১০:২১ পি.এম
সোমালিয়ায় খরা, আকস্মিক বন্যা, সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ার ফলে একটি ভয়াবহ মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে দেশটির ৬৫ লাখের অধিক মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটের মুখোমুখি। এই সংখ্যা মোট জনগণের প্রায় এক- তৃতীয়াংশ। বিভিন্ন পরিবার জীবন রক্ষায় ঘরবাড়ি ছেড়ে রাজধানী মোগাদিশুর আশ্রয় শিবিরে চলে এলেও সেখানে তারা ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের চক্র থেকে মুক্তি পেতে পারছে না।
দেশটির মধ্যাঞ্চলের বুরহাকাবা এলাকার বাসিন্দা জয়নাব ইব্রাহিম টানা তিন বছর ধরে খরার ছবিতে রয়েছেন। বৃষ্টি না হওয়ায় জমি শুকিয়ে যাচ্ছে, ফলে ফসল নষ্ট হচ্ছে এবং পানি ফুরিয়ে যাচ্ছে। তার গ্রামে মহামারির মতো ক্ষুধা ও রোগের বিস্তার ঘটেছে। এতে তার ১০ সন্তানের মধ্যে চারজন মারা যায়। তিনি বলছেন, "জীবন বাঁচাতে আমরা সবরকম চেষ্টা করেছি—শুকনো ঘাস বিক্রি করেছি, মাটি খুঁড়ে পানি তুলেছি। কিন্তু কিছুই অবশিষ্ট ছিল না।" একপর্যায়ে শিশাদের বাঁচাতে তাকে পালাতে হয়েছে। বর্তমানে মোগাদিশুর কাহদা এলাকার একটি শিবিরে তিনি ছয় সন্তানের সঙ্গে একটি ছোট্ট অস্থায়ী ঘরে বসবাস করছেন।
৭৭ বছর বয়সী আদান রোবেলও এমন পরিস্থিতির শিকার। দীর্ঘ খরায় তার জমির ফসল নষ্ট হয়ে যায়। এরপর গত মাসে প্রবল বৃষ্টির ফলে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হলে তার গ্রাম ভেসে যায়। এ সময় এলাকাজুড়ে সরকারি বাহিনী ও আল-শাবাবের মধ্যে যুদ্ধ চলছিল এবং মাথার ওপরে ড্রোন ঘুরছিল।
আরও পড়ুন: জাতীয় স্বার্থে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করলেন ট্রাম্প
তিনি বলেছেন, "সবকিছু হারিয়ে খাবার ও পরিষ্কার পানি না থাকা, আর চারদিক থেকে যুদ্ধের আসন্ন ভয়—এই পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়ংকর।" নিরাপত্তাহীনতা ও সাহায্যের অভাবে তাকেও গ্রাম ছেড়ে পালাতে বাধ্য হতে হয়। বর্তমানে মোগাদিশুর ১০ লাখেরও বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ অস্বাস্থ্যকর ও ভিড়-ভিড়ি পরিবেশে অবস্থান করছে। সেখানে পানি, চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্যসেবার যথেষ্ট সুযোগ নেই।
সবচেয়ে বিরূপ পরিস্থিতিতে রয়েছে শিশুসমূহ। সর্বশেষ তথ্যে জানা যায়, পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ১৯ লাখ শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে। অর্থের অভাবে প্রায় ৫০০ পুষ্টিকেন্দ্র বন্ধ হয়েছে। এর ফলে অনেক শিশু চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছে না। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস জানায়, গত তিন মাসে কিসমায়ো হাসপাতালে একটি বিশেষ বিভাগে ৭০০-এর বেশি শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে, যার মধ্যে ১০ জন মারা গেছে।
এই সংকট আরও ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে কারণ আন্তর্জাতিক সহায়তা কাটছাঁট করা হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের ফলে হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ায় জ্বালানি, খাদ্য এবং পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। এর ফলে পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে পড়ছে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা প্রধান টম ফ্লেচার সম্প্রতি বলেন, "জলবায়ু সংকট, সংঘাত আর বন্যা-খরা একত্রে পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলেছে।" অর্থের অভাবে সাহায্য সংস্থাগুলোও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারছে না। সুতরাং সোমালিয়া এখন গভীর এক সংকটে রয়েছে, যেখানে মানুষ বেঁচে থাকার জন্য প্রতিদিন সংগ্রাম করছে।
আরও পড়ুন: শতবর্ষের দুর্লভ ছবিতে জেরুজালেম ও ফিলিস্তিনের ইতিহাস তুলে ধরলেন মুহাম্মদ হাশেম ঘুশা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন