মঠবাড়িয়া ( পিরোজপুর) প্রতিনিধি
০২:১৫ পি.এম
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার টিকিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের নিকট প্রশাসক নজরুল ইসলাম এবং ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা আশুতোষ হালদারের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে অভিযোগগুলো ছড়ানো হয়েছে, সেগুলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলছে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত সদস্যরা। গতকাল বুধবার রাত ৮টায় অনুষ্ঠিত টিকিকাটা ইউনিয়নের নির্বাচিত ইউপি সদস্যদের আয়োজনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবাদ জানানো হয়, যা লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ইউপি সদস্য জসীম মাতুব্বর উল্লেখ করেন, ইউনিয়ন পরিষদের সমস্ত উন্নয়নমূলক প্রকল্প সম্পূর্ণ নিয়ম অনুসরণ করে পরিষদের রেজুলেশনের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়। এখানে কোনো একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। তারা পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দরিদ্রদের জন্য ভিজিএফের চাল ও মৎস্য খাতের চাল বিতরণের বিষয়ে বলেন, পিরোজপুর-০৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি, মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তাসহ সকল ইউপি সদস্যদের উপস্থিতিতে সভা করে সঠিক নিয়মে এই চাল বিতরণ করা হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদের খাদ্য গুদামে চাল মজুত রাখার বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদান করে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গুদামে অতি সামান্য পরিমাণ চাল অবশিষ্ট ছিল। দূরবর্তী এলাকা থেকে যেসকল মৎস্যজীবী ও কার্ডধারী উপকারভোগী সময়মতো উপস্থিত হতে পারেননি, সেই চাল মূলত তাদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। পরবর্তী সময়ে সেই চালও প্রকৃত কার্ডধারীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। এখানে কোনো ধরনের অনিয়ম বা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আসাদুন নবী রাজীবের আনা অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করা হযেছে। ইউপি সদস্যরা অভিযোগ করেন, আসাদুন নবী রাজীব অন্যান্য সদস্যদের তুলনায় বেশি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন, সত্ত্বেও অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রশাসক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
রাজীবের 'কোনো কাজ না পাওয়ার' অভিযোগকে নাকচ করে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় যে, প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে ১২ জন ইউপি সদস্যের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে বেশি কাজ এবং সুবিধা পেয়েছেন। রাজীব ব্যক্তিগতভাবে ১২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকার উন্নয়ন প্রকল্প এবং ১৩.৯ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পেয়েছেন।
ইউপি সদস্যরা দাবি করে বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করতে না পেরে এবং ইউনিয়ন পরিষদের সুনাম ক্ষুণ্ণ করতেই এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে, এবং তারা এর জন্য তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের কাউখালীতে উপজেলা ভূমি অফিসে সংঘটিত চুরির ঘটনার দুই মাস অতিক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও এখনো চুরি হওয়া নগদ অর্থ এবং মালামাল উদ্ধার করা যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চোরদের শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অফিস সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা গেছে, গত ২৭ এপ্রিল গভীর রাতে কাউখালী উপজেলা ভূমি অফিসে চুরির একটি ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার সময় অফিস থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের সাথে প্রায় ২ লাখ টাকা নগদ অর্থ এবং নানা মালামাল চুরি হয়ে যায়। ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও দীর্ঘ সময় যাওয়ার পর এখনও মামলার উল্লেখযোগ্য বা সন্তোষজনক কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, এসআই মহিউদ্দিন এই ঘটনার তদন্ত করছেন। চোর শনাক্ত করার এবং চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার করার লক্ষ্যে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আমরা আশাবাদি যে খুব শীঘ্রই এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন সম্ভব হবে।
কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আসাদুজ্জামান বলেছেন, উপজেলা ভূমি অফিসে সংঘটিত এটিই একটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক ঘটনা। বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভাবেই দেখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম অবিরত রাখছে। আমরা আশা করছি, অচিরেই প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনরক্ষা করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার প্রতিরোধে সরকারী অফিসগুলোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হাফেজ মাসুম বিল্লাহ বলেন, “সরকারি গুরুত্বপূর্ণ একটি দপ্তরে চুরির ঘটনা সাধারণ জনগণের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। দুই মাস পেরিয়ে গেলেও চোর ধরা না পড়ায় অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে। আমরা দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের গ্রেপ্তার এবং চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার করার দাবি জানাচ্ছি।”
এলাকাবাসীরা মনে করেন, সরকারি অফিসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করলে ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় এক দশক পর অভিযোগপত্র দাখিল হওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বস্তি প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক আশা প্রকাশ করেছে যে দ্রুত ও ন্যয়সঙ্গত বিচারের মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির একটি বড় অংশ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এ কথা বলেছেন।
এর আগে সিআইডির মুখপাত্র জসীমউদ্দিন খান জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলার খসড়া অভিযোগপত্র (চার্জশিট) পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ প্রস্তুত করেছে। এই আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় দেশি-বিদেশি মোট ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। প্রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার এই খসড়া অভিযোগপত্রটি চূড়ান্ত আইনি পরামর্শের জন্য এরই মধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলায় ১০ বছরের বেশি সময় পর খসড়া অভিযোগপত্র প্রস্তুত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ। দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় করা অভিযোগপত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ বাংলাদেশের ১০ জন এবং ভারত, শ্রীলঙ্কা ও চীনের নাগরিকসহ দেশি-বিদেশি ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা হয়েছে।
অভিযোগপত্র অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে হস্তান্তর করে আইনি পরামর্শ চেয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় যাচাই-বাছাই করছে। আইনি পরামর্শ পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
১০১ মিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ চুরির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান ছাড়াও সাবেক ডেপুটি গভর্নর আবুল কাশেম, সাবেক নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা, সাবেক নির্বাহী পরিচালক মেজবাউল হক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিস এ খান, সাবেক মহাব্যবস্থাপক এ এফ এম আসাদুজ্জামান, উপপরিচালক জোবায়ের বিন হুদার নামও অভিযোগপত্রে উল্লেখ আছে। অভিযুক্ত ভারতীয়দের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন আইটি উপদেষ্টা রাকেশ আস্থানার নাম রয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অজ্ঞাতনামা হ্যাকাররা নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ১০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার চুরি করে। এর মধ্যে ৮১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপীনের আরসিবিসি ব্যাংকে থাকা চারটি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয় এবং বাকি ২০ মিলিয়ন ডলার শ্রীলঙ্কার একটি ব্যাংকে পাঠানো হয়।
তবে হ্যাকারদের বানান ভুলের কারণে শ্রীলঙ্কায় ২০ মিলিয়ন ডলার স্থানান্তরের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক ফিলিপাইন থেকে প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলার পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এই ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন উপ-পরিচালক (হিসাব ও বাজেটিং) জোবায়ের বিন হুদা ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ মতিঝিল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
বর্তমানে মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ তদন্ত করছে। গতবছর সিআইডি জানিয়েছিল, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলায় ফিলিপীনের আরসিবিসি ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্রুততম সময়ে এই অর্থ বাংলাদেশে ফেরত আনা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গত দুই বছরের মধ্যে ইউক্রেন রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর ওপর সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আগুন লেগেছে এবং রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়েছে।
সিএনএন এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পর্যন্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মস্কোগামী অন্তত ১৯৪টি ড্রোন রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা ভূপাতিত করা হয়েছে। এটা সাম্প্রতিক মাসগুলোর তুলনায় অনেক বড় একটি হামলা, যেখানে সাধারণত ড্রোনের সংখ্যা দুই অঙ্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র মস্কোতে নয়, দেশটির অন্যান্য অঞ্চলে চালানো হামলায় মোট ৫৫৫টি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে।
ড্রোন হামলার কারণে মস্কোর প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে সাময়িকভাবে উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলাকে রাশিয়ার হামলার জবাবে একটি ‘ন্যায্য প্রতিক্রিয়া’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ইউক্রেনের শহর ও জনপদে রুশ হামলার প্রতিষেধক হিসেবেই এসব অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল মস্কোর কাপোতনিয়া এলাকার তেল শোধনাগার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সেখানে ঘন কালো ধোঁয়া এবং বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা গেছে। এছাড়া রাজধানীর একটি আবাসিক ভবন, একটি ব্যায়ামকেন্দ্র এবং দক্ষিণ রাশিয়ার কিছু অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
আক্রমণের ফলস্বরূপ রাশিয়াও ইউক্রেনে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া মোট ৭টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৩৯টি ড্রোন ছুড়ে মেরেছে। এতে একটি ব্যক্তিগত বাড়ি, জ্বালানি অবকাঠামো, একটি হ্যাঙ্গার এবং তেল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগার, সামরিক স্থাপনা, নৌঘাঁটি ও জ্বালানি ডিপো লক্ষ্য করে একাধিক দূরপাল্লার ড্রোন হামলা পরিচালনা করেছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ইউরোপের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে মিলিত হন। সেখানে উত্তর আটলান্টিক জোটের মহাসচিব মার্ক রুটে জানান, ইউক্রেনকে প্রয়োজনীয় অস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।
তিনি আরও দাবি করেন, যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়া প্রতি মাসে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার সেনা হারাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ইউক্রেনের জন্য আরও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও সামরিক সহায়তার বিষয়েও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ১২৭ বার পিছিয়ে আগামী ২২ জুলাই দিন ধার্য করেছে আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল।
তবে ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজিজুল হক প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। এই কারণে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী এ দিন নির্ধারণ করেছেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের সাব-ইন্সপেক্টর রফিকুল ইসলাম রাসেল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এই মামলার আসামিরা হলেন– রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুন, আবু সাঈদ, সাগর-রুনির বাড়ির দুই নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদ এবং তাদের ‘বন্ধু’ তানভীর রহমান খান।
এই আসামিদের মধ্যে তানভীর জামিনে রয়েছে। পলাশ রুদ্র পাল জামিন নিয়ে পলাতক। অন্যদিকে অপর আসামিরা বর্তমানে কারাগারে আছে।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনিকে হত্যা করা হয়।
এরপর নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
প্রথমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ওই থানার এক উপ-পরিদর্শক (এসআই)। চারদিন পরে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয় ডিবি। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে একই বছরের ১৮ এপ্রিল হত্যা মামলাটির তদন্তভার র্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর দম্পতি সাগর ও রুনি হত্যার ঘটনায় করা মামলার তদন্তে বিভিন্ন বাহিনীর অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশও দেওয়া হয়। একইসঙ্গে মামলার তদন্ত থেকে র্যাবকে সরিয়ে দেওয়ারও আদেশ প্রদান করা হয়। গত বছরের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্টের নির্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন নিরাপত্তা বিভাগ থেকে টাস্কফোর্স গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে ৪ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