প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাকিস্তানের মডেল ও অভিনয়শিল্পী মোমিনা ইকবালকে সাইবার হয়রানি, ব্ল্যাকমেইল এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) দলের এমপি সাকিব চাথারের বিরুদ্ধে।
এই মামলা দায়ের করা হয়েছে ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনসিসিআইএ) এর মাধ্যমে, যা দেশটির প্রিভেনশন অব ইলেকট্রনিক ক্রাইমস অ্যাক্টের (পেকো) অধীনে।
পাঞ্জাব প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য সাকিব চাথারের বিরুদ্ধে সম্প্রতি মোমিনা ইকবাল এনসিসিআইএ-তে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন, যার পর এ মামলাটি নথিবদ্ধ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, সাকিব চাথার, তার স্ত্রী এবং কয়েকজন সহযোগী মিলে মোমিনাকে সাইবার হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইল করেছেন। এছাড়াও, তিনি মোমিনার এবং তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ রয়েছে যে, সন্দেহভাজনরা এই অভিনেত্রীর উপর অবৈধ নজরদারি চালিয়েছেন এবং তার আত্মীয়স্বজনদের হুমকি দিয়েছেন।
এফআইআরে উল্লেখ করা হয়, সাকিব চাথার আগেই বিবাহিত—বিষয়টি জানতে পেরে তার বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন মোমিনা ইকবাল। এরপর সাকিব চাথার মোমিনার কিছু ব্যক্তিগত ভিডিও পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করেন এবং বিয়েতে রাজি না হলে তার ব্যক্তিগত তথ্য ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ২০২৩ সালেও সাকিব চাথার এই অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছিলেন, যার ফলে মোমিনার আগের একটি বিয়ের কথাবার্তা ভেঙে যায়। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, তাকে, তার বর্তমান স্বামী এবং পরিবারের সদস্যদের ফোনে অনবরত হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো হতো। এছাড়া, একই ধরনের বার্তা মোমিনার বোনের ফোনেও পাঠানো হতো।
এজাহারে বলা হয়েছে, এসব হুমকিমূলক বার্তাগুলো সাকিব চাথারের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর থেকে এসেছে বলে শনাক্ত করা গেছে। পুলিশের মাধ্যমে উদ্ধার করা হয়েছে মোমিনার মোবাইল ফোন থেকে ওই আইনপ্রণেতার পাঠানো ব্ল্যাকমেইলের ভিডিওগুলো।
পেশায় আইনজীবী মোমিনার বোন এ হুমকির সপক্ষে একটি ভিডিও প্রমাণ এনসিসিআইএ-র কাছে জমা দিয়েছেন। ডিজিটাল প্রমাণ হিসেবে ভিডিওটি এবং মোবাইল ফোনটি জব্দ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
এফআইআরে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, সাকিব চাথার মোবাইল ফোনটি এনসিসিআইএ-র কাছে জমা দেওয়ার আগে ফোন থেকে সমস্ত ডেটা ও অ্যাপস মুছে ফেলেন।
এর আগে, হয়রানি, ব্ল্যাকমেইল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে লাহোরের চুং থানায় সাকিবের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য মোমিনা গিয়েছিলেন। সেখানে দেওয়া আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার পর থেকে ওই আইনপ্রণেতা বারবার তার এবং তার তৎকালীন বাগদত্তার (যিনি বর্তমানে তার স্বামী) সঙ্গে যোগাযোগ করে গালিগালাজ করছেন এবং হুমকি দিচ্ছেন।
মোমিনা আরও জানান, সাকিব চাথার তাকে হোয়াটসঅ্যাপে কল ও মেসেজ দিয়েও হুমকি দিতেন। এ বিষয়ে অভিযোগ জানাতে মোমিনা তার আইনজীবীদের নিয়ে চুং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফাহিম ইমদাদের সঙ্গেও দেখা করেছিলেন।
উল্লেখ্য, মোমিনা ইকবালের বিয়ের প্রস্তুতির সময়েই এই বিষয়টি প্রথম সামনে আসে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন