ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দক্ষ নেতৃত্ব ও সমান সুযোগের মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে আরও গতিশীল করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী


দক্ষ নেতৃত্ব ও সমান সুযোগের মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে আরও গতিশীল করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দক্ষ নেতৃত্ব ও সমান সুযোগের মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে আরও গতিশীল করা হবে। আজ নবনিযুক্ত বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যোগদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্য সচিবকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে স্বাগত জানান। এছাড়া, তিনি নবনিযুক্ত সচিবকে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন।

সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত পরিচয়পর্বে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব, উপসচিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: প্যারিসের গুলির ঘটনাকে ‘বর্ণবাদী সন্ত্রাসী’ হামলা বললেন মাখোঁ

পরিচয়পর্বে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, নবনিযুক্ত সচিবের একাডেমিক ও পেশাগত অভিজ্ঞতা, এবং পূর্বে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার করবে।

তিনি আরও বলেন, দক্ষ নেতৃত্ব, সমন্বিত টিমওয়ার্ক এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আগামী দিনে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের একাধিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। এসব গুরুত্বপূর্ন আলোচনায় আরও দক্ষতার সঙ্গে অংশগ্রহণের জন্য এফটিএ টিমকে সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে।

এছাড়া, নতুন দক্ষ জনবল ও বিশেষায়িত দক্ষতা সংযোজন করা হবে। তিনি জানান, ভবিষ্যতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হলে আরও বড় ও দক্ষ টিম গঠন করতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি ও দক্ষতা উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: জাতীয় ইমাম সমিতির ত্রিবার্ষিক কাউন্সিল আজ, ধর্মমন্ত্রীর উপস্থিতি

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন সহযোগী সংস্থাও এ বিষয়ে বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সবার প্রতি ন্যায়সংগত আচরণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মেধাবী ও যোগ্য কর্মকর্তারা তাঁদের দক্ষতা ও সম্ভাবনা পূর্ণভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ পান।

কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে যোগ্য ব্যক্তিদের উৎসাহিত করতে হবে।

তিনি বাণিজ্য সচিবের উদ্দেশ্যে বলেন, আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস, আপনার একাডেমিক ও কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা আপনাকে দক্ষতার সঙ্গে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা দিয়েছে। আপনার নেতৃত্বে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আগামী দিনে আরও গতিশীল, দক্ষ এবং ফলাফলমুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।

আরও পড়ুন: গাজীপুরে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষককে মারধর, শিশুর বাবার বিচার দাবি

নবনিযুক্ত বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেন, বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা, আগামী অর্থবছরের পরিকল্পনা এবং পাঁচ বছর মেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যসমূহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

এসময় তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর সংস্থা সমূহের সক্ষমতা, চলমান এগ্রিমেন্ট, পলিসি ও ট্রিটি সম্পর্কে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রণালয়ের নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।

আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, কৃষি, শিল্প, শ্রম ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যেসব আন্তঃমন্ত্রণালয় বিষয় রয়েছে, সেগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।

আরও পড়ুন: খাগড়াছড়িতে অবরোধ চলছে, দূরপাল্লার যানবাহন বন্ধ

বিদেশে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক মিশনগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী এসব মিশনকে আরও লক্ষ্যভিত্তিক ও ফলাফলনির্ভর হতে হবে। এছাড়া, নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে মিশনগুলোর কর্মদক্ষতা নিয়মিত মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব, উপসচিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাল দলিল দিয়ে জমি রেজিস্ট্রির চেষ্টা, সিলেটে দুই দালালের শাস্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:২৭ পি.এম


জাল দলিল দিয়ে জমি রেজিস্ট্রির চেষ্টা, সিলেটে দুই দালালের শাস্তি

সিলেট মহানগরীর সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে জাল দলিল ব্যবহার করে জমি রেজিস্ট্রির চেষ্টা করার সময় দুই দালালকে আটক করা হয়। তাদের পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে এ ঘটনা ঘটে।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন কামরুল ইসলাম (৪৮) ও তার সহযোগী মিটু (৪০)। যে তথ্য জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট মহানগরীর সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে কামরুল ইসলাম ও সহযোগী মিটু জাল দলিল তৈরির মাধ্যমে জমি রেজিস্ট্রির জন্য লেখা একটি দলিল সাব-রেজিস্ট্রার মিনহাজ উদ্দিনের কাছে জমা দেন। পরে, দলিলটির পর্যালোচনা করার সময় সাব-রেজিস্ট্রারের সন্দেহ সৃষ্টি হলে, মিনহাজ উদ্দিন তাৎক্ষণিকভাবে তাদের আটক করেন।

পরে, বিষয়টি সিলেট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলিম উল্লা খানকে অবহিত করা হলে তিনি ঘটনাস্থলে এসে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। আদালত জাল দলিল প্রস্তুত ও ব্যবহারের অপরাধে কামরুল ইসলাম ও মিটুকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে।

এ বিষয়ে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি লোকমান মিয়া বলেন, আটক হওয়া দুইজন সদর দলিল লেখক সমিতির সদস্য নন এবং তারা কোনো দলিল লেখকও নন। এখানে কর্মরত কোন দলিল লেখক তাদের চেনেন না। তিনি জানান, শুনেছেন যে তারা মূলত দালাল হিসেবে কাজ করতেন। জাল দলিল লেখার অপরাধে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের দুই মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে সবুজ অবকাঠামো নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:২৯ পি.এম


আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে সবুজ অবকাঠামো নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আজ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন, চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলে সবুজ ও টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে, সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা চালু এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বাধ্যতামূলক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

একনেকের আজকের সভায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় পরিবেশগত সমস্যা সমাধান এবং প্রকল্পের নকশায় টেকসই জ্বালানি সমাধান অন্তর্ভুক্ত করার শর্তে ‘চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলের জন্য সহায়ক অবকাঠামো প্রকল্প’ অনুমোদন করা হয়।

সভা শেষে রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এ তথ্য জানান। উল্লেখ্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে একনেকের এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করার লক্ষ্যে, প্রায় ৪ হাজার ১৮৯ কোটি ৪৫ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ব্যয়ে ‘সাপোর্টিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্ট ফর চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ প্রকল্পটি অনুমোদন করেছে একনেক।

মোট প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি ৪৫ লাখ ৯৭ হাজার টাকার, সরকারের অবদান হবে ১ হাজার ৭২২ কোটি ১৯ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। বাকি ২ হাজার ৪৬৭ কোটি ২৬ লাখ ১২ হাজার টাকা প্রকল্প ঋণ ও অনুদান থেকে আসবে।

প্রকল্প প্রস্তাব পর্যালোচনার সময়, প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থাসমূহকে প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ включ করতে নির্দেশ দেন।

তিনি আধুনিক পরিবেশগত মান ও প্রটোকল অনুসরণ করে, শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রী একটি আধুনিক বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) স্থাপনের নির্দেশ দেন এবং বলেন, পরিশোধনের পর শোধিত পানি যেন পুনরায় ব্যবহারযোগ্য হয়।

তিনি মূল প্রকল্প প্রস্তাবের ত্রুটিগুলো দূর করে, প্রকল্প নকশায় কোনো পরিবেশগত ঘাটতি যাতে না থাকে তা নিশ্চিত করার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

এছাড়া, প্রকল্পে সৌরভিত্তিক নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে। পরিচ্ছন্ন ও টেকসই জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে পুরো শিল্পাঞ্চলে সৌর প্যানেল স্থাপনেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এই জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, উন্নত পানি শোধন ও পুনর্ব্যবহার সুবিধা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সংযুক্তি সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের শর্তে, প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পরিকল্পনায় বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোকে এসব পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই পদক্ষেপগুলোর প্রতিফলন ঘটাতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে চামড়া বাণিজ্যে সংকট, দুশ্চিন্তায় আড়তদাররা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:২৯ পি.এম


চট্টগ্রামে চামড়া বাণিজ্যে সংকট, দুশ্চিন্তায় আড়তদাররা

চট্টগ্রামে পশুর চামড়া নিয়ে বিপদে পড়েছেন আড়তদাররা। কোরবানির ঈদ শেষ হওয়ার ১৯ দিন পরেও সংগৃহীত পশুর চামড়া বিক্রি করতে পারছেন না তারা। সাধারণত কোরবানির ঈদের প্রথম কিংবা দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে লবণযুক্ত চামড়াগুলো ঢাকার আড়তদার ও ট্যানারি মালিকরা সংগ্রহ করেন। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন।

অনেক ট্যানারি চামড়া কিনতে চাইলেও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দামে কেনার চেষ্টা করছে। এজন্য বিক্রি করতে পারছেন না চট্টগ্রামের প্রক্রিয়াজাতকারীরা। গত কোরবানির ঈদে চট্টগ্রাম মহানগর ও ১৫ উপজেলায় চার লাখ চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কোরবানি দাতারা ১’শ থেকে ৩’শ টাকায় সেই চামড়া বিক্রি করেছেন। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ৪ লাখ ১১ হাজার ৪৪০টি কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করে লবণ দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করেন আড়তদাররা। এর মধ্যে গরুর চামড়া ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৬৯০টি, ছাগলের চামড়া ৫৩ হাজার ৮’শটি এবং মহিষের চামড়া ১১ হাজার ৯৫০টি রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সংগৃহীত এসব চামড়ার পাশাপাশি চট্টগ্রাম অঞ্চলে অনেকে পর্যাপ্ত দাম না পেয়ে বিনামূল্যে কিছু চামড়া বিভিন্ন এলাকায় এতিমখানায় দান করেছেন। আবার অনেকেই কাঁচা চামড়া ঝামেলা এড়াতে ঈদের দিনেই ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছেন। এছাড়া মফস্বল এলাকা থেকে সংগৃহীত চামড়ার দাম না পেয়ে বহু মৌসুমী ব্যবসায়ী রাস্তায় ফেলে চলে গেছেন। পরে সিটি করপোরেশন সেগুলো পরিষ্কার করে।

