ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

সোমালিয়া জলদস্যুরা নাবিকসহ ইরানি জাহাজ ছিনতাই করেছে


সোমালিয়া জলদস্যুরা নাবিকসহ ইরানি জাহাজ ছিনতাই করেছে

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার আশঙ্কার মধ্যে সোমালি জলদস্যুরা উত্তর-পূর্ব সোমালিয়ার উপকূলে একটি ইরানি মাছ ধরার ট্রলার ছিনতাই করেছে। ট্রলারটিতে মোট ২৩ জন ক্রু ছিল, যার মধ্যে ২১ জন ইরানি জেলে এবং দুজন সোমালি রক্ষী অন্তর্ভুক্ত ছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভারত মহাসাগরীয় সামুদ্রিক নিরাপত্তা কেন্দ্র (এমএসসিআইও) এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

রোববার (১ নভেম্বর) ইরানের স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সশস্ত্র ব্যক্তিরা ‘আজিনি’ নামের ইরানি ট্রলারটিতে প্রবেশ করে এবং সেটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। এই ঘটনা সোমালিয়ার বন্দর শহর ‘বান্দার বেইলা’ থেকে প্রায় ১৮৫ নটিক্যাল মাইল পূর্বে ঘটেছে। কেন্দ্রটি জানিয়েছে, প্রতিবেদনটি তৈরির সময় ট্রলারের ক্রুদের নিরাপত্তা বা অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে পুন্টল্যান্ড মেরিটাইম পুলিশের একজন কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, ১২ জলদস্যু ট্রলারটি এবং এর ২৩ জন ক্রুকে জিম্মি করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আজিনি’ ট্রলারটির গঠনশৈলী এমন ধরনের নৌযানের মতো, যা সোমালি জলদস্যুরা সাধারণত ‘মাদার শিপ’ বা মূল জাহাজ হিসেবে ব্যবহার করে। জলদস্যুরা ছোট ছোট নৌযান ছিনতাই করে সেগুলোকে ভ্রাম্যমাণ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে।

আরও পড়ুন: গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত, নিহতের সংখ্যা ৭৪ হাজার ছাড়াল

এভাবে তারা উপকূল থেকে অনেক দূরে তাদের স্পিডবোটগুলো পৌঁছাতে সক্ষম হয় এবং বড় বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে। এমএসসিআইও আরও জানিয়েছে, শনিবার নাগাদ ট্রলারটি প্রায় ১১০ নটিক্যাল মাইল পূর্ব দিকে সরে গেছে, ফলে এটি এই অঞ্চলের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক নৌপথের কাছাকাছি চলে এসেছে।

কেন্দ্রটি সতর্ক করে বলেছে, ইরানি ট্রলারটিকে জলদস্যুরা পরবর্তী অভিযানের জন্য ‘মাদার শিপ’ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের শুরু থেকেই সোমালি জলদস্যুরা জাহাজ ছিনতাইয়ের কার্যক্রম বৃদ্ধি করেছে। গ্রীষ্মকালেই তারা প্রায় ছয়টি জাহাজ দখল করেছে। এসব হামলার কিছু ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ‘অনার ২৫’ নামের একটি ছিনতাই হওয়া তেলবাহী ট্যাংকার উদ্ধারের অভিযানে স্থানীয় পুলিশ ১৬ জন সন্দেহভাজন জলদস্যুকে গ্রেফতার করে। তবে অভিযানের আগেই ট্যাংকারে গোলাগুলির ঘটনায় পাঁচজন জিম্মি নিহত হন।

সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি

আরও পড়ুন: ভেনেজুয়েলায় কলম্বীয় বিদ্রোহীদের ঘাঁটিতে সেনাবাহিনীর হামলা, নিহত ১৯

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিরপুরে পোশাকশ্রমিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পাঁচটি মামলা, আটক ২৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০৪ পি.এম


মিরপুরে পোশাকশ্রমিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পাঁচটি মামলা, আটক ২৯

মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে বর্তমানে পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ তথ্য জানিয়েছেন পুলিশের এডিশনাল ডিআইজি মহিদুল ইসলাম।

এছাড়া, আন্দোলনের কারণে সকাল থেকে মিরপুর এলাকা থেকে ২৯ জনকে আটক করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

মহিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, শ্রমিক আন্দোলনের নামে কেউ যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

মিরপুরে সড়কের পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। একইভাবে, যান চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে।

মহিদুল আরও জানান, রাজনৈতিক পরিচয়ে কেউ যেন অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজা ও লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ব অনুভূতিহীন : ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০৪ পি.এম


গাজা ও লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ব অনুভূতিহীন : ইরান

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই মন্তব্য করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তাহীনতার প্রধান কারণ হলো ইসরাইল। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গাজা ও লেবাননে ইসরাইল তাদের নৃশংসতার মাত্রা বৃদ্ধি করেছে।

সোমবার অনুষ্ঠিত একটি সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘শীতকাল এগিয়ে আসছে। অথচ বেঁচে থাকার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সামগ্রীগুলোর প্রবেশও বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে, যা ফিলিস্তিনের বাস্তুচ্যুত মানুয়ের পরিস্থিতিকে এক বিপর্যয়কর পর্যায়ে নিয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং ইউরোপীয় দেশগুলো এই পরিস্থিতির প্রতি ‘অনুভূতিহীন’ হয়ে পড়েছে।

বাঘাই আরও বলেন, ‘মানুষের জীবনকে কেবল পরিসংখ্যানের পর্যায়ে নামিয়ে আনা এবং নৃশংসতাকে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে গণ্য করা—এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি প্রবণতা, যা মানব বিবেককে হুমকির মুখে ফেলে।’

তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) যখন ইসরাইলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা করছে, তখন আদালত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তীব্র চাপের সম্মুখীন হচ্ছে।

 

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এখন আর শ্রমিক অসন্তোষ নেই, এটি রাজনৈতিক: নাজমা আক্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০৫ পি.এম


এখন আর শ্রমিক অসন্তোষ নেই, এটি রাজনৈতিক: নাজমা আক্তার

সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার মন্তব্য করেছেন যে, গার্মেন্টস শ্রমিকদের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে যে অসন্তোষ ও নাশকতার ঘটনা ঘটছে, তা শ্রমিকদের আন্দোলন নয় বরং রাজনৈতিক আন্দোলনের অংশ। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই আন্দোলনে প্রকৃত শ্রমিকদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

গার্মেন্টস খাতের নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন নিয়ে আজ প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি এসব কথা বলেন। নাজমা আক্তার বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের পরও বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন ও কারখানা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে। তবে, এসব ঘটনার সঙ্গে প্রকৃত শ্রমিকদের সংশ্লিষ্টতা নেই বলে তিনি মনে করেন।

সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আরও বলেন, মিরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের নাম ব্যবহার করে নানা ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। গাজীপুরেও বিভিন্ন পক্ষের সংশ্লিষ্টতায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। তিনি এসব ঘটনাকে রাজনৈতিক ইন্ধন হিসেবে দেখছেন।

নাজমা আক্তার শ্রমিকদের নাম ব্যবহার করে নাশকতা ও শিল্পকারখানা ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘শিল্প-কারখানা ধ্বংস করে তো লাভ নেই।’

তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ ও নতুন মজুরি নির্ধারণে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। এই অবস্থায় শিল্পকারখানা ভাঙচুর এবং আন্দোলনের কোনো যৌক্তিকতা নেই।

নতুন মজুরি নির্ধারণে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন উল্লেখ করে নাজমা আক্তার বলেন, সবার মতামতের ভিত্তিতে বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তিনি সরকারকে দ্রুততম সময়ে বোর্ড গঠন করায় ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, সরকারকে সহযোগিতা করা হবে এবং দ্রুত নতুন মজুরি ঘোষণা করা প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রক্তস্বল্পতা: ৭ কারণে দেখা দেয়, লক্ষণ ও প্রতিরোধে করণীয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০৬ পি.এম


রক্তস্বল্পতা: ৭ কারণে দেখা দেয়, লক্ষণ ও প্রতিরোধে করণীয়

‎‎বাংলাদেশে রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিভিন্ন বয়সের মানুষ, যেমন নারী, পুরুষ, শিশু, কিশোর-কিশোরী এবং গর্ভবতী নারীরা এই সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারেন। শরীরে আয়রনের ঘাটতি রক্তস্বল্পতার অন্যতম কারণ, যা Iron Deficiency Anaemia (IDA) নামে পরিচিত।

‎হিমোগ্লোবিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে আয়রন কাজ করে। এটি রক্তের মাধ্যমে ফুসফুস থেকে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের সেল বা টিস্যুতে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। শরীরে আয়রনের অভাব হলে হিমোগ্লোবিন তৈরির প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। এর ফলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে অক্সিজেনের সরবরাহ কমে যায়, যা ক্লান্তি, দুর্বলতা এবং কর্মক্ষমতা হ্রাসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

‎আয়রনের ঘাটতি অনেক সময় ধীরে ধীরে কয়েক মাস বা বছর ধরে তৈরি হয়। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ধরে রোগটি বুঝতে পারেন না। যদি সময়মতো রোগটি শনাক্ত ও চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে দৈনন্দিন কাজ, পড়াশোনা, কর্মজীবন এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার মান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

‎নারী ও পুরুষের মধ্যে কারা বেশি ঝুঁকিতে?

