ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

২ হাজারের বেশি মানুষের নাগরিকত্ব বাতিল করল কুয়েত সরকার


২ হাজারের বেশি মানুষের নাগরিকত্ব বাতিল করল কুয়েত সরকার

কুয়েত সরকার আরও ২ হাজার ১৯৩ জন ব্যক্তির কুয়েতি নাগরিকত্ব বাতিলের আদেশ প্রকাশ করেছে। সরকারি গেজেট কুয়েত আল-ইয়াওম-এ প্রকাশিত সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়া নির্ভরশীলদের নাগরিকত্বও বাতিল করা হয়েছে।

রোববার (১৪ জুন) দেশটির সংবাদ মাধ্যম দৈনিক আরব টাইমস এ খবর প্রকাশ করেছে। মূলত ২০২৪ সালের মার্চ মাস থেকে নাগরিকত্ব ফাইল পুনঃতদন্ত ও পর্যালোচনার এই ব্যাপক কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর থেকে কুয়েতের সুপ্রিম কমিটি ফর টি ইনভেস্টিগেশন অব কুয়েতী ন্যাশনালিটি ধারাবাহিকভাবে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত পুরোনো ফাইল পুনরায় যাচাই করে আসছে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৯ হাজার ৪৬৪ জনের নাগরিকত্ব বাতিল বা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। এরপর ২০২৫ ও ২০২৬ সালে বিভিন্ন ধাপে আরও হাজার হাজার মানুষের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়।

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে যে, ২০২৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৭০ হাজারেরও বেশি ব্যক্তি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়েছেন, কারণ একজনের নাগরিকত্ব বাতিল হলে তার সন্তান ও নির্ভরশীলদের নাগরিকত্বও বাতিল হয়ে যায়। তবে সরকারিভাবে সব নির্ভরশীলের সমন্বিত সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।

কুয়েতের ১৯৫৯ সালের ১৫ নং জাতীয়তা আইন অনুযায়ী বিভিন্ন অধ্যাদেশে কয়েকটি প্রধান কারণে নাগরিকত্ব বাতিল বা প্রত্যাহার করা হয়।

দ্বৈত নাগরিকত্ব

কুয়েত সাধারণভাবে দ্বৈত নাগরিকত্ব অনুমোদন করে না। অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে কুয়েতি নাগরিকত্ব হারানোর বিধান রয়েছে।

আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা

জালিয়াতি ও ভুয়া তথ্য

জাল কাগজপত্র, মিথ্যা তথ্য প্রদান অথবা প্রতারণার মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জনের অভিযোগে বহু নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে।

জাতীয় নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের প্রশ্ন

রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড, সন্ত্রাসী অর্থায়ন, জাতীয় নিরাপত্তা লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত না থাকার অভিযোগেও নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ

বিশেষ আইনি ধারা অনুযায়ী পুনর্মূল্যায়ন

বিশেষ করে বিবাহ, নির্ভরশীলতা বা ব্যতিক্রমী প্রাকৃতিকীকরণ প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের ফাইল নতুন করে যাচাই করা হচ্ছে।

কুয়েত সরকার বলছে, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো নাগরিকত্ব ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ করা, জালিয়াতি রোধ করা এবং জাতীয় পরিচয়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। সম্প্রতি জাতীয়তা আইনেও সংশোধন এনে নাগরিকত্ব প্রদান ও বাতিলের বিধান আরও কঠোর করা হয়েছে।

অন্যদিকে মানবাধিকার কর্মী ও বিভিন্ন পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে বহু পরিবার নাগরিকত্ব, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, চাকরি এবং সামাজিক সুবিধা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে। বিশেষ করে যাদের পরিবার কয়েক প্রজন্ম ধরে কুয়েতে বসবাস করছে, তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাগুরছড়া ট্র্যাজেডির ২৯ বছর পূর্তি: এখনও ক্ষতিপূরণ মেলেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সিলেট প্রতিনিধি

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:৫৬ এম


মাগুরছড়া ট্র্যাজেডির ২৯ বছর পূর্তি: এখনও ক্ষতিপূরণ মেলেনি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাগুরছড়া ট্র্যাজেডির ২৯ বছর আজ রোববার (১৪ জুন ২০২৬ই)। আজও ক্ষতিপূরণ মেলেনি। ১৪ জুন ২০২৬ই বাংলাদেশের জ্বালানি ইতিহাসের একটি বেদনাবিধুর দিন। ১৯৯৭ সালের এই দিনে মাগুরছড়া গ্যাসক্ষেত্রে সংঘটিত ভয়াবহ বেল্টা-আউট শুধুমাত্র একটি শিল্প দুর্ঘটনা ছিল না, এটি ছিল দেশের গ্যাস সম্পদ, পরিবেশ-প্রতিবেশ, বনাঞ্চল, জীববৈচিত্র্য এবং জাতীয় অর্থনীতির ওপর বহুমাত্রিক আঘাত। রোববার সেই ঘটনার ২৯ বছর পূর্ণ হলেও ক্ষতিগ্রস্ত জনগণ, পরিবেশ এবং রাষ্ট্র এখনো ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের প্রত্যাশায় রয়েছে। এখনও বাংলাদেশ সেই বিপর্যয়ের জন্য দায়ী মার্কিন প্রতিষ্ঠান অক্সিডেন্টাল থেকে কোনো ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারেনি। এই বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের নিস্ক্রিয়তার প্রেক্ষাপটে দেশের স্বার্থক্ষার আন্দোলনকারীরা সক্রিয় রয়েছেন।

মাগুরছড়া বেল্টা-আউট বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন একটি ঘটনা, যা আমাদের রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা, জ্বালানি নীতি, বহুজাতিক কোম্পানির জবাবদিহিতা এবং জাতীয় সম্পদের ওপর জনগণের অধিকার এই চারটি মৌলিক প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসে। বিস্ময়ের বিষয় হলো, প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও এই দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ আদায় কিংবা দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো দৃশ্যমান সাফল্য আজও অর্জিত হয়নি। লাউয়াছড়া অঞ্চলের বনাঞ্চল বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ এলাকা। বেল্টা-আউটের ফলে বিপুল সংখ্যক গাছপালা ধ্বংস হয়, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন ঘটে।

১৯৯৭ সালের ১৪ জুন মধ্যরাতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাগুরছড়া এলাকায় ফুলবাড়ী চা-বাগানের সম্মুখ ভাগে অবস্থিত ১নং গ্যাস অনুসন্ধান কূপে খননকালে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। আকস্মিক এ বিস্ফোরণের পর আগুনের লেলিহান শিখা ৬০০ ফুট উচ্চতায় উঠে যায়। ভয়াবহ সেই অগ্নিকান্ডের দৃশ্য আজও ভাসে মৌলভীবাজার জেলাবাসীর মনের চোখে। ১৯৯৫ সালে বৃহত্তর সিলেটের ১২, ১৩ ও ১৪ নম্বর বল্টকে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য সরকারের সঙ্গে চুক্তি হয় মার্কিন কোম্পানি অক্সিডেন্টাল অব বাংলাদেশ লিমিটেডের। গ্যাস অনুসন্ধান শুরুর পর কমলগঞ্জবাসীর মনে দেখা দেয় আনন্দ। তেল-গ্যাসে সমৃদ্ধ হবে এলাকা- এই ভেবে এলাকার মানুষ আনন্দে উদ্বেলিত হয়। ৩ হাজার ৭০০ মিটার কূপ খনন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। ৮৪০ মিটার খনন করার পরপরই ঘটে দুর্ঘটনা। আগুনে চা বাগান, সংরক্ষিত বনাঞ্চল, বিদ্যুৎলাইন, সিলেট-আখাউড়া রেলপথ, শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ-শমসেরনগর-ব্রাহ্মণবাজার-কুলাউড়া সড়কপথ, গ্যাস পাইপলাইন, গ্যাসকুপ, রিজার্ভ গ্যাস, পরিবেশ, পানি মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মারা যায় হাজার হাজার বন্যপ্রাণী ও পাখি। টানা ১৫ দিন আগুন জ্বলার পর যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনের ইন্টারন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির বিশেষজ্ঞ রিচার্ড চাইল্ড রি-সহ চার সদস্যের একটি দল আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

তবে পুরো কুপের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লাগে প্রায় ছয় মাস। মাগুরছড়ায় সংঘটিত ভয়াবহ সেই দুর্ঘটনার স্মৃতি আজও ভুলতে পারেনি কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল তথা মৌলভীবাজার জেলার মানুষ। সেই বিপুল ক্ষতির জন্য এলাকাবাসী কোনো ক্ষতিপূরণ পায়নি। তেল-গ্যাস বিশেষজ্ঞদের মতে, মাগুরছড়া গ্যাসফিল্ডে ভূগর্ভস্থ উত্তোলনযোগ্য ২৪৫.৮৬ বিসিএফ গ্যাস পুড়ে যায়, যার দাম প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা। অন্যান্য ক্ষতি আরও ১১ হাজার কোটি টাকা। দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট একাধিক গবেষণা থেকে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়। অগ্নিকান্ডে মাগুরছড়া ও আশপাশের ৮৭ দশমিক ৫০ একর এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

দুর্ঘটনার পর বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মাগুরছড়া গ্যাসকূপ বিস্ফোরণের কারণে ২৯টি চা-বাগানের ৪৬ কোটি ৬ লাখ ৮৪ হাজার ৮৩০ টাকার ক্ষতি হয়। তাছাড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ৬৯.৫ হেক্টর এলাকার ২৫ হাজার ৬৫০টি পূর্ণবয়স্ক গাছ আগুনে পুড়ে যাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি হয় প্রায় ৩৩ কোটি ৬১ লাখ টাকার। সরকারের তদন্তে ক্ষতি বাবদ ধরা হয় ৫০৭ কোটি ১২ লাখ টাকা। এ ছাড়া বনাঞ্চলের সম্ভাব্য ক্ষতি হয়েছে ৪০ হেক্টর ভূমি এবং ১৫ হাজার ৪৫০টি বৃক্ষ। ক্ষতি থেকে পুনরুদ্ধার পেতে ১০ বছরে ক্ষতির পরিমাণ ৪৮৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ বনাঞ্চলের মোট ক্ষতি ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৮৫৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা। বিস্ফোরণের ফলে ২ হাজার ফুট রেলওয়ে ট্র্যাক ধ্বংস হয়েছে। এতে রাজস্ব ব্যতীত ক্ষতি হয়েছে ৮১ লাখ ৫৪ হাজার ৩৯৫ টাকা।

সড়ক পথের ক্ষতি ২১ কোটি টাকা। গ্যাস পাইপলাইনের ক্ষতি ১৩ লাখ টাকা। বিদ্যুৎ লাইনের ক্ষতি ১ কোটি ৩৫ লাখ ৯ হাজার ১৮৬ টাকা। মাগুরছড়া খাসিয়া পানপুঞ্জির অধিবাসীদের পানের বরজসমূহে প্রতিদিন ৪৭ হাজার ৭৫০ টাকা হারে মোট ক্ষতি ১২ লাখ টাকা। কমলগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম ভানুগাছ সংরক্ষিত বনের ১২৫০ হেক্টর এলাকাকে ১৯৭৪ সালের বন্যপ্রাণী আইন অনুযায়ী ১৯৯৬ সালে ঘোষণা করা হয় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। মাগুরছড়া গ্যাসকূপের ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে এ বনের বিপন্ন বন্যপ্রাণীসহ জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যায়।

গ্যাসকূপ খনন কাজে সাধারণত ‘ডিনামাইট’ জাতীয় বিস্ফোরক ব্যবহার করার নিয়ম থাকলেও অক্সিডেন্টাল মাগুরছড়ার গ্যাস কূপ খনন কাজে বিস্ফোরক হিসেবে প্রাণঘাতী ও পরিবেশবিনাশী তেজস্ক্রিয়যুক্ত ‘ রেডিও অ্যাকটিভ সোর্স’ ব্যবহার করেছিল বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটি। অক্সিডেন্টালের খননকাজে আনাড়িপনা, অনভিজ্ঞতা, দায়িত্বে অবহেলা, উদাসীনতা, অযোগ্যতার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে ওই কমিটির অভিমত।

