১০:৪৫ এম
ঢাকা, ১০ জুন ২০২৬ (বাসস) : অস্থির প্রস্তুতি এবং হতাশাজনক সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ফলে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘ডি’-তে নেমে এসেছে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের চাপের মধ্যে। সাম্প্রতিক দুইটি প্রীতি ম্যাচে ইউরোপের শীর্ষ দলগুলোর বিপক্ষে তারা সহজেই পরাজিত হয়েছে।
মার্চ মাসে বেলজিয়ামের কাছে তারা ৫-২ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয় এবং এরপর পর্তুগালের কাছেও ২-০ গোলে হার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মরিসিও পচেত্তিনো কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন। যেখানে তিনি দলকে টুর্নামেন্টে অনেক দূর নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, সেখানে বাস্তবতা তার পক্ষে মোটেও নেই।
২০২৪ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর, বিভিন্ন খেলোয়াড়কে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর, পচেত্তিনো এখন গ্রুপ পর্বে প্যারাগুয়ে, অস্ট্রেলিয়া ও তুরস্কের বিরুদ্ধে ইউরোপভিত্তিক অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ওপর ভরসা করছেন।
আরও পড়ুন: স্ত্রীর ছবি ফেসবুকে দেয়ায় বন্ধুকে হত্যা, কুয়েতে বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড
এসি মিলানের আক্রমণভাগের খেলোয়াড় ক্রিস্টিয়ান পুলিসিক, জুভেন্টাসের ওয়েস্টন ম্যাককেনি এবং বোর্নমাউথের টাইলার অ্যাডামস পচেত্তিনোর মূল আস্থার জায়গায় রয়েছেন। এর পাশাপাশি মার্সেইর টিম ওয়েহা, মোনাকোর ফোলারিন বালোগুন এবং ফর্মে থাকা স্ট্রাইকার হাজি রাইটও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করছেন সবাই। রাইটের গোল দিয়েই কভেন্ট্রি ইংল্যান্ডের প্রিমিয়ার লিগে উন্নীত হয়েছে।
যদি পচেত্তিনোর দল গ্রুপ পর্বে উত্তরণে ব্যর্থ হয়, তবে সেটি একটি বড় চমক হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। গত বছর প্যারাগুয়ে ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে জয় যুক্তরাষ্ট্রকে আশাবাদী করে তুলেছে এবং এবারও তারা ২০১০, ২০১৪ ও ২০২২ সালের মতো শেষ ষোলোতে উঠতে চায়।
১২ জুন, লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হবে। দক্ষিণ আমেরিকার দল প্যারাগুয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরছে। বাছাইপর্বে তারা দারুণ খেলা উপহার দিয়েছে এবং ব্রাজিল, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার সমান পয়েন্ট নিয়ে অভিযান শেষ করেছে।
আর্জেন্টাইন কোচ গুস্তাভো আলফারোর অধীনে প্যারাগুয়ে নতুন আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত হয়েছে। ২০২৪ কোপা আমেরিকায় একটি পয়েন্টও না পাওয়ার হতাশার পর আলফারো দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তার অধীনে, প্যারাগুয়ে বাছাইপর্বে ৩৬ সম্ভাব্য পয়েন্টের মধ্যে ২৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে এবং আর্জেন্টিনাকে ২-১ গোলে পরাজিত করার মতো উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়ে আশাবাদী হয়েছে।
আরও পড়ুন: দুর্গাপুরে ডেপুটি স্পিকারের উদ্যোগে পুলিশ তদন্তকেন্দ্র স্থাপিত হচ্ছে
গ্রুপের আরেক দল অস্ট্রেলিয়া টানা ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে। এশিয়ার গ্রুপ ‘সি’-তে তারা জাপানের পিছনে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। বাছাইপর্ব চলাকালীন, গ্রাহাম আর্নল্ডের পরিবর্তে কোচের দায়িত্ব নেন টনি পপোভিচ এবং তার অধীনে দলটি সফল অভিযান পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে গত বছর জাপানের বিপক্ষে ১-০ গোলের গুরুত্বপূর্ণ জয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল। অস্ট্রেলিয়া ২০২২ সালের দলের সাফল্য পুনরাবৃত্তি করতে চায়। সেবার তারা শেষ ষোলোতে উঠে শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে কঠিন লড়াইয়ের মুখে ফেলেছিল, যদিও তারা ২-১ গোলে হারতে হয়েছিল সকারুজদের।
ইউরোপীয় দলের মধ্যে, তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্রের নকআউট পর্বে ওঠার স্বপ্নের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে। ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে তৃতীয় হওয়ার পর টানা পাঁচটি আসরে ব্যর্থ হওয়া তুরস্ক ২৪ বছর পর আবার বিশ্বকাপে ফিরছে।
ইতালিয়ান কোচ ভিনসেঞ্জো মন্টেলার অধীনে, বাছাইপর্বে তুরস্ক মাত্র একটি ম্যাচে পরাজিত হয়েছে ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে। পরে, রোমানিয়া ও কসোভোকে পরাজিত করে তারা প্লে-অফ পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে।
ইন্টার মিলানের হাকান কালহানগ্লু মিডফিল্ডে এবং রিয়াল মাদ্রিদের প্রতিভাবান আরডা গুলার আক্রমণভাগে বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারেন।
আরও পড়ুন: সরকার পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন দমনের চেষ্টা করছে : নাহিদ ইসলাম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন