০৫:২৩ পি.এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল-আশুগঞ্জ এবং বিজয়নগর উপজেলার অংশগুলোর তরুণ সমাজকে ধর্মীয় উগ্রবাদ, অপপ্রচার ও সামাজিক বিভাজন থেকে দূরে রেখে ইসলামের প্রকৃত শান্তির বাণী এবং নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করণের উদ্দেশ্যে স্থানীয় মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোকে মূল ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, এ তথ্য জানিয়েছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।
তিনি জানান, সোমবার (১৩ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৩তম দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্যে জানান।
রুমিন ফারহানার লিখিত প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সরাইল-আশুগঞ্জ এবং বিজয়নগর উপজেলার অংশ বিশেষের ধর্মীয় উগ্রবাদ এবং সামাজিক বিভাজন প্রতিরোধে তরুণদের জন্য সচেতনতামূলক ধর্মীয় শিক্ষা ও সম্প্রীতি কার্যক্রম গ্রহণ বিষয়ে সরকার কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
এসময় ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, ‘সংসদ সদস্যের নির্বাচনি এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) এবং বিজয়নগর উপজেলার অংশগুলোর সামাজিক শান্তি, সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা অক্ষুণ্ণ রাখতে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক এবং এই লক্ষ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে নানামুখী সচেতনতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। উক্ত অঞ্চলের তরুণ সমাজকে ধর্মীয় উগ্রবাদ, অপপ্রচার ও সামাজিক বিভাজন থেকে দূরে রেখে ইসলামের প্রকৃত শান্তির বাণী ও নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে স্থানীয় মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোকে মূল ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।’
মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ আরও বলেন, ‘যুবসমাজের মনস্তাত্ত্বিক উন্নয়ন ও উগ্রবাদ প্রতিরোধের জন্য স্থানীয় আলেম, ওলামা, ইমাম এবং খতিবদের মাধ্যমে জুমার খুতবা, নিয়মিত ধর্মীয় সেমিনার ও সম্প্রীতি সভার আয়োজন করা হচ্ছে। এখানে উগ্রবাদ ও গুজবের কুফল সম্পর্কে তরুণদের সচেতন করা হয়।
এছাড়া, উক্ত এলাকার সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি সুদৃঢ় রাখতে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ ও সম্প্রীতি সমাবেশ নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয় এবং ভবিষ্যতে সংসদ সদস্যের পরামর্শ ও সক্রিয় সহযোগিতায় যুব সমাজের জন্য এই ধরনের সচেতনতামূলক নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক সম্প্রীতি কার্যক্রম আরও বেগবান করার পরিকল্পনা সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে।
এছাড়া, কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ জানিয়েছেন, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে সচেতনামূলক কার্যক্রমে পুরোহিত ও সেবাইত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়ে থাকে। ধর্মীয় উগ্রবাদ ও সামাজিক বিভাজন প্রতিরোধে তরুণদের জন্য সচেতনামূলক ধর্মীয় শিক্ষা ও সম্প্রীতি বৃদ্ধির জন্য ছাত্র-যুবাদের জন্য নীতি-নৈতিকতা বিষয়ক কর্মশালা খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট নিয়মিত আয়োজন ও বাস্তবায়ন করে থাকে।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
এছাড়া, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সচেতনতা বৃদ্ধিকরণ’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন