১২:৫৪ এম
আজ ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তি স্পেন ও ফ্রান্স। মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার পূর্বে স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে এই ম্যাচটিকে ‘ফাইনালের আগের ফাইনাল’ বলে উল্লেখ করেছেন, এবং এটি কোনো অতিশয়োক্তি নয়। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের হিসাব এবং দুই দলের বর্তমান ফর্ম ধর্তব্য বিবেচনা করলে এটিকে চলতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ বলা হয়ে থাকে।
বাংলাদেশ সময় ১৫ জুলাই ২০২৬, বুধবার রাত ১:০০ টায় এই মহালড়াইয়ের সূচনা হবে।
কেন এই ম্যাচটিই ‘আসল ফাইনাল’? বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথমবার সেমিফাইনালের মঞ্চে উঠেছে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল (আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন ও ইংল্যান্ড)। এদিকে স্পেন, যাদের রয়েছে উয়েফা ইউরো ২০২৪-এর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব, তারা টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থেকে নিজেদের দাপটের সঙ্গে খেলছে। অন্যদিকে, ফ্রান্স তাদের শক্তিশালী দল নিয়ে মাঠে নামছে, যেখানে কিলিয়ান এমবাপে ও ওসমানে দেম্বেলের অসাধারণ প্রতিভা রয়েছে, এবং তারা টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার লক্ষ্য নিয়ে আসছে। দুই দলের এই মাঠের নিয়ন্ত্রণ বনাম গতিশীল আক্রমণের লড়াইকে ফুটবলবোদ্ধারা টুর্নামেন্টের অলিখিত ফাইনাল হিসেবেই মনে করছেন।
আরও পড়ুন: চীনে পাচারের চেষ্টা, ১২ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী উদ্ধার
মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস অনুসারে, যদিও স্পেন কিছুটা এগিয়ে রয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের দ্বন্দ্ব নতুন এক মাত্রা পেয়েছে।
ম্যাচ সংখ্যা স্পেনের জয় ফ্রান্সের জয় ড্র
৩৮ ১৮ ১৩ ৭
দুই দলের শেষ ৫টি লড়াইয়ের ফলাফল: ৫ জুন, ২০২৫ (নেশনস লিগ সেমিফাইনাল): স্পেন ৫-৪ ফ্রান্স (স্পেন জয়ী)। ৯ জুলাই, ২০২৪ (ইউরো সেমিফাইনাল): স্পেন ২-১ ফ্রান্স (স্পেন জয়ী)। ১০ অক্টোবর, ২০২১ (নেশনস লিগ ফাইনাল): ফ্রান্স ২-১ স্পেন (ফ্রান্স জয়ী)। ২৮ মার্চ, ২০১৭ (প্রীতি ম্যাচ): স্পেন ২-০ ফ্রান্স (স্পেন জয়ী)। ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ (প্রীতি ম্যাচ): ফ্রান্স ১-০ স্পেন (ফ্রান্স জয়ী)।
আরও পড়ুন: মুশফিক ছাড়া একাদশে, টসে জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ
বিশ্বকাপে কিভাবে দুই দলের পারফরম্যান্স? ফ্রান্স : গ্রুপ পর্বে নরওয়ে, সেনেগাল ও ইরাককে পরাজিত করে তারা পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে নকআউটে গেছে। এরপর সুইডেন (৩-০), প্যারাগুয়ে (১-০) এবং মরক্কোকে (২-০) পরাজিত করে তারা সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে। পুরো টুর্নামেন্টে ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা দুর্দান্ত করেছে, নকআউট পর্বে এখনও কোনো গোল হজম করেনি। স্পেন : গ্রুপ পর্বে সৌদি আরব ও উরুগুয়েকে পরাজিত করে এবং কেপ ভারডের সঙ্গে ড্র করে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। নকআউট পর্বে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ এবং পর্তুগালকে ১-০ গোলে পরাজিত করেছে এবং সেমিফাইনালের টিকেট পেয়ে গেছে।
বিশ্বকাপের অতীত ইতিহাসে দেখা গেছে, ১৭ বার বিশ্বকাপে অংশ গ্রহণ করলেও ফ্রান্সের বিপক্ষে স্পেনের দেখা হয়েছে মাত্র একবার! ২০০৬ বিশ্বকাপের শেষ ১৬-এর সেই ম্যাচে জিনেদিন জিদানের অসাধারণ নৈপুণ্যে স্পেনকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিদায় নিয়েছিল ফরাসিরা।
কার কী প্রেডিকশন? ফুটবল পণ্ডিত এবং পরিসংখ্যান বিশ্লেষকদের মতে, আজকের ম্যাচে কোনো একটি দলের উপর পরিষ্কার ফেভারিট বলতে কঠিন।
ফ্রান্সের শক্তির জায়গা হলো কিলিয়ান এমবাপে (যিনি বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে ২০ গোল নিয়ে মেসির রেকর্ডের পিছনে আছেন) এবং চলতি টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ওসমানে দেম্বেলে, যারা ফ্রান্সের আক্রমণের মূল অস্ত্র। তাদের নিখুঁত ও গতিশীল কাউন্টার-অ্যাটাক যেকোনো ডিফেন্স ভাঙতে পারে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের রাশিয়ায় পাচার, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ভয়ংকর তথ্য!
স্পেনের শক্তির জায়গা হলো রদ্রি, পেদ্রি ও দানি ওলমোর মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ এবং লামিনে ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামসের উইং আক্রমণ। বল দখলে রেখে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করাই স্পেনের অন্যতম শক্তির জায়গা।
চূড়ান্ত অনুমান হলো, কাগজ-কলমে ফ্রান্সের অভিজ্ঞ আক্রমণভাগের কারণে তাদের কিছুটা এগিয়ে রাখলেও, কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের উপস্থিতিতে স্পেনের অপরাজেয় ফর্ম এবং নেশনস লিগ ও ইউরোতে ফ্রান্সকে পরাস্ত করায় তারা দারুণ আত্মবিশ্বাসের অধিকারী হয়ে উঠে। আজকের ম্যাচে অতিরিক্ত সময় বা টাইব্রেকারে রোমাঞ্চকর ফয়সালার সম্ভবনাও প্রবল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন