প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব যত দ্রুত এগিয়ে আসছে, ততই খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা নতুন এক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চল এবং পূর্বাঞ্চল, পাশাপাশি কানাডার কিছু অংশে তীব্র তাপপ্রবাহের আশঙ্কা করা হচ্ছে। আবহাওয়াবিদেরা জানাচ্ছেন, কয়েক দিনের জন্য একটি বিশাল উচ্চচাপ বলয় পুরো এলাকাটির ওপর অবস্থান করবে। এর ফলে গরম এবং আর্দ্রতা একসঙ্গে বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর হয়ে উঠবে।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কোথাও কোথাও অনুভূত তাপমাত্রা এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। দিনের পাশাপাশি রাতের তাপমাত্রা খুব একটা কমবে না। এই কারণে সন্ধ্যার ম্যাচগুলোও গরম থাকবে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ অ্যালান রেপার্ট জানান, সন্ধ্যা বা রাতে গরম কমার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক ও এর আশেপাশের এলাকায় গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা দেখা যেতে পারে। সেখানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নকআউট ম্যাচগুলোও এই তাপপ্রবাহের প্রভাব অনুভব করবে।
এই পরিস্থিতি খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা এবং শারীরিক সক্ষমতার বিষয়টিকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। গত বছর একই দেশে অনুষ্ঠিত ক্লাব পর্যায়ের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়ও তীব্র গরম নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। তখন খেলোয়াড়দের সংগঠন জানিয়েছিল, এমন আবহাওয়াকে ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা উচিত।
এবারের বিশ্বকাপে সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে প্রতিটি ম্যাচের দুই অর্ধেই বাধ্যতামূলক তিন মিনিটের পানিবিরতি রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই সময় ব্যবধানে খেলোয়াড়েরা পানি পান করার পাশাপাশি কিছুটা বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। অনেকেই মনে করছেন, এটি খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সমালোচকদের মতে, এতে ম্যাচের স্বাভাবিক গতি কিছুটা ব্যাহত হতে পারে।
তীব্র গরমের সময় খেলোয়াড় এবং দর্শকদের সুরক্ষায় অতিরিক্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা, সে বিষয়ে আয়োজকদের পক্ষ থেকে অধুনা কিছু জানানো হয়নি।
এদিকে, কানাডার টরন্টো শহরে তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারির পর বিশেষ গরম মোকাবিলা পরিকল্পনা কার্যকর করা হয়েছে। সেখানে ছায়াযুক্ত বিশ্রামস্থল, পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা এবং জরুরি সেবার প্রস্তুতি বাড়ানো হয়েছে।
বিশ্বকাপের কিছু স্টেডিয়াম অবশ্য গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যেসব স্টেডিয়ামের ছাদ বন্ধ করা যায় এবং ভেতরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা আছে, সেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকেরা তুলনামূলক আরাম পাবেন। কিন্তু খোলা মাঠের শহরগুলোতে স্টেডিয়ামে পৌঁছানো থেকে শুরু করে পুরো সময়টিই কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আলিনা মিতিনা সমর্থকদের যতটা সম্ভব ছায়ায় থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত দুর্বলতা, তীব্র ক্লান্তি বা অস্বাভাবিক অসুস্থতা অনুভব করলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে গিয়ে বিশ্রাম নিতে হবে এবং পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। তার মতে, পর্যাপ্ত ছায়া এবং সহজে পানি পাওয়ার ব্যবস্থা থাকলে অনেক বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।
বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নকআউট ম্যাচগুলো যখন শুরু হচ্ছে, ঠিক তখনই ফুটবলের পাশাপাশি আরেক প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রকৃতির এই তীব্র তাপপ্রবাহ। অতএব, মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি খেলোয়াড় ও সমর্থকদের সুস্থ রাখার বিষয়টি এখন আয়োজকদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন