প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ বুধবার একটি বড় প্রতিরক্ষা নীতি বিল অল্প ব্যবধানে পাস করেছে। যদিও ডেমোক্র্যাটরা বিলটির বিপুল ব্যয়, ইরান যুদ্ধ এবং ইসরায়েলের সঙ্গে পেন্টাগনের সম্পর্ক আরো জোরদার করার কিছু বিধান নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন, তবুও বিলটি অনুমোদন পেয়েছে।
২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় প্রতিরক্ষা অনুমোদন আইন (এনডিএএ) এর অধীনে মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য রেকর্ড ১.১৫ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি ২১৬-২১২ ভোটে পাস হয়েছে। ভোটাভুটি মোটামুটি দলীয় লাইনে হয়েছে, যেখানে সাতজন রিপাবলিকান ছাড়া বাকি সবাই বিলটির পক্ষে ভোট দান করেন।
অন্যদিকে, ছয়জন ডেমোক্র্যাট ছাড়া দলের প্রায় সবাই বিলটির বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। ডেমোক্র্যাটের মতে, সামাজিক কর্মসূচিতে ব্যয় কমানোর সময় পেন্টাগনের জন্য এত বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ দেয়া যুক্তিসংগত নয়। তারা ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন। পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে।
রিপাবলিকানদের মতে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করা, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো, নতুন অস্ত্র ও সরঞ্জাম কেনা এবং সেনাসদস্যদের বেতন বৃদ্ধি করার জন্য এই বিপুল ব্যয় অপরিহার্য। বিলটিতে সৈন্যদের জন্য সর্বাধিক ৭ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি, নতুন ব্যারাক এবং পারিবারিক আবাসন নির্মাণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
যাইহোক, ডেমোক্র্যাটরা বিলটির একটি ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতা আরো বিস্তৃত করবে। তাদের মতে, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে বিপুল সংখ্যক ফিলিস্তিনির বেসামরিক নাগরিক মৃত্যুর কারণে অনেক মার্কিন নাগরিক, বিশেষভাবে বামপন্থিরা, ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন এড়ানোর প্রস্তাব দিচ্ছেন।
এদিকে, কংগ্রেসে দীর্ঘ সময় ধরে সহজেই পাস হওয়া এই ‘অবশ্যই পাসযোগ্য’ প্রতিরক্ষা বিলটি ২০২৬ সালে অনুমোদন পেতে আরও বেশি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে। মার্কিন জাতীয় প্রতিরক্ষা অনুমোদন আইন (এনডিএএ) দীর্ঘকাল ধরে কংগ্রেসে একটি ‘অবশ্যই পাসযোগ্য’ বিল হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে। গত ৬৫ বছর ধরে এটি নিয়মিতভাবে কংগ্রেসে পাস হয়ে আইনে পরিণত হয়েছে।
তবে এবার বিলটি বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। সামরিক বাজেটের বিশাল আকার, ইরান যুদ্ধ, ইসরায়েল ও ইউক্রেনকে সহায়তা এবং ট্রান্সজেন্ডার সেনাসদস্যদের অধিকার সহ বিভিন্ন ইস্যুতে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে তীব্র মতভেদ রয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে, কারণ রিপাবলিকানরা বিলটির সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-সমর্থিত ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ যুক্ত করার পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
এই আইনটি ভোটদানের নিয়ম আরো কঠোর করার প্রস্তাব দেয়। তবে সিনেটে এটি পাসের জন্য পর্যাপ্ত সমর্থন না থাকায় এনডিএএ-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। গত সপ্তাহে সিনেটের ডেমোক্র্যাটরা এনডিএএ-এর সিনেট সংস্করণ আটকে দেন। তবে রিপাবলিকান নেতারা আগস্টের বিরতির আগে বিলটি আবারও এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টার অঙ্গীকার করেছেন।
এনডিএএ পাসের প্রক্রিয়া এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। প্রতি বছর প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট আলাদাভাবে নিজেদের সংস্করণ পাস করে। এরপর উভয় কক্ষের আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতা সংস্করণ তৈরি করা হয়, যা পরে আবার প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে ভোটের জন্য তোলা হয়। শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত বিলটি কংগ্রেসে পাস হলে তা অনুমোদন বা ভেটোর জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে পাঠানো হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন