০৯:৪০ এম
আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার বিচার শেষ হওয়ার রায় হচ্ছে মাত্র ২০ দিনে। মানুষের ক্ষোভ-বিক্ষোভে ফেটে পড়া অবস্থায় কিছুটা হলেও স্বস্তি দেখা দিয়েছে এ ভাবনায় যে দেশে এ ধরনের নিষ্ঠুরতার দ্রুত বিচার সত্যি সত্যিই হচ্ছে।
ঢাকার শিশু রামিসার মামলার দ্রুত বিচারের মধ্যে থাকলেও প্রশ্ন উঠছে, চট্টগ্রামের শিশু জান্নাতুল নাইমা ইরার মামলা কেন এখনও ঝুলে আছে। শুধুমাত্র ইরা নয়, গত এক দশকে ধর্ষিত হয়ে হত্যার শিকার তিন শতাধিক শিশুর পরিবারও বর্তমানে দ্রুত বিচার চেয়ে কথা বলা শুরু করেছে।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের তথ্য অনুসারে, দেখা গেছে, গত ১০ বছরে দেশে ছয় হাজারের বেশি শিশু ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। বাস্তব অবস্থার তুলনায় এই সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে। একই সময়ে অন্তত ৩১০ জন শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার অধিকাংশের মামলাই বছরের পর বছর নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: রামপালে ফয়লাহাট আছিয়া মাদ্রাসার সুবর্ণজয়ন্তী ও মিলনমেলা অনুষ্ঠিত
অন্যদিকে, দেশজুড়ে আরও কয়েকটি ঘটনায় দ্রুত বিচারের নজির দেখা গেলেও সেসব মামলাগুলোর পরিণতি খুব একটা ভাল নয়। দেখা গেছে, জনরোষের কারণে মামলা গ্রহণ করে নিম্ন আদালতে দ্রুত রায় ঘোষণা হয়ে থাকে; কিন্তু উচ্চ আদালতে গিয়ে সেখান থেকে সেগুলো ‘লালফিতে’ বন্দি হয়। এমনকি কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনায় আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে দেওয়ার নজিরও রয়েছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৭ সালে টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে ষোড়শী কন্যা জাকিয়া সুলতানা রুপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় দেশজুড়ে ব্যাপক হৈচৈ সৃষ্টি হয়েছিল। ওই মামলার রায় থেকে বিচার চূড়ান্ত পর্যন্ত ছয় মাসেরও কম সময় লেগেছিল। আদালত রায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। কিন্তু উচ্চ আদালতে দীর্ঘ শুনানি শেষে তিন আসামির সাজা কমিয়ে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
গত ১ মার্চ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে গহিন জঙ্গলে উদ্ধার হওয়া সাত বছরের শিশু জান্নাতুল নাইমা ইরার রক্তাক্ত ছবি এখনো চোখের সামনে স্পষ্ট। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বাবু শেখ নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জানা গেছে, শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা শেষে গলা কেটে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু উপজেলা পুলিশ তিন মাস পেরিয়েও ওই ঘটনায় বিচার শুরু করতে পারেনি। জানা গেছে, পুলিশ এখনো অভিযোগপত্রও দিতে পারেনি।
কুমিল্লার তরুণী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার বিচার ১০ বছরেও শুরু হয়নি। যে ঘটনার কারণে সারা দেশের মানুষের চোখে জল এসেছে। ফেনীতে ২০১৯ সালে আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। দীর্ঘ প্রায় সাত বছর পরে ওই মামলার উচ্চ আদালতে শুনানির অপেক্ষা রয়েছে।
আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ নেই: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী
মাগুরার আট বছরের শিশুকন্যা আছিয়ার কথা মনে পড়েছে? গত বছরের ৫ মার্চ বোনের শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে নিষ্ঠুরভাবে ধর্ষণের পর শিশুটি হত্যা হয়েছিল। তার মৃত্যুর কারণে দেশে আবেগের ঢেউ ওঠে। তখনকার আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল নারীর নির্যাতন দমন আইনে সংশোধন এনে দ্রুত বিচার ও রায় কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ঘটনার পর ৭২ দিনে ওই মামলার বিচার শেষ হয়। আছিয়ার বোন ফাতেমার শ্বশুর হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড হলেও পরে মামলার আর অগ্রগতি হয়নি।
আছিয়ার মা আয়েশা খাতুন সম্প্রতি বলেন, ‘এতো দিনেও মামলার রায় কার্যকর হচ্ছে না কেন, আমরা বুঝতে পারছিনে। হিটু শেখের ফাঁসি দেখতে আমাদের কত দিন অপেক্ষা করতে হবে, জানি না। তার দুই ছেলে তো খালাস পেয়েছে। মনে হয়, আর দেরি হলে হিটু শেখও খালাস পেয়ে যাবে।’
এদিকে, দেশে প্রতি দশকেই আলোচিত ঘটনার দ্রুত বিচারের নজির আছে। ঘটনার পরে দেশজুড়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভ দেখা দেয়। এরপর মামলা দ্রুত বিচার শুরু হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই দীর্ঘসূত্রতার জালে আটকে যায়। বিচার শেষ হলে রায় হলেও উচ্চ আদালতের গণ্ডি পেরিয়ে মামলার চূড়ান্ত বিচার গণনায় খুবি বেশি ঘটনা ঘটে না। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় নজির খুঁজতে গেলে ১৯৯৫ সালের একটি ঘটনায় গিয়ে দেখা গেছে। দিনাজপুরের এক আলোচিত ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে দীর্ঘ ৯ বছর লেগেছিল।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য বলছে, গত এক দশকে দেশে প্রায় ১২ হাজার শিশু নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত হলেও সেগুলোর বিচার হয়নি। ফলে রামিসা হত্যার দ্রুত বিচার আশার আলো দেখাচ্ছে; এই রকম পরিস্থিতি বিচারব্যবস্থার বৈষম্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠিয়েছে। রামিসার মতো আলোচিত না হওয়ায় কি অন্য শিশুদের জীবন কম মূল্যবান?
আরও পড়ুন: দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনে অ্যাম্বুলেন্স ও এটিএম বুথ উদ্বোধন
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) প্রকাশিত জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা মনিটরিং প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ছিল ৩১২টি, যা মে মাসে বেড়ে ৩২৬টিতে দাঁড়িয়েছে। বিশেষভাবে ধর্ষণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা, যৌন হয়রানি এবং আত্মহত্যার ঘটনা বৃদ্ধি উদ্বেগজনক বলে মনে করছে সংস্থাটি।
আদালতের জিআর শাখা সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার বিভিন্ন আদালতে বর্তমানে শিশু ধর্ষণ সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা প্রায় তিন হাজার। চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ঢাকার ৫০টি থানায় সকল ধরনের ধর্ষণ ও ধর্ষণের চেষ্টা সংক্রান্ত অভিযোগে অন্তত ২১৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নথিভুক্ত মোট এক লাখ ৮১ হাজার ৭৩৭টি মামলার মধ্যে নারীর প্রতি নির্যাতনের মামলার সংখ্যা ছিল ২১ হাজার ৯৩৬টি। ১০ বছরে ধর্ষণ ৬ হাজার, হত্যা ৩১০ শিশু।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, দেশে ২০১৬ সাল থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত অন্তত ১১ হাজার ৯৩৪টি শিশু নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে মামলা করা হয়েছে ৬ হাজার ১৩৫টি। একই সময়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৬ হাজার ৩১ জন শিশু, যার মধ্যে ৫ হাজার ৬৩১ জন মেয়ে এবং ৪০০ জন ছেলে শিশু। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে অন্তত ৩১০ জন শিশুকে।
আরও পড়ুন: বিমানের দাম্মাম ও রিয়াদগামী ফ্লাইট স্থগিত
অতিরিক্ত তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে ২০১৬ সালে দেশে এক হাজার ৩৪টি শিশু নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। এসব ঘটনায় ২৬০টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। একই বছরে ২৮০ জন মেয়েশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছিল এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছিল ১৬ জন শিশু।
২০১৭ সালে শিশু নির্যাতন বেড়ে দাঁড়ায় এক হাজার ৫৫টিতে। মামলা করা হয় ৪৬৪টি। ধর্ষণের শিকার হয় ৪৭০ জন মেয়েশিশু। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ৩০ জন শিশুকে।
২০১৮ সালে এক হাজার ১১ জন শিশু নির্যাতনের ঘটনা এবং ৫৩১টি মামলা নথিভুক্ত করা হয়। ধর্ষণের শিকার হয় ৪৪৪ জন মেয়েশিশু এবং সাত জন ছেলেশিশু। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ৩৫ শিশুকে।
২০১৯ সালে শিশু নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে দাঁড়ায় এক হাজার ৬৯৬টিতে। ওই বছর ৯৯৬টি মামলা হয়েছিল। ধর্ষণের শিকার হয় ৯৮৬ জন মেয়েশিশু এবং ৩৭ জন ছেলেশিশু। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ৫৫ শিশুকে, যা আলোচ্য সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।
আরও পড়ুন: দ্রুত সময়ে সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্প পার্ক দৃশ্যমান হবে: প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব
২০২০ সালে দেশে সর্বোচ্চ এক হাজার ৭১৮ জন শিশুকে নির্যাতনের ঘটনা রেকর্ড হয়ে গেছে। মামলা করা হয়েছিল ৯৮৬টি। ধর্ষণে শিকার হয় এক হাজার ১৮ জন মেয়েশিশু এবং ৫২ জন ছেলেশিশু। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ৩৩ জন শিশুকে।
২০২১ সালে এক হাজার ৪২৬টি শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিল এবং ৮৪৫টি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছিল। একই বছরে ৭৭৪ জন মেয়েশিশু এবং ৭৮ জন ছেলেশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছিল। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছিল ৩৩ জন শিশুকে।
২০২২ সালে এক হাজার ৮৮টি শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিল। মামলা করা হয় ৫৬৭টি। ধর্ষণের শিকার হয় ৫৬১ জন মেয়েশিশু এবং ৫২ জন ছেলেশিশু। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছিল ২৮ জন শিশুকে।
২০২৩ সালে শিশু নির্যাতনের এক হাজার ১৩টি ঘটনা ঘটেছিল এবং ৪২৩টি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। ধর্ষণের শিকার হয় ৩১৪ জন মেয়েশিশু এবং ৭৫ জন ছেলেশিশু। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছিল ২২ জন শিশুকে।
আরও পড়ুন: শুধু ৯ দেশ-ই নয়, বিশ্ব এক হলেও হারবে? কারণ- ইয়েমেনের জন্য নবী (সা.) দোয়া করেছিলেন!
২০২৪ সালে শিশু নির্যাতনের ঘটনা কমে দাঁড়ায় ৬৭০টিতে। মামলা করা হয় ৩৪৭টি। ধর্ষণের শিকার হয় ২৩৪ জন মেয়েশিশু এবং ৩৬ জন ছেলেশিশু। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ২৫ জন শিশুকে।
২০২৫ সালে আবারও শিশু নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে ১, ০২৪টিতে পৌঁছায়। ওই বছর ৫৯০টি মামলা করা হয়। ধর্ষণের শিকার হয় ৪৫৬ জন মেয়েশিশু এবং ৪৮ জন ছেলেশিশু। ধর্ষণের পর হত্যা হয় ২২ শিশুকে।
২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র চার মাসে ১৯৯টি শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে এবং ১২৬টি মামলা নথিভুক্ত করা হয়। এই সময়ে ৯৪ জন মেয়েশিশু এবং ১৫ জন ছেলেশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণের পর হত্যা হয় ১১ জন শিশুকে।
তবে শিশু অধিকার কর্মীদের মতে, প্রকৃত ঘটনা আরো বেশি হতে পারে। কারণ সামাজিক সংকোচ, ভয় এবং বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক পরিবারই নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ বা মামলা করতে আগ্রহী হন না। ফলে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার নথিভুক্ত তথ্য বাস্তব পরিস্থিতির একটি অংশমাত্র তুলে ধরে।
শিশু অধিকার ও সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের (বিটিএস) পরিচালক মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, শিশু নির্যাতন কিংবা ধর্ষণের ঘটনায় মামলা করা হচ্ছে তার চেয়ে সংঘটিত ঘটনা কয়েক গুণ বেশি। যেসব পরিবারে এসব ঘটনা ঘটছে তারা ভয় অথবা সংকোচে আইনি লড়াইয়ে যেতে চায় না। পরিবারগুলোকে অভয় দিলেও তারা রাজি হতে চান না। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হচ্ছে অপরাধীদের শাস্তির আওতায় না আনা। যে ঘটনার মধ্যে আলোচনায় আসে, রাষ্ট্র সেই ঘটনার বিষয়ে আগ্রহ দেখালেও সারা দেশে ঘটে যাওয়া সহিংসতার বিষয়ে সঠিক পদক্ষেপ দেখা যায় না।
দীর্ঘসূত্রতায় দণ্ডপ্রাপ্তদের পোয়াবারো
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফাহমিদা আক্তার বলেন, ‘যদিও আমাদের আইনে মৃত্যুদণ্ডের মতো সর্বোচ্চ কঠোর সাজার বিধান আছে, কিন্তু এর যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ার কারণে আইনটি কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। বিশেষ করে মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর হওয়ার যে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া—নিম্ন আদালত থেকে হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স আসা, এরপর আপিল বিভাগের শুনানি, রিভিউ এবং রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ—এই দীর্ঘসূত্রতা অপরাধীর মনে আশা জাগিয়ে রাখে যে শেষ পর্যন্ত হয়তো তার ফাঁসি হবে না।
তিনি আরো বলেন, ‘এই বিচারিক দীর্ঘসূত্রতার জেরে ভুক্তভোগীর পরিবারকে বছরের পর বছর মানসিক ট্রমার মুখোমুখি হতে হয়। অনেক সময় সাক্ষী বা প্রমাণের অভাবে অপরাধী জামিন পেয়ে মুক্ত হয়ে যায়, যা ভুক্তভোগীর পরিবারের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যদিও আইনি ব্যবস্থায় প্রতিটি ধাপ রাখা হয়েছে, যাতে কোনো নিরপরাধ মানুষ সাজা না পায়, কিন্তু বর্তমান বিশেষ পরিস্থিতিতে অপরাধ কমাতে হলে আইনশৃঙ্খলার প্রতিষ্ঠা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।’
জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সভাপতি ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, দেশে অনেক সময় কোনো ঘটনা গণমাধ্যমে আলোচিত হলে তবেই প্রশাসন সক্রিয় হয়। অথচ বিচার হওয়া উচিত অপরাধের গুরুত্ব। বিচার বিলম্বিত হলে ভুক্তভোগীরা প্রকৃত ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন। তাঁর মতে, ক্ষমতার প্রভাব, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, দুর্নীতি ও পক্ষপাতিত্ব তদন্ত প্রক্রিয়ার বড় বাধা। ফলে অনেক চাঞ্চল্যকর মামলাও বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। প্রতিটি অপরাধের ক্ষেত্রে নির্মোহ তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে অপরাধ প্রবণতা কমবে এবং আইনের শাসন শক্তিশালী হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন