ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দোহায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের ইঙ্গিত ট্রাম্পের, দাবি নাকচ করল ইরান


দোহায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের ইঙ্গিত ট্রাম্পের, দাবি নাকচ করল ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধের উদ্দেশ্যে একটি চুক্তি নিয়ে আজ মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি বৈঠক হওয়ার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, ইরান এই বৈঠকের অনুরোধ করেছে।

তবে এ বিষয়ে ইরানের বক্তব্য ভিন্ন। তারা জানিয়েছে, এ সপ্তাহে চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে কোনও কৌশলগত আলোচনা হওয়ার পরিকল্পনা নেই।

সোমবার, নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে, ট্রাম্প লেখেন, 'ইরান একটি বৈঠকের অনুরোধ করেছে। আগামীকাল দোহায় সেই বৈঠক হবে।' অবশ্য বৈঠকে কোন কর্মকর্তারা অংশ নেবেন বা কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে, সে সম্পর্কে তিনি কোন বিস্তারিত তথ্য জানাননি।

আরও পড়ুন: পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে তালেবানের হামলায় ১ নিহত, ৫ আহত

এরপর হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উপদেষ্টা এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার এ সপ্তাহে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে দোহায় যাবেন। অপরদিকে, আলোচনার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক কূটনীতিক বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, চলতি মাসের শুরুতে সই হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে দোহায় বৈঠক হওয়ার বিষয়ে আলোচনা রয়েছে। সেই কূটনীতিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য গঠিত কারিগরি দলগুলো আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দোহায় বৈঠক করার সময় নির্ধারণ করেছে। সেইসঙ্গে সাম্প্রতিক হামলার পর পরিস্থিতি যাতে আবার উত্তেজনাপূর্ণ না হয়ে ওঠে, সে জন্য দুপক্ষের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগের ব্যবস্থা চালু রয়েছে।

এদিকে, ইরান এই তথ্যের সঙ্গে একমত নয়। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেছেন, 'এ সপ্তাহে কোনো কারিগরি আলোচনা হবে, এমন খবর সঠিক নয়।' অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, সাম্প্রতিক হামলার পরও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা বন্ধ হচ্ছে না। তিনি বলেন, উভয় পক্ষই আপাতত হামলা বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছে। ফলে হরমুজ প্রণালী এবং এর আশপাশ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারবে।

এই বৈঠকের ঘোষণা এমন সময় এসেছে, যখন যুদ্ধবিরতি চুক্তি সইয়ের পর প্রথমবারের মতো হরমুজ প্রণালি পরিচালনার বিষয়ে ওমানের সঙ্গে বৈঠক করেছে ইরান। একই সময়ে, ওয়াশিংটন ও তেহরান একে অপরের ওপর হামলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তেও পৌঁছেছে। তবে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে ইরানের ধারাবহিক পদক্ষেপের জবাবে তারা ইরানের ১০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান দাবি করেছে, তারা কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ এখনো রয়ে গেছে। এই বিষয়টি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। হরমুজ প্রণালির এক পাশে রয়েছে ইরান, অন্য পাশে ওমান। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফলে এই জলপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সোমবার, ইরান জানায়, যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে তাদের প্রথম বৈঠক হয়েছে। উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, মাসকাট সফরের সময় যৌথ হরমুজ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এটি কীভাবে পরিচালনা করা হবে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

আরও পড়ুন: রিজভী: বিদ্যুৎখাতে লুটপাটের জন্য ইনডেমনিটি দিয়েছিল আওয়ামী সরকার

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্যে পড়লেও সাধারণভাবে কোনো দেশ একতরফাভাবে এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করতে বা টোল আরোপ করতে পারে না। তবে রবিবার, ইরান সতর্ক করে বলেছে, তাদের নির্ধারিত নৌপথ এড়িয়ে অন্য কোনো পথ ব্যবহার করার চেষ্টা হলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। তেহরানের দাবি, হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে ইরানের উপকূলসংলগ্ন নির্ধারিত করিডোর ব্যবহার করেই চলতে হবে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নের পদ্ধতি এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। এর মধ্যেই, হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণ নিয়ে নতুন করে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ এবং ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, প্যারিস ও মাসকাট যৌথভাবে মাইন অপসারণ অভিযান পরিচালনা করবে। এর প্রতিক্রিয়ায় কাজেম গারিবাবাদি এক্সে লিখেছেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী মাইন অপসারণের কাজ শুধু ইরানই করবে। অন্য কোনো দেশের এতে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি আরো বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জটিল। তাই ফ্রান্সকে এমন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলতে পারে।

সামুদ্রিক নজরদারি প্রতিষ্ঠান ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় একটি জাহাজে হামলার ঘটনার পর প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তাদের তথ্য বলছে, শনিবার প্রণালী দিয়ে ২৯টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করলেও রবিবার সেই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১২টিতে। ক্লেপলার আরো জানিয়েছে, ওমানের জলসীমার দক্ষিণ দিকের করিডোর দিয়ে কোন জাহাজ চলাচল করেনি। অন্যদিকে, সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান এএক্সএসমেরিনের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৪৪টি জাহাজ নিরাপত্তার কারণে প্রকাশ্যে নিজেদের অবস্থান জানানো বন্ধ করে দিয়েছে।

প্রকাশিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ওমান এবং উপসাগরীয় অন্য দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালির প্রশাসনিক কাঠামো নির্ধারণ করবে ইরান।

আরও পড়ুন: দুর্লভ ডাইনোসর ‘জোডি’ ৪৭.৩ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি, বিজ্ঞানীদের অসন্তোষ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণতন্ত্রের প্রাণ সংসদ, আজ আন্তর্জাতিক সংসদবাদ দিবস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৪১ এম


গণতন্ত্রের প্রাণ সংসদ, আজ আন্তর্জাতিক সংসদবাদ দিবস

আজ ৩০ জুন বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক সংসদবাদ দিবস (International Day of Parliamentarism)। প্রতি বছর এ দিনটি পালন করা হয় গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করা, জনগণের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা এবং সংসদের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে।

আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সংসদকে জনগণের কণ্ঠস্বর বলা হয়। আইন প্রণয়ন, সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, জাতীয় বাজেট অনুমোদন এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষায় সংসদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কারণেই সংসদকে কার্যকর ও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতেই এই দিবসের আয়োজন করা হয়।

কেন ৩০ জুন?

২০১৮ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ৩০ জুনকে আন্তর্জাতিক সংসদবাদ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এই তারিখ কেন বেছে নেওয়া হয়েছে, তা হলো ১৮৮৯ সালের ৩০ জুন বিভিন্ন দেশের সংসদ সদস্যদের নিয়ে আন্তর্জাতিক সংসদীয় ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বর্তমানে অধিকাংশ দেশের সংসদ এই সংস্থার সদস্য।

সংসদের কাজ শুধু আইন তৈরি নয়

অনেকে মনে করেন সংসদের কাজ কেবল নতুন আইন পাস করা। কিন্তু বাস্তবে সংসদের দায়িত্ব আরও বিস্তৃত। সংসদ সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করে, বাজেট অনুমোদন দেয়, বিভিন্ন নীতির ওপর বিতর্ক করে এবং জনগণের সমস্যাগুলো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তুলে ধরে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি কার্যকর সংসদ থাকলে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ে এবং গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হয়।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই দিবস?

বিশ্বের অনেক দেশে এখনো গণতন্ত্র নানা চ্যালেঞ্জের মুখে। কোথাও রাজনৈতিক অস্থিরতা, কোথাও মতপ্রকাশের সীমাবদ্ধতা, আবার কোথাও জনগণের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক সংসদবাদ দিবস স্মরণ করিয়ে দেয় যে, শক্তিশালী গণতন্ত্র গড়তে কার্যকর সংসদের বিকল্প নেই। সংসদ যত বেশি সক্রিয় হবে, জনগণের মতামত তত বেশি গুরুত্ব পাবে।

নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান

এই দিবসে সংসদে নারী, তরুণ এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংসদে সমাজের সব শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও জনমুখী হবে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংসদে নারীদের অংশগ্রহণ আগের তুলনায় বাড়লেও অনেক জায়গায় তা এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

প্রযুক্তির যুগে বদলাচ্ছে সংসদ

ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার সংসদীয় কার্যক্রমেও বড় পরিবর্তন এনে দিচ্ছে। অনেক দেশের সংসদ এখন সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে। অনলাইনে বিল, বাজেট ও বিভিন্ন নথি প্রকাশ করা হচ্ছে। ফলে জনগণ সহজেই সংসদের কার্যক্রম জানতে পারছেন এবং প্রতিনিধিদের কাজ পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশেও জাতীয় সংসদ দেশের আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন এবং সরকারের কার্যক্রম পর্যালোচনার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করে। সংসদীয় কমিটিগুলো বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত করার কাজ করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সংসদে গঠনমূলক আলোচনা, কার্যকর বিরোধী মতামত, স্বচ্ছতা এবং জনগণের অংশগ্রহণ বাড়াতে পারলে গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে।

দিবসটির মূল বার্তা

আন্তর্জাতিক সংসদবাদ দিবসের মূল লক্ষ্য হলো—গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে কার্যকর, জবাবদিহিমূলক, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক সংসদ গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরা। কারণ জনগণের আস্থা, মতামত ও অধিকার রক্ষায় একটি কার্যকর সংসদই হতে পারে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ভিত্তি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৮ বছরের বঞ্চনার অবসান, সিন্ডিকেট গুঁড়িয়ে দিলেন এমপি দিপু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৪৪ এম


১৮ বছরের বঞ্চনার অবসান, সিন্ডিকেট গুঁড়িয়ে দিলেন এমপি দিপু

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে জেঁকে বসা কুখ্যাত চাল-গম লুটপাটকারী সিন্ডিকেট অবশেষে ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। উপজেলার অসহায়, দুঃস্থ মানুষ এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মুখে হাসি ফুটিয়ে টিআর (টেস্ট রিলিফ) ও কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) কর্মসূচির সরকারি খাদ্যশস্য পৌঁছে গেছে প্রকৃত উপকারভোগীদের ঘরে।

আর এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু। তার একক সাহসিকতা, অনড় অবস্থান এবং ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’ নীতির কারণে দুই দশকের চুরির রাজত্বের অবসান ঘটল। গত সোমবার সকাল থেকে রূপগঞ্জের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করে সরাসরি এই খাদ্যশস্য বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে রূপগঞ্জে সরকারি ত্রাণ ও উন্নয়ন বরাদ্দের চাল-গম নিয়ে এক নজিরবিহীন হরিলুট চলে আসছিল। একটি প্রভাবশালী ও অসাধু চক্র প্রশাসন ও মাঠ পর্যায়কে জিম্মি করে প্রকৃত উপকারভোগীদের নামমাত্র মূল্যে চাল ও গম বিক্রি করতে বাধ্য করত। প্রতি কেজি চাল মাত্র ১৫-১৬ টাকা এবং গম ১০-১২ টাকা দরে অসহায় মানুষের কাছ থেকে জোরপূর্বক হাতিয়ে নিত এই সিন্ডিকেট।

পরবর্তীতে এই বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য কালোবাজারে চড়া দামে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা পকেটে কাটত চক্রটি। বছরের পর বছর ধরে উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা ও কবরস্থান পরিচালনা কমিটি এই বৈষম্যের শিকার হলেও, সিন্ডিকেটের ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পায়নি। কিন্তু ২০২৬ সালের এই নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু রূপগঞ্জের দায়িত্ব নেওয়ার পর দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, গরিবের হকের ওপর কোনো ধরনের থাবা সহ্য করা হবে না।

সংসদ সদস্যের কঠোর ও প্রত্যক্ষ নজরদারির সুফল মিলেছে হাতেনাতে। গত সোমবার প্রথম দিনেই উপজেলার ২২টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের অনুকূলে চলতি অর্থবছরের তিন ধাপের মোট ৮৬ মেট্রিক টন চাল এবং ৮৬ মেট্রিক টন গম স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় উপকারভোগীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সরাসরি কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের স্পর্শ ছাড়াই শত শত অসহায় মানুষ এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে তাদের প্রাপ্য শতভাগ বুঝে নেন।

এমপি দিপুর এই জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপের ফলে এবারই প্রথম কোনো প্রকার কর্তন বা পার্সেন্টেজ ছাড়া পুরো বরাদ্দ সাধারণ মানুষের ঘরে উঠলো। সরকারি চাল ও গম পুরোপুরি ও সরাসরি হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন উপকারভোগীরা। দীর্ঘদিন পর কোনো প্রকার হয়রানি ছাড়া নিজের অধিকার ফিরে পেয়ে অনেকেই আনন্দের অশ্রু ধরে রাখতে পারেননি। উপজেলার এক প্রবীণ মাদরাসা শিক্ষক বলেন, ‘আমরা তো ভুলেই গিয়েছিলাম যে সরকারি সাহায্য পুরোটা পাওয়া যায়। বিগত ১৮ বছর ধরে আমাদের শুধু কাগজে-কলমে সই নিয়ে নামমাত্র কিছু টাকা ধরিয়ে দেওয়া হতো, বাকি সব খেয়ে ফেলতো দালালরা। মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু সাহেব আমাদের এই জিম্মিদশা থেকে মুক্ত করেছেন। আল্লাহ উনাকে দীর্ঘজীবী করুন।’

কামশাইর মসজিদ কমিটির সভাপতি তারা মিয়া বলেন, ‘জীবনে এই প্রথম মসজিদের সব টাকা পেয়েছি। আগেতো ডাকাতি করত। আর এসব হয়েছে মুস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূইয়ার সাহসিকতার কারণে।’

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এমপি দিপুর এই একটি পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে তিনি রূপগঞ্জকে একটি শোষণমুক্ত, আধুনিক ও আদর্শ উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে কতটা বদ্ধপরিকর। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষ দাবি তুলেছেন, বিগত ১৮ বছর ধরে যারা এই চাল আত্মসাতের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছে, তাদের তালিকা তৈরি করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।

এমপি মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর এই কঠোর নির্দেশনার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় কর্মকর্তারাও। উপজেলা ওসিএলএসডি খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান তুহিন অত্যন্ত প্রত্যয়ের সঙ্গে জানান, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু মহোদয়ের স্পষ্ট এবং কঠোর নির্দেশনা রয়েছে—সরকারি খাদ্য সহায়তায় ১ কেজির এদিক-সেদিক করা যাবে না। যারা প্রকৃত হকদার, মাল সরাসরি তাদের হাতেই যাবে। এমপির এই কঠোর অবস্থানের কারণেই আজ আমরা অত্যন্ত সফলভাবে কোনো ঝামেলা ছাড়া ২২টি প্রকল্পের ৮৬ টন চাল ও ৮৬ টন গম বিতরণ করতে পেরেছি। ভবিষ্যতে যেন কোনো সিন্ডিকেট বা দালাল চক্র মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সেজন্য স্যারের নির্দেশে সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রাখা হবে।’

রূপগঞ্জের সাধারণ ভোটার ও মেহনতি মানুষেরা বলছেন, এই চাল বিতরণ কেবল একটি সরকারি কর্মসূচির বাস্তবায়ন নয়, বরং এটি রূপগঞ্জে চলমান শুদ্ধি অভিযানের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই যেভাবে মাদক, চাঁদাবাজি এবং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন, এই চাল বিতরণ কর্মসূচি তারই একটি সফল প্রতিফলন। রূপগঞ্জের আপামর জনতা এখন বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে, দিপু ভূঁইয়ার নেতৃত্ব তে রূপগঞ্জ হবে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটমুক্ত এক শান্তির জনপদ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তীব্র তাপপ্রবাহে বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৫১ এম


তীব্র তাপপ্রবাহে বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব যত দ্রুত এগিয়ে আসছে, ততই খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা নতুন এক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চল এবং পূর্বাঞ্চল, পাশাপাশি কানাডার কিছু অংশে তীব্র তাপপ্রবাহের আশঙ্কা করা হচ্ছে। আবহাওয়াবিদেরা জানাচ্ছেন, কয়েক দিনের জন্য একটি বিশাল উচ্চচাপ বলয় পুরো এলাকাটির ওপর অবস্থান করবে। এর ফলে গরম এবং আর্দ্রতা একসঙ্গে বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর হয়ে উঠবে।

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কোথাও কোথাও অনুভূত তাপমাত্রা এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। দিনের পাশাপাশি রাতের তাপমাত্রা খুব একটা কমবে না। এই কারণে সন্ধ্যার ম্যাচগুলোও গরম থাকবে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ অ্যালান রেপার্ট জানান, সন্ধ্যা বা রাতে গরম কমার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক ও এর আশেপাশের এলাকায় গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা দেখা যেতে পারে। সেখানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নকআউট ম্যাচগুলোও এই তাপপ্রবাহের প্রভাব অনুভব করবে।

এই পরিস্থিতি খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা এবং শারীরিক সক্ষমতার বিষয়টিকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। গত বছর একই দেশে অনুষ্ঠিত ক্লাব পর্যায়ের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়ও তীব্র গরম নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। তখন খেলোয়াড়দের সংগঠন জানিয়েছিল, এমন আবহাওয়াকে ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা উচিত।

এবারের বিশ্বকাপে সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে প্রতিটি ম্যাচের দুই অর্ধেই বাধ্যতামূলক তিন মিনিটের পানিবিরতি রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই সময় ব্যবধানে খেলোয়াড়েরা পানি পান করার পাশাপাশি কিছুটা বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। অনেকেই মনে করছেন, এটি খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সমালোচকদের মতে, এতে ম্যাচের স্বাভাবিক গতি কিছুটা ব্যাহত হতে পারে।

তীব্র গরমের সময় খেলোয়াড় এবং দর্শকদের সুরক্ষায় অতিরিক্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা, সে বিষয়ে আয়োজকদের পক্ষ থেকে অধুনা কিছু জানানো হয়নি।

এদিকে, কানাডার টরন্টো শহরে তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারির পর বিশেষ গরম মোকাবিলা পরিকল্পনা কার্যকর করা হয়েছে। সেখানে ছায়াযুক্ত বিশ্রামস্থল, পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা এবং জরুরি সেবার প্রস্তুতি বাড়ানো হয়েছে।

বিশ্বকাপের কিছু স্টেডিয়াম অবশ্য গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যেসব স্টেডিয়ামের ছাদ বন্ধ করা যায় এবং ভেতরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা আছে, সেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকেরা তুলনামূলক আরাম পাবেন। কিন্তু খোলা মাঠের শহরগুলোতে স্টেডিয়ামে পৌঁছানো থেকে শুরু করে পুরো সময়টিই কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আলিনা মিতিনা সমর্থকদের যতটা সম্ভব ছায়ায় থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত দুর্বলতা, তীব্র ক্লান্তি বা অস্বাভাবিক অসুস্থতা অনুভব করলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে গিয়ে বিশ্রাম নিতে হবে এবং পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। তার মতে, পর্যাপ্ত ছায়া এবং সহজে পানি পাওয়ার ব্যবস্থা থাকলে অনেক বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।

বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নকআউট ম্যাচগুলো যখন শুরু হচ্ছে, ঠিক তখনই ফুটবলের পাশাপাশি আরেক প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রকৃতির এই তীব্র তাপপ্রবাহ। অতএব, মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি খেলোয়াড় ও সমর্থকদের সুস্থ রাখার বিষয়টি এখন আয়োজকদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় পতন, দাম আরও কমবে দেশেও!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৫৩ এম


বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় পতন, দাম আরও কমবে দেশেও!

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ১ শতাংশের বেশি কমে গেছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চয়তার তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা বাজারে অধিক প্রভাব ফেলছে। এর ফলে, স্বর্ণের দাম অক্টোবর ২০০৮-এর পর সবচেয়ে বড় মাসিক পতনের দিকে এগোচ্ছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে গিয়ে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৫৬ দশমিক ৯২ ডলারে পৌঁছেছে।

এই মাসের মধ্যে স্বর্ণের দাম এখন পর্যন্ত ১২ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে, যা টানা চতুর্থ মাসিক পতন রেকর্ড করছে। আরো উল্লেখ্য, একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৬৯ দশমিক ৩০ ডলারে নেমে এসেছে।

২০২৪ সালের পর এটিই বুলিয়নের প্রথম ত্রৈমাসিক দরপতন। পাশাপাশি ২০১৩ সালের জুনের পর এটিই সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক পতন হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম তীব্রভাবে বেড়ে যাওয়ায় উদ্ভূত মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা এবং সুদের হার বৃদ্ধির আলোচনা জোরালো হয়েছে।

মারেক্সের বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেয়ার এই বিষয়ে বলেন, বর্তমানে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, সুদের হারের প্রত্যাশা এবং শক্তিশালী ডলার-এই তিনটি বিষয় স্বর্ণের দাম বাড়ানোর পক্ষে থাকা অন্যান্য ইতিবাচক কারণকে সহজেই ছাপিয়ে যাচ্ছে।

যদিও স্বর্ণকে দীর্ঘকাল ধরে মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হয়ে থাকে, তবে উচ্চ সুদের হার পরিবেশে এই মূল্যবান ধাতুর প্রতি আকর্ষণ কিছুটা কমে যায়। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ট্রেডাররা এখন চলতি বছরে ফেডারেল রিজার্ভের তিন দফা সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা করছেন। আরও উল্লেখযোগ্য, সেপ্টেম্বর মাসে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা বর্তমানে ৬৪ শতাংশ হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে।

ফেডের পরবর্তী নীতিগত অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পেতে বিনিয়োগকারীরা এখন এ সপ্তাহে প্রকাশিতব্য জুন মাসের এডিপি কর্মসংস্থান এবং অকৃষি কর্মসংস্থানের তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন।

অন্যদিকে, মার্কিন ডলার টানা দ্বিতীয় মাসের মতো লাভের পথেই চলছে। এর ফলে, অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের জন্য ডলারভিত্তিক মূল্যবান ধাতু কেনা আরও ব্যয়সাধ্য হয়ে উঠেছে।

এদিকে, এ সপ্তাহে দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার ফলাফলের দিকে বিনিয়োগকারীরা মনোযোগ দিচ্ছেন। যদিও ইরান জানিয়েছে, এমন কোনো বৈঠক নির্ধারিত হয়নি। একই সময়, তেলের দাম ২০২০ সালের পর সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক পতনের পথে রয়েছে।

এডওয়ার্ড মেয়ার বলেন, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ৪০০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।

অন্যদিকে, বিশ্ববাজারে দাম কমার প্রেক্ষিতে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমলে এর প্রভাব দেশের বাজারে পড়বে। ফলে, যে কোনো সময় দেশের বাজারেও দাম কমানোর সিদ্ধান্ত হতে পারে।

এর আগে সবশেষ গত ২৯ জুন সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সেদিন ভরিতে এই মূল্যবান ধাতুর দাম ৩ হাজার ০২৬ টাকা কমানো হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমে গেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৭ দশমিক ১৩ ডলারে স্থিত হয়েছে। প্ল্যাটিনামের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৫৭ দশমিক ২১ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ২০৮ দশমিক ১৭ ডলারে নেমে এসেছে। এই তিনটি ধাতুই মাসিক ও ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে লোকসানের পথে রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%