মাগুরছড়া অগ্নিকান্ডের পর থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবিতে আন্দোলন এখনও চলমান। প্রতি বছর ১৪ জুন এ এলাকার সাধারণ মানুষ মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করে চলেছেন। ১৯৯৭ সালের ১৪ জুন বিস্ফোরণের পর ছয় মাসের অধিককাল ধরে জ্বলতে থাকা কুপের উৎস মুখ সিল করার কাজ সম্পন্ন হয় ১৯৯৮ সালে ৯ জানুয়ারি। তার আগেই ১৯৯৭ সালের ২০ ডিসেম্বর অক্সিডেন্টাল মাগুরছড়া থেকে বিদায় নেয়। এ অবস্থায় এলাকায় জনগণের মধ্যে দেখা দেয় তীব্র প্রতিক্রিয়া।

১৯৯৮ সালের ১০ জানুয়ারি রাস্তায় বড় বড় গাছ ফেলে ব্যারিকেড তৈরি ও প্রতিবাদ করে হাজার হাজার মানুষ। সাধারণ মানুষ শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ- মৌলভীবাজারসহ সমগ্র সিলেট বিভাগ ও দেশের বিভিন্ন স্থানে সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল, পদযাত্রা করে। বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো: আবুল কালাম বলেন, বনের ক্ষতি নিরূপণ করা হলেও এ পর্যন্ত কিছুই পাওয়া যায়নি। প্রাকৃতিক বনের ক্ষতি কোনো সময়ে পুষিয়ে ওঠার নয়। পরিবেশ বিপর্যয়ের ব্যাপারে আগের অভিজ্ঞতা নিয়ে আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

এদিকে মাগুরছড়া ট্র্যাজেডির ২৯ তম বার্ষিকী উপলক্ষে আজ ১৪ জুন ২০২৬ইং রোববার পাহাড় রক্ষা উন্নয়ন সোসাইটি, জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটি, কমলগঞ্জ উন্নয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন এর উদ্যোগে কমলগঞ্জে মাগুরছড়া গ্যাস বিষ্ফোরণে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা জনসম্মুখে প্রকাশ, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান ও কমলগঞ্জের ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগের দাবীতে এক মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদকবিরোধী কর্মসূচিতে আলোচনা সভা ও বি-ক্ষোভ মিছিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:৫৯ এম


মাদকবিরোধী কর্মসূচিতে আলোচনা সভা ও বি-ক্ষোভ মিছিল

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মাদকবিরোধী জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাদক ব্যবসা প্রতিরোধের দাবিতে আলোচনা সভা ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে ভাঙ্গা পৌরসভার ভারইডাঙ্গা জামে মসজিদের সামনে এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভার পূর্বে ভারইডাঙ্গা আঞ্চলিক সড়ক প্রদক্ষিণ করে একটি মাদকবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল আয়োজন করা হয়েছে।

স্থানীয় ইব্রাহীম মুন্সীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লা, ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান, ভাঙ্গা পৌর কৃষকদল নেতা মাহফুজুর রহমান প্রমুখ।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, মাদক বর্তমানে সমাজের জন্য এক ভয়াবহ ব্যাধিতে পরিণত হয়ে গেছে। বিশেষত যুবসমাজ মাদকের ছোবলে বিপথগামী হচ্ছে। মাদকের বিস্তার রোধে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

সমাবেশে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবন বন্ধ না হলে স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

এ সময় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লা বলেন, ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। এলাকায় কেউ মাদক ব্যবসা বা সেবনের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাকে চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করা হবে।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। তবে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিষয়ে তথ্য দিলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্দান্ত লড়াইয়ে তুরস্ককে হারিয়ে জয় তুলে নিল অস্ট্রেলিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:০১ পি.এম


দুর্দান্ত লড়াইয়ে তুরস্ককে হারিয়ে জয় তুলে নিল অস্ট্রেলিয়া

অনেকে নিশ্চয়ই ভাবতেন তুরস্ক অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে সহজ জয় পাবে। কিন্তু পুরো ম্যাচে তাদের আধিপত্য থাকা সত্ত্বেও তুরস্কের একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে অস্ট্রেলিয়া একটি দারুণ জয় নিয়ে ফিরে এসেছে।

কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া তুরস্ককে ২-০ গোলে পরাজিত করেছে। অজিদের হয়ে গোল করেছেন নেস্টোরি ইরানকুন্ডা এবং কনর মেটকাল্ফ।

পুরো ম্যাচে তুরস্ক ৭২ শতাংশ বল দখলে রেখেছিল এবং প্রতিপক্ষের গোল পোস্টে ৩০টি শট নিয়েছে। তবে গুলের-ইলদিজরা তবুও গোলের দেখা পায়নি।

ম্যাচের দুই হাফে অস্ট্রেলিয়া দুটি গোল করেছে। ২৭তম মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়াকে এগিয়ে দেন ইরানকুন্ডা। এরপর ৭৫তম মিনিটে তুরস্কের এক খেলোয়াড়ের ভুলের কারণে পাশে থাকা মেটকাল্ফ বল পেয়ে যান। তিনি সেই বল পেয়ে দূরপাল্লার শটে জালে পাঠান।

এই জয়ের ফলে গ্রুপ 'ডি'-এর দুইয়ে উঠে এসেছে অস্ট্রেলিয়া। সকারুসদের পরবর্তী ম্যাচ হবে সহ-আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৫১ সদস্যের জুলাই যোদ্ধা আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হলো দিনাজপুরে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:০৪ পি.এম


৫১ সদস্যের জুলাই যোদ্ধা আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হলো দিনাজপুরে

 ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ নামক জেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দিনাজপুর জেলা শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে গতকাল শনিবার (১৩ জুন) কমিটির সদস্যদের নাম প্রকাশিত করা হয়েছে।

জানা যায়, গত ১২ জুন ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ কেন্দ্রীয় কমিটির প্যাডে কেন্দ্রীয় সভাপতি আমিনুল ইসলাম ইমন এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আল মিরাজের স্বাক্ষরিত ৫১ সদস্য বিশিষ্ট দিনাজপুর জেলা কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে।

অনুমোদিত এই জেলা কমিটিতে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ আহত যোদ্ধা মো. শাহীন হোসেনকে আহ্বায়ক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে এবং মো. মাসুম হোসেনকে সদস্য সচিব হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে।

কমিটি ঘোষণার পর আহ্বায়ক মো. শাহীন হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী যোদ্ধাদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।” তিনি উল্লেখ করেন, “এজন্য ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ জেলা কমিটির উপদেষ্টা মন্ডলীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।” প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা অনুযায়ী জুলাই যোদ্ধাদের একত্রিত করা, তাদের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় বৃদ্ধি এবং তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নব গঠিত কমিটি নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।

আহ্বায়ক হিসেবে সব সদস্যদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য প্রকৃত জুলাই যোদ্ধাদের তথ্য সংরক্ষণ করা, তাদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা এবং তাদের সামাজিক ও মানবিক সহায়তায় কাজ করা।” তিনি বলেন, “আমরা কোনো বিভেদ নয়, বরং ঐক্য, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে চাই।”

শাহীন বলেন, “জেলার অন্তর্ভুক্ত মন্ত্রী, এমপি এবং জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দিক-নির্দেশনায় সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও স্বার্থ রক্ষায় নব গঠিত কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।” এ ব্যাপারে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

তিনি জানান, এই কমিটির উপদেষ্টা মন্ডলীতে রয়েছেন, সমাজকল্যাণ ও মহিলা-শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, এমপি। জাতীয় সংসদের হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, এমপি, সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক এমপি এবং মো. মনজুরুল ইসলাম এমপি। দিনাজপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি মো. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি।

কমিটি ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম ইমন, সাধারণ সম্পাদক আল মিরাজ, নবগঠিত কমিটির সদস্য সচিব মো. মাসুম হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%