প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গত দুই বছরের মধ্যে ইউক্রেন রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর ওপর সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আগুন লেগেছে এবং রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়েছে।
সিএনএন এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পর্যন্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মস্কোগামী অন্তত ১৯৪টি ড্রোন রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা ভূপাতিত করা হয়েছে। এটা সাম্প্রতিক মাসগুলোর তুলনায় অনেক বড় একটি হামলা, যেখানে সাধারণত ড্রোনের সংখ্যা দুই অঙ্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র মস্কোতে নয়, দেশটির অন্যান্য অঞ্চলে চালানো হামলায় মোট ৫৫৫টি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে।
ড্রোন হামলার কারণে মস্কোর প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে সাময়িকভাবে উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলাকে রাশিয়ার হামলার জবাবে একটি ‘ন্যায্য প্রতিক্রিয়া’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ইউক্রেনের শহর ও জনপদে রুশ হামলার প্রতিষেধক হিসেবেই এসব অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল মস্কোর কাপোতনিয়া এলাকার তেল শোধনাগার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সেখানে ঘন কালো ধোঁয়া এবং বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা গেছে। এছাড়া রাজধানীর একটি আবাসিক ভবন, একটি ব্যায়ামকেন্দ্র এবং দক্ষিণ রাশিয়ার কিছু অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
আক্রমণের ফলস্বরূপ রাশিয়াও ইউক্রেনে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া মোট ৭টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৩৯টি ড্রোন ছুড়ে মেরেছে। এতে একটি ব্যক্তিগত বাড়ি, জ্বালানি অবকাঠামো, একটি হ্যাঙ্গার এবং তেল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগার, সামরিক স্থাপনা, নৌঘাঁটি ও জ্বালানি ডিপো লক্ষ্য করে একাধিক দূরপাল্লার ড্রোন হামলা পরিচালনা করেছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ইউরোপের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে মিলিত হন। সেখানে উত্তর আটলান্টিক জোটের মহাসচিব মার্ক রুটে জানান, ইউক্রেনকে প্রয়োজনীয় অস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।
তিনি আরও দাবি করেন, যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়া প্রতি মাসে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার সেনা হারাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ইউক্রেনের জন্য আরও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও সামরিক সহায়তার বিষয়েও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন