০৯:৩৩ এম
বিভিন্ন দেশ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পেতে ২২ হাজার প্রবাসীর আবেদন নির্বাচন কমিশন (ইসি) বাতিল করে দিয়েছে।
যথাযথ না হওয়ায় তাদের আবেদন বাতিল করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
গতকাল শনিবার (২০ জুন) এনআইডি শাখার কর্মকর্তারা এই বিষয়টি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ঈশ্বরদীতে জমি বিরোধে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ, বিচার দাবি
প্রবাসীদের আবেদন সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালে শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত মোট ৮৯ হাজার ৮৯৭টি নিবন্ধন আবেদন পড়েছে। বায়োমেট্রিক প্রদান করেছেন ৫৩ হাজার ২২৯ জন। এখন তদন্তের পর অনুমোদনের অপেক্ষায় এমন আবেদনের সংখ্যা হচ্ছে ২ হাজার ৯৭৮টি।
তদন্তের পর ৪৭ হাজার ১৩২টি আবেদন অনুমোদন পেয়েছে। বাতিল হয়েছে ২২ হাজার ৩৫২টি আবেদন। সার্ভারে তথ্য আপলোডের অপেক্ষায় রয়েছে ১০ হাজার ১৪১ জনের আবেদন। আপলোড করা হয়েছে ৩৭ হাজার ১৬ জনের আবেদন।
এছাড়া আবেদন অনুমোদনের পর এনআইডি প্রিন্ট করা হয়েছে ২২ হাজার ১৮টি। সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে যা বিতরণ করা হচ্ছে।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবী ও দুবাই; সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দা; যুক্তরাজ্যের লন্ডন, ম্যানচেষ্টার ও বার্মিংহাম; ইতালির রোম ও মিলান; কুয়েতের কুয়েত সিটি; কাতারের দোহা; মালয়েশিয়ার কুলালামপুর; অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা ও সিডনি; কানাডার অটোয়া ও টরেন্টো; জাপানের টোকিও; আমেরিকার নিউইয়র্ক, মিয়ামি, ওয়াশিংটন ডিসি ও লসঅ্যাঞ্জেলস; মালদ্বীপের মালে; ওমানের মাসকাট; দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়াসহ মোট ১৪টি দেশের ২৪টি স্টেশনে ভোটার তালিকা ও এনআইডি বিতরণ কার্যক্রম চলছে।
আরও পড়ুন: নায়ক মান্নার গাড়িতে আগুন, গ্রেফতার দুজন কারাগারে
কর্মকর্তারা বলছেন, আবেদন বাতিল হলেও অশুভ পরিণতি নেই। পুনরায় আবেদন করা যাবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে সবচেয়ে বেশি ভোটার আবেদন এসেছে, যা সংখ্যা ২৩ হাজার ৯৪০টি। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে সবচেয়ে কম আবেদন জমা পড়েছে, যা ১২৬টি। সৌদি আরবে জমা পড়েছে ৬ হাজার ৩৫২টি আবেদন। যুক্তরাজ্যে ১৭ হাজার ৩০টি আবেদন এসেছে। ইতালিতে ৯ হাজার ৩৮টি আবেদন জমা পড়েছে। কুয়েতে ৫ হাজার ৫৭৩টি আবেদন জমা হয়েছে। কাতারে ৫ হাজার ৪০৬টি আবেদন এসেছে। মালয়েশিয়া থেকে ১ হাজার ৮৩৩টি আবেদন জমা পড়েছে। অস্ট্রেলিয়াতে ১ হাজার ২০৬টি আবেদন জমা পড়েছে। কানাডায় ৩ হাজার ২৯৮টি আবেদন জমা পড়েছে। জাপানে ৩০৯টি এবং যুক্তরাষ্ট্রে ১৬ হাজার ৮১২টি আবেদন জমা পড়েছে। মালদ্বীপে ২৯৮টি আবেদন এসেছে ও ওমান থেকে আবেদন এসেছে ২ হাজার ২৪৬টি।
প্রবাসীদের জন্য চারটি তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলকতাহলে বিদেশে বসে ভোটার হওয়ার জন্য অনলাইনে পূরণকৃত আবেদনপত্র (ফরম-২(ক), মেয়াদ সম্বলিত বাংলাদেশি পাসপোর্ট/মেয়াদহীন পাসপোর্ট/এনআইডিধারী তিন নাগরিকের প্রত্যয়ন, অনলাইন জন্ম নিবন্ধন এবং পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি বাধ্যতামূলকভাবে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কেন্দ্রে (দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট ডেস্কে) জমা দিতে হবে।
এদিকে বিশেষ ৫৬টি উপজেলা/থানার (চট্টগ্রাম অঞ্চল) নাগরিকদের জন্য ‘বিশেষ তথ্য ফরম’ পূরণ, শিক্ষা সনদ, বাবা-মার এনআইডি, মৃত হলে মৃত্যু সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স/টিআইএন (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), কতিপয় দেশের ক্ষেত্রে দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), নিকাহনামা এবং স্বামী-স্ত্রীর এনআইডি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), নাগরিকত্ব সনদ (কাউন্সিলর, চেয়ারম্যান/মেয়র/সিইও কর্তৃক), ইউটিলিটি বিলের কপি (ভোটার এলাকার ঠিকানার বিদ্যুৎ/পানি/গ্যাস বিলের কপি), ভাড়াটিয়া হলে বাড়ি ভাড়ার চুক্তিপত্র এবং বাড়িওয়ালার অনাপত্তিপত্র জমা দিতে হবে।
আরও পড়ুন: ঘিওরের ধলেশ্বরী নদীতে দুই দিন নিখোঁজ বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার
বাধ্যতামূলক নয়, এমন তথ্যগুলো নিবন্ধন কেন্দ্রে জমা দিতে না পারলে প্রবাসী নাগরিকরা দেশে বসবাসকারী তাদের আত্মীয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উপজেলা কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে পারবেন। প্রবাসীরা সংশ্লিষ্ট দেশে বসে ভোটার হওয়ার ফরম পূরণ করলে এবং সব তথ্য সঠিক থাকলে নির্বাচন কমিশন ওই ব্যক্তির উপজেলায় তদন্ত করে সঠিকতা নিশ্চিত করেন। এরপর তথ্যের সঠিকতা পেলে সেই ব্যক্তির আবেদন অনুমোদন করেন এবং ভোটার করে নেওয়া হয়। একই সাথে তার এনআইডি সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন