ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
০৭:২২ পি.এম
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় নিষিদ্ধ শাপলাপাতা মাছ বিক্রি এবং মাছে ক্ষতিকর কৃত্রিম রং মেশানোর দায়ে রিপন সরদার (৩২) নামের এক মাছ ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে ভাণ্ডারিয়া পৌর মাছ বাজারে এই অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুল হাসান।
দণ্ডপ্রাপ্ত মাছ ব্যবসায়ী রিপন সরদার উপজেলার ১ নম্বর ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের কাপালির হাট এলাকার সুলতান সরদারের ছেলে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে ভাণ্ডারিয়া মাছ বাজারে নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে অভিযান চালানো হয়। এ সময় নিষিদ্ধ শাপলাপাতা মাছ বিক্রি এবং সাধারণ মাছে ক্ষতিকর রং মিশিয়ে তাজা দেখানোর অপরাধে ওই ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৪২ ধারায় অপরাধ স্বীকার করায় তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান শেষে জব্দকৃত নিষিদ্ধ শাপলাপাতা মাছ এবং রং মিশ্রিত মাছগুলো মাটিতে পুঁতে বিনষ্ট করা হয়। এছাড়া অভিযানে জব্দ হওয়া অন্যান্য সাধারণ মাছ স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।
অভিযান পরিচালনাকালে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, কোস্টগার্ডের ভাণ্ডারিয়া কন্টিনজেন্ট কমান্ডার রাজু আহমেদসহ কোস্টগার্ডের অন্য সদস্যরা উপস্থিত থেকে সহযোগিতা করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হাসান জানান, জনস্বার্থে এবং ভোক্তা অধিকার রক্ষায় ভেজাল ও নিষিদ্ধ পণ্যের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এমন অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়া নিয়ে জটিলতার কারণে ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির যুক্তরাষ্ট্রে একটি পারিবারিক সফর বাতিল করেছেন বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) ইসরাইলি গণমাধ্যমের একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে মিডল ইস্ট মনিটর।
এছাড়া সংবাদমাধ্যম হারেৎজ জানিয়েছে, ভিসা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বায়োমেট্রিক আঙুলের ছাপ দিতে বেন-গভিরকে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হতে হবে বলে মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে।
ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই শর্তটি তার ‘ভিসা অনুমোদনে অনীহার ইঙ্গিত’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
বেন-গভির তার উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে প্রায়ই সংবাদ শিরোনামের বিষয় হয়ে থাকেন, যা ব্যাপক সমালোচনা ও আন্তর্জাতিক নিন্দার জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দক্ষ নেতৃত্ব ও সমান সুযোগের মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে আরও গতিশীল করা হবে। আজ নবনিযুক্ত বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যোগদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্য সচিবকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে স্বাগত জানান। এছাড়া, তিনি নবনিযুক্ত সচিবকে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন।
সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত পরিচয়পর্বে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব, উপসচিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিচয়পর্বে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, নবনিযুক্ত সচিবের একাডেমিক ও পেশাগত অভিজ্ঞতা, এবং পূর্বে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার করবে।
তিনি আরও বলেন, দক্ষ নেতৃত্ব, সমন্বিত টিমওয়ার্ক এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আগামী দিনে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের একাধিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। এসব গুরুত্বপূর্ন আলোচনায় আরও দক্ষতার সঙ্গে অংশগ্রহণের জন্য এফটিএ টিমকে সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে।
এছাড়া, নতুন দক্ষ জনবল ও বিশেষায়িত দক্ষতা সংযোজন করা হবে। তিনি জানান, ভবিষ্যতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হলে আরও বড় ও দক্ষ টিম গঠন করতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি ও দক্ষতা উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়া হবে।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন সহযোগী সংস্থাও এ বিষয়ে বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সবার প্রতি ন্যায়সংগত আচরণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মেধাবী ও যোগ্য কর্মকর্তারা তাঁদের দক্ষতা ও সম্ভাবনা পূর্ণভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ পান।
কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে যোগ্য ব্যক্তিদের উৎসাহিত করতে হবে।
তিনি বাণিজ্য সচিবের উদ্দেশ্যে বলেন, আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস, আপনার একাডেমিক ও কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা আপনাকে দক্ষতার সঙ্গে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা দিয়েছে। আপনার নেতৃত্বে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আগামী দিনে আরও গতিশীল, দক্ষ এবং ফলাফলমুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।
নবনিযুক্ত বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেন, বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা, আগামী অর্থবছরের পরিকল্পনা এবং পাঁচ বছর মেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যসমূহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
এসময় তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর সংস্থা সমূহের সক্ষমতা, চলমান এগ্রিমেন্ট, পলিসি ও ট্রিটি সম্পর্কে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রণালয়ের নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।
আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, কৃষি, শিল্প, শ্রম ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যেসব আন্তঃমন্ত্রণালয় বিষয় রয়েছে, সেগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
বিদেশে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক মিশনগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী এসব মিশনকে আরও লক্ষ্যভিত্তিক ও ফলাফলনির্ভর হতে হবে। এছাড়া, নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে মিশনগুলোর কর্মদক্ষতা নিয়মিত মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব, উপসচিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেট মহানগরীর সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে জাল দলিল ব্যবহার করে জমি রেজিস্ট্রির চেষ্টা করার সময় দুই দালালকে আটক করা হয়। তাদের পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে এ ঘটনা ঘটে।
দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন কামরুল ইসলাম (৪৮) ও তার সহযোগী মিটু (৪০)। যে তথ্য জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট মহানগরীর সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে কামরুল ইসলাম ও সহযোগী মিটু জাল দলিল তৈরির মাধ্যমে জমি রেজিস্ট্রির জন্য লেখা একটি দলিল সাব-রেজিস্ট্রার মিনহাজ উদ্দিনের কাছে জমা দেন। পরে, দলিলটির পর্যালোচনা করার সময় সাব-রেজিস্ট্রারের সন্দেহ সৃষ্টি হলে, মিনহাজ উদ্দিন তাৎক্ষণিকভাবে তাদের আটক করেন।
পরে, বিষয়টি সিলেট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলিম উল্লা খানকে অবহিত করা হলে তিনি ঘটনাস্থলে এসে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। আদালত জাল দলিল প্রস্তুত ও ব্যবহারের অপরাধে কামরুল ইসলাম ও মিটুকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে।
এ বিষয়ে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি লোকমান মিয়া বলেন, আটক হওয়া দুইজন সদর দলিল লেখক সমিতির সদস্য নন এবং তারা কোনো দলিল লেখকও নন। এখানে কর্মরত কোন দলিল লেখক তাদের চেনেন না। তিনি জানান, শুনেছেন যে তারা মূলত দালাল হিসেবে কাজ করতেন। জাল দলিল লেখার অপরাধে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের দুই মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