০৫:২৫ পি.এম
গবেষণা, উদ্ভাবন এবং মেধাস্বত্ব সুরক্ষা জোরদারের উদ্দেশ্যে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) এর মাঝে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) নোবিপ্রবি উপাচার্যের কার্যালয়ে এই সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়। স্মারকে নোবিপ্রবির পক্ষে স্বাক্ষর করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী এবং অন্যদিকে ডিপিডিটি’র পক্ষে স্বাক্ষর করেন মহাপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন।
পরে নোবিপ্রবি ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলে (আইকিউএসি) নোবিপ্রবির বিভিন্ন অনুুষদের ডিনবৃন্দ, বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক ও গবেষকবৃন্দের অংশগ্রহণে ট্রেনিং অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এই ট্রেনিংয়ের মূল বিষয় ছিল 'পেটেন্টস টেকনোলজি এন্ড ইনোভেশন সাপোর্ট সেন্টার (TISC) সার্ভিসেস'।
আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার সময় নোবিপ্রবি উপাচার্য বলেন, এই যৌথ অংশীদারিত্বের মাধ্যমে নোবিপ্রবির গবেষকদের পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্ক সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা পাওয়ার সুযোগ হবে। এছাড়াও, এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাস্বত্ব বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের উদ্ভাবনের পেটেন্ট সুরক্ষা সহজতর হবে।
এ সময় উপাচার্য আরও বলেন, প্রশিক্ষণ, জ্ঞান বিনিময় এবং গবেষণাগার ব্যবহারে সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘শুধুমাত্র সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাঝে এর কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখতে হবে না। আমরা সরকারের ভিশনকে সামনে রেখে দ্রুত নোবিপ্রবিতে 'পেটেন্টস টেকনোলজি এন্ড ইনোভেশন সাপোর্ট সেন্টার (টিআইএসসি)’ চালু করব, যেখানে সমস্ত সুবিধা ও প্রয়োজনীয় জনবল কাঠামো থাকবে।' প্রশিক্ষণ পর্বে উপাচার্য গবেষণায় বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ তথা আইপি সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
কর্মশালায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী জানান, গবেষণায় কারো মৌলিক অবদান যেন অন্য কেউ নিজের দাবি করতে না পারে, সেজন্য এই চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে।
প্রশিক্ষণ পর্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে নোবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম পেটেন্ট ও মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় সমঝোতা চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে আমাদের গবেষণা ক্ষেত্রে নতুন একটি মাত্রা যুক্ত হলো। গবেষকের মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করা সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন: তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন
কর্মশালায় রিসোর্স পার্সন হিসেবে বক্তব্য রেখেছেন ডিপিডিটির মহাপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি জানান, 'বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষক ও উদ্ভাবকদের পেটেন্ট, শিল্প-নকশা এবং ট্রেডমার্ক নিবন্ধনে সহযোগিতা দিতে সরকার কাজ করছে। যদি ইনোভেশন সাপোর্ট সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে গবেষণা ও উদ্ভাবনের পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে। গবেষকেরা আন্তর্জাতিক পেটেন্ট তথ্য এবং প্রযুক্তিগত সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।'
নোবিপ্রবি ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন এবং টিআইএসসি’র ফোকাল পয়েন্ট অধ্যাপক ড. মো. আবদুল কাইয়ুম মাসুদ বলেন, 'টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন সাপোর্ট সেন্টার নোবিপ্রবিতে গবেষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবন এবং নকশার জন্য প্যাটেন্ট বা ট্রেডমার্ক নিবন্ধনে প্রয়োজনীয় আইনি ও কারিগরি পরামর্শ প্রদান করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি প্রতিষ্ঠিত হলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক ও উদ্ভাবকদের মেধাস্বত্ব সুরক্ষা, প্যাটেন্ট অনুসন্ধান এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে গবেষণাকে বাণিজ্যিক রূপ দেওয়া যাবে। এটি একাডেমিক গবেষণাকে বাস্তব ও অর্থনৈতিক সফলতায় রূপান্তরের একটি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে। এ ছাড়াও, এর মাধ্যমে ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেক্চুয়াল প্রপার্টি অর্গানাইজেশন এর সঙ্গে নোবিপ্রবি গবেষকদের একটি ব্রিজ তৈরি হবে।'
নোবিপ্রবি আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুন নবীর সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণ পর্বে রিসোর্স পার্সন হিসেবে ছিলেন ডিপিডিটি’র উপ-পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান এবং লুব-রেফ বাংলাদেশ লিমিটেড (BNO Lubricants) এর পরিচালক মো. সালাউদ্দিন ইউসুফ। এছাড়াও সেখানে টিআইএসসি’র সাচিবিক দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা, নোবিপ্রবি জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তরের সহকারী পরিচালক (তথ্য ও জনসংযোগ) ইফতেখার হোসাইনও উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে ‘দাদা ভাই বাহিনী’র বন্দুকযুদ্ধে ৫ জেলে উদ্ধার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন