ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

রক্তস্বল্পতা: ৭ কারণে দেখা দেয়, লক্ষণ ও প্রতিরোধে করণীয়


রক্তস্বল্পতা: ৭ কারণে দেখা দেয়, লক্ষণ ও প্রতিরোধে করণীয়

‎‎বাংলাদেশে রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিভিন্ন বয়সের মানুষ, যেমন নারী, পুরুষ, শিশু, কিশোর-কিশোরী এবং গর্ভবতী নারীরা এই সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারেন। শরীরে আয়রনের ঘাটতি রক্তস্বল্পতার অন্যতম কারণ, যা Iron Deficiency Anaemia (IDA) নামে পরিচিত।

‎হিমোগ্লোবিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে আয়রন কাজ করে। এটি রক্তের মাধ্যমে ফুসফুস থেকে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের সেল বা টিস্যুতে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। শরীরে আয়রনের অভাব হলে হিমোগ্লোবিন তৈরির প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। এর ফলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে অক্সিজেনের সরবরাহ কমে যায়, যা ক্লান্তি, দুর্বলতা এবং কর্মক্ষমতা হ্রাসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

‎আয়রনের ঘাটতি অনেক সময় ধীরে ধীরে কয়েক মাস বা বছর ধরে তৈরি হয়। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ধরে রোগটি বুঝতে পারেন না। যদি সময়মতো রোগটি শনাক্ত ও চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে দৈনন্দিন কাজ, পড়াশোনা, কর্মজীবন এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার মান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

আরও পড়ুন: মাইগ্রেন: মাথাব্যথার সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজন

‎নারী ও পুরুষের মধ্যে কারা বেশি ঝুঁকিতে?

‎বাংলাদেশে আয়রন ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি নারী ও পুরুষ উভয়ের মধ্যেই বিদ্যমান। তবে প্রজননক্ষম নারীদের ক্ষেত্রে মাসিকের মাধ্যমে রক্তক্ষরণ, অতিরিক্ত মাসিক, গর্ভাবস্থায় আয়রনের চাহিদা বৃদ্ধি এবং ঘন ঘন গর্ভধারণের কারণে ঝুঁকি বাড়তে পারে।

‎কিশোরীদের দ্রুত শারীরিক বৃদ্ধি, মাসিক শুরু হওয়া এবং পুষ্টিকর খাবারের ঘাটতি আয়রনের চাহিদা ও ঘাটতির মধ্যে ভারসাম্যহীনতা তৈরি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় গুরুতর রক্তস্বল্পতা মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

‎অন্যদিকে, পুরুষদের মধ্যেও আয়রন ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতা দেখা যায়। অপর্যাপ্ত আয়রন গ্রহণ, পরিপাকতন্ত্রে দীর্ঘস্থায়ী রক্তক্ষরণ, পাকস্থলী বা অন্ত্রের আলসার, কিছু অন্ত্রের রোগ এবং আয়রন শোষণে সমস্যা এর সম্ভাব্য কারণ।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে আরো ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ২ হাজার

‎বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও মেনোপজ-পরবর্তী নারীদের আয়রন ঘাটতি শনাক্ত হলে শুধু আয়রন ট্যাবলেট দেওয়াই যথেষ্ট নয়; বরং রক্তক্ষরণ বা অন্য কোনো অন্তর্নিহিত রোগ রয়েছে কি না, তা অনুসন্ধান করা জরুরি।

‎বাংলাদেশের ২০১১–১২ সালের জাতীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট জরিপে ১৫–৪৯ বছর বয়সী গর্ভবতী নন ও স্তন্যদান করছেন না—এমন নারীদের মধ্যে আয়রন ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতার হার ছিল ৪.৮ শতাংশ। তবে পুরুষ ও নারীর বর্তমান অবস্থার তুলনা করতে সমসাময়িক, প্রতিনিধিত্বশীল তথ্য প্রয়োজন।

‎‎আয়রন ঘাটতির প্রধান কারণ

‎আয়রন ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতার গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো—

আরও পড়ুন: হামের উপসর্গে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৪৮

‎১. আয়রনসমৃদ্ধ খাবার পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্রহণ না করা।

‎২. অতিরিক্ত মাসিক বা অন্য কোনো কারণে দীর্ঘস্থায়ী রক্তক্ষরণ।

‎৩. গর্ভাবস্থা ও শৈশব-কৈশোরে আয়রনের চাহিদা বৃদ্ধি।

‎৪. হুকওয়ার্মসহ কিছু পরজীবীর সংক্রমণের কারণে রক্তক্ষরণ।

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্যমন্ত্রীর রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদানে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান

‎৫. পাকস্থলী ও অন্ত্রের রোগের কারণে আয়রন শোষণে সমস্যা।

‎৬. দীর্ঘদিনের অপুষ্টি এবং খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্যের অভাব।

‎৭. কিছু ক্ষেত্রে পরিপাকতন্ত্রের গুরুতর রোগ, এমনকি ক্যানসারের কারণে গোপন রক্তক্ষরণ।

‎‎‎লক্ষণগুলো কী?

আরও পড়ুন: রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদানে সচেতনতা বাড়াতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আহ্বান

‎আয়রন ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতার সাধারণ লক্ষণ হলো—

অল্পতেই ক্লান্তি ও দুর্বলতা।

মাথা ঘোরা বা মাথাব্যথা।

অল্প পরিশ্রমে শ্বাসকষ্ট।

আরও পড়ুন: সমাজ ও দেশের প্রতি চিকিৎসকদের দায়িত্ববোধ থাকা উচিত : রাষ্ট্রপতি

বুক ধড়ফড় করা।

ত্বক ও চোখের নিচের অংশ ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া।

মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া।

চুল পড়া এবং নখ ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া।

কখনো বরফ, মাটি বা অখাদ্য বস্তু খাওয়ার অস্বাভাবিক আকাঙ্ক্ষা।

‎তবে এসব লক্ষণ অন্য রোগেও দেখা দিতে পারে। তাই শুধুমাত্র লক্ষণের ভিত্তিতে আয়রন ঘাটতি নির্ণয় করা উচিত নয়।

‎কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়?

‎আয়রন ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতা নির্ণয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কয়েকটি পরীক্ষা করা হয়।

‎১. Complete Blood Count (CBC): হিমোগ্লোবিনের মাত্রা, MCV, MCH এবং অন্যান্য রক্তকণিকার সূচক মূল্যায়ন করা হয়। আয়রন ঘাটতিতে MCV ও MCH কম থাকতে পারে, তবে প্রাথমিক পর্যায়ে এগুলো স্বাভাবিকও থাকতে পারে।

‎২. Serum Ferritin: শরীরে সঞ্চিত আয়রনের পরিমাণ বোঝার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। ফেরিটিন কম থাকলে আয়রন ঘাটতির পক্ষে জোরালো প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে সংক্রমণ বা প্রদাহের কারণে ফেরিটিন স্বাভাবিক কিংবা বেশি থাকতে পারে।

‎৩. অন্যান্য পরীক্ষা: প্রয়োজন অনুযায়ী Transferrin Saturation (TSAT), CRP, রেটিকুলোসাইট কাউন্ট, পেরিফেরাল ব্লাড ফিল্ম এবং রক্তক্ষরণের সম্ভাব্য উৎস অনুসন্ধানের পরীক্ষা করা হতে পারে।

‎রোগীর বয়স, লিঙ্গ, উপসর্গ ও চিকিৎসার ইতিহাস বিবেচনা করে পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

‎প্রতিরোধে খাদ্যাভ্যাসের ভূমিকা

‎আয়রন ঘাটতি প্রতিরোধে সুষম ও বৈচিত্র্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দৈনন্দিন খাবারে রাখা যেতে পারে—

মাছ, মাংস ও উপযুক্ত ক্ষেত্রে কলিজা।

ডাল, ছোলা, মটরশুঁটি ও অন্যান্য ডালজাতীয় খাবার।

গাঢ় সবুজ শাকসবজি।

আয়রনসমৃদ্ধ বা আয়রন দিয়ে সমৃদ্ধ করা খাবার।

ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল, যেমন পেয়ারা, লেবু ও কমলা।

প্রাণিজ উৎসের আয়রন সাধারণত উদ্ভিজ্জ উৎসের আয়রনের তুলনায় সহজে শোষিত হয়। উদ্ভিজ্জ উৎসের আয়রনের সঙ্গে ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার খেলে আয়রন শোষণ বাড়তে পারে। খাবারের সঙ্গে চা বা কফি পান করলে আয়রন শোষণ কমতে পারে; তাই খাবারের কিছুটা আগে বা পরে এগুলো পান করা ভালো।

‎শুধু আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খেলেই সব ধরনের রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ করা যায় না। ভিটামিন বি১২, ফলেটের ঘাটতি, থ্যালাসেমিয়া এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগের কারণেও রক্তস্বল্পতা হতে পারে।

‎চিকিৎসা ও করণীয়

‎আয়রন ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতার চিকিৎসায় সাধারণত মুখে খাওয়ার আয়রন দেওয়া হয়। রোগীর অবস্থা, আয়রনের ঘাটতির মাত্রা, সহনশীলতা এবং শোষণক্ষমতা বিবেচনা করে চিকিৎসক ওষুধের ধরন ও মাত্রা নির্ধারণ করেন।

‎যাঁরা মুখে আয়রন সহ্য করতে পারেন না, যাঁদের আয়রন শোষণে সমস্যা রয়েছে অথবা যাঁদের দ্রুত আয়রন পূরণের প্রয়োজন, তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিরায় আয়রন দেওয়া যেতে পারে।

‎চিকিৎসার পাশাপাশি আয়রন ঘাটতির মূল কারণ খুঁজে বের করা অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘস্থায়ী রক্তক্ষরণ চলতে থাকলে শুধু আয়রন গ্রহণ করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

‎চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন আয়রন ট্যাবলেট খাওয়া উচিত নয়। সব ধরনের রক্তস্বল্পতায় আয়রন উপকারী নয়, আর অতিরিক্ত আয়রন শরীরের ক্ষতি করতে পারে।

‎জনসচেতনতা বাড়াতে হবে

‎একই সঙ্গে পুরুষদের রক্তস্বল্পতাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের আয়রন ঘাটতি দেখা দিলে সম্ভাব্য গোপন রক্তক্ষরণ বা অন্য কোনো রোগের কারণ অনুসন্ধান করা জরুরি।

‎উপসংহার

‎আয়রন ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধযোগ্য ও চিকিৎসাযোগ্য একটি স্বাস্থ্যসমস্যা। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, সময়মতো রোগ শনাক্তকরণ, যথাযথ চিকিৎসা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এর ক্ষতিকর প্রভাব কমানো সম্ভব।

লেখক: ‎ডা. শারমিন ইয়াসমিন

‎রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সালমান মুক্তাদিরের বাংলাদেশে বিনিয়োগ না করার সিদ্ধান্ত, স্টুডিও ভাঙচুরের পর অসন্তোষ প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০৬ পি.এম


সালমান মুক্তাদিরের বাংলাদেশে বিনিয়োগ না করার সিদ্ধান্ত, স্টুডিও ভাঙচুরের পর অসন্তোষ প্রকাশ

বাংলাদেশে কাজের পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ এবং নিজের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনার পর কনটেন্ট নির্মাতা ও ইউটিউবার সালমান মুক্তাদির নতুন করে বিনিয়োগ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি দেশে নিজের স্টুডিও পরিচালনার পরিকল্পনা থেকেও সরে এসেছেন।

সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিতে নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘গ্যাপ’-এর বিশেষ প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে সালমান তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান। শনিবার রাজধানীর মহাখালীর এসকেএস টাওয়ারের স্টার সিনেপ্লেক্সে প্রদর্শনীটি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও ব্যক্তিগত নানা বিষয় নিয়ে তিনি আলোচনা করেন।

বাংলাদেশে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সালমান জানান, দেশে থাকার পরিকল্পনা তার আগে থেকেই ছিল না। তবে স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনার পর তিনি বাংলাদেশে আর স্টুডিও পরিচালনা করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দেশে নতুন করে কোনো বিনিয়োগও করবেন না।

সালমান আরও জানান, সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজের বক্তব্য ও কিছু প্রস্তাব তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি আন্তরিকভাবে উদ্যোগ নিলেও এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাননি। তার ধারণা, সংশ্লিষ্টদের কাছে নিজের কথা পৌঁছানোর মতো পরিবেশ তৈরি হয়নি।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন এই কনটেন্ট নির্মাতা। তার মতে, এ বিষয়ে যাদের কথা বলা প্রয়োজন, তাদেরই মন্তব্য করা উচিত। সাধারণ মানুষ মূলত নিজেদের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই পরিস্থিতি বুঝতে পারে।

এদিকে ব্যক্তিগত জীবনেও কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন সালমান। স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বড় ধরনের সংকট মোকাবিলা করছেন বলে তিনি জানান। তবে অতীতের ক্ষতি নিয়ে পড়ে না থেকে প্রতিকূলতা কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার ওপরই গুরুত্ব দিচ্ছেন এই তারকা।

উল্লেখ্য, সালমান মুক্তাদিরের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিতে নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘গ্যাপ’ ইতোমধ্যে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের ছাড়পত্র পেয়েছে। ছবিটির বিশেষ প্রদর্শনীতে উপস্থিত হয়ে তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগ না করার সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক শামসুর রহমান ও স্বার্থসংশ্লিষ্টদের ৭ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০৮ পি.এম


ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক শামসুর রহমান ও স্বার্থসংশ্লিষ্টদের ৭ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী ও সম্পাদক এম শামসুর রহমান এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্টদের নামে থাকা সাতটি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির এই আদেশ প্রদান করেন।

এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) শামসুর রহমানের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার জন্য আবেদন করে।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে প্লেসমেন্ট শেয়ার কারসাজি ও প্রতারণার মাধ্যমে শেয়ারহোল্ডারদের হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ এবং হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগও তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে।

এই অভিযোগের পরবর্তী সময়ে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী ও সম্পাদক এম শামসুর রহমানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ যুক্ত করা হয়।

দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, অনুসন্ধানের সময় অভিযোগসংশ্লিষ্ট এম শামসুর রহমানের নামে থাকা ব্যাংক হিসাবগুলোর তথ্য পাওয়া গেছে।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, তিনি এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসব ব্যাংক হিসাবের অর্থ হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের চেষ্টা করছেন।

আবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, এসব অর্থ সরিয়ে ফেলতে সক্ষম হলে অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতায় মামলা দায়ের, আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল এবং বিচার শেষে অপরাধলব্ধ আয় থেকে অর্জিত সম্পদ সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার উদ্দেশ্য ব্যর্থ হতে পারে।

এ কারণে সুষ্ঠু অনুসন্ধান ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থে এম শামসুর রহমান ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন বলে আবেদন করে দুদক। শুনানি শেষে আদালত ব্যাংক হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অ্যান হ্যাথাওয়ের ‘ভেরিটি’ সিনেমা পেছনে ফেলেছে স্পাইডারম্যানকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:১০ পি.এম


অ্যান হ্যাথাওয়ের ‘ভেরিটি’ সিনেমা পেছনে ফেলেছে স্পাইডারম্যানকে

হলিউডের অভিনেত্রী অ্যান হ্যাথাওয়ের নতুন মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার সিনেমা ‘ভেরিটি’ মুক্তির পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। প্রেক্ষাগৃহে সফল ব্যবসার পর, সিনেমাটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও সাফল্যের ছাপ রাখছে। এমনকি জনপ্রিয় সুপারহিরো সিনেমা ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’কে পেছনে ফেলে দিয়েছে এটি।

‘ভেরিটি’ গত ২৭ অক্টোবর ডিজিটাল মাধ্যমে মুক্তি পায়। মুক্তির পরদিনই যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপল টিভি স্টোরের সিনেমা তালিকার শীর্ষস্থান দখল করে নেয় সিনেমাটি। অন্যদিকে, দ্বিতীয় স্থানে নেমে যায় টম হল্যান্ড অভিনীত ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। ডিজিটাল মাধ্যমে ভাড়া ও কেনার জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে তৈরি এই তালিকায় সিনেমাটির সাফল্য ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

কোলিন হুভারের জনপ্রিয় উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমায় অ্যান হ্যাথাওয়ের পাশাপাশি ডাকোটা জনসন ও জশ হার্টনেট অভিনয় করেছেন। সিনেমাটির কাহিনীতে দেখা যায়, লেখক লোয়েন অ্যাশলি একটি জনপ্রিয় লেখিকার অসমাপ্ত বইয়ের সিরিজ শেষ করার দায়িত্ব পান। এজন্য তাকে লেখিকা ভেরিটি ক্রফোর্ডের বাড়িতে অবস্থান করতে হয়। কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি এমন কিছু গোপন তথ্যের সন্ধান পান, যা পুরো ঘটনাকে রহস্যময় করে তোলে।

মাইকেল শোয়াল্টার পরিচালিত সিনেমাটি ২ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। সমালোচকদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেলেও, বক্স অফিসে এটি দারুণ সাফল্য অর্জন করেছে। বিশ্বজুড়ে সিনেমাটির আয় দাঁড়িয়েছে ১৬ কোটি ২৭ লাখ ডলারের বেশি, যেখানে নির্মাণব্যয় ছিল প্রায় ৪ কোটি ডলার।

বর্তমানে ‘ভেরিটি’ অ্যাপল টিভি, প্রাইম ভিডিওসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে ভাড়া ও কেনার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রাইম ভিডিওর নিয়মিত গ্রাহকদের জন্য সিনেমাটি দেখার নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা ওয়াসার পদ্মা প্রকল্পে ১৫৬২ কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:১০ পি.এম


ঢাকা ওয়াসার পদ্মা প্রকল্পে ১৫৬২ কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগ

ঢাকা ওয়াসার পদ্মা (যশলদিয়া) পানি শোধনাগার প্রকল্পে নিম্নমানের পাইপ ব্যবহারের ঘটনা, সরবরাহ লাইন নির্মাণের অভাব এবং নির্ধারিত পরিমাণ পানি সরবরাহ নিশ্চিত না করেই ঠিকাদারকে চূড়ান্ত বিল ও জামানত পরিশোধের অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মের ফলে ওয়াসা ও সরকারের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা বলে সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য ও হিসাব থেকে জানা গেছে।

অনুসন্ধানের ফলাফল অনুযায়ী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা, ঢাকা ওয়াসার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী তাকসিম এ খান, প্রকল্প পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম এবং চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ও পরামর্শক আজিজুল আকিল ডেভিডের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, তাঁদের যোগসাজশে কারিগরি আপত্তি উপেক্ষা করে নিম্নমানের পাইপ ব্যবহার এবং ঠিকাদারকে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

প্রকল্পে ক্ষতির হিসাব ১ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা

ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে পদ্মা নদীর পানি মুন্সীগঞ্জের যশলদিয়ায় শোধন করে ঢাকায় সরবরাহের লক্ষ্যে প্রকল্পটি নেওয়া হয়। প্রায় চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে প্রত্যাশিত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পাইপ কেনার ক্ষেত্রে ৫০০ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। ওয়ারেন্টির আওতায় থাকা ত্রুটি ওয়াসার অর্থে সংশোধন করার পরও ঠিকাদার ৩৬০ কোটি টাকার জামানত তুলে নেন। এ ছাড়া প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রয়োজনীয় সরবরাহ লাইন নির্মাণ করা সম্ভব হলেও তা করা হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ওয়াসার দেওয়া গড় উৎপাদনের হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পটিতে দৈনিক পানির ঘাটতি ২০ কোটি লিটার, যা নির্ধারিত পরিমাণের প্রায় ৪৪ শতাংশ। ২০১৯ সালের ১ জুন থেকে ২০২৬ সালের ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ২ হাজার ৭০৩ দিনে এই ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৪ হাজার ৬০ কোটি লিটার।

এই পানির ৯০ শতাংশ আবাসিক এবং ১০ শতাংশ বাণিজ্যিক গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করা যেত ধরে সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্য হিসাব করা হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই থেকে প্রতি হাজার লিটার পানির আবাসিক মূল্য ১৬ টাকা ৭০ পয়সা এবং বাণিজ্যিক মূল্য ৪৬ টাকা ২০ পয়সা ধরে সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৬২ কোটি টাকা।

পাইপ কেনায় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে উল্লেখ করা ৫০০ কোটি টাকা এর সঙ্গে যোগ করে মোট অঙ্ক দাঁড়ায় ১ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা। তবে এই হিসাব সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্য ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সমষ্টি; এটি নিরীক্ষিত নিট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ নয়।

আপত্তি জানানো প্রকৌশলীকে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ

প্রকল্পের পাইপের মান নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত ২০১৪ সালে। ওই বছরের ৯ অক্টোবর প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী এমএ রশীদ সিদ্দিকী কে-৯ ডাকটাইল পাইপ সরবরাহে আপত্তি জানিয়ে ঠিকাদারকে চিঠি দেন। ওই রাতেই তাকসিম এ খান ই-মেইলে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ই-মেইলের অনুলিপি দেওয়া হয় উপপ্রকল্প পরিচালক রফিকুল ইসলাম ও ডেভিডকে। পরে রশীদ সিদ্দিকীকে প্রকল্পের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রফিকুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তাঁদের অভিযোগ, কম দাম ও কম পুরুত্বের পাইপ কেনার বিষয়টি আড়াল করতে রশীদ সিদ্দিকীকে সরিয়ে অনুগত প্রকৌশলীদের চীনে পাইপ পরিদর্শনে পাঠানো হয়। দেশে আনার পর পাইপের মান বুয়েটে পরীক্ষা করানোর বাধ্যবাধকতাও মানা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

রশীদ সিদ্দিকী জানান, নিম্নমানের পাইপ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানোয় তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বুয়েটের মাধ্যমে পাইপ পরীক্ষার উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। তাঁর মতে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিম্নমানের পাইপ দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের ফল ভোগ করতে হচ্ছে নগরবাসী ও ওয়াসাকে।

পাঁচ পাম্প চালাতেই ফেটে যায় পাইপ

প্রকল্পের পূর্ণ সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য পাঁচটি পাম্প একসঙ্গে চালানো হলে ইনটেক ও শোধনাগারের মধ্যবর্তী সঞ্চালন লাইনের দুটি স্থানে পাইপ ফেটে যায় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এতে সড়ক ভেদ করে পানি উঠে আসে এবং একটি ভবনের দেওয়ালও ভেঙে পড়ে বলে তাঁদের দাবি। পরে পাইপ মেরামত করা হলেও পাঁচটি পাম্প একসঙ্গে চালিয়ে আর সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়নি বলে জানা গেছে।

প্রকল্পের নির্মাণপদ্ধতি নিয়েও আপত্তি উঠেছিল। প্রকল্প পরিচালক আনরিফাইন্ড সয়েল সিমেন্ট কলাম নির্মাণের প্রস্তাব দেন। তবে ডেনমার্কের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গ্রন্টমিজের টিম লিডার ও কন্ট্রাক্ট স্পেশালিস্ট বোদো গোপাট পদ্ধতিটিকে আন্তর্জাতিক মানসম্মত নয় জানিয়ে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় তাকসিম এ খান উত্তেজিত হন। পরে প্রতিষ্ঠানটি তাদের বিশেষজ্ঞকে ফিরিয়ে নেয়। এরপর তাকসিম, রফিকুল ও ডেভিড নিজেদের মতো করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

রফিকুল ও ডেভিডের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, প্রকল্পের অনিয়মের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া এবং তদন্তের উদ্যোগ থামানোর ক্ষেত্রে রফিকুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। জুলাই অভ্যুত্থানের পর তাকসিম এ খান পলাতক থাকলেও রফিকুল পদে বহাল ছিলেন এবং সম্প্রতি অবসরে গেছেন।

সূত্রের দাবি, অর্থের বিনিময়ে পদে টিকে থাকা এবং দুদকের তদন্ত থামানোর ক্ষেত্রে রফিকুল ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যরা ভারতের মুর্শিদাবাদে থাকেন এবং দুর্নীতির অর্থের একটি অংশ সেখানে বিনিয়োগ করা হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।

ডেভিডের বিরুদ্ধেও ঠিকাদারি কাজে প্রভাব বিস্তার ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি। বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ না করলেও নিজেকে প্রকৌশল বিশেষজ্ঞ ও বুয়েট অ্যালামনাই হিসেবে পরিচয় দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

একসময় ছোট ঠিকাদার হিসেবে কাজ করা ডেভিড তাকসিমের ঘনিষ্ঠ মহলের সহায়তায় বড় ব্যবসায়ী হয়ে ওঠেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বর্তমানে গুলশানে একটি ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটে বসবাস এবং ১১৭ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ের ইউনিক হাইটসে চার হাজার বর্গফুটের নিজস্ব কার্যালয় থাকার তথ্যও দিয়েছেন তাঁরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বর্তমান সরকারের সময়েও বিভিন্ন ব্যক্তিকে অর্থ দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন ডেভিড। আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই ব্যবসায়ী এখন বিএনপির ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও সূত্রের ভাষ্য।

তাকসিম, রফিকুল ও ডেভিডের মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম রয়েছে এবং সেখানে দুর্নীতির অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন। শেখ রেহানার বিরুদ্ধেও লন্ডনে অর্থ পাচারের তথ্য দিয়েছেন তাঁরা। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফল প্রকাশিত হয়নি।

পরামর্শক নিয়োগে চাপ দেওয়ার অভিযোগ

জানা গেছে, রফিকুল ইসলামের স্ত্রী ও ডেভিড ন্যাশনাল ডিজাইন অ্যান্ড কনসালট্যান্ট লিমিটেডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটিতে বুয়েট ছাত্রলীগের নেতা ও নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মো. আব্দুস সবুরসহ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত প্রকৌশলীরাও ছিলেন।

প্রতিষ্ঠানটি ওয়াসার সায়েদাবাদ প্রকল্প-২-এর ল্যান্ড ফিলিংসহ বিভিন্ন কাজ করেছে। সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পরামর্শক হিসেবে ডেভিডকে নিয়োগ দিতে রফিকুল চাপ দিয়েছিলেন। অভিযোগের বিষয়ে ডেভিড বলেন, সরকার এ বিষয়ে তদন্ত করছে। তদন্তে যাঁরা দোষী সাব্যস্ত হবেন, তাঁদের শাস্তি হওয়া উচিত। এ বিষয়ে আর কোনো ব্যাখ্যা দিতে চাননি তিনি।

দুর্নীতির তদন্ত ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন

নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ওয়াসার কর্মকর্তা, প্রকৌশলী, ঠিকাদার ও সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের অসাধু চক্র শত শত কোটি টাকার দুর্নীতি করেছে। গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়ীদের শাস্তির ব্যবস্থা করেনি। বর্তমান সরকারেরও তেমন উদ্যোগ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, পদায়নের ক্ষেত্রেও দুর্নীতিবাজরা এগিয়ে থাকছেন। এটি রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা। দায়ীদের শাস্তির পাশাপাশি প্রকল্পের সেবা নিশ্চিত করতে হবে। প্রকল্প থেকে প্রত্যাশিত সুফল না মিললেও বিদেশি ঋণের কিস্তি সরকারকে পরিশোধ করতে হচ্ছে।

ওয়াসা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ড. গোলাম মোস্তফা বলেন, শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট মোকাবিলায় বোর্ড বারবার সরবরাহ লাইন নির্মাণের প্রকল্প নিতে বলেছিল। অর্থের সংস্থান থাকলেও তাকসিম এ খান এ বিষয়ে পরামর্শ নেননি। এতে প্রকল্পের নির্মাণমান নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। কারিগরি নিরীক্ষা প্রয়োজন হলেও তখন তা করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, সরবরাহ নেটওয়ার্ক তৈরি করা হলে নির্ধারিত পরিমাণ পানি দিতে না পারার বিষয়টি প্রকাশ পেত। এ কারণে তাকসিম এ খান সরবরাহ লাইন নির্মাণে বাধা দিয়েছিলেন বলে তাঁদের অভিযোগ। এ বিষয়ে তাঁর ব্যক্তিগত নম্বরে ফোন ও খুদে বার্তা পাঠানো হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। গণ-অভ্যুত্থানের পর পলাতক অবস্থায় তিনি ই-মেইলে পদত্যাগ করেন। এরপর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বিগত সরকারের প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাট হয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটি তদন্ত করেছে এবং প্রতিবেদন দুদকে পাঠানো হয়েছে। দুদক বিস্তারিত তদন্ত করলে অনিয়ম বেরিয়ে আসবে। এরপর দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমান সরকার কোনো দুর্নীতিবাজকে ছাড় দেবে না বলেও তিনি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%