এই পরিস্থিতিতে সংগৃহীত চামড়াগুলি নগরীর আতুরার ডিপো এলাকায় কাঁচা চামড়ার আড়তে লবণ দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করেছেন আড়তদাররা। সাধারণত কোরবানির ঈদের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ঢাকা থেকে ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনে নিয়ে যান। কিন্তু এবার ঢাকার ব্যবসায়ীরা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দামে চামড়া কিনতে চাইছেন।

আড়তদার সমিতির নেতাদের মতে, অনেক আড়তদার নিজেদের গুদামে চামড়া প্রক্রিয়াজাত করেছেন। তবে অন্যরা প্লাস্টিকের ত্রিপল দিয়ে অস্থায়ী গুদাম তৈরি করে লবণ দিয়ে কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাত করেছেন। দ্রুত সময়ে চামড়া বিক্রি না করতে পারলে সামনে বর্ষা মৌসুম আসার ফলে বৃষ্টির পানির বিষয়েও চিন্তিত হয়ে পড়েছেন তারা।

আড়তদাররা জানান, এবারের ঈদে ঢাকার বাইরের জন্য ট্যানারি মালিক ও সরকার কোরবানির পশুর চামড়ার নির্ধারিত দাম ছিল প্রতি বর্গফুট ৫৬-৬২ টাকা। কিন্তু বর্তমানে ঢাকা থেকে আসা ক্রেতারা ৩৫-৪০ টাকার বেশি মূল্য দিতে নারাজ। সাধারণত প্রতিটি চামড়ায় নষ্ট অংশ হিসেবে ২০-২৫ শতাংশ বাদ দিয়ে হিসেব করা হয়। এই পরিস্থিতিতে চরম লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছেন চট্টগ্রামের আড়তদাররা।

বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. মুসলিম উদ্দিন জানিয়েছেন, কোরবানির আগে সরকার পশুর চামড়া সংগ্রহে নানা উদ্যোগ নিলেও পরবর্তীতে আর খোঁজ রাখছে না। মাঠপর্যায়ে চামড়া সংগ্রহ করেন আড়তদাররা, কিন্তু সরকার সকল সুবিধা প্রদান করে ট্যানারি মালিকদের। এভাবে ট্যানারিগুলো চামড়া সংগ্রহের জন্য নির্ধারিত দামের অর্ধেকের কাছাকাছি দানে আগ্রহী হচ্ছে। ফলে আড়তদাররা ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার উপক্রম হয়েছে।

সমিতির সহসভাপতি মুহাম্মদ শাহজাহান জানিয়েছেন, ঢাকার ট্যানারিগুলোর কাছে চট্টগ্রামের আড়তদারদের বিগত বছরগুলোর ২০ কোটি টাকার উপরে বকেয়া পাওনা আছে। এজন্য অনেকেই পুঁজি হারিয়ে ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। ১৫০টি আড়ত থেকে ৩০টি আড়তে নেমে এসেছে। বর্তমানে ট্যানারিগুলো সিন্ডিকেট করে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দামে চামড়া কিনতে চাচ্ছে। এর ফলে বাকী আড়তদাররাও ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

জানা গেছে, এক সময় চট্টগ্রামে বেশ কয়েকটি ট্যানারি ছিল। কিন্তু বর্তমানে একটি মাত্র ট্যানারি টিকে আছে। ফলে ঢাকার ট্যানারির দিকে নির্ভর করে ব্যবসা চালাতে হয় চট্টগ্রামের আড়তদারদের। কিন্তু বিভিন্ন সংকটের মুখোমুখি হয়ে এখানকার সম্ভাবনাময়ী চামড়াখাত ধুঁকে ধুঁকে চলছে। বিশেষ করে করোনা মহামারির প্রভাবে চামড়া খাত আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এর সঙ্গে লবণের দাম বৃদ্ধি, ঢাকার ট্যানারি মালিকদের পুরনো বকেয়া পরিশোধ না করায় পুঁজির ঘাটতি, শ্রমিক ও পরিবহণ ব্যায় বৃদ্ধি নিয়ে দুশ্চিন্তা তাদের পিছু ছাড়ছে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেত্রকোনায় গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩০ পি.এম


নেত্রকোনায় গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

 

নেত্রকোনায় গাঁজা ও নগদ অর্থসহ সুমন পাঠান (৩৬) নামে এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানে সোমবার রাতে ৪ কেজি তিনশ গ্রাম গাঁজা ও ১৩ হাজার নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হক জানিয়েছেন, আটককৃত কারবারি উপজেলার বানিয়াজান ইউনিয়নের মোবারকপুর গ্রামের (পাঠানবাড়ি) মতি পাঠানের ছেলে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

এ সময় বিভিন্ন পরিমাণ গাঁজা বিভিন্নভাবে মোড়ানো প্যাকেটসহ নগদ অর্থ উদ্ধার করে অভিযানিক দল। আটককৃত কারবারির বিরুদ্ধে আটপাড়া থানায় পরিদর্শক মো. আল আমিন বাদী হয়ে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

মামলা দায়ের করে থানায় হস্তান্তর পূর্বক আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%