‎বাংলাদেশে আয়রন ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি নারী ও পুরুষ উভয়ের মধ্যেই বিদ্যমান। তবে প্রজননক্ষম নারীদের ক্ষেত্রে মাসিকের মাধ্যমে রক্তক্ষরণ, অতিরিক্ত মাসিক, গর্ভাবস্থায় আয়রনের চাহিদা বৃদ্ধি এবং ঘন ঘন গর্ভধারণের কারণে ঝুঁকি বাড়তে পারে।

‎কিশোরীদের দ্রুত শারীরিক বৃদ্ধি, মাসিক শুরু হওয়া এবং পুষ্টিকর খাবারের ঘাটতি আয়রনের চাহিদা ও ঘাটতির মধ্যে ভারসাম্যহীনতা তৈরি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় গুরুতর রক্তস্বল্পতা মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

‎অন্যদিকে, পুরুষদের মধ্যেও আয়রন ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতা দেখা যায়। অপর্যাপ্ত আয়রন গ্রহণ, পরিপাকতন্ত্রে দীর্ঘস্থায়ী রক্তক্ষরণ, পাকস্থলী বা অন্ত্রের আলসার, কিছু অন্ত্রের রোগ এবং আয়রন শোষণে সমস্যা এর সম্ভাব্য কারণ।

‎বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও মেনোপজ-পরবর্তী নারীদের আয়রন ঘাটতি শনাক্ত হলে শুধু আয়রন ট্যাবলেট দেওয়াই যথেষ্ট নয়; বরং রক্তক্ষরণ বা অন্য কোনো অন্তর্নিহিত রোগ রয়েছে কি না, তা অনুসন্ধান করা জরুরি।

‎বাংলাদেশের ২০১১–১২ সালের জাতীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট জরিপে ১৫–৪৯ বছর বয়সী গর্ভবতী নন ও স্তন্যদান করছেন না—এমন নারীদের মধ্যে আয়রন ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতার হার ছিল ৪.৮ শতাংশ। তবে পুরুষ ও নারীর বর্তমান অবস্থার তুলনা করতে সমসাময়িক, প্রতিনিধিত্বশীল তথ্য প্রয়োজন।

‎‎আয়রন ঘাটতির প্রধান কারণ

‎আয়রন ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতার গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো—

‎১. আয়রনসমৃদ্ধ খাবার পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্রহণ না করা।

‎২. অতিরিক্ত মাসিক বা অন্য কোনো কারণে দীর্ঘস্থায়ী রক্তক্ষরণ।

‎৩. গর্ভাবস্থা ও শৈশব-কৈশোরে আয়রনের চাহিদা বৃদ্ধি।

‎৪. হুকওয়ার্মসহ কিছু পরজীবীর সংক্রমণের কারণে রক্তক্ষরণ।

‎৫. পাকস্থলী ও অন্ত্রের রোগের কারণে আয়রন শোষণে সমস্যা।

‎৬. দীর্ঘদিনের অপুষ্টি এবং খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্যের অভাব।

‎৭. কিছু ক্ষেত্রে পরিপাকতন্ত্রের গুরুতর রোগ, এমনকি ক্যানসারের কারণে গোপন রক্তক্ষরণ।

‎‎‎লক্ষণগুলো কী?

‎আয়রন ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতার সাধারণ লক্ষণ হলো—

অল্পতেই ক্লান্তি ও দুর্বলতা।

মাথা ঘোরা বা মাথাব্যথা।

অল্প পরিশ্রমে শ্বাসকষ্ট।

বুক ধড়ফড় করা।

ত্বক ও চোখের নিচের অংশ ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া।

মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া।

চুল পড়া এবং নখ ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া।

কখনো বরফ, মাটি বা অখাদ্য বস্তু খাওয়ার অস্বাভাবিক আকাঙ্ক্ষা।

‎তবে এসব লক্ষণ অন্য রোগেও দেখা দিতে পারে। তাই শুধুমাত্র লক্ষণের ভিত্তিতে আয়রন ঘাটতি নির্ণয় করা উচিত নয়।

‎কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়?

‎আয়রন ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতা নির্ণয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কয়েকটি পরীক্ষা করা হয়।

‎১. Complete Blood Count (CBC): হিমোগ্লোবিনের মাত্রা, MCV, MCH এবং অন্যান্য রক্তকণিকার সূচক মূল্যায়ন করা হয়। আয়রন ঘাটতিতে MCV ও MCH কম থাকতে পারে, তবে প্রাথমিক পর্যায়ে এগুলো স্বাভাবিকও থাকতে পারে।

‎২. Serum Ferritin: শরীরে সঞ্চিত আয়রনের পরিমাণ বোঝার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। ফেরিটিন কম থাকলে আয়রন ঘাটতির পক্ষে জোরালো প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে সংক্রমণ বা প্রদাহের কারণে ফেরিটিন স্বাভাবিক কিংবা বেশি থাকতে পারে।

‎৩. অন্যান্য পরীক্ষা: প্রয়োজন অনুযায়ী Transferrin Saturation (TSAT), CRP, রেটিকুলোসাইট কাউন্ট, পেরিফেরাল ব্লাড ফিল্ম এবং রক্তক্ষরণের সম্ভাব্য উৎস অনুসন্ধানের পরীক্ষা করা হতে পারে।

‎রোগীর বয়স, লিঙ্গ, উপসর্গ ও চিকিৎসার ইতিহাস বিবেচনা করে পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

‎প্রতিরোধে খাদ্যাভ্যাসের ভূমিকা

‎আয়রন ঘাটতি প্রতিরোধে সুষম ও বৈচিত্র্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দৈনন্দিন খাবারে রাখা যেতে পারে—

মাছ, মাংস ও উপযুক্ত ক্ষেত্রে কলিজা।

ডাল, ছোলা, মটরশুঁটি ও অন্যান্য ডালজাতীয় খাবার।

গাঢ় সবুজ শাকসবজি।

আয়রনসমৃদ্ধ বা আয়রন দিয়ে সমৃদ্ধ করা খাবার।

ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল, যেমন পেয়ারা, লেবু ও কমলা।

প্রাণিজ উৎসের আয়রন সাধারণত উদ্ভিজ্জ উৎসের আয়রনের তুলনায় সহজে শোষিত হয়। উদ্ভিজ্জ উৎসের আয়রনের সঙ্গে ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার খেলে আয়রন শোষণ বাড়তে পারে। খাবারের সঙ্গে চা বা কফি পান করলে আয়রন শোষণ কমতে পারে; তাই খাবারের কিছুটা আগে বা পরে এগুলো পান করা ভালো।

‎শুধু আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খেলেই সব ধরনের রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ করা যায় না। ভিটামিন বি১২, ফলেটের ঘাটতি, থ্যালাসেমিয়া এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগের কারণেও রক্তস্বল্পতা হতে পারে।

‎চিকিৎসা ও করণীয়

‎আয়রন ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতার চিকিৎসায় সাধারণত মুখে খাওয়ার আয়রন দেওয়া হয়। রোগীর অবস্থা, আয়রনের ঘাটতির মাত্রা, সহনশীলতা এবং শোষণক্ষমতা বিবেচনা করে চিকিৎসক ওষুধের ধরন ও মাত্রা নির্ধারণ করেন।

‎যাঁরা মুখে আয়রন সহ্য করতে পারেন না, যাঁদের আয়রন শোষণে সমস্যা রয়েছে অথবা যাঁদের দ্রুত আয়রন পূরণের প্রয়োজন, তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিরায় আয়রন দেওয়া যেতে পারে।

‎চিকিৎসার পাশাপাশি আয়রন ঘাটতির মূল কারণ খুঁজে বের করা অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘস্থায়ী রক্তক্ষরণ চলতে থাকলে শুধু আয়রন গ্রহণ করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

‎চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন আয়রন ট্যাবলেট খাওয়া উচিত নয়। সব ধরনের রক্তস্বল্পতায় আয়রন উপকারী নয়, আর অতিরিক্ত আয়রন শরীরের ক্ষতি করতে পারে।

‎জনসচেতনতা বাড়াতে হবে

‎একই সঙ্গে পুরুষদের রক্তস্বল্পতাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের আয়রন ঘাটতি দেখা দিলে সম্ভাব্য গোপন রক্তক্ষরণ বা অন্য কোনো রোগের কারণ অনুসন্ধান করা জরুরি।

‎উপসংহার

‎আয়রন ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধযোগ্য ও চিকিৎসাযোগ্য একটি স্বাস্থ্যসমস্যা। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, সময়মতো রোগ শনাক্তকরণ, যথাযথ চিকিৎসা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এর ক্ষতিকর প্রভাব কমানো সম্ভব।

লেখক: ‎ডা. শারমিন ইয়াসমিন

‎রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%