০৮:১৪ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পর হোয়াইট হাউসে কে বসবেন, এই প্রশ্নটির আলোচনা ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে ধীরে ধীরে জোরালো হয়ে উঠছে। সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের তালিকায় বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছেন নিউইয়র্কের কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও কোর্তেজ।
ওকাসিও কোর্তেজ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা এখনও দেননি। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, জনমত জরিপে অবস্থান এবং তার দেশের মধ্যে জনপ্রিয়তা নতুনভাবে প্রশ্ন তুলেছে যে, ট্রাম্প-পরবর্তী আমেরিকার নেতৃত্বে কি এই তরুণ নেত্রীকে দেখা যেতে পারে।
গত মে মাসে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের রকফেলার মেমোরিয়াল চ্যাপেলে দেওয়া এক বক্তৃতায় ওকাসিও কোর্তেজ বিশদভাবে বলেছেন, তার উচ্চাকাঙ্ক্ষা কোনো পদ বা আসন পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার আসল লক্ষ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রকে পরিবর্তন করা। তার সেই বক্তব্যের পর তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা কম হয়নি।
আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জে শিশু মুহিন হত্যার দায়ে ২ জনের মৃত্যুদণ্ড
এদিকে, ডেমোক্র্যাটিক দলের পুরোনো নেতৃত্বের প্রতি ভোটারদের অসন্তোষ এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ওকাসিও কোর্তেজের সম্ভাবনাকে নতুন করে উঠে আসতে সাহায্য করছে। অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ও সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার মতো বিষয়গুলিতে প্রগতিশীলদের সাম্প্রতিক সাফল্যও তার পক্ষে কাজ করছে।
গত জুলাইয়ে ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাম্পশায়ারের গ্রানাইট স্টেট পোলের সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের তালিকায় শীর্ষ স্থানে ছিলেন ওকাসিও কোর্তেজ। ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারী সংখ্যা প্রায় এক কোটি। এই কারণে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতির দিক থেকে তিনি বেশ এগিয়ে রয়েছেন।
রাজনীতিতে উত্থানের জন্য ওকাসিও কোর্তেজের যাত্রাটা ছিল দ্রুত। ২০১৮ সালে, নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে তিনি ১০ মেয়াদের কংগ্রেসম্যান জো ক্রাউলিকে হারিয়ে চমক সৃষ্টি করেন। ২০১৬ সালে বার্নি স্যান্ডার্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করার পর এই উত্থান ঘটে।
সাবেক যোগাযোগ পরিচালক করবিন ট্রেন্টের মতে, ওকাসিও কোর্তেজ প্রচলিত রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গড়ার পরিকল্পনা না করেই এগিয়েছেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ এবং নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা অবস্থানই তার জনপ্রিয়তার মূল কারণ।
আরও পড়ুন: মধ্যবর্তী নির্বাচনে হেরে গেলে ফলাফল মানবেন কি ট্রাম্প?
তবে, ট্রাম্পের পর হোয়াইট হাউসে প্রবেশের পথ তার জন্য সহজ নয়। ডেমোক্র্যাটিক দলের মধ্যেও তার সম্পর্কে মতভেদ আছে। প্রগতিশীল রাজনীতির কারণে শক্তিশালী সমর্থক তৈরি হলেও, মধ্যপন্থীদের একাংশের কাছ থেকে তার বিরুদ্ধে সমালোচনা রয়েছে।
বিশেষত কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের সঙ্গে প্রগতিশীলদের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দক্ষিণ ক্যারোলিনার মতো গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী অঙ্গরাজ্যে এটি ওকাসিও কোর্তেজের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়াতে পারে।
এছাড়াও ২০২৮ সালের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে তার সম্ভাব্য শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের মুখোমুখি হতে হতে পারে। প্রতিযোগীদের মধ্যে রয়েছেন রো খান্না, কমলা হ্যারিস, পিট বুটিজিজ, গ্যাভিন নিউজম এবং জন অসফ।
রিপাবলিকানদের আক্রমণও থামবে না। ডানপন্থী মহলে দীর্ঘদিন ধরে ওকাসিও কোর্তেজকে উগ্র বামপন্থী বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। সম্প্রতি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিভাজনের ব্যাপারে তার কিছু মন্তব্যকে বৈষম্যের আধার হিসেবে কিছু লোক দেখে থাকেন।
আরও পড়ুন: বিচারকের ছেলের গাড়িচাপায় স্কুটিচালকের মৃত্যু, পুলিশপ্রধান বরখাস্ত
তবে তার সামনে আরেকটি পথও খোলা রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে না গিয়ে নিউইয়র্ক থেকে সিনেট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তার জন্য বেশি কার্যকর হতে পারে। এটি তাকে জাতীয় রাজনীতিতে আরও অভিজ্ঞতা অর্জন করতে এবং ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার ভিত্তি শক্ত করতে সহায়তা করবে।
যাহোক, ২০২৮ সালের নির্বাচন এখনও অনেক দূরে। ওকাসিও কোর্তেজ কি প্রেসিডেন্ট পদে লড়বেন, সেটিও নিশ্চিত নয়। তবে ট্রাম্প-পরবর্তী আমেরিকার সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনা যত এগিয়ে যাচ্ছে, ৩৬ বছর বয়সের এই কংগ্রেসওম্যানের নাম ততই জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে।
শেষ পর্যন্ত তাকে হোয়াইট হাউসের দৌড়ে নামতে দেখা যাবে কি না, এটি একটি বড় প্রশ্ন। তবে বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে ট্রাম্পের পর আমেরিকার নেতৃত্বে সম্ভাব্য পরিবর্তনের আলোচনায় আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও কোর্তেজের নাম স্পষ্টভাবেই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জে শিশু তালহা হত্যা মামলায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড, একজনের যাবজ্জীবন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন