উদ্যোগ নিয়েছিলাম।
বিভাগের বর্তমান সভাপতি জানিয়েছেন যে আপাতত কোর্সগুলো নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। যদিও আগের বোর্ড স্থগিত করা হয়েছে, কিন্তু তিনি বলেছেন আপাতত সব নিয়ন্ত্রণে আছে। আমি নতুন শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে লিখেছি, আশা করি দ্রুত অনুমোদন পাবো।
খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগের ব্যপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে খণ্ডকালীন শিক্ষক আসার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এটা অটোমেটিক চলমান আছে। যতক্ষণ পর্যন্ত নতুন শিক্ষক নিয়োগ না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত এটা চলবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন