ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পাকিস্তান-ভিয়েতনামের পথে বাংলাদেশেও সৌরবিপ্লবের সম্ভাবনা


পাকিস্তান-ভিয়েতনামের পথে বাংলাদেশেও সৌরবিপ্লবের সম্ভাবনা

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নীতি ও প্রতিশ্রুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে চলতি বাজেটে এই খাতের জন্য নেওয়া কয়েকটি বড় সিদ্ধান্ত সেই চিত্র বদলে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

এই বাজেটে সরকার সৌর প্যানেল, ইনভার্টার, লিথিয়াম ব্যাটারি, ডিসি কেবল এবং মাউন্টিং স্ট্রাকচার-সহ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণের ওপর আরোপিত সব ধরনের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করেছে। এর ফলে এসব যন্ত্রপাতির ওপর কার্যকর শুল্কের বোঝা প্রায় ২০ শতাংশ থেকে শূন্যে নেমে গেছে।

এছাড়া অন্যান্য সৌর উপকরণের ওপর থাকা কাস্টমস ও নিয়ন্ত্রক শুল্কও শূন্য করা হয়েছে। ব্যাটারি আমদানির ক্ষেত্রে ৬১ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত যে শুল্ক ছিল, সেটিও তুলে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক সৌরবিদ্যুৎ বিনিয়োগে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত পূর্ণ আয়কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। যারা বাড়ি, প্রতিষ্ঠান বা শিল্পকারখানায় সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করবেন, তারা বিদ্যুৎ বিলে ৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব পদক্ষেপ বাংলাদেশে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের বড় ধরনের সম্প্রসারণ ঘটাতে পারে।

শুল্ক কমানোর ফলে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। আগে যেখানে ১ মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে খরচ হতো প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৪ কোটি টাকা, এখন তা নেমে আসবে আনুমানিক ২ কোটি ৭৫ লাখ থেকে ৩ কোটি টাকায়। অর্থাৎ ব্যয় কমতে পারে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ।

এক কিলোওয়াট-ঘণ্টা ক্ষমতার যে ব্যাটারির দাম আগে প্রায় ৩০০ মার্কিন ডলার ছিল, শুল্ক প্রত্যাহারের পর সেটি প্রায় ১৬০ ডলারে পাওয়া সম্ভব হতে পারে। একইভাবে ১ মেগাওয়াট সৌর প্রকল্পে বিদেশি মুদ্রায় ব্যয় কমবে প্রায় ৪০ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫০ লাখ টাকার সমান।

দেশের অন্যতম বড় সৌর প্যানেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওমেরা সোলারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহিম বলেন, "অতীতে আমরা শুধু স্বপ্ন দেখেছি এবং আলোচনা করেছি। এখন সরকার বাস্তব পদক্ষেপ নিয়েছে।"

আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ

খাতসংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশে নতুন করে প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা যুক্ত হতে পারে। এর ফলে পাকিস্তান-ভিয়েতনাম ধাঁচের একটি অর্থনৈতিক উত্থানের সম্ভাবনা রয়েছে, যা এক দশকের মধ্যে বাংলাদেশের জ্বালানি মিশ্রণকে আমূল পরিবর্তন করে দেবে।

পাকিস্তান ও ভিয়েতনামের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য পাকিস্তান ও ভিয়েতনামের সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণ একটি বড় উদাহরণ হতে পারে। পাকিস্তানে গত কয়েক বছরে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। দেশটিতে বর্তমানে আনুমানিক ৩৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ২৫ হাজার মেগাওয়াট বিকেন্দ্রীভূত ও গ্রিড-সংযুক্ত স্থাপনা।

২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেলে পাকিস্তান আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার চাপে পড়ে। এরপর সরকার সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জামের আমদানি শুল্ক কমিয়ে দেয়। এর ফল হিসেবে দেশটির জ্বালানি মিশ্রণে সৌরবিদ্যুতের অংশ ২০২০ সালের ২ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে ৩২ দশমিক ৩ শতাংশে উঠে এসেছে।

বর্তমানে পাকিস্তানের প্রতি চারটি পরিবারের একটি কোনও না কোনওভাবে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। এর ফলে দেশটি জ্বালানি আমদানিতে শত শত কোটি মার্কিন ডলার সাশ্রয় করতে পারছে।

আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের

ভিয়েতনামের ক্ষেত্রেও বিষয়টি ছিল সমানভাবে চমকপ্রদ। ২০১৮ সালেও দেশটির সৌরবিদ্যুৎ খাত প্রায় শূন্যের কাছাকাছি ছিল। বিদ্যুতের ক্রমাগত দাম বৃদ্ধি এবং আকর্ষণীয় নীতিগত সুবিধা দেশটির সৌর খাতকে দ্রুত এগিয়ে দিয়েছে। এর ফলে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ১৯ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে, যা দেশটিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম সৌর উৎপাদকে পরিণত করেছে।

বাংলাদেশের জন্য এখনই উপযুক্ত সময় বাংলাদেশেও বর্তমানে সৌরবিদ্যুতের অর্থনৈতিক সুবিধা সুস্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যেখানে শিল্প খাতে গ্রিড বিদ্যুতের দাম অফ-পিক সময়ে প্রতি ইউনিট ১১ টাকা ৫৬ পয়সা এবং পিক সময়ে প্রায় ১৬ টাকা পর্যন্ত পড়ে, সেখানে শুল্ক ছাড়ের ফলে, ছাদভিত্তিক সৌর প্রকল্প ২০ বছর মেয়াদে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ প্রায় ৩ টাকার মধ্যে রাখা সম্ভব হতে পারে। যা বিদ্যুতের গ্রিড মূল্যের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। সুতরাং এর অর্থনৈতিক দিকটি এখন আর প্রান্তিক নয়। বরং তা অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও লাভজনক।

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ)-এর প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, "যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ছাদ বা অব্যবহৃত জায়গা রয়েছে, তারা দ্রুত সৌরবিদ্যুতে যেতে আগ্রহী হবে। আর্থিক সক্ষমতা থাকা গ্রামীণ গ্রাহকরাও এতে যুক্ত হতে পারেন।"

সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণ শুধু বিদ্যুৎ খাত নয়, দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আরও পড়ুন: হাসিনার পতনের আগে ইউনূসকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান করেন শফিকুল আলম

ওমেরা সোলারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহিমের হিসাব অনুযায়ী, পাঁচ বছরের মধ্যে শিল্পকারখানায় ৪ হাজার মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা সম্ভব হলে গ্রিড বিদ্যুতের ওপর চাপ কমবে এবং সরকার বছরে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ভর্তুকি কমাতে পারবে।

বর্তমানে সরকার প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে প্রায় ৪ থেকে ৬ টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি দিচ্ছে।

এছাড়া প্রতি ৫০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি ডলার পর্যন্ত আমদানি ব্যয় সাশ্রয় হতে পারে। ১ হাজার মেগাওয়াট হলে এই সাশ্রয় দ্বিগুণ হবে।

সরকার আগামী পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে। এর মধ্যে শিল্পকারখানার ছাদ থেকেই ৪ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন সম্ভব বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন সময়সীমা ১ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়াল ইসি

বড় চ্যালেঞ্জ মান নিয়ন্ত্রণ তবে এই সম্ভাবনার পাশাপাশি একটি বড় ঝুঁকিও রয়েছে, সেটি হচ্ছে নিম্নমানের যন্ত্রপাতি।

আমদানি শুল্ক শূন্য করার ফলে বাজারে সস্তা কিন্তু নিম্নমানের সৌর প্যানেল, ব্যাটারি ও ইনভার্টারের প্রবেশ বাড়তে পারে। এসব পণ্য দ্রুত নষ্ট হলে গ্রাহকদের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে।

শফিকুল আলম বলেন, "টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনকে (বিএসটিআই) নিশ্চিত করতে হবে যেন মানহীন পণ্য বাজারে প্রবেশ করতে না পারে। তা না হলে গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং সৌরবিদ্যুতের প্রতি আস্থা কমে যেতে পারে।"

যদি নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো আমদানি পর্যায়ে পণ্যের মান নিশ্চিত করতে না পারে, তবে সৌরশক্তিকে সবার জন্য সহজলভ্য করার উদ্দেশ্যে নেওয়া শুল্ক মওকুফের ফলে বাজার সস্তা ও অবিশ্বস্ত সরঞ্জামে ছেয়ে যেতে পারে এবং বাংলাদেশের সৌরশক্তির এই যুগান্তকারী মুহূর্তটি একটি ব্যর্থতার উদাহরণ বা উপাখ্যানে পরিণত হতে পারে।

আরও পড়ুন: রাজউকের ১২৬৯ ভবনের মালিককে চূড়ান্ত নোটিশ, নির্দেশনা না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থা

পরিশেষে বলা যায়, সরকার কর্তৃক গৃহীত নীতিটি সঠিক। এর অর্থনৈতিক দিকটিও সঠিক। জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা এবং ক্রমবর্ধমান গ্রিড খরচের প্রেক্ষিতে, এখনকার চেয়ে ভালো উপযুক্ত সময় আর হতে পারে না। বাংলাদেশ এই মুহূর্তটি কাজে লাগাবে নাকি নষ্ট করবে, তা শুল্ক হ্রাসের ওপর নির্ভর করবে না, বরং সেই কর্তৃত্বের ওপর নির্ভর করবে, যারা নিশ্চিত করবে যে চট্টগ্রাম বন্দরে যা এসে পৌঁছায় তা কারখানার ছাদে স্থাপনের যোগ্য কি না। সৌজন্যে: টিবিএস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ৬ নেতা-কর্মী আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:৪৬ এম


নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ৬ নেতা-কর্মী আটক

ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের ছয় নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি-দক্ষিণ)।

শনিবার (১৩) জুন দুপুরে জেলা গোয়েন্দা শাখার (দক্ষিণ) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সফিকুল ইসলাম সুমন এই তথ্য জানিয়েছেন।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন কলাতিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. আবুল কাশেম (৬০), কলাতিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের কর্মী জহিরুল ইসলাম (৩৮), কলাতিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক আমান মিয়া (৬১), কলাতিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য মো. সাদ্দাম হোসেন (৪০), কলাতিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য শেখ আতিকুল ইসলাম (৪০) এবং চুড়াইন ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি কবির মোল্লা (৫৫)।

তিনি জানান, শুক্রবার (১২ জুন) দিবাগত রাত দেড়টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত কেরানীগঞ্জ মডেল থানার কলাতিয়া বাজার এলাকায় ডিবি পুলিশের একটি টিম অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করে।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সক্রিয় সদস্য হিসেবে সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (দক্ষিণ) ইনচার্জ সফিকুল ইসলাম সুমন জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের যে কোন ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাউনিয়া থানার অভিযানে ১১৯ পিস ইয়াবাসহ আটক ১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:৪৯ এম


কাউনিয়া থানার অভিযানে ১১৯ পিস ইয়াবাসহ আটক ১

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কাউনিয়া থানার বিশেষ অভিযানে ১১৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে।

বিএমপি মিডিয়া সেল সূত্রে জানা যায়, কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সনজীত “চন্দ্র নাথের”নেতৃত্বাধীন একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৩ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে কাউনিয়া থানাধীন খালপাড় সড়ক এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানকালে সজল গাজী (৩০) নামে এক ব্যক্তির হেফাজত থেকে ১১৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে আটক করা হয়। আটক সজল গাজী খালপাড় এলাকার মৃত কামরু গাজীর ছেলে।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২ হাজারের বেশি মানুষের নাগরিকত্ব বাতিল করল কুয়েত সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:৫২ এম


২ হাজারের বেশি মানুষের নাগরিকত্ব বাতিল করল কুয়েত সরকার

কুয়েত সরকার আরও ২ হাজার ১৯৩ জন ব্যক্তির কুয়েতি নাগরিকত্ব বাতিলের আদেশ প্রকাশ করেছে। সরকারি গেজেট কুয়েত আল-ইয়াওম-এ প্রকাশিত সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়া নির্ভরশীলদের নাগরিকত্বও বাতিল করা হয়েছে।

রোববার (১৪ জুন) দেশটির সংবাদ মাধ্যম দৈনিক আরব টাইমস এ খবর প্রকাশ করেছে। মূলত ২০২৪ সালের মার্চ মাস থেকে নাগরিকত্ব ফাইল পুনঃতদন্ত ও পর্যালোচনার এই ব্যাপক কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর থেকে কুয়েতের সুপ্রিম কমিটি ফর টি ইনভেস্টিগেশন অব কুয়েতী ন্যাশনালিটি ধারাবাহিকভাবে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত পুরোনো ফাইল পুনরায় যাচাই করে আসছে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৯ হাজার ৪৬৪ জনের নাগরিকত্ব বাতিল বা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। এরপর ২০২৫ ও ২০২৬ সালে বিভিন্ন ধাপে আরও হাজার হাজার মানুষের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে যে, ২০২৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৭০ হাজারেরও বেশি ব্যক্তি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়েছেন, কারণ একজনের নাগরিকত্ব বাতিল হলে তার সন্তান ও নির্ভরশীলদের নাগরিকত্বও বাতিল হয়ে যায়। তবে সরকারিভাবে সব নির্ভরশীলের সমন্বিত সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।

কুয়েতের ১৯৫৯ সালের ১৫ নং জাতীয়তা আইন অনুযায়ী বিভিন্ন অধ্যাদেশে কয়েকটি প্রধান কারণে নাগরিকত্ব বাতিল বা প্রত্যাহার করা হয়।

দ্বৈত নাগরিকত্ব

কুয়েত সাধারণভাবে দ্বৈত নাগরিকত্ব অনুমোদন করে না। অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে কুয়েতি নাগরিকত্ব হারানোর বিধান রয়েছে।

জালিয়াতি ও ভুয়া তথ্য

জাল কাগজপত্র, মিথ্যা তথ্য প্রদান অথবা প্রতারণার মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জনের অভিযোগে বহু নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে।

জাতীয় নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের প্রশ্ন

রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড, সন্ত্রাসী অর্থায়ন, জাতীয় নিরাপত্তা লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত না থাকার অভিযোগেও নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে।

বিশেষ আইনি ধারা অনুযায়ী পুনর্মূল্যায়ন

বিশেষ করে বিবাহ, নির্ভরশীলতা বা ব্যতিক্রমী প্রাকৃতিকীকরণ প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের ফাইল নতুন করে যাচাই করা হচ্ছে।

কুয়েত সরকার বলছে, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো নাগরিকত্ব ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ করা, জালিয়াতি রোধ করা এবং জাতীয় পরিচয়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। সম্প্রতি জাতীয়তা আইনেও সংশোধন এনে নাগরিকত্ব প্রদান ও বাতিলের বিধান আরও কঠোর করা হয়েছে।

অন্যদিকে মানবাধিকার কর্মী ও বিভিন্ন পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে বহু পরিবার নাগরিকত্ব, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, চাকরি এবং সামাজিক সুবিধা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে। বিশেষ করে যাদের পরিবার কয়েক প্রজন্ম ধরে কুয়েতে বসবাস করছে, তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাগুরছড়া ট্র্যাজেডির ২৯ বছর পূর্তি: এখনও ক্ষতিপূরণ মেলেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সিলেট প্রতিনিধি

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:৫৬ এম


মাগুরছড়া ট্র্যাজেডির ২৯ বছর পূর্তি: এখনও ক্ষতিপূরণ মেলেনি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাগুরছড়া ট্র্যাজেডির ২৯ বছর আজ রোববার (১৪ জুন ২০২৬ই)। আজও ক্ষতিপূরণ মেলেনি। ১৪ জুন ২০২৬ই বাংলাদেশের জ্বালানি ইতিহাসের একটি বেদনাবিধুর দিন। ১৯৯৭ সালের এই দিনে মাগুরছড়া গ্যাসক্ষেত্রে সংঘটিত ভয়াবহ বেল্টা-আউট শুধুমাত্র একটি শিল্প দুর্ঘটনা ছিল না, এটি ছিল দেশের গ্যাস সম্পদ, পরিবেশ-প্রতিবেশ, বনাঞ্চল, জীববৈচিত্র্য এবং জাতীয় অর্থনীতির ওপর বহুমাত্রিক আঘাত। রোববার সেই ঘটনার ২৯ বছর পূর্ণ হলেও ক্ষতিগ্রস্ত জনগণ, পরিবেশ এবং রাষ্ট্র এখনো ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের প্রত্যাশায় রয়েছে। এখনও বাংলাদেশ সেই বিপর্যয়ের জন্য দায়ী মার্কিন প্রতিষ্ঠান অক্সিডেন্টাল থেকে কোনো ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারেনি। এই বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের নিস্ক্রিয়তার প্রেক্ষাপটে দেশের স্বার্থক্ষার আন্দোলনকারীরা সক্রিয় রয়েছেন।

মাগুরছড়া বেল্টা-আউট বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন একটি ঘটনা, যা আমাদের রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা, জ্বালানি নীতি, বহুজাতিক কোম্পানির জবাবদিহিতা এবং জাতীয় সম্পদের ওপর জনগণের অধিকার এই চারটি মৌলিক প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসে। বিস্ময়ের বিষয় হলো, প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও এই দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ আদায় কিংবা দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো দৃশ্যমান সাফল্য আজও অর্জিত হয়নি। লাউয়াছড়া অঞ্চলের বনাঞ্চল বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ এলাকা। বেল্টা-আউটের ফলে বিপুল সংখ্যক গাছপালা ধ্বংস হয়, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন ঘটে।

১৯৯৭ সালের ১৪ জুন মধ্যরাতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাগুরছড়া এলাকায় ফুলবাড়ী চা-বাগানের সম্মুখ ভাগে অবস্থিত ১নং গ্যাস অনুসন্ধান কূপে খননকালে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। আকস্মিক এ বিস্ফোরণের পর আগুনের লেলিহান শিখা ৬০০ ফুট উচ্চতায় উঠে যায়। ভয়াবহ সেই অগ্নিকান্ডের দৃশ্য আজও ভাসে মৌলভীবাজার জেলাবাসীর মনের চোখে। ১৯৯৫ সালে বৃহত্তর সিলেটের ১২, ১৩ ও ১৪ নম্বর বল্টকে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য সরকারের সঙ্গে চুক্তি হয় মার্কিন কোম্পানি অক্সিডেন্টাল অব বাংলাদেশ লিমিটেডের। গ্যাস অনুসন্ধান শুরুর পর কমলগঞ্জবাসীর মনে দেখা দেয় আনন্দ। তেল-গ্যাসে সমৃদ্ধ হবে এলাকা- এই ভেবে এলাকার মানুষ আনন্দে উদ্বেলিত হয়। ৩ হাজার ৭০০ মিটার কূপ খনন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। ৮৪০ মিটার খনন করার পরপরই ঘটে দুর্ঘটনা। আগুনে চা বাগান, সংরক্ষিত বনাঞ্চল, বিদ্যুৎলাইন, সিলেট-আখাউড়া রেলপথ, শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ-শমসেরনগর-ব্রাহ্মণবাজার-কুলাউড়া সড়কপথ, গ্যাস পাইপলাইন, গ্যাসকুপ, রিজার্ভ গ্যাস, পরিবেশ, পানি মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মারা যায় হাজার হাজার বন্যপ্রাণী ও পাখি। টানা ১৫ দিন আগুন জ্বলার পর যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনের ইন্টারন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির বিশেষজ্ঞ রিচার্ড চাইল্ড রি-সহ চার সদস্যের একটি দল আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

তবে পুরো কুপের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লাগে প্রায় ছয় মাস। মাগুরছড়ায় সংঘটিত ভয়াবহ সেই দুর্ঘটনার স্মৃতি আজও ভুলতে পারেনি কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল তথা মৌলভীবাজার জেলার মানুষ। সেই বিপুল ক্ষতির জন্য এলাকাবাসী কোনো ক্ষতিপূরণ পায়নি। তেল-গ্যাস বিশেষজ্ঞদের মতে, মাগুরছড়া গ্যাসফিল্ডে ভূগর্ভস্থ উত্তোলনযোগ্য ২৪৫.৮৬ বিসিএফ গ্যাস পুড়ে যায়, যার দাম প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা। অন্যান্য ক্ষতি আরও ১১ হাজার কোটি টাকা। দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট একাধিক গবেষণা থেকে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়। অগ্নিকান্ডে মাগুরছড়া ও আশপাশের ৮৭ দশমিক ৫০ একর এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

দুর্ঘটনার পর বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মাগুরছড়া গ্যাসকূপ বিস্ফোরণের কারণে ২৯টি চা-বাগানের ৪৬ কোটি ৬ লাখ ৮৪ হাজার ৮৩০ টাকার ক্ষতি হয়। তাছাড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ৬৯.৫ হেক্টর এলাকার ২৫ হাজার ৬৫০টি পূর্ণবয়স্ক গাছ আগুনে পুড়ে যাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি হয় প্রায় ৩৩ কোটি ৬১ লাখ টাকার। সরকারের তদন্তে ক্ষতি বাবদ ধরা হয় ৫০৭ কোটি ১২ লাখ টাকা। এ ছাড়া বনাঞ্চলের সম্ভাব্য ক্ষতি হয়েছে ৪০ হেক্টর ভূমি এবং ১৫ হাজার ৪৫০টি বৃক্ষ। ক্ষতি থেকে পুনরুদ্ধার পেতে ১০ বছরে ক্ষতির পরিমাণ ৪৮৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ বনাঞ্চলের মোট ক্ষতি ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৮৫৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা। বিস্ফোরণের ফলে ২ হাজার ফুট রেলওয়ে ট্র্যাক ধ্বংস হয়েছে। এতে রাজস্ব ব্যতীত ক্ষতি হয়েছে ৮১ লাখ ৫৪ হাজার ৩৯৫ টাকা।

সড়ক পথের ক্ষতি ২১ কোটি টাকা। গ্যাস পাইপলাইনের ক্ষতি ১৩ লাখ টাকা। বিদ্যুৎ লাইনের ক্ষতি ১ কোটি ৩৫ লাখ ৯ হাজার ১৮৬ টাকা। মাগুরছড়া খাসিয়া পানপুঞ্জির অধিবাসীদের পানের বরজসমূহে প্রতিদিন ৪৭ হাজার ৭৫০ টাকা হারে মোট ক্ষতি ১২ লাখ টাকা। কমলগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম ভানুগাছ সংরক্ষিত বনের ১২৫০ হেক্টর এলাকাকে ১৯৭৪ সালের বন্যপ্রাণী আইন অনুযায়ী ১৯৯৬ সালে ঘোষণা করা হয় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। মাগুরছড়া গ্যাসকূপের ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে এ বনের বিপন্ন বন্যপ্রাণীসহ জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যায়।

গ্যাসকূপ খনন কাজে সাধারণত ‘ডিনামাইট’ জাতীয় বিস্ফোরক ব্যবহার করার নিয়ম থাকলেও অক্সিডেন্টাল মাগুরছড়ার গ্যাস কূপ খনন কাজে বিস্ফোরক হিসেবে প্রাণঘাতী ও পরিবেশবিনাশী তেজস্ক্রিয়যুক্ত ‘ রেডিও অ্যাকটিভ সোর্স’ ব্যবহার করেছিল বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটি। অক্সিডেন্টালের খননকাজে আনাড়িপনা, অনভিজ্ঞতা, দায়িত্বে অবহেলা, উদাসীনতা, অযোগ্যতার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে ওই কমিটির অভিমত।

মাগুরছড়া অগ্নিকান্ডের পর থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবিতে আন্দোলন এখনও চলমান। প্রতি বছর ১৪ জুন এ এলাকার সাধারণ মানুষ মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করে চলেছেন। ১৯৯৭ সালের ১৪ জুন বিস্ফোরণের পর ছয় মাসের অধিককাল ধরে জ্বলতে থাকা কুপের উৎস মুখ সিল করার কাজ সম্পন্ন হয় ১৯৯৮ সালে ৯ জানুয়ারি। তার আগেই ১৯৯৭ সালের ২০ ডিসেম্বর অক্সিডেন্টাল মাগুরছড়া থেকে বিদায় নেয়। এ অবস্থায় এলাকায় জনগণের মধ্যে দেখা দেয় তীব্র প্রতিক্রিয়া।

১৯৯৮ সালের ১০ জানুয়ারি রাস্তায় বড় বড় গাছ ফেলে ব্যারিকেড তৈরি ও প্রতিবাদ করে হাজার হাজার মানুষ। সাধারণ মানুষ শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ- মৌলভীবাজারসহ সমগ্র সিলেট বিভাগ ও দেশের বিভিন্ন স্থানে সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল, পদযাত্রা করে। বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো: আবুল কালাম বলেন, বনের ক্ষতি নিরূপণ করা হলেও এ পর্যন্ত কিছুই পাওয়া যায়নি। প্রাকৃতিক বনের ক্ষতি কোনো সময়ে পুষিয়ে ওঠার নয়। পরিবেশ বিপর্যয়ের ব্যাপারে আগের অভিজ্ঞতা নিয়ে আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

এদিকে মাগুরছড়া ট্র্যাজেডির ২৯ তম বার্ষিকী উপলক্ষে আজ ১৪ জুন ২০২৬ইং রোববার পাহাড় রক্ষা উন্নয়ন সোসাইটি, জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটি, কমলগঞ্জ উন্নয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন এর উদ্যোগে কমলগঞ্জে মাগুরছড়া গ্যাস বিষ্ফোরণে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা জনসম্মুখে প্রকাশ, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান ও কমলগঞ্জের ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগের দাবীতে এক মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%